somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

তখনো সন্ধ্যা নামেনি.।

১৬ ই নভেম্বর, ২০১৮ রাত ৮:৩৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


এক
গোধূলি’র আকাশ দেখতে সবসময়ই খুব ভালো লাগে মুনার।
প্রকৃতির সাথে ভালোবাসাবাসি শেষে লাজনম্রা আভরণ গায়ে মেখে বসে থাকে তিলোত্তমা আকাশ। কোথাও বুঝি এক গরবিনী ছায়া ফুটে ওঠে তার সমস্ত অবয়বজুড়ে। সঙ্গীর ভালোবাসায় সিক্ত হওয়া আকাশের মন জুড়ে আস্থার গৌরব! গোধূলির আকাশকে দেখে প্রতিবার এই কথাটিই কেন যে মনে আসে মুনার!
আচ্ছা...প্রকৃতি তো একেবারে পাল্টে যায় না কখনো! নতুন সাজে কখনো কখনো সাজায় মাত্র নিজেকে। কিন্তু সেই যে চিরচেনা রূপ রঙ স্পর্শ...এর তো পরিবর্তন নেই কোনো!
মানুষ কেন তবে এভাবে আমূল বদলে যায়?

কুমুকে আজ তাড়াতাড়ি খাইয়ে দাইয়ে ঘুম পাড়িয়ে দিতে হবে। কাল সকাল সকাল উঠেই আবার রওয়ানা হতে হবে। জার্নিতে একেবারেই ঘুমাতে পারে না কুমু। তাই রাতের ঘুমটা খুব দরকার।
ওর ছোট ব্যাগটা অবশ্য আগেই গুছিয়ে রেখেছে মুনা। বেশি কিছু সাথে নেবে না। কয়েকটি জামা আর ওর টুকটাক কিছু নিজস্ব জিনিসপাতি। নিজের জন্যও বেশি কিছু নেবে না মুনা। ওর নিজের কেনা কয়েকটি সালোয়ার কামিজ আছে। সেগুলোই ভরে নেবে একফাঁকে। পছন্দের শাড়িগুলো কোনটাই ওর নিজের কেনা নয়। সেগুলো রেখে যাবে। অবশ্য এখানে রেখে গেলেও বা লাভ কী? আর কি ফেরা হবে কখনো?

কুমু’র প্রশ্নের উত্তর দিতে দিতে জান ঝালাপালা হয়ে গেছে তার।
‘মামনি, আমরা কি নানু’র বাসাতে থাকবো?’
‘হ্যাঁ মা, আমরা নানুর বাসায় গিয়ে থাকবো।’
‘মামনি, নানুর বাসাতে যেতে আমার ডল কেন নিব? ও তো এখানেই থাকে!’
‘মা, আমরা একটু বেশি সময়ের জন্য যাবো তো, তাই!’
‘মামনি আমরা কতদিন থাকবো নানুর বাসায়? অনেকদিন?’
‘হুম...’
‘মামনি...তাহলে বাপিকে কে দেখবে? বাপিকেও সাথে নিয়ে চল!’
দিশেহারা হয়ে এবারে হাল ছেড়ে দেয় মুনা। নিষ্পাপ মনের অবুঝ প্রশ্নগুলো ওর ভেতরে গিয়ে আছড়ে পড়তে থাকে অবাধ্য ঢেউয়ের মতো। মুনা গা ঝাড়া দিয়ে ওঠে। এই ঢেউকে এখানেই আটকাতে হবে। বেশিদূর এগুতে দেওয়া যাবে না। গলায় শাসনের সুর ফুটিয়ে তুলে বলে,
‘উহ্‌ কুমু! তুমি বড্ড বেশি কথা বল। বাপি অনেক কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকে। এতদিন আমাদের সাথে কীভাবে থাকবে তুমি বল? আর কথা না বলে তাড়াতাড়ি নিজের ডলগুলো নিয়ে এসো। মামনিকে হেল্প কর!’
মায়ের শাসনে প্রশ্নের তেড়েফুড়ে আসা বন্যার মুখে আপাতত লাগাম লাগলো। কুমু গুটিগুটি পায়ে তার পুতুল খুঁজে আনতে গেল। নিজের মনকে সে সহজেই বুঝিয়ে নিয়েছে... ‘মা যখন বলছে, তখন বাপির আসলেই অনেক কাজ আছে...’

