somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

কিশোর মাইনু
মোহাম্মদ মইন উদ্দীন। ডাক নাম মাঈনু। কিছু কিছু ফ্রেন্ডের কাছে কিশোর। বাড়ি চট্রগ্রাম। পড়ালেখার কারণে ঢাকায় থাকি। কৌতুহল একটু বেশী, হয়তো বাড়াবাড়ি ধরনের ই বেশী। দূঃসাহসী, কিন্তু সাহসী কিনা এখনো জানতে পারিনি।

সামুতে আড়াই বছর[আসলে ৬মাস(পড়ুন ২মাস)]

৩০ শে জুন, ২০১৮ সকাল ১০:১২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
২০১৩সাল।


টেষ্ট এক্সামের সময় কোচিং-র স্যার পড়াইতে না পারার কারণে টাকা নেইনা।এখন ঘর থেকে তো বের হতাম খেলার জন্য কোচিং-র নাম করে।তো টাকাটা কি করব??? দিলাম মেরে।সেই টাকা দিয়ে মোবাইল নিলাম,Express Music,অবশ্য পরে আম্মুর কাছে ধরা খেয়ে গিয়েছিলাম। Btw,একদিন গল্প লিখে সার্চ দিলাম।দেখি "বাধ ভাংগার আওয়াজ।পড়লাম এবং এই বান্দাটির ফ্যান হয়ে গেলাম।তখন ব্লগ কি জিনিস জানিনা।মেট্রিকের আগেই মোবাইল বেচে দেই।তারপর অনেকদিন ধরে ১১০০ব্যাবহার করেছি।তাই বাধ ভাংগার আওয়াজ ও শুনা হয়নি।
পুনরায় নেট চালানোর মত মোবাইল(E-71) কিনলাম ২০১৫তে,ইন্টারে।এবার ঈদের টাকা দিয়ে,আম্মুর পারমিশন নিয়ে।
তখন ই প্রথম জানতে পারলাম যে,বাধ ভাংগার আওয়াজ কোন ব্যাক্তির নাম নয়,সামু ব্লগের স্লোগান।এবং তখন প্রথম যে দুজন ব্লগারকে চিনলাম তারা হল অপু তানভীর ও সামু পাগলা ০০৭।
দেখলাম অনেকেই গল্প-কবিতা লেখে।ছোটবেলা থেকেই লেখালেখির অভ্যাস ছিল।সত্যি বলতে ভালই লিখতাম।বন্ধুমহলে-স্যারদের কাছ থেকে লেখার কারণে ভালই প্রশংসা পেতাম।একটা ডায়েরিতে সব লিখতাম,গল্প-কবিতা-ছড়া-সনেট।ভাবলাম এগুলো ব্লগে ছেড়ে দেই।দেখি অপরিচিতদের কেমন লাগে।সেই উদ্দেশ্যেই টেষ্ট পরীক্ষার পরবর্তী সময়ে ২০১৫র খুব সম্ভবত ডিসেম্বরে,ব্লগ খুলে ফেললাম।


দুর্ভাগ্যজনক ভাবে ব্লগ খুলার পরপরই আমার ডায়েরিটি চুরি হয়ে গেল।রীতিমত হতাশ।তবুও লিখলাম ব্লগে।একটা ছোট্ট কবিতা।১৫-২০টা ভিউ পেয়েছিলাম মনে হয়।মন্তব্য ও পেয়েছিলাম একটা।তাতেই খুশী।
কয়েক মাস পরে বাংলাদেশের লেখকদের নিয়ে একটা পোষ্ট দিলাম।৫০+ভিউ,একাধিক মন্তব্য।
বরাবর এক বছর পর রেসাল্ট বের হলে ক্ষোভে একটি পোস্ট দিলাম।১০০+ ভিউ সাথে একাধিক কমেন্ট।আরো কয়েকদিন পর ভবিষ্যৎ মনে না রাখতে পারার কারণ শিরোনামে আরেকটি পোস্ট দিলাম।এবার ও ১০০+ভিউ।এই পোস্ট অবশ্য সরিয়ে ফেলে এই মাসেই আরো তথ্য যোগাড় করে রিপোস্ট করেছি।
বুঝলাম মানুষ গল্প-কবিতার থেকে এই ধরণের লেখাই বেশী পড়ে।
ব্যাস,গল্প-কবিতা বাদ।
শুরু করলাম তথ্যবহুল কিছু লেখার চেষ্টা।সেরকম ই একটা পোস্ট ছিল ইলুমিনাতি।এই পোস্টটিতে রিতু সাই নামে একজন ধর্ম নিয়ে আক্রমণ করা শুরু করল।মেজাজ হয়ে গেল খারাপ।ছেড়ে দিলাম লেখালেখি।


তারো প্রায় এক বছর পর,গত মাসে রথচাইল্ড-র নাম শুনলাম এক ফ্রেন্ডের কাছে।ঘাটাঘাটি করার পর মনে হল এই বিষয় গুলো কোথাও লিখে রাখা দরকার।
কোথায় লিখব???
বন্ধু বলল ব্লগেই লেখ।অন্যরাও জানতে পারবে।দিলাম পোস্ট।
২০০+ ভিউ,কমেন্ট।একজন কমেন্ট করল আরো লিখতে এই ফ্যামিলি নিয়ে।যেখানে এতদিন ব্লগ ভিউ ছিল ২২০-৩০,সেখানে এই এক পোস্টের কয়েকদিন পর দেখলাম ৬০০+ভিউ।ব্যাস শুরু করলাম লেখা।


