somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অজানা - অসহায় স্বীকারোক্তি দেবীর কাছে

১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ সকাল ৯:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

জানেন, আমার অনেক না বলার গল্পের একমাত্র শ্রোতা আপনি!
আমার একটা গল্প আছে যা কেউ কোনোদিন জানেনি আর কেউ জানবেও না, শুধু আপনি ছাড়া।

আপনি কি জানেন,
হ্যা, আপনিই জানবেন,
স্বপ্ন অহেতুক হয় না
স্বপ্ন নিষ্পাপ হয়, অবোধ শিশুর মত।
নিজের সন্তানের মত।

আপনাকে বলছিলাম, আমি পূজার ঢাক পছন্দ করতাম,
ক্লাস ৯/১০ এ হেভি মেটালের ফ্যান হইলাম আর কলেজে পাগল হয়ে গেলাম।
স্বপ্ন দেখলা হেভি মেটাল ব্যান্ড করব, মিউজিক করব। অনেকে স্বপ্ন ।
হল না এ+, হল না বুয়েট।
অনেক নাটকের পর প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি।
কলেজে থাকার সময় , অনেক ব্যান্ডের সাথে আমার সম্পর্ক হয়, আর তাদের সাথে যোগাযোগ শুরু করি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তির পর।
প্রতিদিন পান্থপথ , ধানমন্ডি কিংবা মিরপুর যাই, তাদের সাথে দেখা করি, প্রাক্টিস প্যাডে যাই,
এক ব্যান্ডের বড় ভাই, ফ্রিতে ড্রামস শিখাইতে চাইল, আর এক ব্যান্ডের বড় ভাই তার ইলেকট্রিক গিটার গিফট করল।
এদিকে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সেমিস্টার ফি দিতেই আমার পরিবারের হিমসিম খাচ্ছে তখন আর টাকা চাওয়ার মুখ নাই (এটা আমি আগে থেকেই জানতাম কিন্তু কপালে বুয়েট নাই! ) এদিকে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ঢাকাতে টিউসন পাওয়া অনেক কঠিন , চেষ্টা করেও লাভ হল না।

আমাকে সবাই বুঝাইল, হেভি মেটাল মউজিক কোটিপতির ছেলের শখের মউজিক, এখানে শুধু টাকা খরচ।
আমিও অনেক অনুসন্ধান করে তাই দেখলাম, মাসে ২/৩ হাজার টাকা লাগবে, গান রেকর্ড করার খরচতো আলাদা, বড় লোকের ছেলে ব্যান্ডের মেম্বার হলে তাকে / তাদের তাল দিতে পারব না।
আর এধরণের গান কয়জনই শুনে, সিডি বিক্রি হবে না।

আমি ভয় পেয়ে গেলাম, ওরিনদের মত মানুষদের কথায় ভরকায় গেলাম।
আমাকে সবাই বুঝায়, আমি যা কাল্পনা করি তা বাস্তব নয়।
আমার কাল্পনিক জগত আর বাস্তবতার মাঝে বিস্তর ফারাক!
আমাকে ভাবাতে বাধ্য করল, আমার বাবা ৩য় শ্রেণির চাকরি করে, জন্ম করেছি কুড়ে ঘরে, বাসাছিল কবরস্থান থেকে ৫০০গজ দূরে, যেখান থেকে রাতের বেলা শিয়ালের ডাক শুনা যেত।

আমি মেনে নিতে শুরু করলাম , আমার স্বপ্ন কাল্পনিক , বাস্তবতা থেকে যোজন যোজন দূর।
আমি গলাটিপে হত্যা করলাম আমার স্বপ্ন।

আমি স্বপ্নবাজ ছিলাম হয়েত কিন্তু ভিরূ স্বপ্নবাজ।
আপনার মত সাহসী ছিলাম না,
তাই আপনাকে যতই দেখি ততই মুগ্ধ হয়ে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকি আর দূর শ্মশান ঘাট থেকে মৃত শিশুর আর্তনাদ শুনতে পাই।

আমি হিমু হতে চেয়েছিলাম,
নগ্নপায়ে দিগন্তে হেটে যেতেচেয়েছিলাম মহাকালের পথ ধরে।
আমি রূপাকে দেখেছিলা , নীলাভ জোছনাতে।

সবাই বলল, এসব কাল্পনিক , বাস্তবে আসো।
আমি খুজেছিলাম রুপাকে অনেক, পাথেপান্তরে!
আমি হাতরে পায়েছি শুধু অতিব সাধারণ নারীদের!

আমি মেনে নিতে শুরু করলাম, রুপাও কাল্পনিক!

৪থ ইয়ারে , বিদেশ যাব বলে সিদ্ধান্ত নিলাম, প্রিপারেশ্ন নিলাম জার্মানির জন্য কিন্তু অনেক টাকা নাকি ব্যাংকে দেখাইতে হয়!
সামনে গিয়ে থামকে গেলাম।

আজ যখন , আপনাকে দেখি তখন আমি অবাক চোখে তাকিয়ে থাকি বিস্ময়ে!