কুমুর দিকে তাকিয়ে চোখদুটো জ্বালা করতে থাকে মুনার। পাঁচ বছরের শিশুকে আজ হয়ত সে ভুলিয়ে ভালিয়ে রাখতে পারছে। কিন্তু আর কিছুদিন পরে কী হবে? কী দিয়ে তাকে বুঝ দিবে মুনা? কীভাবে বোঝাবে...ছিঁড়ে যাওয়া পাতাকে যেমন জোড়া দেওয়া যায় না...ছিঁড়ে যাওয়া সম্পর্ককেও জোড়াতালি দিয়ে আটকে রাখা যায় না। তারচেয়ে এই ভালো, নিজেদের কিছুটা সময় দেওয়া। তাতে যদি তিক্ততার ভারটুকু কমে আসে ক্ষতি কী!
সম্পর্ক হয়ত ফুরিয়েই যাবে একসময়, তবু যদি গ্লানিটুকুকে পেছনে ফেলে আসা যায়!
কুমু দু’জনকে একসাথে না পাক, তবু ওর জীবনে বাবা-মা দুজনেরই যেন সম্মানজনক একটা অবস্থান থেকে যায়। তাই সবার ভালোর জন্যই এই সেপারেশন...তারপরে ভবিতব্য ওদের যেদিকে নিয়ে যায় ওরা সেদিকেই যাবে!

চেষ্টা করেছিল সবাই। কুশল আর মুনা’র সম্পর্কের এই শীতলতা দূর করতে পরিবারের সবাই যার যার অবস্থান থেকে এগিয়ে এসেছিল। কিন্তু কিছুতেই কিছু হয়নি। সবাইকেই ব্যর্থ মন নিয়ে ফিরে যেতে হয়েছে। কেউই পারেনি ওদের সমস্যার কাছাকাছি পৌঁছতে। ঠিক কী কারণে ওদের একসাথে থাকাই একেবারে অসম্ভব হয়ে উঠলো, তা কারো বোধে আসেনি।
ওরা নিজেরাও কি কম চেষ্টা করেছিল! তবু ক্ষোভের বাষ্পগুলো জমতে জমতে কেমন এক গুমোট অস্থিরতায় ভরিয়ে দিলো চারপাশ। সেখানে নিঃশ্বাস নেওয়াই কঠিন হয়ে উঠলো একসময়।
প্রতিদিনের খুঁটখাট মনকষাকষি, মান অভিমান, কষ্ট পুষে যন্ত্রণা পাওয়া...প্রতিটি সংসারের নিত্য আলাপ। এসবই যে একসময় সম্পর্কের বাঁকই ঘুরিয়ে দেবে... মোড় নেবে এত বড় পরিণতির দিকে তা কেউই ভাবতে পারেনি। কী এমন হলো যে আর কিছুতেই একসাথে থাকা যায় না! অথচ ভালোবেসেই তো ঘর বেঁধেছিল দুজনে। পাখীর ঠোঁটে বইয়ে নিয়ে আসা খড়কুটো’র মতো ধীরে ধীরে গড়ে তুলেছিল ঘর সংসার...আপন নিবাস।
অথচ যখন ধ্বস নামলো, তখন নির্দয়ের মতো গুড়িয়ে গেল সব। চুর চুর করে ভেঙে গেল তাসের বাগান।


দুই
কুশল আর মুনা ভালোবেসেই বিয়ে করেছিল।
ইউনিভার্সিটির থার্ড ইয়ারের শেষের দিকে দানা বাঁধে ওদের সম্পর্ক। ঠিক ক্লাসমেট বলা যাবে না, তবে ওরা একই ইয়ারের। শুধু ডিপার্টমেন্ট ভিন্ন। মুনার ক্লাসের শফিকের মাধ্যমেই ওদের দুজনের পরিচয় হয়। সেই পরিচয় থেকে মুগ্ধতা, আর তা থেকে জন্ম নেওয়া প্রণয়। সবশেষে অনিবার্য পরিণয়। বিয়ের পরে শফিক হাসতে হাসতে কুশলকে বলেছিল,
‘সাথে করে নিয়ে গিয়েছিলাম হবু ইয়ের সাথে তোরে আলাপ করায়ে দিতে। আর তুই শালা নিজেই লটকে পড়লি!’

বিয়ের প্রথমদিকে অল্প কয়েকমাস ঠিকঠাক চলছিল সবকিছু। আস্তে আস্তে দানা বাঁধতে শুরু করে অসন্তোষ। সবকিছুতে অসন্তোষ! ঠিক কোথা থেকে যে এসবের উৎপত্তি হতো বলা কঠিন।
মুনা অপছন্দ করতো কুশলের কুঁড়েমী আর বেহিসাবী মনোভাব। আর কুশল সহ্য করতে পারতো না সবকিছুতে মুনার এই অতিরিক্ত নাকগলানি আর অযথা হিসেবনিকেশ। ছুটির দিনটাতে অন্ততঃ আয়েশ করে বিছানায় পড়ে থাকতে চাইতো কুশল। মুনা সেদিনও তাকে সকাল হতে না হতেই তাড়া লাগাতো,
‘সপ্তাহের দুটো মাত্র ছুটির দিন। কোথায় একটু বাজার ঘাট করে রাখবে...আর তা না এভাবে শুয়ে শুয়ে সময়টা পার করে দিচ্ছো! মেয়েটাকেও তো একটু সময় দিতে পারো! একটু পরেই তো যাবে বন্ধুবান্ধবের সাথে হৈ হুল্লোড় করতে...এভাবে অযথা কেউ সময় কষ্ট করে? মানুষ কতদিকে নানারকম চিন্তাভাবনা করে...ভবিষ্যতের জন্য পুঁজি বাড়ায়...আর তুমি আছো তোমার আড্ডাবাজি আর আনন্দ নিয়ে...’

