
তথ্যপ্রবাহ কিংবা সচেতনতা কি জরুরী জিনিস তা বুঝানোর জন্য আমাদের ফিরে যেতে হবে '৭০ এর সাইক্লোনে' যেটা নভেম্বরে চট্টগ্রামের উপর উপচে পড়ে, এবং মুহূর্তে ৫ লক্ষ মানুষ মারা গিয়েছিলো তবে বেসরকারী হিসেবে তা ছিলো ১০লক্ষেরও বেশী ৷
.
৭০ এর ভোলা ঘূর্ণিঝড় নামে পরিচিত সাইক্লোনটি আঘাত হানার পর এতো ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি শর্তেও তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানী রাষ্ট্রপ্রধান জরুরি ত্রাণকার্য পরিচালনায় গড়িমসি করা শুরু করে, স্বাধীনতার পটভূমি এমনি এমনি সৃষ্টি হয়নি ৷
.
মানুষের মনে রাজনৈতিক, অর্থনীতি কিংবা ভৌগলিক কারণে যে ক্ষোভ, দুঃখ, যন্ত্রণা, যাতনা তার বহিঃপ্রকাশ করতে তাই ৭১ সালে একটির বেশী দুইটি আঙ্গুলি উত্তোলনের প্রয়োজন হয়নি ৷
.
সাইক্লোনের পরও যে মানুষগুলো বেঁচে ছিলেন তারা একে একে বেঁচে থাকার জন্য দুই মুঠো খাদ্য কিংবা একটু বিশুদ্ধ পানির অভাবে মারা যায় ৷
.
এক সপ্তাহ পর নবাবজাদা প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান বলা শুরু করেছে, সে ঘুমে ছিলো তার খবর থাকে না ৷
.
তার ভাষ্য ছিলো, সরকার দূর্যোগের ভয়াবহতা বুঝতে না পারায় ত্রাণ কার্যক্রম ভালোভাবে করতে পারেনি!
.
ঘূর্ণিঝড়ের আগে নির্বাচনী প্রচারণা চলতেছিলো, বঙ্গবন্ধু তৎকালীন ছাত্রলীগের সভাপতি এবং ডাকসুর ভিপি তোফায়েল আহমেদকে মাত্র ১৭০০ টাকা দিয়ে একটি হুন্ডা কিনে দিয়েছিলেন যাতে নির্বাচনী প্রচারণা করতে পারে,
.
পায়ে হেঁটে, বোগল তলে জুতো দাবা করে সেই সময়ের নেতারা নেতৃত্ব দিয়েছে, মানুষের বুকে ছিলো, আজ তোমরা ল্যান্ডক্রুজার হাঁকিয়ে নেতা বনে যাও ৷
.
একটা জিপ, একটা নির্বাচনী কার্যালয়, গাড়ির তেল থেকে শুরু করে সবি ই ছিলো ধার করা, এভাবে জন্ম একটি বাংলাদেশের ৷
.
সাতক্ষীরায় নির্বাচনী প্রচারকালে ছিলেন জাতির জনক, খবর শুনার পর তিনি পাগলপ্রায়, সঙ্গে সঙ্গে একজনকে দিয়ে পাঁচ হাজার টাকা পাঠালেন, নির্দেশ দিলেন যার যা কিছু আছে এবং যেসব ত্রাণ আসবে তা নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়তে, তারপর তিনিও ভোলায় গেলেন ৷
.
সাথে ছিলো পরিধানের পায়জামা,পাঞ্জাবি ও মুজিব কোট, একজন নেতার কেবলি লুঙ্গী অবশিষ্ট ছিলো সেগুলো তাকেই দিয়ে চলে আসলেন ৷
.
আজকের সহমত ভাইয়ের পাতি নেতাও কোটি টাকার টেন্ডারবাজী করে, তাদের বুকে নাকি বঙ্গবন্ধুর আদর্শ লুতুপুতু খেলে,
.
আমি কেনো বলছি যে তথ্য বিশাল এক উপাদেয় শক্তি কারণ ভারত- পাকিস্তান দ্বি-পক্ষীয় সম্পর্কে তখন টানাপোড়েন চলছিলো, ফলশ্রুতিতে আবহাওয়াবিদদের মধ্যেও বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় সম্পর্কে তথ্য আদান-প্রদান অনেকটাই বন্ধ ছিলো ৷
.
পাকিস্তান আবহাওয়া কর্তৃপক্ষ ছিলো ঢাকায়, তারা ভ্রুক্ষেপও করেনি!
.
তখন তো রেডিও নির্ভর ছিলো বাংলাদেশ, শর্ত প্রযোজ্যের মতো ছোট্ট করে ঘটনার দিন পাকিস্তান থেকে প্রচার হলো সৃষ্টঘূর্ণিঝড় ভয়াবহ ৷
.
ফেসবুক, ব্লগ, পোট্রাল, টুইটার কিংবা পত্রিকা, রেডিও, টিভি এগুলো তথ্য প্রবাহের জন্য বিশাল এক শক্তি, কথায় কথায় যে আপনারা এগুলো বন্ধ করার মতো উদ্যত মনোভাব দেখান তা জাতির জন্য কতটা ক্ষতি সেটা ইতিহাস স্বাক্ষী হয়ে আছে ৷
.
বাপ মরে গেছে ছেলের কাছে চিঠি পৌঁছেছে মাস খানেক পর কিংবা ঘটনা ঘটে দামাচাপা হয়ে গেছে, কেউ জানতেও পারতো না!
.
এই যে ইস্যু ইস্যু করে চিল্লান, এগুলো ফেসবুক ব্লগ না থাকলে এতো সহজে কেউ জানতো না কিংবা আন্দোলনও সৃষ্টি হতো না, কিলার মিন্নীর প্রতি ঘৃণা কিংবা আগুনে পুড়িয়ে মারা সেই নুসরাতের জন্য হৃদয়ের ক্রন্দন, সবকিছু সৃষ্টি হয়েছে তথ্য প্রাপ্তি সহজলভ্যতার কারণে...!
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে মে, ২০২০ দুপুর ১২:২৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



