
নিউজটা দেখে ভ্যাবাচ্যাকা হয়ে গেলাম, চোখের সামনে ভেসে আসলো পকেটে সিগারেট ঢুকিয়ে টাকা দাবী করে না পেয়ে ধরে নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ টাইপ এমন কিছু ৷
.
আবারো বলছি, সকল ধরণের বিড়ি সিগারেট উৎপাদন, সরবরাহ, বিপণন সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে সরকার ৷
.
এখন এমন সংবাদের অপেক্ষায় আছি, তল্লাশী করে পাওয়া গেলো দুইটি রাম দা সাথে কয়েকটি সিগারেটের খালি প্যাকেট ৷
.
নতুন করে আরেকটি যুদ্ধ শুরু হলো যা এতোদিন বৈধ ছিলো তা হলো সিগারেটের চোরা কারবারি সিন্ডিকেটের সাথে সভ্য সমাজের মানুষদের টানাপোড়েন,
.
সিগারেট খাওয়া ভদ্রলোক বিষয়টি এখন সিগারেট খাওয়া গুন্ডা মর্মে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হওয়া দরকার ৷
.
করোনার আবাদ ভূমি আগেই উর্বর করে রাখে কিন্তু এই ধূমপান ই, যদিও আগেও বলেছি এখন আবারও বলছি,
.
পৃথিবীতে প্রতি দশ জন মানুষের মৃত্যুর কারণের মধ্যে একজনের কারণ ধূমপান ৷
.
বিশ্বে ধূমপানের কারণে প্রায় ৬০ লক্ষ মানুষ মারা যায় ৷
.
ইয়ে মানে প্রতি ৬ সেকেন্ডে ১ জন মানুষের ধূমপানজনিত কারণে মৃত্যু হয়,
.
বাংলাদেশে প্রতি বছর ১ লক্ষ ৬২ হাজার মানুষ ধূমপানের কারণে মারা যায়!
.
ফুসফুসের ক্যান্সার এবং ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি আক্রান্ত প্রতি ১০ জন রোগীদের মধ্যে ৮ জনের কারণ ধূমপান,
.
পৃথিবীতে এখন সবচেয়ে বেশী মানুষ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায় তাদের প্রতি ৬ জনের মধ্যে ১ জনের মৃত্যুর কারণ ধূমপান,
.
প্রতি তিন জন ধূমপায়ী মানুষদের মধ্যে দুইজন ধূমপান জনিত কারণে মারা যায় ৷
.
বেপারগুলো এতোটা ভয়ঙ্কর যে ফ্রান্সে এক বছরে দশ লাখ মানুষ ধূমপান ছেড়েছে/
.
অস্ট্রেলিয়ায় পুরুষ ধূমপায়ীর হার ২৫ শতাংশ থেকে কমে ১৪ শতাংশ এবং নারী ধূমপায়ীর হার ২৩ শতাংশ থেকে কমে ১০ শতাংশে নেমে এসেছে,
.
ব্রাজিলে পুরুষ ধূমপায়ীর হার ২৯ শতাংশ থেকে কমে ১২ শতাংশ এবং নারী ধূমপায়ীর হার ১৯ শতাংশ থেকে কমে ৮ শতাংশে নেমে এসেছে ৷
.
যুক্তরাষ্ট্রে পূর্বের তুলনায় প্রায় ৩০ লাখ মানুষ ধূমপান ছেড়েছে আর একটি সিন্ধান্তের কারণে আমেরিকায় ক্যান্সারে মৃত্যুর হার কমেছে ২৬ শতাংশ!
.
প্রতিবেশী দেশ ভারতে তামাক সেবনকারী কমেছে প্রায় ৮০ লক্ষ তবে মহিলাদের মধ্যে ধূমপান বৃদ্ধি পাচ্ছে,
.
ইউরোপেও ধূমপান কমলেও নতুন করে গাঁজায় টান দেওয়ার নেশা বেড়েছে,
.
ব্রিটিশরা বাঙ্গালীদের সিগারেট শিখায়ে নিজেদের ধূমপায়ীদের সংখ্যা কমে অর্ধেকে নেমে এসেছে,
.
অথচ বাংলাদেশে সম্প্রতি ধূমপায়ী কমা তো দূরে কথা তা ৩৮ শতাংশ থেকে বাড়ছে ৷
.
কিন্তু ২০০০ সালে বাংলাদেশে ধূমপায়ীর হার ছিলো ৬৪ শতাংশ তা কমে ২০১৫ সালে প্রায় ৩৮ শতাংশে নেমে এসেছিলো
.
প্রতিটি দেশে বড়লোকদের মধ্যে গরীবদের ধূমপানের প্রবণতা বেশী,
.
বাংলাদেশে গরীবদের মধ্যে প্রায় ৭১ শতাংশ মানুষ ধূমপান আসক্ত হলেও তা বড়লোকদের মধ্যে সেই তুলনায় ৩৬ শতাংশ!
.
ওরা এতো হতদরিদ্র যে ছোট খাট কোন অসুখ হলেও চিকিৎসা করানোর ক্ষমতা পর্যন্ত নেই কিন্তু ক্যান্সারের মতো অসুখ হলে বিনা চিকিৎসায় ধুকে ধুকে মরা ছাড়াও তাদের গতি নেই ৷
.
উন্নত দেশগুলোতে বর্তমানে ধূমপানের হার কমলেও বাংলাদেশের মতো দেশগুলোতে ধূমপানের হার কমছে না
.
শুধু তা না আপনি যদি ধূমপান না ও করে থাকেন তবুও ধূমপায়ীর পাশে থাকলে আপনার হৃদরোগ এবং ফুসফুসের ক্যান্সার হওয়ার সম্ভবনা যারা ধূমপায়ীদের এড়িয়ে চলে তাদের থেকে ত্রিশগুণ বেশী,
.
গত বছরে সবচেয়ে বেশী ধূমপায়ী দেশের মধ্যে আমাদের নামও ছিলো ৷
.
এবার আপনি ই বলেন, উচিত হয়েছে কি না?
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে মে, ২০২০ সকাল ৭:১৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



