somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যে চিন্তায় আমি অস্হির থাকি?

০৬ ই ডিসেম্বর, ২০১৪ বিকাল ৫:২৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


একটু আগে রাত ১২ টার সময় যাদের( ছবি দেখুন) সাথে সময় কাটালাম। নীজ বাড়ি চট্রগ্রামের পটিয়া যাওয়ার জন্য বিমান বন্দর ষ্টেশনে অপেক্ষমান ছিলাম। হঠাৎ পূরবঅ পরিচিত এক শিশু এসে মামু বলে জড়িয়ে ধরল। সে প্রায় শুক্রবারে আমার বাসায় যায় গোসল করে দুপুরে এক সাথে খায় বিকালে চলে যায়। যখন বিদায় হয় তখন সে কোথায় যাচ্ছে সেটি অক্ষরে অক্ষরে জানি বলে নীজেকে বড় অপরাধী মনে হয়। জেনে বুঝে এ সকল শিশুকে খোলা আকাশের নীচে ছেড়ে দিই। গাড়ী থেকে নেমে ৩০ কেজি ওজনের ব্যাগ মাথায় উঠিয়ে দিয়ে লাঠ সাহেবের মত পকেটে হাত ঢুকিয়ে চলি বিদায় বেলা ১০/২০ টাকা দিয়ে বিদায় দিই। প্রায় সকলেই তাদের চোর চোর ভাবি। বেশি কিছু আচরণ গরমিল দেখলে চড় তাপ্পড় সহজেই দিই। তুই ছাড়াত কথাই বলি না। এ হলাম আমরা ভদ্র লোক? আমার কাছে চরম ঘৃনা হয়। মাননীয় সকলের কেউই তাদের সুরক্ষার জন্য তাদের শ্রম নিষিদ্ধের কোন রীট করি না বা স্বতপ্রনোদিত রুলও জারি হতে কখনো দেখি না। কারণ সাহেবরা চিন্তা করে তাদের ঔরুষের এ বয়সী শিশুরা তো অনেক সুরক্ষায় আছে। এরা কারা? এদের আটকানোর জন্য সব জায়গায় লাঠি দিয়ে বসিয়ে রাখে নিরাপত্তা করমী।আজ আমরা একবারও চিন্তা করি না সম যন্ত্রনা বা ক্ষুধায় সকল শিশু কিন্তু এক। আমি মনে করি আমরা সাহেব নই, আমাদের আচরণে প্রমান করে আমরা চরম হিংস্র সাপ। কোন সাহেবকে দেখি না এ সকল শিশুর পক্ষে জোড়ালো কথা বলতে? তারা সকলে তাদের শিশুর সুরক্ষা নিয়ে ব্যাস্ত তাদের আচরণে মনে হয় এ সকল শিশু যেন সমাজের কীট পতঙ্গ। এ সকল অনেক প্রিয় মায়াবী শিশুদের বিদায় দিয়ে ট্রেনের sleeping বেড়ে বসে লিখছি নীজের অপরাধবোধকে লিখে হালকা করার চেষ্টা করছি। আর গান শুনছি। ট্রেন চলছে রুমের অন্য তিনজন ঘুম। নিরিবিলি একাকী অনেক সময় খুব ভাল লাগে। চিন্তা করছি কখন এ সকল শিশু মৌলিক সুরক্ষার আওতায় আসবে? কখন আমরা সত্য অনুভব করব? কিভাবে আমরা এ সকল মাসুম শিশুকে এভাবে রেখে বাসায় আরামে ঘুমায়? কিভাবে আমরা সভ্য দাবী করি? কখন আমরা সত্য সভ্য হবো? কখন আমরা মানবতাপ্রবন হব? কখন আমরা সকল শিশুকে এক মনে করব? এ সকল চিন্তায় আমি দিশেহারা হয়ে থাকি ? স্রষ্টা কে বলি এ কেমন আমরা? ট্রেন আসতে দেরী হওয়ায় ১ ঘন্টা তাদের সাথে কাটিয়েছি। আমার একটু আদরে তারা যে কি খুশী হয় তা ভুলতে পারি না, খুব ইচ্ছে হয় তাদের সাথে অনেক্ষন কাটায়। জীবনে পণ করেছি তাদের জন্য স্হায়ী কিছু করব তাদের মনখোলা হাসি আমার স্বপ্ন। এ স্বপ্ন যেন পূরণ হয় সেই দোয়াই সকলের কাছে চাই। খোদা হাফেজ। চট্রগ্রাম অভিমুখী mail train এর sleeping রুম থেকে – গাজী ইলিয়াছ, রাত-১টা ৫০।
১৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ধর্মোন্মাদদের কল্পিত বাস্তবতা: "দি ম্যাট্রিক্স" এবং নীল বড়ি

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:১৭


বাংলাদেশ ধর্মোন্মাদ ও জঙ্গিদের কবলে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধম্যের কল্যানে এই ধর্মোন্মাদনা দাবানলের মতো সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে।

ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে, কদিন আগে সাতক্ষীরায় একদল ধর্মোন্মাদ ও জঙ্গি ওয়াহিদুজ্জামান শামীম... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফেসবুক অ্যাক্টিভ মানেই- অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট নয়।

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:১৩

ফেসবুক অ্যাক্টিভ মানেই- অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট নয়।

বর্তমান ডিজিটাল যুগে ‘অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট’ একটি বহুল ব্যবহৃত পরিচয়। সামাজিক এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে এই পরিচয়ের কদর দিন দিন বাড়ছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে- ফেসবুকে নিয়মিত পোস্ট... ...বাকিটুকু পড়ুন

যারা ব্রয়লার মুরগী খায় তারা সমকামী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৩


ওয়াজ শোনেন অথচ মুফতি কাজী ইব্রাহিম হুজুরকে চেনেন না, এমন মানুষ বাংলাদেশে খুব কমই আছেন। হুজুরের আরেকটি বড় পরিচয় হলো, তিনি করোনার ওষুধ স্বপ্নে পেয়েছেন বলে দাবি করেছিলেন। হুজুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেইপ শিফটার ৩ - মাছ কন্যা

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:১৯


২০১১ এর দিকে নর্থ –ইয়র্কে থাকাকালীন রুমার বাসার আশেপাশে তেমন কোন বাঙালি দোকান ছিল না ।সেই টরোন্টর নামকরা চাইনিজ সুপারমার্কেট –টা বেশ দূরে। পায়ে হেঁটে যাওয়ার পথ নয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে পথ ধরে রথো রাফি হেঁটে যেতেন: চলে গেলেন ব্লগার রাফি

লিখেছেন শরৎ চৌধুরী, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:০৩

কবি, ব্লগার ও অনুবাদক রথো রাফির স্মরণ
রথো রাফি ব্লগ
রথো রাফি আর নেই—সত্যটি মেনে নেওয়া ভীষণ কঠিন। একজন মানুষের চিরপ্রস্থানের পর আমরা কেবল তার শারীরিক অনুপস্থিতিই টের পাই না, বরং গভীরভাবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×