সাথে সাথে অন্যদের পোস্টে মন্তব্য ও করা শুরু করলাম।আগের ২.৪বছরে যেখানে ১০টি পোস্ট,সেখানে এই দু-মাসেই দিলাম ৯টি করে ১৮টি পোস্ট।যার মধ্যে স্রেফ চারটি নিজের কথা লেখা।বাকী সব তথ্যবহুল পোস্ট।


ছোটবেলা থেকেই প্রচুর বই-ম্যাগাজিন পড়তাম।পেপারে ইন্টারেষ্টিং কিছউ পেলে কেটে খাতায় লাগিয়ে রাখতাম।এমন খাতা প্রচুত আছে।তারপর অনেক কিছু লিখে রাখতাম খাতায়।লেখা সুন্দর করার প্রাকটিস ও করতাম একসাথে।
আমার টেবিলের পুরো একটি ডেস্ক ই ছিল শুধু পেপার কাটিং আর এমন খাতা দিয়ে ভর্তি।এখনো আছে। কিন্তু এখন টেবিলটি আমার মেঝ ভাইয়ের দখলে।জমানোর কাজটি এখন সেই করে।


আর আমি সেইখান থেকে তথ্য তুলে এনে কিছুটা নিজের মত করে সাজিয়ে নেট থেকে আরো কিছু তথ্য সংগ্রহ করে ছেড়ে দেই।যে কারণে আমার দেওয়া পোস্ট গুলোতে রেফারেন্স দেওয়া থাকেনা।কারণ আমি নিজেই জানিনা আমি তথ্য গুলো কোন ম্যাগাজিনে/প্যাপারে/বই-এ পেয়েছিলাম।যে কারণে স্বর্গীয় অনুপাত নিয়ে আমার একটি পোস্টে ভিন্নচিন্তা ভিন্নমত ভিন্নপথ-র এক বুদ্ধিজীবী আমার নামে নকলবাজের অপবাদ লাগিয়ে দিতে সক্ষম হয়।অবশ্য আমি তা মানতে রাজি না।

এই পোস্ট দিয়ে আশা করি আমি সামুর ইতিহাসে একটা জায়গা করে নিলাম।আমার মনে হয়না এর আগে কেউ সামুতে নিজেকে এতটা খোলামেলাভাবে উপস্থাপন করেছে/করার সাহস করে উটতে পেরেছে।
ব্লগে এসে এই ২মাসে অনেক কিছুই দেখলাম,বুঝলাম,শিখলাম।আরো দেখা/বোঝা/শেখার বাকী আছে।তাই সামু ব্লগে থেকে যাওয়ার ফাইনাল ডিসিশন ও নেওয়া হয়ে গেছে।
শুভকামনা সবাইকে।
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে জুন, ২০১৮ সকাল ১০:১৩
৯টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আত্মজৈবনিক উপন্যাসঃ স্বপ্ন বাসর (পর্ব-১১)

লিখেছেন আবুহেনা মোঃ আশরাফুল ইসলাম, ১৪ ই নভেম্বর, ২০১৯ ভোর ৬:১৩




আত্মজৈবনিক উপন্যাসঃ স্বপ্ন বাসর (পর্ব-১০)


কেহ উঁকি মারে নাই তাহাদের প্রাণে
ভাঙ্গিয়া দেখে নি কেহ, হৃদয়- গোপন-গেহ
আপন মরম তারা আপনি না জানে।

দুপুর আড়াইটার মধ্যে আমরা পৌঁছে গেলাম... ...বাকিটুকু পড়ুন

বায়োস্কোপ জীবন

লিখেছেন সুলতানা শিরীন সাজি, ১৪ ই নভেম্বর, ২০১৯ সকাল ১১:১৬


যেখানে রাস্তাটা উঁচু হয়ে গেছে অনেকদূর।
যেখানে উঠলেই বাড়িগুলোর ছাদ দেখা যেতো রাস্তা থেকে।
ছয় মিনিটের সেই পথটুকু শেষ হোক চাইনি কখনো!
কিছু পথ থাকে,যেখানে গেলে চেনা গন্ধর মত তুমি।
সেখানেই দেখা হয়েছিল আমাদের।
তুমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

পিয়াজ কথন

লিখেছেন জুন, ১৪ ই নভেম্বর, ২০১৯ দুপুর ১:১৫

.

একটু আগে কর্তা মশাই বাজার থেকে ফোন করলো "শোনো পিয়াজের কেজি দুইশ টাকা, দেশী পিয়াজ আধা কেজি আনবো কি"?
'না না না কোন দরকার নাই বাসায় এখনো বড় বড়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝলমলে সোভিয়েত শৈশব: বিপদ তারণ পাঁচন

লিখেছেন স্বপ্নবাজ সৌরভ, ১৪ ই নভেম্বর, ২০১৯ দুপুর ২:০৪



শুভ অপরাহ্ন। এই দুপুরে ঘুমঘুম চোখে খুব সহজেই কিন্তু শৈশবে ফিরে যাওয়া যায়। আমার দিব্যি মনে আছে দুপুরের খাওয়ার পর রাশিয়ান বই পড়তে পড়তেই ঘুমিয়ে যেতাম... ...বাকিটুকু পড়ুন

কিরপিনের ডিম ভাজা রেসিপি

লিখেছেন মা.হাসান, ১৪ ই নভেম্বর, ২০১৯ রাত ৮:২৩






ঘটক এক সাত্ত্বিক ব্রাহ্মণের কন্যার জন্য পাত্রের খবর নিয়ে এসেছে। পাত্র কেমন জানতে চাওয়ায় ঘটক বলল ---পাত্রের সবই ভালো। দোষের মধ্যে এই খালি একটু পিঁয়াজ রসুন খায়। হবু... ...বাকিটুকু পড়ুন

×