somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শীতের সন্ধায় তুই যতই কুয়াশায় ভিজবি আর ঠক ঠক করে কেঁপে আইস্ক্রিম খাবি দেখবি শীত উধাও হয়ে যাবে!

০৫ ই ডিসেম্বর, ২০১৪ দুপুর ২:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

শীতের সন্ধ্যা ... বাইরে যেন কুয়াশা বৃষ্টি হচ্ছে...! পাশের বাসার টিনের চালে টপ টপ শব্দ হচ্ছে মাঝে মাঝে... থেমে থেমে বাতাস...উফস্‌ কনকন করছে হাত পা শীতে... গায়ে জড়ানো চাদরটা কোনরকমে টেনেটুনে ঠিক-ঠাক মত করে নিয়ে... পায়ে ছাদে যাওয়ার চপল ঢুকিয়ে ... এলো চুল কোন মত খোঁপার মত পেঁচিয়ে ... এক ঘোর লাগা চোখে এদিক-ওদিক দেখে চুপিসারে ঘরের দরজা খুলে মেয়েটা ছাদে চলে যায়...! মেয়েটার উদ্দেশ্য কিছু বোঝা যায় না... ও কি স্বপ্নের ঘোরেই হাঁটছে না কি জেগে জেগে সত্যি- সত্যি হেঁটে গেল ছাদে এই শীতের ভেতরে... ! সিড়িঘরের কাছে গিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে মেয়েটা এক পা ছাদে রাখলো... তারপর হাতটা বাড়িয়ে যেন কুয়াশার বৃষ্টি ছুঁয়ে দেখতে চাইলো... তারপর ধীর পায়ে হেঁটে হেঁটে গাছগুলির কাছে গিয়ে বলল- ইসস্‌ গাছগুলি যেন ভিজে একাকার...! ঝিরঝির বৃষ্টির মত করে কুয়াশা পড়ছে এখনি...ভাল লাগছে না কিছু...... হাতে থাকা মোবাইলটা এবার চোখের সামনে একবার ধরে, মেসেজ লিখা শুরু করে-“ কুয়াশার বৃষ্টিতে ভিজছি রে পাগল! ভিজবি আমার সাথে? আইস্ক্রিম খাবো... প্লিজ এনে দে না? শীতে ঠক ঠক করে কাঁপবো আর মজা করে আইস্ক্রিম খাবো! কেমন হবে বল তো” ?
রিপ্লাই আসে- শালা হারামী? মারতে চাস আমারে? শীতের এই কুয়াশা সন্ধায় তুই ছাদে গিয়া ভিজতেছোস? জুতা চিনিস? জুতা? আবার আইস্ক্রিম? তোরে কিন্তু পিটাইয়া মাইরা ফেলুম! নাম বলছি ছাদ থেকে!
শুরু হয়ে গেল- তোর বকাবকি! আরে গাধা -- ভিজেই দেখ না, কত মজা! শীতের সন্ধায় তুই যতই কুয়াশায় ভিজবি আর ঠক ঠক করে কেঁপে আইস্ক্রিম খাবি দেখবি শীত উধাও হয়ে যাবে!
হু! তুই আইছিস, বিজ্ঞানী ! কি আজিব জিনিস আবিস্কার করছোস রে! তোরে কিন্তু সত্যি- পিটামু কইলাম!
ওকে যা যা, না ভিজিস! যা অন্যদিকে যা , যেই শাঁকচুন্নিরা তোরে উষ্ণতা দিবে তাদের কাছে যা! দূর হয়ে যা!
এমন করে না সোনামণি ! বুঝিস না কেন? ঠান্ডা লেগে যাবে তোর! ওকে তোকে ভিজাচ্ছি- কিন্তু কথা দে এরপর তাড়াতাড়ি নেমে যাবি?
হু কথা দিলাম, এবার চলে আয়?
ওকে এই দেখ- আমি পেছন থেকে গিয়ে তোর ঘাড়ে মুখ রেখে চমকে দিলাম...!
হু............!
তারপর তোর চাদরটা সুন্দর করে গায়ে জড়িয়ে দিয়ে আমার চাদরে তোকে আবার ঢেকে নিলাম, এরপর দুজনে খানিকক্ষণ ছাদের এপাশ- ওপাশটা একটু ঘুরে বেড়ালাম, তুই বারবার হাতটা বাইরে দেয়ার চেষ্টা করছিস, আর আমি বারবার তোর হাত চেপে ধরছি...! হু এরপর আমি বলি- হুট করে একবার আমি তোকে ধাক্কা দিয়ে হাতটা বাইরে নিয়ে একটু কুয়াশার বৃষ্টি হাতে নিয়ে তোর নাকে ঘসে দিলাম...! তুই চিৎকার করে উঠলি! শয়তান্নী! হাসতে হাসতে আমি এদিক- ওদিক ছুটোছুটি করতে লাগলাম ...! শীত কোথায় পালালো...! অই অই শোন শোন, আইস্ক্রিম খাবো! তাড়াতাড়ি নিয়ে আয় কইলাম! কি? আইস্ক্রিম এই শীতের রাতে? তোর মাথা ঠিক আছে? না কি মাইরা ঠিক করুম বল? আরে বাপ, নিয়ে আয় না! দারুন এক মজা দেখবি! শীতের রাতে ঠক ঠক করে কাঁপতে কাঁপতে আইস্ক্রিম খাওয়ার মজাই আলাদা! তুই ভাবছিস, ঠান্ডা লাগবে? দেখিস, ঠান্ডা কোথায় পালাবে!
