somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বঙ্গবন্ধুর বাকশালে যোগ দিন

০৩ রা ডিসেম্বর, ২০১৪ দুপুর ১:২২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

* বাকশাল রাষ্ট্র ক্ষমতায় গেলে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশিত “বহুমুখি আদর্শিক গ্রাম সমবায়ই” হবে রাষ্ট্র পরিচালনার মূল ভিত্তি।
* প্রতিটি সমবায় তার অধীনস্ত জনজীবনের সমস্ত সমস্যা পর্যালোচনা, পরিচালনা ও সমাধান দেবে।
* সারাদেশে দিন-মুজুর, জমিওয়ালা ও ব্যবস্থাপনা পরিষদ ( সরকার ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ) এই তিন শক্তির সমন্বয়ে “বহুমুখি আদর্শিক গ্রাম সমবায়” গড়ে উঠবে। প্রতিটি সমবায়ের লোক সংখ্যা 6000, পরিবার হবে 1000, প্রতিটি পরিবার হবে স্বামী, স্ত্রী, দু’টি সন্তান ও পিতা-মাতার সমন্বয়ে গঠিত। প্রতিটি গ্রাম সমবায়ে পুলিশ বিভাগ, বিচার বিভাগ, স্বাস্থ্য বিভাগসহ রাষ্ট্র যন্ত্রের প্রতিটি বিভাগের কর্মকর্তা, কর্মচারি থাকবে এবং প্রতিযোগিতামূলকভাবে কৃষি বিপ্লব, শিল্প-বিপ্লব, মৎস বিপ্লবসহ নার্সারি, ফ্যামিলি প্ল্যানিং প্রর্ভতি এক বিশাল কর্মযজ্ঞ শুরু হবে। এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সম্পাদনের জন্য আমাদের দেশের প্রতিটি ছেলেমেয়ের চাকুরি দেওয়ার পরও বাইরের থেকে লোক আমদানী করতে হবে।
* বাসস্থানঃ দিন মুজুর প্রতিটি পরিবার 25 শতাংশ জমির উপর বারান্দাসহ দুই কক্ষ বিশিষ্ট একটি ঘর, একটি স্বাস্থ্য সম্মত পায়খানা, একটি পাকঘর এবং 10 টা পরিবারের জন্য একটি টিউবওয়েল পাবে।
* শিক্ষা ও চিকিৎসাঃ প্রতিটি পরিবার নিজ বাড়িতে বসে ফ্রি চিকিৎসা পাবে। প্রতিটি ছেলেমেয়ে দুই সেট পোষাক ও একসেট বই ফ্রি পাবে এবং শিক্ষা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ফ্রি থাকবে।
* ভাত, কাপড় ও কাজঃ নিজ বাড়িতে বসে ছিন্নমূলসহ প্রতিটি শিক্ষিত, অর্ধশিক্ষিত, বেকার ও শ্রমিক কাজ পাবে, বেলা শেষে উপযুক্ত পারিশ্রমিক পাবে, জমিসহ সর্বক্ষেত্রে উৎপাদিত সম্পদের তিন ভাগের এক ভাগ শ্রমদানকারী শ্রমিকরা পাবে, এক ভাগ মালিক পাবে এবং এক ভাগ সমবায় পাবে। উল্লেখ করা যেতে পারে, সম্পদহারা হয়েও দেশের সমস্ত ভূমিহীন দিনমুজুর উৎপাদিত ফসলের তিনের এক অংশ পাবে এবং এভাবেই ধীরে ধীরে তাদের ভাগ্যের উন্নতি হবে।
রাষ্ট্রিয় শাসন ব্যবস্থাঃ গ্রামের মেঠো পথ থেকে মহানগরের রাজপথ পর্যন্ত প্রশাসনের সর্বস্তরে জনগনের দ্বারা নির্বাচিত প্রতিনিধি দেশ পরিচালনা করবেন। জনগন দেশের মালিক, তাই জনগণই তার দেশ শাসন করবেন। এভাবেই প্রতিটি জনগণের গণতান্ত্রিক ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা হবে।
* নির্বাচন পদ্ধতিঃ নির্বাচনে অস্ত্রবল, লোকবল ও অর্থবল এই তিনটি অপশক্তি নির্বাচনকে প্রভাবিত ও কলুষিত করে। বাকশালের নির্বাচন পদ্ধতিতে এই তিনটি অপশক্তি রোহিত হয়ে যাবে কারন নির্বাচনের প্রচারসহ যাবতীয় খরচ বহন করবে নির্বাচন কমিশন। কোন প্রার্থীর ব্যক্তিগতভাবে পক্ষে কাজ করার কোন অবকাশ নেই। এ অবস্থায় জনগনের প্রিয় মানুষটি নির্বাচিত হয়ে আসবে, হয় সে বড়লোক অথবা গরীব যায় হোক না কেন।

