somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

@স্বামী-স্ত্রী তথা নারী-পুরুষ যেন পরস্পরের পোষাক-পরিচ্ছদ

২৩ শে জুন, ২০০৭ সকাল ১০:১৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

নারীকে সম্মানিত করেছে ইসলাম-দুই পড়ুন।
::নারীকে সম্মানিত করেছে ইসলাম-তিন:: নারীদের অধিকার নিয়ে আজো যারা আন্দোলনের ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন করে তোলে চারদিক, তারা হয় লেজহীন শিয়ালের মত কুচক্রী ধ্বসে পড়া পাশ্চাত্য সভ্যতার বেতনভোগী দালাল; নয়ত সেই অন্ধ-মূর্খ যে তার ঘরের কোণায় মানিক্য লুকিয়ে রেখে আর খুঁজে না পেয়ে কিংবা আদৌ জানতেও না পেরে চিৎকার-চেঁচামেচি করছে আর ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছে ধ্বংসের দিকে। আজকের বিশ্বের সভ্য(?) জাতি গোষ্ঠী বলে যারা নিজেদেরকে দাবী করে, যাদেরকে অনুসরণের জন্য প্রতীচ্যের নারীরাও আন্দোলনের নামে যে অবক্ষয়ের দিকে ধাবিত হচ্ছে; নারী জাতির প্রতি তাদের ধারণা ও কৃত আচরণের আভাষ তো আমরা বিগত লেখায় পেয়েছি। এখন জানবো যে, কবে এবং কিভাবে পাশ্চাত্য সমাজ নারীদের অধিকার স্বীকার করে নেয় আর অন্যদিকে তারও কত পূর্বে ইসলাম নারী জাতিকে কতটা অধিকার ও মর্যাদার আসনে সমাসীন করেছে।

নারীদের প্রতি প্রাচীন ঘৃণ্য ও নিকৃষ্ট ধ্যান-ধারণা চলে আসছিল ভূমিদাস প্রথা আর সামন্ত আধিপত্যের যুগেও। তারপর এলো শিল্প বিপ্লব, যার অভিঘাতে সেখানকার সমাজ নারী এবং শিশুদেরকে বাধ্য করে পুরুষদের মত কলকারখানায় কাজ করতে। আর এই ভাঙ্গনের প্রচণ্ড ধাক্কায় নিমিশেই ভেস্তে যায় সেখানকার পারিবারিক বন্ধন। যে আন্তরিকতা, সহমর্মিতা, ভালবাসা আর স্নেহ-মমতার শুভকামনা ছিল পারিবারিক সম্পর্ক-সম্বন্ধে; তার আমূল উৎপাটনের কারণে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে এমন একটা মনোভাব সৃষ্টি হয় যে, শ্রম দেব শুধু নিজের জন্য, নিজের টিকে থাকা আর ভোগ বিলাসের জন্য। নারীরা সেখানে শ্রম দিত পুরুষের সমানই, কিন্তু মজুরী পেত সে তুলনায় অতি নগণ্য; পরন্তু ছিল কর্মকর্তা ও সহকর্মীদের হিংস্র লালসার শিকার।
অথচ সে নারীরা যদি জানতো যে, ইসলাম তাদেরকে কত শত শত বছর পূর্বেই দিয়ে রেখেছে ব্যবসায়, চাকুরীতে, চিকিৎসা-নার্সিং-এ, সম্পদ অর্জনে, কেনা-বেচায়, ইচ্ছেমত খরচে ও দানে সমান অধিকার; তাহলে কি এত নির্যাতন সহ্য করতে হতো? মূলতঃ পৃথিবীর যেখানেই ইসলামী মূল্যবোধ ও তার চর্চা বর্তমান নেই, সেখানকার নারী সমাজই এই বৈষম্যতার স্বীকার হতে বাধ্য।

