
স্যারের মৃত্যু নিয়ে নিউজ পড়তে ছিলাম এমন সময় কলকাতা টুয়েন্টি ফোর ইন্টু সেভেনের শিরোনাম দেখে খটকা লাগলো, তারা লিখেছে, 'কমিউনিস্ট চিন্তাধারার বাংলাদেশের জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান প্রয়াত!'
.
আরো লিখেছে, 'তাঁর নিজের স্মৃতিতে ধরা আছে, ১৯৫২ সালে ভাষা-আন্দোলনের অল্পকাল পরে আমি গোপন কমিউনিস্ট পার্টির সংস্পর্শে আসি। তবে ওই সময়ে বামপন্থার যে শিক্ষা লাভ করেছিলাম, তা জীবন ও জগৎ সম্পর্কে আমার দৃষ্টিভঙ্গি চিরকালের জন্যে গঠন করে দিয়েছিল।'
.
অথচ একজন আনিসুজ্জামানকে আমরা কখনো এমন নির্দিষ্ট গন্ডির ভিতর দিয়ে দেখিনি ৷ হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ খ্রিষ্টান সবাই ওনাকে স্যার বলি, সব কিছুর উর্ধ্বে উঠে উনি সবার কথা বলতেন!
.
সব সময় দেখি একটি নির্দিষ্ট মহল সবকিছুর মধ্যে ধর্মের বিরুদ্ধে উসকানীর খোঁজ লাভ করে! আমরা সবাই তো মানুষ, মৃত্যুর পর সেটা আরো সার্বজনীন হয়ে উঠে ৷
.
মজার বিষয় হলো, চারুলিপি প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত তার একটা 'মুসলিম-মানস ও বাংলা সাহিত্য' নামক জনপ্রিয় বইও আছে!
.
এটিই তার প্রথম বই এবং এর মধ্য দিয়ে ১৯৬৪ সালে তিনি সাহিত্যিক হিসেবে নিজেকে সুপ্রতিষ্ঠিত করার যাত্রা শুরু করেছিলেন! এখানে তিনি আলোচনা করেছেন পলাশীর সিরাজউদ্দোলার সময় থেকে শুরু করে উনবিংশ শতাব্দির উষালগ্ন পর্যন্ত বাংলার ইতিহাসে মুসলিমদের অবদান নিয়ে ৷
.
১৯৬৯ সালে তার দ্বিতীয় বইটিও ছিলো 'মুসলিম বাংলার সাময়িকপত্র' নামে, আর তাকে নিজের দলে টেনে নিয়ে আপনারা কি প্রমাণ করতে চান্, জগতের সব বুদ্ধিজীবী আপনাদের দলে!
.
তার পিতামহ শেখ আবদুর রহিম নিজ হাতে হযরত মুহাম্মদ(সাঃ) জীবনী রচনা করেছিলেন তৎকালীন এটি ছিল কোনো বাঙালি মুসলমানের লেখা প্রিয় নবীকে নিয়ে প্রথম জীবনী।
.
একজন জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান তিনি আমার আপনার সবার এটি অবশ্যই আমাদের মাথায় রাখতে হবে ৷
.
জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে পর্যন্ত চলছে টানাটানি, স্বয়ং তার দল তাকে তাদের দলে কোণ ঠাসা করতে তৎপর, বিশ্ব মানবতার মানুষগুলোকে এভাবে সীমাবদ্ধ করা কেবলি কূপমন্ডকতা,
.
জাতীয় অধ্যাপক স্যার ৮৩ বছর বেঁচে ছিলেন, সবার ই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে তবে তিনি যে লক্ষ কোটি মানুষের জীবনে তার কর্ম দিয়ে অমর হয়ে থাকবেন সেটা ই জীবনের প্রাপ্তি ৷
.
কালি ও কলমের সভাপতিমন্ডলীর কর্ণধার ছিলেন, এই কলমের কালীতে নিজেকে লেপ্টে দিয়েছিলেন আজীবন ৷
.
তিনি আমাদের প্রফেসর, কোটা সংস্কার আন্দোলনের একজন, এখনো মনে আছে সেই দিনগুলোতে তার করা মন্তব্যটি, ‘কোটা নিয়ে আমার বক্তব্য সংক্ষিপ্ত এবং পরিষ্কার। আমার মনে হয় না বর্তমানে ১০ শতাংশের বেশি কোটা থাকা উচিত। মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের নামে যে কোটা আছে, সেটা এখন আর থাকা উচিত নয়। মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানের সন্তানরাও এখন বড় হয়ে গেছে। তাই এটা এখন কোনভাবেই চলা উচিত নয়। এটা মুক্তিযুদ্ধের অবমাননা।’
.
কোন এক অনুষ্ঠানে আনিসুজ্জামান পাশে ছিলেন বলে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শ্রদ্ধাভরে লাল গালিচার উপর দিয়ে হাঁটেন নি এমন তথ্যও পেয়েছি আমরা,
.
এইতো সেদিন আরেক আলোকবর্তিকা জাতীয় অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরী স্যার চলে গেলেন, দিন দিন কেবলি নক্ষত্রদের পতন হচ্ছে, একের পর এক কিন্তু তারা জাতিকে যা দিয়ে গেছেন তা ললাটে ধারণ করলে হয়তো একদিন আমারও বিশ্বের বুকে স্মরনীয় জাতির দাবীদার হতে পারবো ৷
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই মে, ২০২০ রাত ১১:৩৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


