somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বেহুদা কথায় আড্ডা

১৮ ই জানুয়ারি, ২০০৭ রাত ৮:৩৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কিছু কিছু লোক আছে যারা শুধু শুধু বেহুদা কথা বলে। কথা দিয়ে কথা সাজায়। কথা বলে ধরা খায়। একে ওকে স্টুপিড নামে ডেকে নিজের পায়ে কুঁড়োল মারে। এধরণের লোক যে কতোটা ভয়ঙ্কর খোদ প্রাণীকূলও তা জানে। তারই একটি গল্প সাজিয়ে আজকের আড্ডা।

অনেক বছর আগের কথা। এক ব্যারিস্টার মন্ত্রী, পুলিশের আইজি ও সড়ক ও জনপথের প্রধান প্রকৌশলী একসাথে রাজধানী থেকে অনেক দূরে নতুন সড়ক উদ্বোধন করতে গেছেন। যেতে যেতে সন্ধ্যা নেমে গেল। তার মধ্যে তাদের গাড়ীও গেল নস্ট হয়ে। অগত্যা পথের পাশেই পাওয়া গেল ভেটেরেনারী হাসপাতাল। সেখানে গিয়ে তারা হানা দিলেন।

হাসপাতাল ভবনের কেয়ারটেকার বললো, "স্যার এখানে তো রুম একটা, তাতে বেড আছে দুইটা। পাশের বিল্ডিং-এ পশুপাখীদের ক্লিনিকের ওখানে একটা বেড আছে। তবে আপনারা দু'জন এখানে ঘুমাতে পারবেন। একজনকে পাশের বিল্ডিংএর ক্লিনিক রুমে থাকতে হবে। তবে সেই রুমের পাশে খাঁচায় কিছু বানর আর ছাগল আছে। তবে তারা রাতে তেমন একটা আওয়াজ করে না। আপনারাই ঠিক করেন কে কোথায় ঘুমাবেন"। এই বলে কেয়ার টেকার চলে গেল।

সওজ'র প্রধান প্রকৌশলী বললো, "স্যার, আপনারা এখানে ঘুমান। আমি বরং পাশের বিল্ডিংএ ঘুমাই"। যেমন কথা তেমন কাজ। ব্যারিস্টার মন্ত্রী আর পুলিশ প্রধান বিছানা করে ঘুমালেন। ঠিক পাঁচ মিনিটের মাথায় দরজায় নক। দরজা খুলে আইজি সাহেব তাজ্জব। জিগ্যেস করলো, "কি হয়েছে ইঞ্জিনীয়ার সাহেব"? বলে, ছাগল আমাকে দেখে ভ্যাঁ ভঁ্যা করে বলে "ঐ ঘুষখোর ছাগল তুই এখানে কি করস?" স্যার, আমাকে ঘুমাতে দিচ্ছে না। বরং আপনারা কেউ যান।

তখন আইজি সাহেব বলেন, "আমি পুলিশ। সবাই আমাকে ভয় পায়। বরং আমিই যাই"। ঠিক দশ মিনিটের মাথায় দরজায় নক। কি ব্যাপার। পুলিশের আইজি কাঁদো কাঁদো স্বরে বলে, "স্যার ওখানে ঘুমানো সম্ভব না"। আমাকে দেখে বানরগুলো উৎপাত করছে। বানররা বীকট আওয়াজ করে বলে, "ওই ঠোলার পোলা, তুই এইহানে বাঁদরামি করতে আইছত?" আমি স্যার মাফ চাই। ততক্ষণে ব্যারিস্টার মন্ত্রীর উওর, "হঁ্যা, বেশ দেখলাম আপনাদের কারবার!!! দেখুন আমি যাচ্ছি। আমি ব্যারিস্টার। কোন স্টুপিড আমাকে বদার করে দেখে নেবো"? বলে তিনি রওয়ানা দিলেন, পাশের ভবনের দিকে।