কুশল আলস্য জড়ানো গলায় বলতো,
‘মুনা...আজ তো ঘুমাতে দাও! প্রতিদিন তো থাকিই দৌঁড়ের ওপরে!’
‘নিজের কাজ নিয়েই তো থাকো! আমাদের দিকে কি ফিরে দেখার সময় আছে তোমার?’
‘আমার কাজ মানেই তো তোমাদের জন্যই খেটে মরা...তাই না? আমার নিজের কাজ নাকি শুধু? তবু একটু ঘুমাতে দেখলেই মাথা গরম হয়ে যায় তোমার!... বন্ধুদের সাথে একটু গল্পগুজব করি এই একদিন, তাতেও তোমার এত আপত্তি! করবো কী সারাদিন? বসে বসে তোমার এইসব জ্ঞানগর্ভ উপদেশ শুনবো?...’
রাগে গজগজ করতে করতে বিছানা ছেড়ে ওঠে কুশল। ওর কথাগুলো মিলিয়ে যেতে থাকে বাথরুমের বদ্ধ দরজার ওপাশে।

সেদিকে তাকিয়ে ফোঁশ করে একটা নিঃশ্বাস ছাড়ে মুনা। রাগে কিলবিল করতে থাকে ভেতরটা।
এই খেটে মরা’র কথাটা শুনলেই মুনার শরীরে কী যেন চিড়বিড়িয়ে ওঠে। কুশল এভাবে বলে কেন সবসময়? কী এমন চাহিদা ওর? টাকা পয়সা বাঁচানোর ব্যাপারে ওরই তো বরং বিশেষ আগ্রহ! কুশলই তো বেহিসাবী খরচ করে চলে সবসময়! অন্য আর দশটা হাউজ ওয়াইফের মতো ও কবে কুশলকে শাড়ি গয়না কিনে দিতে বলেছে?
এই সেদিনও রায়না’র আম্মু ব্যাংকক থেকে তার স্বামী কী কী নিয়ে এসেছেন, সেসবের ফর্দ নিয়ে মুনার কাছে এসে গল্প শুনিয়ে গেল। মুনা চুপচাপ শুনে গেল শুধু। একবার জিজ্ঞাসু কণ্ঠে শুধু জানতে চেয়েছিল,
‘ভাই কি নিজে থেকেই এতকিছু নিয়ে এসেছেন?’
রায়নার মা মুখ বেঁকিয়ে বলেছে,
‘ইইইসস! তাহলে তো হয়েই যেত! ব্যাংকক যাওয়ার দু’মাস আগে থেকে লিস্ট বানাতে বসেছি!’

কুশল নিজেও অফিসের কাজে মাঝে মাঝে দেশের বাইরে যায়। মুনা একবারও নিজে থেকে ‘এটা এনো...ওটা এনো...’ বলে কুশলের মাথা খায়নি। আর তাদের মেয়েটাও হয়েছে খুব বুঝদার। এই পাঁচ বছর বয়সেও তার বুদ্ধিজ্ঞান আর আত্মসম্মানবোধ টনটনে। বাবাকে কখনো আবদার জানিয়ে ত্যক্তবিরক্ত করে না। কেউ কিছু কিনে এনে দিলে খুশিতে মুখচোখ উদ্ভাষিত হয়ে ওঠে। তবু নিজে থেকে কিছু আনতে বলে না।
তারপরেও কুশলের মুখে একই কথা... ‘সারাদিন তোমাদের জন্য খেটে মরি!’
ভারী অভিমান জন্মে মুনার মনে। বেশ তো! আমাদের জন্য এত খাটাখাটনি তোমার...আমরা চলে গিয়ে তোমার খাটনি কমিয়ে দিই। তখন ঘুমিয়ো আরাম করে...যত পারো!


তিন
কুশলের একটাই দোষ! রেগে গেলেই একেবারে বেতাল হয়ে যায়। তখন কী যে বলে আর কী যে করে একেবারেই কিছু হুঁশ থাকে না ওর। রীতিমত ঝড় তুলে ফেলে। ঝড় শেষে যখন সবকিছু শান্ত হয়ে যায়, তখন নিজেই ভাবতে বসে...
এতকিছু না বললেও বুঝি চলতো!
মুনার একটা ব্যাপার সে কিছুতেই মানতে পারে না। সবকিছুতে বেশি বেশি শক্ত একটা ভাব। যেন ইচ্ছাকৃতভাবে গাম্ভীর্য ফুটিয়ে তুলতে হবে। আর কেমন যেন মাস্টারনি মাস্টারনি স্বভাব। ‘এখন এটা করা যাবে না...আগে এই কাজ করে নিতে হবে...ঘর এত অগোছালো কেন? ধুর...দেখছো একটা কাজ করছি, এই সময়ে এত রোমান্স কেন?...’
শুধু বাধা আর নিষেধের ঘেরাটোপে আটকানো জীবন।
কুশলের ইচ্ছে করে ইচ্ছেমত আয়েশ করে জীবনটাকে কাটিয়ে দিতে। সবসময়ই এত ভাবগাম্ভীর্য বজায় রেখে ধাপ মেপে পা ফেলতে ওর ভালো লাগে না।