তারপর এলো সেই ভয়াল সময়- প্রথম বিশ্বযুদ্ধ! পরিণামে আমেরিকা-ইউরোপের লক্ষ লক্ষ তরুন প্রাণ হারালো, সমগ্র পাশ্চাত্য সমাজ জুড়ে দেখা দিল নারী-পুরুষের বৈষম্য। কিন্তু ইউরোপের প্রচলিত ধর্মে ছিল না একের অধিক স্ত্রী গ্রহণের অনুমোদন; ফলাফল দাঁড়ালো অসংখ্য কুমারী ও অজস্র বিধবাদেরকে একদিকে যেমন আয়ের উৎস পুরুষদের অবর্তমানে সংসারের দায়িত্ব নিজেদের কাঁধে তুলে নিয়ে কঠোর শ্রমে জর্জরিত হতে হয়েছিল, তেমনি অন্যদিকে শারিরিক চাহিদা মেটাতে জড়িয়ে পড়তে বাধ্য হতে হয়েছিল অবাধ বিচরণ ও ঊশৃংখলতার অন্ধকার পথে।
অথচ তারা যদি জানতে পারতো আর মানতে পারতো ইসলামের বিধান; যেখানে ইসলাম একাধিক বিবাহকে বৈধ ঘোষণা দিয়েছে, তাহলে হয়ত পাশ্চাত্য সভ্যতার ইতিহাস লেখা হত ভিন্নভাবে। নারীজাতির কথা ইসলাম যতটা ভেবেছে, ততটা পৃথিবীর আর কোন ব্যবস্থা চিন্তাও করতে পারেনি। কেননা, এই ভাবনা তো স্বয়ং তাঁর, যিনি তাদেরকে সৃষ্টি করেছেন এবং প্রতিপালন করছেন।

তৎপরবর্তী পাশ্চাত্য জগতের পরিস্থিতিই ধীরে ধীরে নারীমুক্তির আন্দোলনকে বেগবান করল এবং অবশেষে ঘটে গেল তাদের কাংখিত সে বিপ্লব। কিন্তু কি পেল তারা? মায়ের মর্যাদার সুউচ্চ আসন, নারীত্বের পরমত্ব সন্তান লালন-পালনের স্নেহ-মমত্ব, পরিবারের সৌন্দর্য, একটা জাতির গঠনকারিণীর যোগ্যতা, স্বামী-স্ত্রীর সুখ-দুঃখের ভাগাভাগী; সব হারালো। সেখানে সন্তানের প্রতি মমতা প্রদর্শন আর প্রতিপালনের সুযোগই জোটে না, পারিবারিক সৌন্দর্য রক্ষার জন্য আর কেউ বাকী রইল না; কেননা দু'জনেই একই কাজ অর্থাৎ, অর্থোপার্জনে নিয়োজিত, কেউ কারো সুখ-দুঃখকে অনুভব করার সুযোগই পায় না; কেননা তারা তো এখন প্রতিদ্বন্ধিতায় লিপ্ত। এই দীর্ঘ মেয়াদী সংগ্রামে তারা শুধু একটা জায়গায়ই জয়ী হলো- 'সমান মজুরী'। পাশ্চাত্য সমাজ তাদের থেকে কেড়ে নিল অনেক কিন্তু দিতে পারলো এর বেশী এক বিন্দু-বিসর্গও।

অথচ বিশ্ব স্রষ্টা ও আমাদের প্রতিপালক নারী পুরুষের সম্পর্ক ঘোষণা করে বলেনঃ ((তারা (স্ত্রীগণ) তোমাদের পোষাকস্বরূপ এবং তোমরাও (স্বামীরা) তাদের পোষাকস্বরূপ।)) [সূরা আল-বাকারাঃ ১৮৭] তাঁর নিকট নারী-পুরুষ ও সকল মানুষ সমান, পার্থক্য হয় কেবল আল্লাহভীরুতায়ঃ ((হে মানুষ! আমি তোমাদেরকে একজন পুরুষ ও একজন স্ত্রী হতে সৃষ্টি করেছি। তারপর তোমাদেরকে জাতি ও ভ্রাতৃগোষ্ঠী বানিয়ে দিয়েছি, যেন তোমরা পরস্পরকে চিনতে পার। বস্তুতঃ আল্লাহর নিকট তোমাদের মধ্যে সর্বাধিক সম্মানী সে, যে তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে আল্লাহ্ভীরু।)) [সূরা আল-হুজরাতঃ ১৩] তিনি নারী-পুরুষ কারুর জন্যই আলাদা কিছুর ব্যবস্থা করেননি; বরং একই প্রতিদান রয়েছে উভয়ের ক্ষেত্রেঃ ((আর যে নেক কাজ করবে-সে পুরুষ হোক বা মহিলা হোক-সে যদি ঈমানদার হয়, তবে এই ধরনের লোকই জান্নাতে প্রবেশ করবে এবং তাদের বিন্দু পরিমাণ হকও নষ্ট হতে পারবে না।)) [সূরা আন্-নিসাঃ ১২৪] হাদীসে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানিয়েছেন যে, পুরুষদের সর্বোত্তম হওয়ার জন্য নারীদের প্রতি উত্তম হওয়া বাঞ্ছনীয় কিংবা নারীদের স্বীকৃতিতেই পাওয়া যায় পুরুষের চারিত্রিক সর্বোত্তমতার সনদঃ ((পরিপূর্ণ ঈমানদার তো সে-ই, যার চরিত্র সুন্দর। আর তোমাদের মধ্যে সেই সর্বোত্তম, যে তার স্ত্রীদের প্রতি উত্তম।)) [তীরমিজীঃ ১১৭২]

