শুরুটা বাংলাদেশের ইতিহাসের কালজয়ী নাটক 'কেউ কোথাও নেই' ধারাবাহিকের বাকের ভাইয়ের মোটর সাইকেলের ঠিক পিছনে বসে থাকা একটি চরিত্র বদি দিয়ে, সেই বদি ই আজকে আমাদের মাঝ থেকে বিদায় নেওয়া আবদুল কাদের ৷
.
বদি, মজনু এবং বাকের ভাই নামক তিন গুন্ডা চরিত্র একসময় এতো জনপ্রিয় ছিলো যে বাকের ভাইয়ের ফাঁসি ঘোষণা আসলে মানুষ ঘর থেকে রাস্তায় বের হয়ে মিছিল শুরু করে ৷ বাকের ভাইদের কিছু হলে জ্বলবে আগুন ঘরে ঘরে ৷
.
সত্যি সময়ের সাথে কেমন যেনো চিরন্তন বাস্তবতা ধরা দিয়েছে আবদুল কাদেরদের জীবনে ৷ কোথায় যেনো কেউ আর নেই ৷ ক্যান্সারের কাছে মৃত্যুদন্ড হয়েছে তার ৷
.
ইত্যাদিতে আর কখনো দেশ এবং দশের ক্ষতি হবে ভাগিনার অভিনব এমন সব ব্যবসার আইডিয়ার সামনে কাল হয়ে দাড়াবে না আবদুল কাদের ৷ জাতি একজন আদর্শের ধারক মামাকে হারালো ৷
.
শেষ যখন ইত্যাদির সেটে আবদুল কাদেরকে বলা হলো, ভয়েস আরেকটু জোরে দিতে তখন তিনি অসুস্থতা গোপন রেখে শেষ চেষ্টা করে বলেছিলেন, আর জোরে ভয়েস দিতে পারবো না ৷ সত্যি তারপর থেকে আর পারেননি ৷ তবুও চেষ্টার ত্রুটি করেননি ৷
.
চেয়েছিলেন পৃথিবীর বুকে মাত্র আরো কিছু দিন বেঁচে থাকতে ৷
.
এখনো বুড়োবুড়িরা যখন নাতি নাতনীকে বলে 'আমার ভাইটামিনগুলো এনে দেও তো' তখন আমরা হাসি ৷ আসলে এটা ছিলো কাদের ভাইয়ের একটা বিখ্যাত ডায়লগ, ‘মাইরের মধ্যে ভাইটামিন আছে’
.
মনে পরে যায়, ‘বদি তুমি সাক্ষী দিলে ভাসবে তুমি খালে বিলে’৷ তারপরও তিনি সেটে সাক্ষী দিতে এসেছিলেন মুখে দাড়ি লাগিয়ে কারণ হিসেবে বললেন, আজকের পর জনগন আমাকে দেখে চিনে ফেললে মাইর একটাও মাটিতে পরবে না ৷ এরপরে ঢাকা শহরে মুখে দাড়ি লাগিয়ে ছদ্মবেশে ঘুরবো ৷
.
জানিনা সাক্ষী দেওয়ার পর মুখে দাড়ি লাগিয়ে তিনিও জনগনের সাথে একাত্ম হয়ে স্লোগান দিয়েছিলেন কিনা ৷ তবে হৃদয় জয় করে নিয়েছিলেন ইত্যাদিতে একজন আদর্শ মামা হয়ে ৷ এভাবে হয়তো মানুষের মানস্পটে বেঁচে থাকবেন চিরকাল ৷

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