অথচ এই সেদিনও এমন ছিল না মুনা। বিশেষ করে বিয়ের আগের দিনগুলো মনে পড়লে এখনো উদাসী হয়ে যায় কুশল। কী ঝরঝরে নদীর মতো উচ্ছল ছিল মুনা! কত হাসতো...আর কী যে কলকল করে কথা বলতো! কুশলই তখন ওর কথার তোড়ে কথা বলার সুযোগ পেত না।
ওরা বিয়ের আগে প্রচুর ঘুরতো। একবছর প্রেম করার সুযোগ পেয়েছে দুজনে। সেই একবছরে ওরা ঢাকা শহর একরকম চষে বেড়িয়েছে। আজ বোটানিক্যাল গার্ডেন, তো কাল আহসান মঞ্জিল...পরশু হয়ত সদরঘাট। ওদের এই ঘোরাঘুরি দেখে বন্ধুরা মজা করতো সবসময়।
‘তোদের অবস্থা দেখে মনে হয়, বিয়ের পরে দুজনে মিলে ট্রাভেল এজেন্সি খুলে বসবি!’

ওদের ভালো লাগতো ঘুরতে। প্রত্নতাত্ত্বিক জায়গাগুলোতে বিশেষ করে বেশি আগ্রহ খুঁজে পেত ওরা। হারিয়ে যাওয়া সময়ের লোপাট হয়ে যাওয়া মুহূর্তগুলোকে খুঁড়ে খুঁড়ে বের করতো দুজন। কত পরিকল্পনা ছিল দুজনের! বিয়ের পরে ওরা হানিমুনে ইণ্ডিয়া যাবে। সেখানে মোঘল আমলের রাজাদের নানারকম নিদর্শন আছে। সেগুলো ঘুরে ঘুরে দেখবে। এছাড়া জয়পুরের হাওয়া মহল, জল মহল... সব দেখে ফেলবে। কী আছে জীবনে? টাকা বাঁচিয়ে এই কাজই করবে দুজনে।
কত স্বপ্ন বুনতো! জীবনটাকে মনে হতো পাখির ডানার মতো হাল্কা। একবার উড়তে শুরু করলেই ফুরিয়ে যাবে বুঝি!
অথচ বিয়ের পরে সবকিছু হয়ে গেল উল্টা। যে মুনা নিজে থেকেই ঘুরে বেড়াতে এত ভালোবাসতো, সে দিনরাত হিসাব কষতে শুরু করে দিলো। বিয়ের পরে ওরা একবার মাত্র বেড়াতে গিয়েছিল। বাঙালীর হানিমুন স্বর্গ কক্সেসবাজার। উহ্‌! সেই কয়েকটা মোটে দিন কত কী যে হিসাব করেছিল মুনা!

কুশলের ইচ্ছে ছিল প্রতিদিন বিভিন্ন রকম রেস্টুরেন্টে ঘুরে ঘুরে খাওয়া দাওয়া করবে দুজনে। রূপচাঁদা শুঁটকি ভর্তা, লইট্টার দো পেঁইয়াজা, বনমোরগের লাল টকটকে ঝাল ঝোল...সবকিছু একবার করে চেখে দেখবে।
অথচ কুশলের এসব ইচ্ছেকে থোড়াই কেয়ার করে হানিমুনের সময়টাকে একেবারে বরবাদ করে ছেড়েছে মুনা। সাথে করে নিয়ে গিয়েছিল এক অদৃশ্য ক্যালকুলেটর। সেই ক্যালকুলেটরে দিনরাত চলেছে তার হিসাব কষাকষি।
‘ওরে বাবা...এখানে সবকিছুর এত দাম!...একটা ফ্রাই নিলেই তো দুজনের হয়ে যায়! দুটো নিতে হবে কেন?... সেন্টমার্টিনে যেতে এতগুলো টাকা বেরিয়ে যাবে? তার চেয়ে এখানেই সমুদ্র দেখে পার করে দিই...আর কোথাও গিয়ে কাজ নেই...’
শেষমেষ মনের দুঃখে হাল ছেড়ে দিয়েছে কুশল। এমন হিসেবী মেয়েকে তো সে বিয়ে করেনি! এ মুনা তার একেবারেই অচেনা!