* পুলিশ বিভাগ ও বিচার বিভাগঃ প্রতিটি সমবায়ে 20 সদস্য বিশিষ্ট একটি পুলিশ বিভাগ থাকবে। এই 20 জন পুলিশ 1000 পরিবারের জান-মাল ও শান্তি শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করবে। পারিবারিক ও সমাজ জীবনে অন্যায়-অত্যাচার ও গোলমাল-গোলোযোগ হলে তাৎক্ষণিকভাবে বিচার করার জন্য প্রতিটি সমবায়ে বিচার বিভাগ থাকবে। এই ব্যবস্থা বাস্তবায়িত হলে আপনারা সহজেই বুঝতে পরেছেন চুরি-ডাকাতি, অন্যায়-অত্যাচার, গোলমাল-গোলোযোগ ও দূর্নীতি কোনটাই করা সম্ভব হবে না।
হরতাল ও অবরোধঃ দেশে হরতাল, অবরোধ, সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস, অপহরন, গুম, খুনের মত ধ্বংসাত্বক কার্যকলাপ চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে।
বাকশাল কর্মসূচি বাস্তবায়ন হলে সমাজ ও দেশে অত্যাচার, অবিচার, দূর্নীতি ও শোষণ থাকবে না। সমাজে এক অনাবিল শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে এবং পার্থিব জগতে মানুষ এক স্বর্গীয় সুখ অনুভব করবে।
হে তরুন/তরুনী (15 হতে 35 বছর)
এ দেশ তোমাদের, তোমরাই জাতির মেরুদন্ড, তোমরা বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে সাড়া দিয়ে জেগে ওঠ, বাকশালকে জান ও বুঝ এবং বাকশালের পতাকাতলে সমবেত হও। যেমনি করে 1971 সালে 7ই মার্চে বঙ্গবন্ধুর ভাষণে সাড়া দিয়ে দেশবাসী জেগে উঠেছিল যার ফলশ্রুতিতে দেশ স্বাধীন হয়েছিল কিন্তু ( এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম-বঙ্গবন্ধু 7 মার্চ 1971) এই আহ্বানটি অন্ধকারেই রয়ে গেছে যার কারনে স্বাধীনতার বয়স 44 বছর হলেও কাঙ্খিত উন্নতির লক্ষ্যে জাতি পৌঁছতে পারে নাই।তোমাদের মনে রাখতে হবে হাজার হাজার বছরের দাসত্বের শৃঙ্খল থেকে একমাত্র বঙ্গবন্ধুই আমাদের স্বাধীনতা দিয়েছেন এবং প্রতিটি বাঙালির মুখে হাসি ফুটানোর মাধ্যমে আত্ননীর্ভরশীল সুখি সমৃদ্ধশালী সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু তাঁর দ্বিতীয় বিপ্লবের কর্মসূচি তথা বাকশাল কর্মসূচি ঘোষনা করেছিলেন কিন্তু কায়েমি স্বার্থবাদি স্বাধীনতা বিরোধী চক্র 1975 সালের 15ই আগষ্ট জাতির জনককে প্রায় সপরিবারে হত্যা করে আজ 39 বছর ধরে বাকশালের অপবাদ ও বিরোধিতা করে আসছে। আজ সময় এসেছে জাতিকে অবশ্যই জেগে উঠতে হবে।