পাঁচ মিনিট যায়, দশ মিনিট যায়। কেউ আসে না। আইজি আর ইঞ্জিনীয়ার খুশীতে গদগদ হয়ে বলতে লাগলেন, "না, স্যার বোধ হয় ম্যানেজ করে ফেলেছেন, কেউ তো আর দরজা নক করছে না"। প্রায় আধা ঘন্টা পর ঠিক যখন তাদের ঘুম গাড়ো হয়েছে, তখন উভয়ই দরজায় আওয়াজ শুনে প্রমাদ গুনলেন। কোনমতে বিছানা ছেড়ে দরজা খুলে যা দেখলেন, তা নিজের চোখে বিশ্বাস করতে পারলেন না। তাকিয়ে দেখেন, এক পাল বানর আর ছাগল তাদের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছে। বানররা দু'হাত দিয়ে চোখ ঢেকে রেখেছে। বিশাল কৌতুহুল নিয়ে যখন তাদের জিগ্যেস করা হলো: "তোমাদের আবার কি হলো?" বানর আর ছাগলরা সমস্বরে বলল: "আমরা ঘুমাতে চাই"। তারা জিগ্যেস করলেন, "কি হয়েছে তোমাদের?" ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে তারা উওর দিলো: "হুদা কথা বলে"
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
১৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জলে স্থলে শূন্যে আমি যত দূরে চাই

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১০:৫৩



আমি ভেবেছিলাম, তুমি আমাকে ভুলেই গেছো!
লম্বা সময় ধরে কোনো যোগাযোগ নেই। আমিও নানান ব্যস্ততায় যোগাযোগ করতে পারিনি। তুমিও যোগাযোগ করনি! অবশ্য তুমি যোগাযোগ অব্যহত না রাখাতে আমি বেশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

অদৃশ্য ছায়া: সমুদ্রের সাক্ষী

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৪৬



ঢাকার বনানীর সেই ক্যাফেতে বৃষ্টির শব্দ এখন আরও তীব্র। আরিয়ান তার কফির মগে আঙুল বোলাচ্ছিল, তার চোখ দুটো ক্লান্ত কিন্তু তীক্ষ্ণ। সাঈদের দিকে তাকিয়ে সে নিচু গলায় বলতে শুরু করল,... ...বাকিটুকু পড়ুন

'মানবাধিকার' (অণু গল্প)

লিখেছেন আবু সিদ, ২৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১২:২৪

'মানবাধিকার' একটা এনজিও। তারা বিদেশী সহায়তা নিয়ে মানুষ, বন্যপ্রাণী ও পরিবেশ সুরক্ষায় কাজ করে। আজ তারা একটা বড় সমাবেশ করছে প্রেসক্লাবে। সমাবেশে সাংবাদিকসহ নানান পেশার মানুষ অংশ নিয়েছে। টিভি সাংবাদিকেরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

নদী তীরের ইমাম থেকে গ্লোবাল ফ্রিল্যান্সার: একটি অনুপ্রেরণার গল্প

লিখেছেন নাহল তরকারি, ২৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৯:০৬




নদী তীরের ইমাম থেকে গ্লোবাল ফ্রিল্যান্সার: একটি অনুপ্রেরণার গল্প

একটি বিশাল নদীর কোলঘেঁষে গড়ে ওঠা শান্ত এক জনপদ, আর ঠিক নদীর ঘাট ঘেঁষেই ছিল একটি সুন্দর মসজিদ। সেই মসজিদের ইমাম সাহেব... ...বাকিটুকু পড়ুন

শুধু দ্বিতীয় রিফাইনারি (ERL-2) টা করে দেখান , সবার মুখ বন্ধ হয়ে যাবে !

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ৩০ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১২:৫০


গতকাল নাটকীয়তায় ভরা একটা দিন আমরা পার করলাম । রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উদ্বোধনকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেন ঝড় বয়ে গেল। পুরো সোশ্যাল মিডিয়া যেন দুই ভাগে ভাগ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×