সাজগোজের ব্যাপারে মুনার অনাসক্তি কুশলকে আহত করে। ওদের অফিসের মেয়েরা কত টিপটপ হয়ে অফিসে আসে! আর কত রকম ফ্যাশন করে তারা! ইদানীং হাল ফ্যাশনের কতরকম ছাঁটের জামা পরে মেয়েরা! সাথে স্টাইলিশ পালাজ্জো, প্যান্ট। বেশ লাগে দেখতে।
মুনাকে কতদিন আকারে ইঙ্গিতে বলতে চেয়েছে কুশল। সরাসরি বলতে সাহস হয়নি। তাহলে হয়ত রাগ করে বলেই বসবে,
‘এত মেয়েদের দিকে তাকানোর সময় পাও কখন? তুমি নাকি কাজ করেই সময় পাও না!’
মুনা বিয়ের আগে মাঝে মাঝেই শাড়ি পরতো। সাথে কনট্রাস্ট ব্লাউজ। কখনো হুবহু ম্যাচিং করতো না। বেশ অন্যরকম সুন্দর লাগতো দেখতে। কোন এক রঙের শাড়ির সাথে সম্পূর্ণ বিপরীত রঙের ব্লাউজ পরতো মুনা।
কুশলের চেহারাতে মুগ্ধতা ঝরে পড়তো।

সেই মুনাই বিয়ের পরে বেমালুম ফ্যাশন স্টাইল সব ভুলে গেল! যেমন তেমন রঙের উলটাপালটা ম্যাচিং করে কাপড় পরে বের হতে দেখলে কুশলও না বলে পারেনি,
‘এটা কী পরেছো মুনা? কী রঙের শাড়ির সাথে কী রঙের ব্লাউজ পরেছো তুমি?’
চোখেমুখে ভীষণ ক্লান্তি ফুটিয়ে জবাব দিয়েছে মুনা,
‘উফ...এতকিছু লক্ষ্য কর তুমি! একটু কম কম খেয়াল করতে পারো না? সময় কোথায় এত সাজগোজ করার? কুমুকে দেখতে কত সময় বেরিয়ে যায় সে খবর রাখো তুমি?’

এই হয়েছে আরেক অযুহাত! কুমু!
মেয়ের জন্মের পরে থেকে মুনাকে দেখলে মনে হয়, সে বুঝি দশ বছর বেশি বুড়িয়ে গেছে। অগোছালো বেশবাশ, উসকোখুসকো চুল। কে বলবে এই মুনাকে দেখেই কুশলের একদিন মনে হয়েছিল...
‘এক মুঠো স্বস্তির আশায় যাবো তোমার কাছে...
করতলে আলতো করে ছুঁয়ে দিব স্বচ্ছ রোদ্দুর
মেঘঢাকা কুন্তলে ভ্রমর হয়ে পথ হারাবো
ভ্রু ভঙ্গিতে রাঙিয়ে দিও অবুঝ প্রহর...’

সেই সময়গুলো সত্যিই হারিয়ে গেছে। এখন আর মুনার করতলে রোদ্দুর খেলা করে না। তেল হলুদের ছিটেফোঁটা দাগগুলো কদর্য ভঙ্গিতে হাসে দাঁত বের করে।
খুব ক্লান্ত লাগে কুশলের। নিজেকেই নিজে জিজ্ঞেস করে...এই জীবনের ইতি টেনে দিলে কেমন হয়?
শুধু কুমু’র জন্য ভাবনা হয়। ওর তো এই জীবনটা প্রাপ্য ছিল না! ওকে কীসের মধ্যে এনে ফেলে দিল তারা?


চার
আলাদা থাকার সিদ্ধান্তের কথা মুনাই প্রথম জানিয়েছিল কুশলকে। আশ্চর্য হয়ে লক্ষ্য করলো কুশল, ওর তেমন একটা খারাপ লাগছে না। প্রতিদিনের খিটিমিটি, ঝাঁঝালো যন্ত্রণার মতো কথামালার খচখচানি...ও নিজেও মুক্তি পেতে চাইছিল এসবের হাত থেকে। অন্তত একটা সময় পর্যন্ত আলাদা থাকা যেতে পারে। দেখা যাক, এই অবস্থার কোন উন্নতি হয় কী না!
কিন্তু কুমু? কুমু কার কাছে থাকবে?
প্রতিটি মুক্তি উৎসুক দম্পতির মতো এই প্রশ্নই সামনে এসে দাঁড়িয়ে গেল অবধারিতভাবে। কুশলের মা গ্রামে থাকেন। ওর বাবা বেঁচে নেই। মা কাঁদতে কাঁদতে ফোন দিলেন,
‘এইসব কী শুনি রে বাপ? ঝামেলা মিটাইয়া ফ্যাল তাড়াতাড়ি! বাচ্চাটারে কষ্ট দিবি তরা?’

