somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সামহোয়্যারইনব্লগ থেকে আমার প্রস্থান ও পুনরাগমন প্রসঙ্গে

১৪ ই জানুয়ারি, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:০৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সামহোয়্যারইনব্লগে আমি লেখা শুরু করি ২০১৫ তে। তখন আমি মাত্র উচ্চমাধ্যমিক ১ম বর্ষের ছাত্র, এখন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ি। প্রায় দুই বছরের মত লিখেছিলাম। ২০১৭ এর শেষের দিকে আমি আমার সব লেখা ড্রাফটে নিয়ে গিয়ে সামু থেকে একপ্রকার অলিখিত বিদায় গ্রহন করি। ঐ দুইটি বছর খুব ভালোভাবে মনে আছে। খুব না হলেও বেশ ভালই একটিভ ব্লগার ছিলাম। প্রায়ই পোস্ট করতাম। রাজনীতি, সমাজনীতি এবং বিশেষ করে ধর্ম ও দর্শন নিয়ে অন্যান্য ব্লগারদের সাথে তীব্র বিতর্কে জড়িয়ে পড়তাম। এগুলাকে খুবই ইম্পরট্যান্ট মনে হত তখন। এখন ভাবলে হাসি পায়। নতুন ভাই, শায়মা আপু, চাঁদগাজি ভাইদের কথা ভালোভাবে মনে আছে। তাদের সাথে আমার ভালো ইন্টার‍্যাকশন ছিল। ব্লগের নাস্তিক গোষ্ঠীর যেকোনো পোস্ট দেখলেই হামলে পড়তাম আবার ধর্মান্ধ অতি প্রতিক্রিয়াশীলদের বিরোধিতাও করতাম।




আমার ব্লগে আসার কারনটা অবশ্য খুবই বাস্তবিক। ২০১৫ সময়টা খুব অদ্ভুত ছিল। তখন একের পর এক নাস্তিক ব্লগার খুন হচ্ছিলেন। হেফাজতে ইসলাম শক্তি গেইন করছিলো। প্রগতিশীল এবং প্রতিক্রিয়াশীলদের দ্বন্দ্বে অনলাইন মুখর হয়ে থাকত। নাস্তিকদের গালাগালি করার সময় "ব্লগার" শব্দটা ব্যাবহার করা হত খুব বেশি। সামহোয়্যারইনব্লগের নাম প্রকাশ্যে বলা হত। ধর্ম খুব বেশি আমি কোনোদিনই পালন করতাম না কিন্তু আধ্যাত্মিকতা বা মিস্টিসিজম এর প্রতি খুব আগ্রহ ছিল। তাই তথাকথিত প্রগতিশীলদের উন্মত্ত গালাগালি ভালো লাগত না। আবার ২০১৪ এর জালাও পোড়াও আন্দোলনের সময় নিজের চোখের সামনে বন্ধুবান্ধবের অনেককে দেখেছিলাম কিভাবে ধর্মান্ধতার ফাঁদে ফেলে তাদের ব্যাবহার করা হয় সন্ত্রাস সৃষ্টিতে। মনে হত আমার মনের কথাগুলো যদি দুইপক্ষকেই বুঝিয়ে বলতে পারতাম! ব্লগে এসেছিলাম নেতিবাচক পাবলিসিটির ফলেই। কিন্তু এসে দেখলাম সব মতেরই এখানে স্থান আছে, আছে তীব্র বিতর্কের জায়গা। বাংলাদেশের সেসময়ের শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতিতে এরকম একটা প্ল্যাটফর্মকে মনে হয়েছিল বিস্ময়কর। কিন্তু এখানেও দেখলাম প্রগতিশীল এবং প্রতিক্রিয়াশীলদের অহেতুক কামড়াকামড়ি। শেষ পর্যন্ত সামুতেই লিখতে শুরু করলাম।

স্বাভাবিকভাবেই আমার অনেক লেখাই ছিল ইসলাম নিয়ে। এছাড়াও অন্য যে বিষয়ই মাথায় আসত লিখতাম। একটা বিষয় মজার লাগত, সেটা হচ্ছে আমার পাঠকদের সবাই ধরে নিতেন তারা কোন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যাক্তির লেখা পড়ছেন। যারা আমার বিরুদ্ধে সরব ছিলেন তারাও সেভাবেই ডিল করতেন । এই জিনিসটা কিশোর আমার জন্য ছিল খুবই প্রলুব্ধকর। যে sense of importance এর পিছে বয়সন্ধিকালে সবাই দৌড়ায় সেটা আমি পেয়েছিলাম সামুতেই। বিষয়টা হাস্যকর হলেও এজন্যই এটা আমার ভালবাসার একটা জায়গা। অনেকে আমাকে মোল্লা বা মাদ্রাসার ছাত্রও মনে করতেন। রেসিজম যে কতপ্রকার হতে পারে সেটাও সামুতে না আসলে বুঝতে পারতাম না।