অই অই, তুই কি ফাইজলামি পাইছিস? মশকরা করিস আমার সাথে?
না রে গাধা, না! সত্যি বলছি! নিয়ে আয় প্লিজ! না হলে কথা নাই যা এখান থেকে ভাগ! ওকে বাপ, আনছি , কিন্তু যদি একটু খুক খুক করিস, হাচ্চোওও করিস, তোরে পিটাইতে পিটাইতে এইখানে ভর্তা কইরা রাইখা আমি জেলে যামু কইলাম!
আচ্ছা, যা! মেয়েটা আবার আনমনে হাঁটছে একাকী! মনে মনে হাসছে।।
কিছুক্ষন পরেই ছেলেটা এসে যায় আইস্ক্রিম হাতে নিয়ে! এই নে ধর! ওয়াওওও! তুই কত্ত ভাল রে! মেয়েটা আইস্ক্রিম নিয়ে খেতে শুরু করে, ছেলেটার হাতে একটা ধরিয়ে দেয়, ছেলেটা অবাক চোখে তাকিয়ে দেখে এরপর খাওয়া শুরু করে... মেয়েটা দু কামড় দিতে না দিতেই, একবার খুক করতে গিয়ে, নিজেকে আটকায়, ছেলেটা বলে ওঠে- থাক আর খাস না! মেয়েটা বলে আরে হুরর কিছু না, এই দেখ খাচ্ছি, এরপর তোরটাও খাবো হু... এই বলেই মেয়েটা একটু আইস্ক্রিম হাতের ডগায় নিয়ে ছেলেটার নাকে দিয়ে দেয়..
ছেলেটা চিল্লায়... ইসস্‌ ঠান্ডা তো! গুন্ডী! মেয়েটা হেসে চলে... এরপর-ই শুরু হয় হাচ্চোওওও, খুক খুক...! ছেলেটা জোর করে হাত থেকে আইস্ক্রিম কেড়ে নিতে চায়... মেয়েটা পালিয়ে যায়... একবারে আইস্ক্রিম মুখে পুরে দেয়...। বলে ধ্যাত! তুই না, খেতেও দিস না... আরে রাতে মেডিসিন খেয়ে নেবো যা...। ছেলেটা হাতের আইস্ক্রিম ফেলে দিতে যায়, মেয়েটা দৌড়ে আসে... অ্যাই ফেলিস না, আয় ভাগ করে খাই... বলেই খুক খুক করে...
ছেলেটা এবার বলে চলে- প্লিজ সোনামণি এবার নীচে নেমে যা...অনেকক্ষণ তো তোকে কুয়াশার বৃষ্টিতে ভিজালাম, তুই আইস্ক্রিম খেলি এবার নীচে যা... কথা দিয়েছিস কিন্তু আমায়...?
মেয়েটা আকাশের দিকে তাকায়... হু হু করে বুকটা কেঁপে ওঠে... ভেতর থেকে একটা দমকা হুতাশের সাথে থমকে থমকে কান্না বেড়িয়ে আসে...!
এতক্ষন সব-ই ছিলো মেয়েটার কল্পনার একটা অংশ... বাস্তব চিত্রটাও তাদের এভাবেই কল্পনায় কেটে যেত... ! শীতের এক কুয়াশা ভেজা সন্ধ্যায় অখন্ড অবসরের ফাঁকে মেয়েটা একাকী ছাদে হাঁটতে গিয়ে সেই কল্পনা কল্পনা খেলার অংশটা এভাবেই চিন্তা করছিলো! সেই রাতে হয়ত এই চিত্রটাই মেয়েটার স্বপ্নে এসেছিলো... ! হুবুহু এরকম না হলেও খুব কাছাকাছি মিলে গিয়েছিলো... ! স্বপ্নে ছেলেটা এসেছিলো... খুব কাছে কিন্তু আবছা... কেমন যেন ঝাপসা একটা অবয়ব... ! যতটা চেনা তার থেকেও বেশী অচেনা...! তবুও স্বপ্নেই মনে মনে মেয়েটা চেয়েছিলো এটা যেন কোনভাবেই স্বপ্ন না হয় ... ঘুমের ভেতরেই অজান্তেই চোখ দিয়ে ফোঁটায় ফোঁটায় জল গড়িয়ে পড়েছিলো ...।। ভিজতে ভিজতে মেয়েটা আবারো সেই মানুষটাকেই খুঁজতে লেগেছিলো ......।।
৩টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ধর্মোন্মাদদের কল্পিত বাস্তবতা: "দি ম্যাট্রিক্স" এবং নীল বড়ি