কিন্তু মিটিয়ে ফ্যাল বললেই যদি সবকিছু মিটে যেত!
সিদ্ধান্ত হলো, কুমু কিছুদিন ওর মা’র কাছেই থাকবে। এই বয়সী একটা বাচ্চা মাকে ছেড়ে থাকতে পারবে না। তাছাড়া ওকে এখন স্কুলে দিতে হবে। অফিস সামলে কুশল এসব সামালও দিতে পারবে না।
আগেরদিন রাতে কুমুর ঘুমন্ত মুখটাতে চুমু খায় কুশল। মুনা মুখ ফিরিয়ে বসে থাকে। একবারও কিছু বলার কথা মনে আসে না। কী আশ্চর্য...একটা ভালোবাসাময় শুরুর শেষটা এভাবে হবে?
প্রিয় লেখকের উপন্যাসের পংক্তিগুলো মনে পড়ে,
‘মানুষ যখন ভালোবাসে, বিধাতা তাকে ভবিষ্যত দেখতে দেন না কেন? এ কেমন জুয়াখেলা!’

আলাদা থাকার দিনলিপি শুরু হয় ওদের...
কুশল বাসাটা ছাড়তে গিয়েও ছাড়তে পারে না। বাসার এখানে ওখানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কুমুর ডলের নানা সরঞ্জাম...রান্নাবাড়ি’র খেলনা বাসন কোসন। সবকিছু নিয়ে যেতে পারেনি ওরা।
না চাইতেও চোখ পড়ে যায় বারান্দার টবগুলোর দিকে। মুনার গাছের বাতিক ছিল। শক্তপোক্ত ভাবনা’র মাঝে যেটুকু কোমলতা মিশে ছিল, সেটুকুর সবটাই গাছগুলোকে উজাড় করে দিত। কুশল দু’একদিন পানি দেওয়ার চেষ্টা করেছে। শেষমেষ আর পারেনি। ওর নিজের বাসায় ফেরারই আর ঠিক নেই এখন...আর গাছের পানি!

ওদের সম্পর্কের পরিণতি নিয়েই দুজনেই ভাবছে ইদানীং। ভালোবাসার শূন্যতাটুকু কী দিয়ে ভরাট করবে ওরা? যা দিয়ে সম্পর্কের সূচনা, সেটাই যদি এভাবে হারিয়ে যায়... বাকী পথটুকু কীভাবে একসাথে চলবে?
মরা নদীতে স্রোতের আশা করে লাভ কী! একটা বাচ্চা নিয়ে মাঝপথে থমকে যাওয়া দুজন মানুষ। প্রিয়জনদের ভাবনাগুলোও ঘুরেফিরে একরকম। যদি সামনে নাই এগুনো যায়... তাহলে মোড় নিতে হবে কোন এক বাঁকে। সে ব্যাপারে কী ভাবছে ওরা?

মুনার এক চাচীই মধ্যস্ততা করেন। কুশলকে ফোন করে বলেন,
‘তোমাদের সমস্যা গুলো মিটিয়ে ফেলছো না কেন কুশল?’
কুশল চুপ করে থাকে। এই প্রশ্ন ওরা হাজারবার শুনেছে দুজন। উত্তর আলাদা হওয়ার আদৌ কোন সম্ভাবনা নেই। চাচী কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে থাকেন কুশলের উত্তরের। পরে নিজেই আবার বলেন,
‘বেশ তো! তাহলে আলোচনা করে ঠিক কর সামনে কী করবে! কুমু’র ব্যাপারেও তো একটা সিদ্ধান্তে আসতে হবে তাই না? এভাবে বিষয়টা ঝুলে থাকতে পারে না!’

সিদ্ধান্তে আসা মানে কি ডিভোর্স? তাছাড়া আর কীই বা অন্য অর্থ এর? কুশল এবারেও চুপ করে থাকে। হয়ত এবার সত্যটাকে মেনে নেওয়ার সময় এসেছে। এভাবে পালিয়ে পালিয়ে আর ক’দিন?


পাঁচ
কুশলের সাথে কথা বলতে মুনা একাই এসেছে।
কুমুকে সঙ্গে আনেনি। ওকে মুনা তার মা’র কাছেই রেখে এসেছে। কুমুকে সাথে আনলে যে অপ্রিয় বিষয় নিয়ে কথা বলতে চায় ওরা...তা হয়ত কিছুই বলা হবে না।
আলাদা থাকার প্রায় ছ’মাস পরে এভাবে আবার কুশলের মুখোমুখি হতে যাওয়া। কুমু অন্যরকম একটা আশঙ্কায় ভোগে। কীসের যেন উদ্বেগ... অনেকটা বিয়ের আগের সেই সময়ের মতো। কী হবে...কীভাবে শুরু হবে...শেষটুকুই বা কীভাবে হবে... নানা ভাবনার জালে জড়িয়ে গেল ওর অনুভূতি।

