somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

ফকির ইলিয়াস
আলোর আয়না এই ব্লগের সকল মৌলিক লেখার স্বত্ত্ব লেখকের।এখান থেকে কোনো লেখা লেখকের অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ, ছাপা, অনুলিপি করা গ্রহনযোগ্য নয়।লেখা অন্য কোথাও প্রকাশ, ছাপা করতে চাইলে লেখকের সম্মতি নিতে হবে। লেখকের ইমেল - [email protected]

কাব্যচিন্তন : আকাশ অম্বর - এর একটি কবিতা

২৩ শে জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ১০:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ইচ্ছে টা বেশ কিছু দিনের। এই ব্লগের কবিদের একটি কবিতা নিয়ে আলোচনা করবো। লিখবো সেই কবিতাটি নিয়ে, আমার কাব্যচিন্তন।
হাঁ , আমি বেছে নিয়েছি দশজন কবি । যাদের, আমার দৃষ্টিতে নির্বাচিত একটি কবিতা নিয়ে আলোচনা করবো আমি ।
জানাবো আমার পাঠচিন্তা । আমার বেছে নেয়া প্রথম কবি
আকাশ অম্বর । তার এই কবিতাটি পড়ুন।
Click This Link
পথ-কথা
=======

ছোট একটি গলি। আর তার স্থানে স্থানে আট্‌কে থাকা অন্ধকার। চুপচাপ। নিভৃত। আট্‌কে থাকা মুক্ত অন্ধকার। পৌষের এই হালকা শীতল রাত্রির আবেশে মৃদু শীতল-অনুভূতিগুলোও আট্‌কে থাকতে চায়। মৃদু বাঁধনে বশ মানতে চায়। বিপ্লব চায় না। বিদ্রোহ চায় না। চায় না জেগে উঠতে। শুধু চায় ঘুমিয়ে থাকতে, শীতল থাকতে। উত্তাপ চায় না। আলোড়ন চায় না। শুধু চায় উষ্ণ এই চাদরের তলায় লুকোতে। একাকী উষ্ণ এই চাদর। আর মৃদু শীতল অনুভূতিগুলো। উলের পরতে পরতে জমে থাকা তাপ শুষে তবে উদ্বায়ী হতেই হয় বুঝি তাদের। আর তারপর শীতল বাতাসে ঘনীভূত হয়ে টপটপ করে ঝরে পরতেই হয় বুঝি মনের অতলে। জমাট বাঁধতে হয় দেহ-তাপে।

হ্যাঁ। ছোট্ট এই গলি। কিন্তু কত পুরোনো এই পথ! কত স্মৃতি! কত স্মৃতি! সব বুঝি আট্‌কে আছে ঐ ভাঙা দেয়ালের খাঁজে, শেওলা পরা ইটের প্রান্তে, দেয়ালের পদধূলিতে সিক্ত শিশিরভেজা ঘাসের ডগায়, আর কতদিন ধরে দাঁড়িয়ে থাকা ঐ ল্যাম্পপোষ্টের আঁধার-বর্ধিষ্ণু আলোর ছায়ায়। হালকা শিরশিরে বাতাসে বুঝি ফিস্‌ফিসে ওরা এখনও ছাড়ছে মৃদু উষ্ণ দীর্ঘশ্বাস।

গাইছে কেউ...

দেখবো কি করে তারে
নীরব অহংকারে
আমার গহন মনে
সে যে গান হয়ে বাজে

নীরব অহংকার। তোমার। নীরব অহংকার। আমার। নীরব অহংকার – গলির এই খুব্‌লে খুব্‌লে খাওয়া পৃষ্ঠভাগের। পিচ-ঢালা নয়। কংক্রীটের প্রলেপ হতে মুক্ত। বৃষ্টি হলে মাটির সোঁদা-গন্ধ বের হয় যার গা থেকে, সেই তুচ্ছ পথের নীরব অহংকার। মৃত্তিকার অহংকার। সে যে গান হয়ে বাজে। আমার গহন মনে। তোমার গহন মনে। স্মৃতি, তুমি জানো কি তা?