* ধনীদের উদ্দেশ্যেঃ সমাজে আপনারা যারা ধনী ও ভাগ্যবান ব্যক্তি, বঙ্গবন্ধুর নির্দেশিত পথে ধনী-দরিদ্রের সহ অবস্থানের ভিতর দিয়ে দরিদ্রের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে। সেখানে কোন ধনী ব্যক্তির জান এবং মাল আক্রান্ত হবে না বরঞ্চ অক্ষুন্ন থাকবে। তাই আমরা ধনী ও ভাগ্যবানদের উদ্দেশ্যে বলি, ক্রমাগতভাবে বৈষম্যের হার যেভাবে দ্রুত বেগে বেড়ে চলছে আরা যদি অচিরেই এর পরিবর্তন না ঘটাতে পারি তাহলে রক্তক্ষয়ি সংঘর্ষ অনিবার্য, যাহা কাহারো কাম্য নয়। বাকশালকে আজ আর ঘৃণা ও ভয় পাওয়ার কিছু নেই বাকশালের ভূল ব্যাখ্যা দিয়ে একটি শ্রেনী গোটা জাতিকে বিভ্রান্ত করছে। বাকশাল প্রতিটি মানুষের মনের কথা বলে। নির্দ্ধিধায় বাকশালে যোগ দিন। বাকশাল সমাজ বিপ্লবের এক নতুন মডেল।


সর্বশেষ এডিট : ১০ ই ডিসেম্বর, ২০১৪ সকাল ১১:৪৯
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ধর্মোন্মাদদের কল্পিত বাস্তবতা এবং "দি ম্যাট্রিক্স" এর নীল বড়ি

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:১৭


বাংলাদেশ ধর্মোন্মাদ ও জঙ্গিদের কবলে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কল্যানে এদের ধর্মোন্মাদনা দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ছে।

ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে, কদিন আগে সাতক্ষীরায় একদল ধর্মোন্মাদ ওয়াহিদুজ্জামান শামীম নামের এক যুবককে পিটিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

যারা ব্রয়লার মুরগী খায় তারা সমকামী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৩


ওয়াজ শোনেন অথচ মুফতি কাজী ইব্রাহিম হুজুরকে চেনেন না, এমন মানুষ বাংলাদেশে খুব কমই আছেন। হুজুরের আরেকটি বড় পরিচয় হলো, তিনি করোনার ওষুধ স্বপ্নে পেয়েছেন বলে দাবি করেছিলেন। হুজুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেইপ শিফটার ৩ - মাছ কন্যা

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:১৯


২০১১ এর দিকে নর্থ –ইয়র্কে থাকাকালীন রুমার বাসার আশেপাশে তেমন কোন বাঙালি দোকান ছিল না ।সেই টরোন্টর নামকরা চাইনিজ সুপারমার্কেট –টা বেশ দূরে। পায়ে হেঁটে যাওয়ার পথ নয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রাইভেট টেলিফোন কম্পানি হলে কেমন হতো?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩



গত ব্লগে টেলিফোন নিয়ে বলেছিলাম। মোবাইল থেকে টেলিফোনে কল দেওয়া বা রিসিভ করা যেতো না। শুধু টিএনটি একটিভ করা সিমে টেলিফোনে কল করা যেতো। বা টেলিফোন... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে পথ ধরে রথো রাফি হেঁটে যেতেন: চলে গেলেন ব্লগার রাফি

লিখেছেন শরৎ চৌধুরী, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:০৩

কবি, ব্লগার ও অনুবাদক রথো রাফির স্মরণ
রথো রাফি ব্লগ
রথো রাফি আর নেই—সত্যটি মেনে নেওয়া ভীষণ কঠিন। একজন মানুষের চিরপ্রস্থানের পর আমরা কেবল তার শারীরিক অনুপস্থিতিই টের পাই না, বরং গভীরভাবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×