সাদামাটা কিছু একটা পরে নিয়ে যেতে মন চাইলো না। এতদিন পরে দেখা...কিছু তো প্রস্তুতি নেওয়া যেতেই পারে!
শাড়ি পরা প্রায় ভুলতেই বসেছিল মুনা। আজ কতদিন পরে আবার শাড়ি পরলো! ছাইরঙ্গা জমিনের ওপরে গাঢ় ছাইরঙ্গা সুতার কাজ। অনেক আগের শাড়িটা। বাবার বাড়িতে পরে ছিল এতদিন। সেটাকেই ইস্ত্রি করে ভদ্রস্থ বানালো মুনা। সাথে পরলো মেরুন আর লালের মাঝামাঝি খুব সুন্দর রঙের একটা ব্লাউজ। হালকা এক্সেসরিজ...কানে গলায় কুন্দনের সেট। তাতে জেগে রইলো লালরঙের ঝকমকে চুনি।

কুমু ঘুমিয়ে থাকতে থাকতেই বেরিয়ে পড়লো মুনা। সে জেগে উঠলে মাকে দেখে হয়ত চিনতেই পারতো না। এই মাকে সে দেখেনি কখনো।
কুশলও নিজের অজান্তেই নিজের সাজপোষাকের ব্যাপারে বিশেষ মনোযোগী হয়ে উঠলো। সেই আগের দিনগুলোর মতো হালকা পারফিউম লাগালো গলায়। কুশলও আজ এ্যাশ কালারের শার্ট পরলো। কীভাবে যেন ওদের পছন্দও আজ একেবারে খাপে খাপে মিলে গেল।

মুনাই ঠিক করেছিল দেখা করার জায়গা। লালবাগের কেল্লায় দেখা করবে ওরা। কুশল অবাক হয়েছিল। ও ধরেই নিয়েছিল, মুনার এসব আর কিছুই মনে নেই। মুনা এখন একেবারেই পাল্টে যাওয়া একজন মানুষ।
নির্দিষ্ট জায়গায় নির্দিষ্ট সময়ে মুনাকে দেখেও কুশল বিস্ময়ে হতবাক। সেই আগের মুনা দাঁড়িয়ে আছে ওর সামনে। কোথাও এতটুকু বাহুল্য বা অতিশয়োক্তি নেই। একেবারে যেখানে যতটুকু প্রয়োজন, ঠিক ততখানি কোমলতা নিয়ে...হ্যাঁ, মুনাই তো! মুনাই ওর সামনে দাঁড়িয়ে!

আজ আর হিসেব নিকেশের কড়াকড়ি নেই। জীবনের যে বাঁকে ওরা আজ এসে দাঁড়িয়েছে, সেখানে আর হিসেব কষার অবকাশ নেই। অনেক তো কড়াকড়ি হলো...এবার নতুন দিকে মোড় ঘুরবে জীবনের। এই সময়টুকুকেই আজ উপভোগ করা যাক না!
মুনাই প্রথমে শুরু করলো,
‘বেশ অন্যরকম লাগছে!’
কুশল কৌতুকমাখা গলায় বললো,
‘কথাটা তো ভেবেছিলাম আমিই বলবো...’

মাঝের দূরত্বটুকু মাঝেই রয়ে গেল। সেই দূরত্বটুকুকে শত চেষ্টাতেও অতিক্রম করতে পারলো না ওরা। ঠিক কী উদ্দেশ্যে ওরা আজ এখানে, সেটা যতবার সামনে এলো...ততবারই কুণ্ঠায় পিছিয়ে গেল দুজন। তবু আজ বহুদিন পরে ওরা ঘুরলো প্রাণখুলে। দুপুরে রেস্টুরেন্টে বসে ইচ্ছেমত খাওয়া দাওয়াও করলো। কুশলকে মানিব্যাগ বের করতে দেখে মুনা একঝলক সেদিকে তাকাতেই কুশলের মুখে কৌতুক খেলে গেল।
মুনা অবশ্য বললো ভিন্ন কিছু। যা বললো তা খুব নতুন শোনালো কুশলের কাছে।
‘তোমার মানিব্যাগও দেখছি পালটে গেছে। আগেরটা ফেলে দিয়েছো...ভালো করেছো! কেমন ফ্যাকাশে হয়ে গিয়েছিল একেবারে!’

বিকেলে ওরা গেল চন্দ্রিমা। কুশল অফিসের গাড়ি নিয়ে গিয়েছিল। মুনা সেটা ফেরত পাঠাতে বললো। সেই পুরনো দিনের মতো ওরা রিক্সায় ঘুরে বেড়ালো সারাদিন। স্বচ্ছ মেঘদলকে সরিয়ে দিয়ে শরতের আকাশে ঠাঁই করে নিয়েছে কালো মেঘগুচ্ছ। মিহি স্নিগ্ধ বাতাসে জুড়িয়ে যাচ্ছে তপ্ত দেহ। হুডতোলা রিক্সায় কপোত কপোতীর মতো ঘুরতে লাগলো দুজন।
চন্দ্রিমা’র কৃষ্ণচুড়াগুলো সেই আগের মতোই আছে। হয়ত আকার আকৃতিতে কিছুটা খোলতাই হয়েছে এই যা! লেকের ছায়ায় মিশে যেতে থাকা সূর্যালোক একেবারে ডুবে গেলে সম্বিত ফিরলো দুজনের। মুনা ধীর গলায় বললো,
‘যাই এবার...সন্ধা হয়ে এলো...চাচী চিন্তা করবে!’
কুশল গা ঝাড়া দিয়ে ভাবতে বসলো...কতকিছু বলার ছিল আজ! কিছুই তো বলা হলো না! এমনকি কুমু কেমন আছে এই কথাটাও একবারও জিজ্ঞেস করা হয়ে ওঠেনি ওর। কীভাবে বয়ে গেল এতখানি সময়! কী করলো ওরা এই দীর্ঘ সময়ে!

