somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভাংচুর টাইপের প্রেম আর টোনাটুনির সংসার চাই...।।

০৩ রা ডিসেম্বর, ২০১৪ দুপুর ২:৩১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমার কখনোই লুতুপুতু প্রেম নয় ভাংচুর টাইপের প্রেমে ভাসতে ইচ্ছে করে... ঠিক এমনভাবে---
যেখানে ছোট্ট ছোট্ট আবদার থাকবে... সারাদিন অপেক্ষা... ফেবুতে চ্যাটে এসে আমাকে না পেয়ে বারবার তার মিসডবার্তাতে সুখ খুঁজে পাওয়া .. ফোন বন্ধ পেয়ে রাগারাগি করা ... আমার সরি সরি বলা, মেসেজ টোনে অভিমানের ঝড় ওঠা...। আহ্‌আ!
চুপিসারে তার মানিব্যাগের এক পাশে রেখে দেবো ছোট্ট ছোট্ট ভালোবাসার চিরকুট ... মাম্মা টাকা দেন, রিকশাওয়ালাকে টাকা দিতে গিয়ে বেড়িয়ে আসবে কাগজ...অবাক চোখে এপাশ/ ওপাশ করে হেসে ফেলবে গাধাটা, ভরে রাখবে তা আবার! অন্যপাশে ভেঙ্গে যাওয়া চুড়ির কয়েক টুকরা... আবার টাকা বের করতে গিয়ে চুড়ির টুকরোতে হাতে লেগে যাবে খোঁচা ! রিকশাওয়ালা মাম্মা হা করে তাকিয়ে থাকবে... আবার কি যেন...হাতে আসবে ছোট্ট একটা ক্লিপ... পাগলী বলেই পাগলটা তাকিয়ে দেখবে ছবি রাখার জায়গায় একটা কালো টিপ... ! ভালোবাসি ভালোবাসি শব্দটা জড়িয়ে থাকবে সারাদিন... ! ঘুম আসছে না বললেই- ঘুমা এখন মেসেজে শান্তি! গরম লাগছে খুব, লোডশেডিং...পাখা বাতাস কর না, বললেই-- দুষ্টুমিতে উত্তর- বাতাস করতে করতে যদি ...! যদি কি...? না থাক লজ্জা পাবি! একটু কিছু হলেই গালাগালি... আমিও ভাঙ্গবো থালি (থালা) ! অভিমানে আমি তাকে ধরে করাবো কান ধরে উঠ-বস, সে আমায় করবে ভালোবাসায় বশ! বেকুবের মত জন্মদিনের কথা ভুলে যাবে গাধাটা ... অভিমান শেষে রাতে তাকে ফোনের ওপাশ থেকে জড়িয়ে ধরে মনে করিয়ে দিলে --- ভালোলাগার আবেশে বুকে টেনে নিয়ে কানের কাছে মুখ নিয়ে বলবে- সরি রে গাধিটা! সকাল সকাল বললে কি হত শুনি? তাহলে তো এত কষ্ট পেতে হত না... !আর কিছু না থাকবে শুধু চুড়ি কিনে দেয়ার বায়না... হাঁদারামটা এই বায়না নিয়েই করবে যত বাহানা... ! মাঝরাতে বৃষ্টি হলেই ছাদে ভেজার আবদার ... ঘুম ঘুম চোখে গালি দিয়ে বলবে সে- মাথা খারাপ হয়েছে আমার...। তারপর-ই আবদারের ছলে ভিজিয়ে দেবে আমায়... কখনো কখনো মাঝরাতে জ্যোৎস্না দেখবো--- বলেই তাকে টেনেটুনে ছাদে নিয়ে যাবো... মাদুর বিছিয়ে পাশে বসে জ্যোৎস্নায় ভিজবো... পাজিটা অভিযোগ করতেই থাকবে-- ঘুমাতে দিস না কেন আমাকে? আমি বলবো- গান শোনা... তোর সব পচা গান শুনবো আজ... ! সে বলবে- ওকে, মুভি দেখার সময় যদি ঘুমিয়ে যাস, তাহলে কিন্তু তোর চোখে মরিচ দিয়ে দেবো...!আমি ইচ্ছে করেই ঘুমিয়ে যাবো... গাধাটা ডেকেডুকে ওঠাতে না পেরে কোলে নিয়ে বিছানায় শুইয়ে দেবে... আলতো করে কপালে ভাললাগার চিহ্ন এঁকে দেবে... ! খেতে ইচ্ছে করে না শুনলেই পাজিটা কাছে টেনে বলবে- আয় আমি খাইয়ে দিচ্ছি... এরপর ভুলিয়ে ভালিয়ে আমাকে মাছ খাওয়াতে যাবে... আমি ইয়াক ইয়াক করে বমি করে দেবো... গাধাটা হতবিহবল হয়ে যাবে-- কি করবে বুঝে পাবে না...! তারপর আর কোনদিন মাছের কথা মুখে আনবে না... এরপর থেকে ভাত খেতে না চাইলে সে কাছে টেনে আদুরে বকাতে ভাত মাখাতে মাখাতে খাইয়ে দেবে... ! অফিস যাওয়ার আগে গাধাটার ফোন আসবে... শার্টের বোতাম নাই রে ... সেলাই করে দে না...? আমিও হুড়মুড় করে গাধাটার কাছে কল্পনায় চলে যাবো... বলবো এই দেখ- একদম তোর বুকের কাছে, সেলাই করে দিচ্ছি বোতামটা... আহ্‌ চিৎকার! উহু গাধাটাকে লাগেনি, লেগেছে আমার আঙ্গুলে... গাধাটা দেখি দেখি -- বলেই ব্যস্ত হয়ে যাবে... বকা দিবে... কি করিস তুই এভাবে? এত আনমনা কেন তুই? বলবো - তোর কাছে গেলে তো আমি এমন-ই হয়ে যাই...! মাঝে মাঝে ঘুম থেকে উঠেই মন খারাপ থাকবে... গাধাটার ফোন আসবে ঠিক তখন-ই! চুপ থাকবো... কিছু বলবো না... গাধাটা বুঝে ফেলবে... বলবে আচ্ছা, আজ কোন কাজ নেই, আজ সারাদিন তোর সাথে থাকবো! বল কি হয়েছে? বলবো না, বলেই গাল ফুলিয়ে থাকবো! না বললে- কি করে বুঝবো বল? এরপর আদুরে গলায় বলবো - আমাকে তোর একলা ঘরের সঙ্গী করবি... ছোট্ট একটা ঘর... ! এত্ত এত্ত ঘরের দরকার নেই! একটাই ঘর, ঘরের চারপাশটা শুধু নীলাকার হয়ে থাকবে! আর আর ঘরের সামনে একটা ঝুল বারান্দা থাকবে... তুই/ আমি প্রতিদিন সেই বারান্দায় বসে এক কাপ চায়ে হুড়োহুড়ি করবো... ! জ্যোৎস্না রাতে চাঁদের আলোয় ভাসবো... ! বৃষ্টি হলেই হাত বাড়িয়ে পানি নিয়ে ছিটাছিটি করবো...। তুই বাজার করবি টোনার মত আমি কোমরে শাড়ী পেঁচিয়ে তোর জন্য রাঁধতে বসবো... মাঝে মাঝে হাত পুড়িয়ে ফেলবো ... বকতে বকতে অস্থিরতায় তুই কেঁদে ফেলবি পোড়া হাত দেখে...।! কখনো আমি প্লেট ভাংবো তো কখনো তুই গ্লাস ভাংবি... ! কখনো তুই জুতা দিয়ে মারতে আসবি তো কখনো আমি অভিমান শেষে তোকে কান ধরে উঠ-বস করাবো! তোর অফিস যাওয়ার আগে-- শার্ট / প্যান্ট / জুতো সব এনে রাখবো... মুখে তুলে খাইয়ে দেবো... সারাদিন অপেক্ষা করবো... বিকেল হলেই হালকা সাজুগুজু করে বসে থাকবো... কলিংবেলের শব্দে চমকে উঠে হাসিমুখে দরজা খুলে দেবো... তুই অফিসের ব্যাগ ফেলে কোলে নিয়ে আমায় রুমে আসবি... বলবি- এখন আমি চা বানিয়ে আনছি ... ! আম তোর হাত ধরে বসিয়ে বলবো - তুই ফ্রেশ হয়ে নে... আমি আনছি ...। মাঝে মাঝে চুড়ি কেনার বায়না করবো... এখানে সেখানে বেড়াতে যাবো...। না আর কিছু চাই না... বাড়ী/ গাড়ী/ শাড়ী/ গয়না এটা সেটা নয় রে... শুধু একটু ভালোবাসা চাই... টোনাটুনির মত ছোট্ট একটা সংসার চাই... একটা জীবনে আর কি চাই... এই জীবনটা তোর সাথেই কাটুক তোর একলা ঘরের সংসারে তোর চাদনী বউ হয়ে ...?