কেন তুমি কাছে এলে
এত আশা দিয়ে গেলে

কাছে আসা। দিয়ে যাওয়া আশা। ফেলে যাওয়া হতাশা। কে বুঝবে তার মর্ম! যারা একাকী পথ চলে, তারাই বোঝে। আর হে স্মৃতি, তুমি কেনো বুঝেও বোঝো না! এই পথ তো বোঝে। এই মৃত্তিকা তো বোঝে। দেখো দেখো, সে কতই না শান্ত। কতই না শীতল। এই পথ তো দেখেছে দুটো উষ্ণ চাদরের খেলা। এই পথ তো শুনেছে মৃদু-শীতল হাওয়ায় কেঁপে উঠা দুটো উষ্ণ-অনুভূতির কাতরতা। এই পথই তো অনুভব করেছে এক একীভূত উষ্ণ আলিঙ্গনের ছোঁয়া। আর তারপর? এই পথই তো শুনেছে দুটো অশরীরী আত্মার মৃদু-কোলাহল। ফিসফিস করে তখন কি কথা কইতে হে পথ-মৃত্তিকা? তোমার নরম শরীর মাড়িয়ে যাওয়া দুটো অতৃপ্ত-আত্মার মুখোশ কি খুলে পরেছে তোমার ওপর? তুমি কি লজ্জা পেয়েছো? হে পথ! তুমি কি মুখ লুকিয়েছো ঘৃণায়?

ছোট্ট এক গলি। স্মৃতিকাতর এক পথ। তারা তো দেখেছে দুটো নীরব অহংকার।

আমার চোখের জলের মাঝে
তোমার স্বপ্ন কমল আছে
তুমি জানো কি তা?

-------------------------------------------------------------------
কবি বলেন এগুলো তার ছেঁড়া চিন্তা । চিন্তার স্বরূপ কী ?
চিন্তা হচ্ছে - যা ভাবে ও ভাবায়। একটা ক্ষেত্র তৈরি করে। ভালোবাসার।
বিরহের। কাঁদার। হাসার।
কবিতাটি শুরু হয়েছে একটি গলি, একটি অন্ধকার, কিংবা একটি মন নিয়ে। যে মন দেহের প্রতিভূ।
এই মনটি বিপ্লব চায় না। বিদ্রোহ চায় না। জাগতে চায় না।
চায় ঘুমিয়ে থাকতে।
আচ্ছা , ঘুম কীসের প্রতীক । ঘুম প্রতীক মৃত্যুর। ঘুম শান্তির প্রতীক।
উষ্ণ উলের পরতে পরতে মিশে এই যে জমাট দেহতাপ- তা'ই জন্ম দেয়।
জন্মান্তর ঘটায়। যা একটি বিপ্লবের চেয়েও অধিক ।

ইটে শ্যাওলা পড়ে ঠিকই । কিন্তু স্মৃতিতে ? না পড়ে না । আমৃত্যু পর্যন্ত। গলির মোড়ে দাঁড়িয়ে অথবা মনের গলিগুলো সেই দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে
আর ভাবে বর্ধিষ্ণু আলো এসেই দখল করে নেবে প্রেমের ছায়া ।

এই কবিতায় কথামালার সাথে মৃদু সুরের মিশ্রণ ঘটিয়েছেন কবি।

গাইছে কেউ...

দেখবো কি করে তারে
নীরব অহংকারে
আমার গহন মনে
সে যে গান হয়ে বাজে


এই কৃতিত্ব কবির । তিনি নতুন প্রতীকে ভাবিয়েছেন আমাদেরকে।
অহংকারী মন, সেই মনের কাছে আসার বিনয় - সব মিলিয়ে তিনি
কবিতাটিকে করে তুলেছেন খুবই বহমান। আর বহমান পংক্তিই কালের
ধারক।
কবিতার শেষপ্রান্তে কবি নির্মাণ করেছেন চলমান সমাজচিত্র।

ফিসফিস করে তখন কি কথা কইতে হে পথ-মৃত্তিকা? তোমার নরম শরীর মাড়িয়ে যাওয়া দুটো অতৃপ্ত-আত্মার মুখোশ কি খুলে পরেছে তোমার ওপর? তুমি কি লজ্জা পেয়েছো? হে পথ! তুমি কি মুখ লুকিয়েছো ঘৃণায়?

পথও লজ্জা পায়।মুখ লুকোয় ঘৃণায়। কখন ? যখন আমার- মানবেরা ,
মানবতা পরাজিত হয় । পরাজিত হয় প্রেম।
কিন্তু সেই গলি, সেই পথই তো আমাদের চলার মনন। শক্তির সড়ক।
একটি ধীমান আলো ছড়িয়ে কবি পৌঁছে গেছেন পাঠক-পাঠিকার
মননে খুব সার্থকতার সাথে ।
ধন্যবাদ - কবি আকাশ অম্বর ।

ছবি- হাজেল মাব্বট
৯টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×