somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কর্মক্ষেত্রের রাজনীতি: প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ বাস্তবতা

১৯ শে অক্টোবর, ২০২৫ সকাল ১১:০৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

যে কোনো ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান, শিল্পকারখানা বা সংগঠন মূলত এমন একটি পরিসর যেখানে ভিন্ন ভিন্ন মনোভাব, চিন্তাধারা ও পটভূমির মানুষ একত্রিত হয় একটি সাধারণ লক্ষ্য পূরণের উদ্দেশ্যে। এই মানুষগুলো সমাজ থেকেই আসে, সঙ্গে করে আনে তাদের পারিবারিক ও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা, অভিজ্ঞতা এবং দৃষ্টিভঙ্গি। কর্মক্ষেত্রের পরিবেশ যদিও তাদের নির্দিষ্ট নিয়মে পরিচালিত করে, তবু ব্যক্তির অন্তর্নিহিত চিন্তা ও মনোভাব থেকে যায়। এই জায়গাটিতেই দেখা দেয় মতের অমিল—আর সেখান থেকেই শুরু হয় কর্মক্ষেত্রের রাজনীতি।

অফিস রাজনীতি আসলে প্রভাব, প্রাধান্য ও ক্ষমতা প্রতিষ্ঠার এক অদৃশ্য প্রতিযোগিতা। যখন কেউ নিজের মতামত বা অবস্থান প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করে, তখনই শুরু হয় দ্বন্দ্ব, যা পরবর্তীতে বিভাজন ও দলাদলিতে রূপ নেয়। অথচ কর্মক্ষেত্রে ব্যক্তি নয়, প্রতিষ্ঠানই বড়—এই নীতিটি যদি সবাই মেনে চলে, তবে এমন সংঘাতের সুযোগ কমে যায়



বাস্তবতা হলো, পৃথিবীর কোনো দেশই অফিস রাজনীতি থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত নয়। তবে আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশে এই প্রবণতা তুলনামূলকভাবে বেশি। কখনো নিয়োগ প্রক্রিয়া থেকেই রাজনৈতিক মতাদর্শ বা ব্যক্তিগত প্রভাব প্রাধান্য পায়। আবার অনেক সময় পদ-পদবির প্রতিযোগিতা বা ক্ষমতার দাপটও এ দ্বন্দ্বকে তীব্র করে তোলে। ফলে দক্ষতা ও যোগ্যতার পরিবর্তে সম্পর্ক ও প্রভাবই হয়ে ওঠে সাফল্যের মানদণ্ড।

অফিস রাজনীতি শুধু কর্মপরিবেশকেই জটিল করে না, এটি প্রতিষ্ঠানের উৎপাদনশীলতা ও টিম স্পিরিটকেও ব্যাহত করে। একজন কর্মীর মানসিক অস্থিরতা গোটা ইউনিটের কর্মক্ষমতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই একটি প্রতিষ্ঠানের টেকসই অগ্রগতির জন্য প্রয়োজন পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ন্যায্য আচরণ ও সমন্বিত কর্মপ্রচেষ্টা।

নেতৃত্বের ভূমিকা এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। একজন দক্ষ নেতা জানেন, কিভাবে মতবিরোধকে পেশাদার আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা যায়, এবং কীভাবে কর্মীদের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিযোগিতার পরিবেশ সৃষ্টি করা যায়।

অতএব, কর্মক্ষেত্রের রাজনীতি পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব না হলেও, এর প্রভাব কমানো সম্ভব। প্রয়োজন শুধু সচেতন নেতৃত্ব, স্বচ্ছ যোগাযোগ এবং দলগত মানসিকতা। কারণ, যখন কর্মক্ষেত্র ব্যক্তিগত স্বার্থের বদলে সম্মিলিত প্রচেষ্টার প্রতীক হয়ে ওঠে— তখনই প্রতিষ্ঠান প্রকৃত অর্থে সফলতার মুখ দেখে।
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৫ সকাল ১১:০৪
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দুইটি প্রশ্ন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:৪০

১) জাতিসংঘ কি হাদী হত্যার বিচার এনে দিতে পারবে? ফিলিস্তিনি গণহত্যার বিচার কি জাতিসংঘ করতে পেরেছে?

২) আজকের পুলিশি হামলায় ছাত্র নেতারা ডঃ ইউনুসকে যেভাবে গালি দিচ্ছেন, তাতে কি জাতিসংঘ খুশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাশা : বাংলাদেশের নতুন জাতীয় খেলা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১:৩৯


"ও শ্যামরে, তোমার সনে একেলা পাইয়াছি রে শ্যাম, এই নিঠুর বনে। আজ পাশা খেলব রে শ্যাম।" প্রয়াত হুমায়ূন ফরীদির কণ্ঠে ছবিতে যখন এই গান শুনেছিলাম ,তখন কেউ ভাবেনি যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

তারেক রহমানের নির্বাচনী ইশতেহার এবং আমার পর্যবেক্ষণ

লিখেছেন জীয়ন আমাঞ্জা, ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৭

বিএনপির প্রতি আমার যথেষ্ট ভালোবাসা কাজ করে, এবং ভালোবাসা আছে বলেই আমি তার প্রতিটি ভুল নিয়েই কথা বলতে চাই, যাতে সে শোধরাতে পারে। আপনিও যদি সঠিক সমালোচনা করেন, সত্যকে সত্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

=যতই মোহ জমাই দেহ বাড়ী একদিন ঝরবোই=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৯



আমিও ঝরা পাতা হবো, হবো ঝরা ফুল,
রেখে যাবো কিছু শুদ্ধতা আর কিছু ভুল,
কেউ মনে রাখবে, ভুলবে কেউ,
আমি ঝরবো ধুলায়, বিলীন হবো,
ভাবলে বুকে ব্যথার ঢেউ।

সভ্যতার পর সভ্যতা এলো,
সব হলো এলোমেলো;
কে থাকতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা যেন পারষ্পরিক সম্মান আর ভালোবাসায় বাঁচি....

লিখেছেন জানা, ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:৪২



প্রিয় ব্লগার,

শুভেচ্ছা। প্রায় বছর দুয়েক হতে চললো, আমি সর্বশেষ আপনাদের সাথে এখানে কথা বলেছি। এর মধ্যে কতবার ভেবেছি, চলমান কঠিন সব চিকিৎসার ফলে একটা আনন্দের খবর পেলে এখানে সবার সাথে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×