কুশল অস্ফূটে বললো,
‘একা যেতে পারবে? আমি এগিয়ে দিই?’
মুনার গলার স্বরে জোর নেই। একই রকম স্বরে প্রায় ফিসফিসিয়ে বললো... ‘পারবো...আসি...’
মুনা এগুতে লাগলো ধীরপায়ে। সেদিকে অসহায় চোখ মেলে তাকিয়ে রইলো কুশল। গোধূলির অপসৃয়মান আলোর প্রতিফলনে বুঝি গাছের পাতার ফাঁকে ফাঁকে লুকোচুরি আলো আঁধারি। হঠাৎ অসম্বিতের মতো পেছন ফিরে ডাকলো কুশল,
‘আর একটু থেকে যাও মুনা...দেখ...এখনো পুরোপুরি সন্ধ্যা হয়নি!’

মুনা ফিরে এলো আবার। আস্তে আস্তে গিয়ে দাঁড়ালো কুশলের খুব কাছ ঘেঁষে।
প্রকৃতিতে সত্যিই তখনো সন্ধ্যা নামেনি!

সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই নভেম্বর, ২০১৮ রাত ৮:৩৫
৯টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দু'টি ছোট গল্প বলতে চাই

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৮ ই আগস্ট, ২০১৯ দুপুর ১:২৫



১। গ্রামের নাম রসুলপুর।
একেবারে সুন্দরবনের কাছে। অন্যসব গ্রামের মতোই একটি সহজ সরল সুন্দর গ্রাম। এই রসুলপুর গ্রামই আমাকে শিখিয়েছে কি করে পৃথিবীকে ভালোবাসতে হয়। মানুষকে ভালোবাসতে হয়। এই গ্রামের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বেলফোর রোড টু কাশ্মীর ! : সভ্যতার ব্লাকহোলে সত্য, বিবেক, মানবতা!

লিখেছেন বিদ্রোহী ভৃগু, ১৮ ই আগস্ট, ২০১৯ দুপুর ১:৪০

ফিলিস্তিন আর কাশ্মীর! যেন আয়নার একই পিঠ!
একটার ভাগ্য নিধ্যারিত হয়েছিল একশ বছর আগে ১৯১৭ সালে; আর অন্যটি অতি সম্প্রতি ২০১৯ এ!
বর্তমানকে বুঝতেই তাই অতীতের সিড়িঘরে উঁকি দেয়া। পুরানো পত্রিকার... ...বাকিটুকু পড়ুন

চামড়ার মূল্য- মানুষ ভার্সেস গরু

লিখেছেন কাওসার চৌধুরী, ১৮ ই আগস্ট, ২০১৯ বিকাল ৩:৪৪


২০১০ সালের কথা; তখন পূর্ব লন্ডনের ক্যানরি ওয়ার্ফ (Canory Wharf) এর একটি বাসায় ক্লাস নাইনে পড়া একটি ছাত্রীকে ম্যাথমেটিকস্ পড়াতাম। মেয়েটির আঙ্কেল সময়-সুযোগ পেলে আমার সাথে গল্পগুজব করতেন। একদিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

দাদীজান ও হ্যাজাক লাইট

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৮ ই আগস্ট, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:০০



সময় ১৯৮০ এর দশক, প্রতিবছর ডিসেম্বর মাসের শেষ শুক্রবার আমার দাদাজানের মৃত্যুবার্ষিকী’তে বড় চাচা, আব্বা বেশ খরচ করে গ্রামবাসী ও আত্মীয় পরিজনদের খাবারের একটা ব্যাবস্থা করতেন, বড় চাচা আর আব্বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

গত কিছু সময়ে সামুতে যা যা হয়েছে, ব্লগারদের ওপর দিয়ে যা গিয়েছে, সেসকল কিছু স্টেজ বাই স্টেজ বর্ণনা!

লিখেছেন সামু পাগলা০০৭, ১৮ ই আগস্ট, ২০১৯ রাত ৮:১৪



কনফিউশন: ধুর! কি হলো! ব্লগে কেন ঢুকতে পারছিনা? কোন সমস্যা হয়েছে মনে হয়, পরের বেলায় চেক করে যাব। বেলার পর বেলা পার হলো, সামুতে ঢোকা যাচ্ছে না! কি সমস্যা!... ...বাকিটুকু পড়ুন

×