প্রিয় বন্ধুরা,
আমাদের দেশে শিক্ষার পাশাপাশি দারিদ্র্য দূর করতে হলে কর্মসংস্থানমূলক শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করতে হবে। কর্মসংস্থানমূলক শিক্ষা কি- তা জানতে হলে এই লিংকের প্রবন্ধগুলো পাঠ করার বিনীত অনুরোধ করছি।
ইবিপিএম গবেষণা বাজেট প্রস্তাবনা
কর্মসংস্থানমূলক শিক্ষা ধারণা (খণ্ড-১)
কর্মসংস্থানমূলক শিক্ষা ধারণা (শেষ খণ্ড)
কিভাবে কর্মসংস্থানমূলক শিক্ষা চালু করা যায় বিষয়টি সহজভাবে বুঝার জন্য একটি সমীকরণের মাধ্যমে তা দেখানো হল।
কর্মসংস্থানমূলক শিক্ষা বিষয়টিকে সূত্রে প্রয়োগঃ
EBPM = C2 + E2M
Where,
EBPM = Education Based Production and Marketing বা শিক্ষা ভিত্তিক উৎপাদন এবং বাজারজাতকরণ।
C2 = Capital x Company
E2 = Education x Employment
M = Marketing
কর্মসংস্থানমূলক শিক্ষা বাস্তবায়নে ইবিপিএম এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় এই ফর্মুলাটি প্রয়োগ করলে শিক্ষা ক্ষেত্রে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনয়ন সম্ভব।
EBPM বা শিক্ষা ভিত্তিক উৎপাদন এবং বাজারজাতকরণ বিষয়টির ব্যাখ্যাঃ
শিক্ষাঃ আমাদের দেশে ৬ষ্ঠ শ্রেণী থেকে কৃষি শিক্ষা বাধ্যতামূলক। নবম শ্রেণীতে ব্যবসায় শিক্ষা নামে একটি আলাদা শিক্ষা ব্যবস্থা আছে। সুতরাং আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় কোন পরিবর্তন না এনেই ধারণাটি বাস্তবায়ন সম্ভব।
উৎপাদনঃ কৃষি শিক্ষার ব্যবহারিক অংশে পণ্যের উৎপাদন সম্পর্কে প্রত্যক্ষভাবে ধারণা অর্জনের কথা বলা আছে।
একটি উদাহরণঃ ৬ষ্ঠ শ্রেণীর কৃষি শিক্ষা বইয়ে দ্বিতীয় অধ্যায়ের ব্যবহারিক অংশে একটি প্রশ্ন আছে, "তোমার এলাকায় যে যে শষ্য বা পণ্য উৎপাদিত হয় তার একটি তালিকা তৈরি কর। বৎসরের শুরু থেকেই এই কাজটি কর এবং তোমার শ্রেণী শিক্ষকের নিকট জমা দাও।
করণীয় গবেষণাঃ ক্লাশে ক্লাশে এই বিষয়টি জোরদার মনিটরিংয়ের মাধ্যমে 'এক গ্রাম এক পণ্য' চিহ্নিত করা সম্ভব।
পণ্য চিহ্নিত করে সেই পণ্যকে পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে উৎপাদন বৃদ্ধি সম্ভব।
(এছাড়াও গার্হস্থ্য শিক্ষা, কারিগরি শিক্ষার আওতায় পণ্য উৎপাদন সম্ভব।)
বাজারজাতকরণঃ বর্তমানে এই গ্লোবালাইজেশনের যুগে ব্যক্তিক বাজারজাতকরণ (পার্সোন্যাল মার্কেটিং) খুবই গুরুত্বর্পূণ।
নবম শ্রেণী থেকে ব্যবসায় শিক্ষা পৃথক একটি শিক্ষা হিসেবে চালু আছে। বর্তমানে এই কমার্সের যুগে সবাই ব্যবসায় শিক্ষার দিকে ঝুঁকছে। পাশাপাশি ব্যবসায় উদ্যোগ ও ব্যবহারিক ব্যবস্থাপনা নামে ঐচ্ছিক একটি বিষয় আছে। একজন শিক্ষার্থীকে প্রশিক্ষণ দিয়ে পণ্যের উৎপাদন, সংরক্ষণ, মূল্য সংযোজন ইত্যাদি শিখানোর মাধ্যমে তাকে উদ্যোক্তায় পরিণত করা সম্ভব। এভাবে পণ্যের বাজারজাতকরণ এবং ব্যক্তিক বাজারজাতকরণ সম্ভব।
এডুকেশন বেজড প্রোডাকশন অ্যান্ড মার্কেটিং পদ্ধতি প্রয়োগে যা ফলাফল আসবেঃ
EBPM = C2+E2M
= (Capital x Company) + (Education x Employment x Marketing).
= Education Bond + Personnel Marketing
= EB + PM
= EBPM
ধরা যাক, লক্ষ্মীপুর জেলার মজু চৌধুরী হাটে অবস্থিত মেঘনাপাড় ধীবর বিদ্যানিকেতনে বর্তমানে ১৪০ জন শিক্ষার্থী। এখানে ইবিপিএম বাস্তবায়ন করতে হলে যা যা করতে হবে...
১. মূলধন x কোম্পানি (Capital x Company)
একটি যৌথ মূলধনী কোম্পানির সর্বমোট মূলধন বাবদ অর্থ পুরোটাই শিক্ষা বন্ড (Education Bond) থাকবে। যার সর্বমোট পরিমাণ উনিশ লক্ষ ষাট হাজার টাকা।
২. এডুকেশন x এমপ্লয়মেন্ট x মার্কেটিং (Education x Employment x Marketing)
যতজন শিক্ষার্থী শিক্ষার অন্তর্ভুক্ত হবে ততজনের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে থাকবে এবং ততজনকে মার্কেটিংয়ের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। অর্থাৎ প্রতিটি শিক্ষার্থী ব্যক্তিক বাজারজাতকরণের (Personnel Marketing) আওতায় চলে আসবে।
আউটপুটঃ মেঘনাপাড় ধীবর বিদ্যানিকেতনে এই পদ্ধতি প্রয়োগ করে ১৪০ জন শিক্ষার্থীর শিক্ষা এবং কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা সম্ভব। ৫ জন শিক্ষক এবং ২ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর চাকুরি নিশ্চিত করা সম্ভব।
১৪ জন শিক্ষার্থীকে মাশরুম প্রশিক্ষণ এবং ৩০ জন শিক্ষার্থীকে হস্তশিল্প প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মাত্র ১০ ভাগের দুই ভাগ অর্থ ব্যয়ে এ অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে।
সুতরাং আমরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারি যে, শিক্ষা ভিত্তিক উৎপাদন এবং বাজারজাতকরণ পদ্ধতি প্রয়োগ করে আমরা কর্মসংস্থানমূলক শিক্ষা বাস্তবায়ন করতে পারি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

