




একটু আগে রাত ১২ টার সময় যাদের( ছবি দেখুন) সাথে সময় কাটালাম। নীজ বাড়ি চট্রগ্রামের পটিয়া যাওয়ার জন্য বিমান বন্দর ষ্টেশনে অপেক্ষমান ছিলাম। হঠাৎ পূরবঅ পরিচিত এক শিশু এসে মামু বলে জড়িয়ে ধরল। সে প্রায় শুক্রবারে আমার বাসায় যায় গোসল করে দুপুরে এক সাথে খায় বিকালে চলে যায়। যখন বিদায় হয় তখন সে কোথায় যাচ্ছে সেটি অক্ষরে অক্ষরে জানি বলে নীজেকে বড় অপরাধী মনে হয়। জেনে বুঝে এ সকল শিশুকে খোলা আকাশের নীচে ছেড়ে দিই। গাড়ী থেকে নেমে ৩০ কেজি ওজনের ব্যাগ মাথায় উঠিয়ে দিয়ে লাঠ সাহেবের মত পকেটে হাত ঢুকিয়ে চলি বিদায় বেলা ১০/২০ টাকা দিয়ে বিদায় দিই। প্রায় সকলেই তাদের চোর চোর ভাবি। বেশি কিছু আচরণ গরমিল দেখলে চড় তাপ্পড় সহজেই দিই। তুই ছাড়াত কথাই বলি না। এ হলাম আমরা ভদ্র লোক? আমার কাছে চরম ঘৃনা হয়। মাননীয় সকলের কেউই তাদের সুরক্ষার জন্য তাদের শ্রম নিষিদ্ধের কোন রীট করি না বা স্বতপ্রনোদিত রুলও জারি হতে কখনো দেখি না। কারণ সাহেবরা চিন্তা করে তাদের ঔরুষের এ বয়সী শিশুরা তো অনেক সুরক্ষায় আছে। এরা কারা? এদের আটকানোর জন্য সব জায়গায় লাঠি দিয়ে বসিয়ে রাখে নিরাপত্তা করমী।আজ আমরা একবারও চিন্তা করি না সম যন্ত্রনা বা ক্ষুধায় সকল শিশু কিন্তু এক। আমি মনে করি আমরা সাহেব নই, আমাদের আচরণে প্রমান করে আমরা চরম হিংস্র সাপ। কোন সাহেবকে দেখি না এ সকল শিশুর পক্ষে জোড়ালো কথা বলতে? তারা সকলে তাদের শিশুর সুরক্ষা নিয়ে ব্যাস্ত তাদের আচরণে মনে হয় এ সকল শিশু যেন সমাজের কীট পতঙ্গ। এ সকল অনেক প্রিয় মায়াবী শিশুদের বিদায় দিয়ে ট্রেনের sleeping বেড়ে বসে লিখছি নীজের অপরাধবোধকে লিখে হালকা করার চেষ্টা করছি। আর গান শুনছি। ট্রেন চলছে রুমের অন্য তিনজন ঘুম। নিরিবিলি একাকী অনেক সময় খুব ভাল লাগে। চিন্তা করছি কখন এ সকল শিশু মৌলিক সুরক্ষার আওতায় আসবে? কখন আমরা সত্য অনুভব করব? কিভাবে আমরা এ সকল মাসুম শিশুকে এভাবে রেখে বাসায় আরামে ঘুমায়? কিভাবে আমরা সভ্য দাবী করি? কখন আমরা সত্য সভ্য হবো? কখন আমরা মানবতাপ্রবন হব? কখন আমরা সকল শিশুকে এক মনে করব? এ সকল চিন্তায় আমি দিশেহারা হয়ে থাকি ? স্রষ্টা কে বলি এ কেমন আমরা? ট্রেন আসতে দেরী হওয়ায় ১ ঘন্টা তাদের সাথে কাটিয়েছি। আমার একটু আদরে তারা যে কি খুশী হয় তা ভুলতে পারি না, খুব ইচ্ছে হয় তাদের সাথে অনেক্ষন কাটায়। জীবনে পণ করেছি তাদের জন্য স্হায়ী কিছু করব তাদের মনখোলা হাসি আমার স্বপ্ন। এ স্বপ্ন যেন পূরণ হয় সেই দোয়াই সকলের কাছে চাই। খোদা হাফেজ। চট্রগ্রাম অভিমুখী mail train এর sleeping রুম থেকে – গাজী ইলিয়াছ, রাত-১টা ৫০।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