আমার আমি আমাকে ধিক্কার জানাই অশ্রাব্য ভাষায়।
আমি ক্যানো আপনার মত ভাবতে পারিনি?
ক্যানো আমি আপনার দৃঢ় সংকল্প হতে পারিনি?!
মাঝে মাঝে মনেহয় রুপার মত যদি আপনি আসতেন আমার অজানাতে, আমাকে একটু সাহস , একটু শক্তি দিয়ে আমার পাশে হাটতেন কিচ্ছুক্ষন।
তাহলে হয়ত, জীবনের গল্পটা আজ অন্যরকম হত।

আমি অতিব সাধারণ ,
যখন দেখি আপনার সরলতা , আমি হারাই সেই কাশফুলের বাগানে যেথায় আমি হারিয়েছি আমার অতীতকে!
যখন দেখি আপনার পবিত্র প্রাথনা, তখন আমি খুজে পাই আমাকে কোনো অজানা এক মন্দিরে দেবীর আরাধনায়!
যখন দেখি আপনার দৃঢ়তা, আমি খুজে পাই কালজয়ী কিংবদন্তি দেবী।

আমার কানে বাজে ব্যর্থতার গান
আমি স্বপ্নে দেখি, সেই অবোধ স্বপ্নশিশু কাদছে নিরবে আর কবরে বসে মুক্তার কাছ থেকে শেখা মুক্তির মন্ত্র পড়ছে।

আমার অজস্র প্রশ্নের উত্তর আপনি,
আজ আমি আমার আদালতে যুদ্ধাপরাধী , ফাসীর আসামি।

আমার চোখে আমি সাধারণ আর আপনি কালজয়ী কিংবদন্তি দেবী।

আমার জীবন গল্পে, আমি আপনাকে মনে রখব আর নিজেকে গল্প শুনাব সারাজীবন , অসাধ্যসাধনের!!!

হ্যা, আপনি আমি আলাদা ,
আমাদের স্বপ্নগুলোও আলাদা কিন্তু দুইজনের স্বপ্ন দুজনের নাগালের বাহিরে কিন্তু আমি ভয়ে , স্বপ্ন ছুয়ে দেখার সাহাস যোগাড় করতে পারিনি আর আপনি স্বপ্ন ছুয়ে দেখার অনেক কাছে।

আর আমি জানি না , ক্যানো এত বছরপর উপরওলা আমাকে আমার প্রশ্নের উত্তর দিল?
আজ আমি জানি , আমার স্বপ্ন কাল্পনিক ছিল না ,
আজ আমি জানি , রুপা কোনো পৌরানিক দেবী না। সবই বাস্তব ছিল।

দূর থেকে নিরবে নিভৃতে আপনাকে ভালোবাসি অনেক বেশী প্রিয় দেবী।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=যতই মোহ জমাই দেহ বাড়ী একদিন ঝরবোই=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৯



আমিও ঝরা পাতা হবো, হবো ঝরা ফুল,
রেখে যাবো কিছু শুদ্ধতা আর কিছু ভুল,
কেউ মনে রাখবে, ভুলবে কেউ,
আমি ঝরবো ধুলায়, বিলীন হবো,
ভাবলে বুকে ব্যথার ঢেউ।

সভ্যতার পর সভ্যতা এলো,
সব হলো এলোমেলো;
কে থাকতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামনে আসছে শুভদিন , জান্নাতের সুবাস নিন।

লিখেছেন সপ্তম৮৪, ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৮

আর অল্প কিছুদিন পরেই বাংলাদেশ পেতে যাচ্ছে প্রথমবারের মত সম্পূর্ণ সৎ এবং মেধাবীদের দ্বারা গঠিত সরকার।
মেধাবীদের বিপরীতে আছে একমাত্র শক্ত দল বিএনপি। বিএনপির জনসমর্থন প্রচুর।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা যেন পারষ্পরিক সম্মান আর ভালোবাসায় বাঁচি....

লিখেছেন জানা, ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:৪২



প্রিয় ব্লগার,

শুভেচ্ছা। প্রায় বছর দুয়েক হতে চললো, আমি সর্বশেষ আপনাদের সাথে এখানে কথা বলেছি। এর মধ্যে কতবার ভেবেছি, চলমান কঠিন সব চিকিৎসার ফলে একটা আনন্দের খবর পেলে এখানে সবার সাথে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বালাদেশের নির্বাচনী দৌড়ে বিএনপি–জামায়াত-এনসিপি সম্ভাব্য আসন হিসাবের চিত্র: আমার অনুমান

লিখেছেন তরুন ইউসুফ, ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:২৩



বিভিন্ন জনমত জরিপ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রবণতা এবং মাঠপর্যায়ের রাজনৈতিক তৎপরতা বিশ্লেষণ করে ৩০০ আসনের সংসদে শেষ পর্যন্ত কে কতটি আসন পেতে পারে তার একটি আনুমানিক চিত্র তৈরি করেছি। এই... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্ম পরে, আগে আল্লাহ্‌কে মনে রাখো

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৫:৩৭

প্রিয় শাইয়্যান,
পরম করুণাময় সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ্‌কে তুমি যখন সবার আগে স্থান দিবে, তখন কি হবে জানো? আল্লাহ্‌ও তোমাকে সবার আগে স্থান দিবেন। আল্লাহ্‌ যদি তোমার সহায় হোন, তোমার আর চিন্তা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×