২০১৭ তে এসে মনে হয়েছিল শুধু শুধু সময় নষ্ট করছি সামুতে। তখন সামুর লেখার মানও ব্যাপকভাবে পড়ে গিয়েছিল। অনেকটা কৈশোরের অভিমান নিয়েই সরে গিয়েছিলাম। কিন্তু যেসব কারনে অভিমান জেগে উঠেছিল একজন ব্লগার হিসেবে আমিও তার জন্য কিঞ্চিৎ দায়ী। বয়স আর অভিজ্ঞতা বাড়ার সাথে সাথে সেটা বুঝতে অসুবিধা হয় নি। তাই আবার ফিরে আসলাম। পুরনো নয় বরং নতুন একজন সদস্য হিসেবেই আমাকে আবার সামু পরিবারের সকল ব্লগার গ্রহন করবেন সেই আশা নিয়েই সব অভিমান ভুলে আবার ফিরে আসছি ভালোবাসার সামুতে। আবার কথা হবে, তর্ক বিতর্ক হবে, গল্প হবে, গান হবে।

সবাইকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই জানুয়ারি, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:২৭
১১টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সমুদ্র-৪

লিখেছেন সোনালী ডানার চিল, ১৩ ই জুলাই, ২০২০ রাত ৩:৪৬



আমি জানিনা কেন, তবুও সূর্যাস্ত আমার সবচেয়ে প্রিয়।
প্রতি সন্ধ্যায় যখন সমুদ্র ঘেঁষে ঘরে ফিরি,
তখন অস্তগামী সূর্যটা আমাকে কিছুটা মন খারাপের গল্প শুনিয়ে টুপ করে ডুবে যায়।
আকাশে তখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে দেশে জন্মই আজন্ম পাপ

লিখেছেন আবদুর রব শরীফ, ১৩ ই জুলাই, ২০২০ রাত ৩:৪৭

চীনের এক দম্পতি ইতালির লম্বারডি অঞ্চলের কডঙ্গও শহরে বেড়াতে গিয়েছিলো সেখান থেকে পুরো ইতালিতে করোনা ছড়িয়ে পরে,
.
স্প্রেফ্ একটা দম্পতি ৷ দুইজন মানুষ ৷ আর আমাদের ডাক্তার সাবরিনারা ১৫ হাজার ৪৬০... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইউরোপে একটুকরো আফগানিস্তান, ইয়েমেন গড়ছে এরদেগান।

লিখেছেন চাঁদগাজী, ১৩ ই জুলাই, ২০২০ বিকাল ৫:২১



তুরস্কের মুল ভুখন্ড এশিয়ায় হলেও, ইউরোপিয়ানরা তুরস্ককে ইউরোপের দেশ হিসেবে গণ্য করে আসছিলো এতদিন; এই ১ম বার তুরস্ক ইউরোপের বলয় থেকে বের হচ্ছে, নিজকে ধর্মীয় জাতি... ...বাকিটুকু পড়ুন

এক ভুলে দশ বছর--- :P :P

লিখেছেন গিয়াস উদ্দিন লিটন, ১৩ ই জুলাই, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:১৬




করোনাকালিন হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা দুই বন্ধুর ফোনালাপ -
প্রথম বন্ধু : দোয়া করিস দোস্ত,আমি বর্তমানে তৃতীয় স্টেজ -এ আছি।
দ্বিতীয় বন্ধু :বুঝিয়ে বল, তৃতীয় স্টেজ মানে কি?... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ গরু আর কৃষকের শ্রমের ফসল....

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১৩ ই জুলাই, ২০২০ রাত ৮:১১



‘করোনা করোনা’ করে বন্ধ করে রেখেছো সব,
গৃহে বসে থেকে সবাই করছো ‘যুম’ উৎসব।
খাদ্য ফুরিয়ে গেলে থাকবে না কোন বন্ধু বান্ধব,
যতই তোমাদের কাছে থাক অথৈ বিত্ত বৈভব!

মধ্য দুপুরে গরু আর আমরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×