নারীকে সম্মানিত করেছে ইসলাম-দুই পড়ুন।
::নারীকে সম্মানিত করেছে ইসলাম-তিন:: নারীদের অধিকার নিয়ে আজো যারা আন্দোলনের ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন করে তোলে চারদিক, তারা হয় লেজহীন শিয়ালের মত কুচক্রী ধ্বসে পড়া পাশ্চাত্য সভ্যতার বেতনভোগী দালাল; নয়ত সেই অন্ধ-মূর্খ যে তার ঘরের কোণায় মানিক্য লুকিয়ে রেখে আর খুঁজে না পেয়ে কিংবা আদৌ জানতেও না পেরে চিৎকার-চেঁচামেচি করছে আর ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছে ধ্বংসের দিকে। আজকের বিশ্বের সভ্য(?) জাতি গোষ্ঠী বলে যারা নিজেদেরকে দাবী করে, যাদেরকে অনুসরণের জন্য প্রতীচ্যের নারীরাও আন্দোলনের নামে যে অবক্ষয়ের দিকে ধাবিত হচ্ছে; নারী জাতির প্রতি তাদের ধারণা ও কৃত আচরণের আভাষ তো আমরা বিগত লেখায় পেয়েছি। এখন জানবো যে, কবে এবং কিভাবে পাশ্চাত্য সমাজ নারীদের অধিকার স্বীকার করে নেয় আর অন্যদিকে তারও কত পূর্বে ইসলাম নারী জাতিকে কতটা অধিকার ও মর্যাদার আসনে সমাসীন করেছে।
নারীদের প্রতি প্রাচীন ঘৃণ্য ও নিকৃষ্ট ধ্যান-ধারণা চলে আসছিল ভূমিদাস প্রথা আর সামন্ত আধিপত্যের যুগেও। তারপর এলো শিল্প বিপ্লব, যার অভিঘাতে সেখানকার সমাজ নারী এবং শিশুদেরকে বাধ্য করে পুরুষদের মত কলকারখানায় কাজ করতে। আর এই ভাঙ্গনের প্রচণ্ড ধাক্কায় নিমিশেই ভেস্তে যায় সেখানকার পারিবারিক বন্ধন। যে আন্তরিকতা, সহমর্মিতা, ভালবাসা আর স্নেহ-মমতার শুভকামনা ছিল পারিবারিক সম্পর্ক-সম্বন্ধে; তার আমূল উৎপাটনের কারণে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে এমন একটা মনোভাব সৃষ্টি হয় যে, শ্রম দেব শুধু নিজের জন্য, নিজের টিকে থাকা আর ভোগ বিলাসের জন্য। নারীরা সেখানে শ্রম দিত পুরুষের সমানই, কিন্তু মজুরী পেত সে তুলনায় অতি নগণ্য; পরন্তু ছিল কর্মকর্তা ও সহকর্মীদের হিংস্র লালসার শিকার।
অথচ সে নারীরা যদি জানতো যে, ইসলাম তাদেরকে কত শত শত বছর পূর্বেই দিয়ে রেখেছে ব্যবসায়, চাকুরীতে, চিকিৎসা-নার্সিং-এ, সম্পদ অর্জনে, কেনা-বেচায়, ইচ্ছেমত খরচে ও দানে সমান অধিকার; তাহলে কি এত নির্যাতন সহ্য করতে হতো? মূলতঃ পৃথিবীর যেখানেই ইসলামী মূল্যবোধ ও তার চর্চা বর্তমান নেই, সেখানকার নারী সমাজই এই বৈষম্যতার স্বীকার হতে বাধ্য।
তারপর এলো সেই ভয়াল সময়- প্রথম বিশ্বযুদ্ধ! পরিণামে আমেরিকা-ইউরোপের লক্ষ লক্ষ তরুন প্রাণ হারালো, সমগ্র পাশ্চাত্য সমাজ জুড়ে দেখা দিল নারী-পুরুষের বৈষম্য। কিন্তু ইউরোপের প্রচলিত ধর্মে ছিল না একের অধিক স্ত্রী গ্রহণের অনুমোদন; ফলাফল দাঁড়ালো অসংখ্য কুমারী ও অজস্র বিধবাদেরকে একদিকে যেমন আয়ের উৎস পুরুষদের অবর্তমানে সংসারের দায়িত্ব নিজেদের কাঁধে তুলে নিয়ে কঠোর শ্রমে জর্জরিত হতে হয়েছিল, তেমনি অন্যদিকে শারিরিক চাহিদা মেটাতে জড়িয়ে পড়তে বাধ্য হতে হয়েছিল অবাধ বিচরণ ও ঊশৃংখলতার অন্ধকার পথে।
অথচ তারা যদি জানতে পারতো আর মানতে পারতো ইসলামের বিধান; যেখানে ইসলাম একাধিক বিবাহকে বৈধ ঘোষণা দিয়েছে, তাহলে হয়ত পাশ্চাত্য সভ্যতার ইতিহাস লেখা হত ভিন্নভাবে। নারীজাতির কথা ইসলাম যতটা ভেবেছে, ততটা পৃথিবীর আর কোন ব্যবস্থা চিন্তাও করতে পারেনি। কেননা, এই ভাবনা তো স্বয়ং তাঁর, যিনি তাদেরকে সৃষ্টি করেছেন এবং প্রতিপালন করছেন।