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:১৭


বাংলাদেশ ধর্মোন্মাদ ও জঙ্গিদের কবলে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধম্যের কল্যানে এই ধর্মোন্মাদনা দাবানলের মতো সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে।

ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে, কদিন আগে সাতক্ষীরায় একদল ধর্মোন্মাদ ও জঙ্গি ওয়াহিদুজ্জামান শামীম... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফেসবুক অ্যাক্টিভ মানেই- অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট নয়।

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:১৩

ফেসবুক অ্যাক্টিভ মানেই- অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট নয়।

বর্তমান ডিজিটাল যুগে ‘অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট’ একটি বহুল ব্যবহৃত পরিচয়। সামাজিক এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে এই পরিচয়ের কদর দিন দিন বাড়ছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে- ফেসবুকে নিয়মিত পোস্ট... ...বাকিটুকু পড়ুন

যারা ব্রয়লার মুরগী খায় তারা সমকামী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৩


ওয়াজ শোনেন অথচ মুফতি কাজী ইব্রাহিম হুজুরকে চেনেন না, এমন মানুষ বাংলাদেশে খুব কমই আছেন। হুজুরের আরেকটি বড় পরিচয় হলো, তিনি করোনার ওষুধ স্বপ্নে পেয়েছেন বলে দাবি করেছিলেন। হুজুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেইপ শিফটার ৩ - মাছ কন্যা

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:১৯


২০১১ এর দিকে নর্থ –ইয়র্কে থাকাকালীন রুমার বাসার আশেপাশে তেমন কোন বাঙালি দোকান ছিল না ।সেই টরোন্টর নামকরা চাইনিজ সুপারমার্কেট –টা বেশ দূরে। পায়ে হেঁটে যাওয়ার পথ নয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে পথ ধরে রথো রাফি হেঁটে যেতেন: চলে গেলেন ব্লগার রাফি

লিখেছেন শরৎ চৌধুরী, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:০৩

কবি, ব্লগার ও অনুবাদক রথো রাফির স্মরণ
রথো রাফি ব্লগ
রথো রাফি আর নেই—সত্যটি মেনে নেওয়া ভীষণ কঠিন। একজন মানুষের চিরপ্রস্থানের পর আমরা কেবল তার শারীরিক অনুপস্থিতিই টের পাই না, বরং গভীরভাবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×