৭টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ধর্মোন্মাদদের কল্পিত বাস্তবতা এবং "দি ম্যাট্রিক্স" এর নীল বড়ি

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:১৭


বাংলাদেশ ধর্মোন্মাদ ও জঙ্গিদের কবলে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কল্যানে এদের ধর্মোন্মাদনা দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ছে।

ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে, কদিন আগে সাতক্ষীরায় একদল ধর্মোন্মাদ ওয়াহিদুজ্জামান শামীম নামের এক যুবককে পিটিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

যারা ব্রয়লার মুরগী খায় তারা সমকামী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৩


ওয়াজ শোনেন অথচ মুফতি কাজী ইব্রাহিম হুজুরকে চেনেন না, এমন মানুষ বাংলাদেশে খুব কমই আছেন। হুজুরের আরেকটি বড় পরিচয় হলো, তিনি করোনার ওষুধ স্বপ্নে পেয়েছেন বলে দাবি করেছিলেন। হুজুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেইপ শিফটার ৩ - মাছ কন্যা

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:১৯


২০১১ এর দিকে নর্থ –ইয়র্কে থাকাকালীন রুমার বাসার আশেপাশে তেমন কোন বাঙালি দোকান ছিল না ।সেই টরোন্টর নামকরা চাইনিজ সুপারমার্কেট –টা বেশ দূরে। পায়ে হেঁটে যাওয়ার পথ নয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রাইভেট টেলিফোন কম্পানি হলে কেমন হতো?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩



গত ব্লগে টেলিফোন নিয়ে বলেছিলাম। মোবাইল থেকে টেলিফোনে কল দেওয়া বা রিসিভ করা যেতো না। শুধু টিএনটি একটিভ করা সিমে টেলিফোনে কল করা যেতো। বা টেলিফোন... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে পথ ধরে রথো রাফি হেঁটে যেতেন: চলে গেলেন ব্লগার রাফি

লিখেছেন শরৎ চৌধুরী, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:০৩

কবি, ব্লগার ও অনুবাদক রথো রাফির স্মরণ
রথো রাফি ব্লগ
রথো রাফি আর নেই—সত্যটি মেনে নেওয়া ভীষণ কঠিন। একজন মানুষের চিরপ্রস্থানের পর আমরা কেবল তার শারীরিক অনুপস্থিতিই টের পাই না, বরং গভীরভাবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×