তৎপরবর্তী পাশ্চাত্য জগতের পরিস্থিতিই ধীরে ধীরে নারীমুক্তির আন্দোলনকে বেগবান করল এবং অবশেষে ঘটে গেল তাদের কাংখিত সে বিপ্লব। কিন্তু কি পেল তারা? মায়ের মর্যাদার সুউচ্চ আসন, নারীত্বের পরমত্ব সন্তান লালন-পালনের স্নেহ-মমত্ব, পরিবারের সৌন্দর্য, একটা জাতির গঠনকারিণীর যোগ্যতা, স্বামী-স্ত্রীর সুখ-দুঃখের ভাগাভাগী; সব হারালো। সেখানে সন্তানের প্রতি মমতা প্রদর্শন আর প্রতিপালনের সুযোগই জোটে না, পারিবারিক সৌন্দর্য রক্ষার জন্য আর কেউ বাকী রইল না; কেননা দু'জনেই একই কাজ অর্থাৎ, অর্থোপার্জনে নিয়োজিত, কেউ কারো সুখ-দুঃখকে অনুভব করার সুযোগই পায় না; কেননা তারা তো এখন প্রতিদ্বন্ধিতায় লিপ্ত। এই দীর্ঘ মেয়াদী সংগ্রামে তারা শুধু একটা জায়গায়ই জয়ী হলো- 'সমান মজুরী'। পাশ্চাত্য সমাজ তাদের থেকে কেড়ে নিল অনেক কিন্তু দিতে পারলো এর বেশী এক বিন্দু-বিসর্গও।
অথচ বিশ্ব স্রষ্টা ও আমাদের প্রতিপালক নারী পুরুষের সম্পর্ক ঘোষণা করে বলেনঃ ((তারা (স্ত্রীগণ) তোমাদের পোষাকস্বরূপ এবং তোমরাও (স্বামীরা) তাদের পোষাকস্বরূপ।)) [সূরা আল-বাকারাঃ ১৮৭] তাঁর নিকট নারী-পুরুষ ও সকল মানুষ সমান, পার্থক্য হয় কেবল আল্লাহভীরুতায়ঃ ((হে মানুষ! আমি তোমাদেরকে একজন পুরুষ ও একজন স্ত্রী হতে সৃষ্টি করেছি। তারপর তোমাদেরকে জাতি ও ভ্রাতৃগোষ্ঠী বানিয়ে দিয়েছি, যেন তোমরা পরস্পরকে চিনতে পার। বস্তুতঃ আল্লাহর নিকট তোমাদের মধ্যে সর্বাধিক সম্মানী সে, যে তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে আল্লাহ্ভীরু।)) [সূরা আল-হুজরাতঃ ১৩] তিনি নারী-পুরুষ কারুর জন্যই আলাদা কিছুর ব্যবস্থা করেননি; বরং একই প্রতিদান রয়েছে উভয়ের ক্ষেত্রেঃ ((আর যে নেক কাজ করবে-সে পুরুষ হোক বা মহিলা হোক-সে যদি ঈমানদার হয়, তবে এই ধরনের লোকই জান্নাতে প্রবেশ করবে এবং তাদের বিন্দু পরিমাণ হকও নষ্ট হতে পারবে না।)) [সূরা আন্-নিসাঃ ১২৪] হাদীসে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানিয়েছেন যে, পুরুষদের সর্বোত্তম হওয়ার জন্য নারীদের প্রতি উত্তম হওয়া বাঞ্ছনীয় কিংবা নারীদের স্বীকৃতিতেই পাওয়া যায় পুরুষের চারিত্রিক সর্বোত্তমতার সনদঃ ((পরিপূর্ণ ঈমানদার তো সে-ই, যার চরিত্র সুন্দর। আর তোমাদের মধ্যে সেই সর্বোত্তম, যে তার স্ত্রীদের প্রতি উত্তম।)) [তীরমিজীঃ ১১৭২]
ওহে নারী সমাজ! কত উচ্চতায় আসীন আপনারা, যদি জানতেন সে মর্যাদা! যদি জানতেন!! সুন্দর আমাদের প্রভু, তাই তিনি তাঁর শ্রেষ্ঠ সৃষ্টিকেও সুন্দর ও সুখী দেখতে চান; তাইতো তাঁর এত দয়া! এত কৃপা; নারী-পুরুষ নির্বিশেষে।
(অসমাপ্ত)
নারীকে সম্মানিত করেছে ইসলাম-চার পড়ুন ।
নারীদের অধিকার ও মর্যাদা বিষয়ে কয়েকটি আলোচনা শুনতে পাবেন এখানে ।
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা জুলাই, ২০০৭ সকাল ১১:৩৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