ওহে নারী সমাজ! কত উচ্চতায় আসীন আপনারা, যদি জানতেন সে মর্যাদা! যদি জানতেন!! সুন্দর আমাদের প্রভু, তাই তিনি তাঁর শ্রেষ্ঠ সৃষ্টিকেও সুন্দর ও সুখী দেখতে চান; তাইতো তাঁর এত দয়া! এত কৃপা; নারী-পুরুষ নির্বিশেষে।
(অসমাপ্ত)
নারীকে সম্মানিত করেছে ইসলাম-চার পড়ুন ।

নারীদের অধিকার ও মর্যাদা বিষয়ে কয়েকটি আলোচনা শুনতে পাবেন এখানে ।
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা জুলাই, ২০০৭ সকাল ১১:৩৩
৯টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আওয়ামী লীগ ফিরতে পারে, তবে…

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০২ রা জুলাই, ২০২৬ রাত ৯:২০




১। ২০১২ থেকে সংঘটিত আওয়ামী লীগের দীর্ঘ ১২ বছরের গু/ম, খু/ন, অ*পশাসন, গণতন্ত্র হ*ত্যা, নির্বাচনী ব্যবস্থা ধ্বং*স, দুর্নী*তি, বাকস্বাধীনতা ও সাংবিধানিক অধিকার হরণের মাত্রা এমন চরমই ছিল যে, শুধু... ...বাকিটুকু পড়ুন

মহাসাগরের ধারের সেই ছোট্ট দ্বীপ সামোয়া এবং বিশ্বকাপ ফুটবল

লিখেছেন হাসান মাহবুব, ০২ রা জুলাই, ২০২৬ রাত ১০:৩২

বিশ্বকাপের এই মৌসুমে ফুটবল নিয়ে একটা দারুণ হার্ট লিফটিং মুভি দেখে ফেললাম - "Next Goal Wins"
গল্পটা আমেরিকান সামোয়ার জাতীয় ফুটবল দলকে নিয়ে। ২০০১ সালে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৩১-০ গোলে হেরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

সিনেমা-গান-খেলাধুলা

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ রাত ২:১৭

আইন সমাজ নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি নয়। আইন দৃশ্যমান, প্রতিরোধযোগ্য। সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি হলো মানুষকে নিজেই নিজের আনন্দ নিষিদ্ধ করতে শেখানো। জীবন থেকে আনন্দের উচ্ছেদ ঘটানো। এই কাজটি বাংলাদেশে গত... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রতি বছর জুলাই আসলেই কি কাউয়া ক্যাচাল লাগতে হবে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ রাত ৩:৫০


জুলাই মাসটা আবার ঘুরে ফিরে আসতেই দেশের রাজনৈতিক পাড়ায় পারদ চড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে যারা গত দুই বছর আগের আন্দোলনের ফসল ঘরে তুলেছেন, তাদের কাছে এই জুলাইয়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ওরা ভয়ংকর

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ সকাল ৮:৪৯



বাঙালির উদরঘাটতি থাকলেও উৎসবে সদা মশগুল!
দ্যাশ নতুন কইরা স্বাধীন হইছে গো!
রঙবেরঙে পতাকায় বিলুপ্ত স্বজাতির মানচিত্র!

শুধু পতাকায় সীমাবদ্ধ নেই!
মনে হচ্ছে পাল্টে গেছে জাতীয়তা!
মধ্যরাতে ভেঙে যায় সুনিদ্রা কর্কশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×