somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মেলবোর্নের দিনলিপি (১)... দিবাকরের আলোয় দেখা প্রথম দিন (২৪ নভেম্বর ২০১৯)

০৭ ই জানুয়ারি, ২০২০ সকাল ৯:০৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এর আগের পোস্টঃ অস্ট্রেলিয়ার পথে (৩) .... অবশেষে মেলবোর্নের মাটিতে!!!

দুয়ারে দুয়ারে (ঢাকার বাসা থেকে মেলবোর্নে ছেলের বাসার) প্রায় ২১ ঘন্টা জার্নীর পর গতরাতে শরীরটা বেশ ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল। তার উপর রাতে শয্যা নিয়েছি অনেক দেরীতে। তাই সকালে ঘুম ভাংলো অনেক দেরীতে। আমার ছেলে ও বৌমা মেলবোর্নে সংসার শুরু করার পর ওদের এই বাসাটা দ্বিতীয় বাসা। আগের বাসাটা ছিল এখান থেকে অনতিদূরে, মাত্র আট-দশ মিনিটের ড্রাইভ। আমরা আসবো বলে ওরা আগের বাসাটা ছেড়ে দিয়ে একটু বড় পরিসরের এ বাসায় উঠেছে। বাসার চারিদিকে মাত্র ৫০ মিটারের মধ্যে আছে মেট্রো রেলস্টেশন, হাইওয়ে, বাস স্টপেজ, Woolworths Departmental Store আর কিছু রেস্তোরাঁ, কাবাবের দোকান ইত্যাদি। কাজেই, ওদের জন্য বাসাটা খুবই সুবিধেজনক জায়গায় হয়েছে। তবে বাসার এত কাছে এত জনসমাগমকেন্দ্র থাকার পরেও এখানে সারাদিনব্যাপী থাকে রাতের শুনশান নীরবতা। নাশতার পর ওদের ব্যালকনিতে এসে দাঁড়ালাম। হাইওয়ে ধরে গাড়ী, বাস ও লরীর সারি দ্রুতবেগে ছুটছিল। মেট্রো রেলযোগে পাঁচ-দশ মিনিট পর পর দু’দিক থেকেই ট্রেন চলছিল। কিন্তু কোথাও কোন আওয়াজ নেই, মনে হচ্ছিল যেন ঘরে বসে মিউট করা টিভিতে কোন ফিল্ম দেখছি। গতি আছে, চলাচল আছে, কিন্তু শব্দ নেই। আশেপাশের সবকিছুই আপন লয়ে গতিষ্ণু, কিন্তু নিঃশব্দ! ট্রাফিক সিগন্যালের আদেশ অনুযায়ী মনে হচ্ছে কেউ রিমোট কন্ট্রোল দিয়ে গাড়ীগুলোকে ক্ষণে ক্ষণে আটকে দিচ্ছে, আবার আদেশানুযায়ী চালিয়েও দিচ্ছে।

ব্যালকনিটা খুব সুন্দর। কোমর আর বুকের মাঝামাঝি পর্যন্ত পুরু কাঁচের দেয়াল, তার ওপরে খোলা। কাঁচের অংশে ভেতর থেকে বাইরে দেখা যায়, বাহির থেকে নয়। ওখানে দুটো চেয়ার পাশাপাশি রাখা আছে, আরও দুটো রাখার স্পেস আছে। কাঁচের দেয়াল থেকে এক ফুটের মত শক্ত কাঠের একটি হরাইযোন্টাল এক্সটেনশন আছে, যেখানে চায়ের কাপ, বিস্কুটের প্লেট ইত্যাদি বেশ সহজেই রাখা যায়। মোট কথা সকালে বিকেলে চা-নাস্তা খাওয়ার জন্য এটা একটি আদর্শ জায়গা। ছেলে সকালে উঠে কাজে গেছে। বৌমা যে সেকেন্ডারী স্কুলে পড়ায়, সেটার এখন বার্ষিক ছুটি চলছে, কাজেই সে আমাদেরকে সঙ্গ দিতে পারছে। বৌমা তিন মগ চা নিয়ে ব্যালকনিতে আমাদের সাথে এসে বসলো। ধোঁয়া ওঠা কাপ হাতে নিয়ে আমরা এই শীতের সকালে আলাপচারিতায় মগ্ন হ’লাম (যদিও এদের এখানে এখন ‘সামার’ চলছে, কিন্তু গুগলে দেখলাম, তাপমাত্রা আমাদের দেশের এই পৌষের ভরা শীতের দিনের চেয়েও কম)।

ব্যালকনি থেকে দু’পাশে তাকালে অনেক গাছপালা দেখা যায়। সেখানে সারা দিনমান পাখিদের ওড়াউড়ি দেখি। প্রথম দিনেই নিস্তব্ধ দুপুরে ঘুঘুর ডাক শুনে মুগ্ধ হয়েছি। শালিখের ডাকও শুনেছি। বিকেলে আমরা তিনজনে মিলে একটু বাসার চারপাশে হাঁটতে বের হ’লাম। সব জায়গায় পরিচ্ছন্ন রাস্তার পাশ দিয়ে হাঁটিয়েদের জন্য পরিচ্ছন্ন ওয়াকওয়ে বা হাঁটাপথ আছে। এমন ছিমছাম, নিরিবিলি, সুন্দর পরিবেশে হাঁটাটাই যে কতটা আনন্দের ব্যাপার হতে পারে! তিনজনে মিলে ধীরে ধীরে হাঁটছি আর গল্প করছি। বাসার খুব কাছেই রয়েছে ST. DAVID’S ANGLICAN CHURCH. সুন্দর পরিবেশে ছোট্ট চার্চ, সবাইকে স্বাগত জানিয়ে বাহিরে একটি বোর্ড টাঙানো রয়েছে। সেখানে কিছু ছবি তুলে আমরা গেলাম মুরাব্বিন মেট্রো স্টেশনের ভেতর দিয়ে বের হয়ে অপর পাশের রাস্তায়। একটু এগোতেই পেলাম Kingston City Hall, এ এলাকার নতুন নাগরিকত্বপ্রাপ্তদের এখানে সিটিজেনশিপ সেরিমনির মাধ্যমে নাগরিকত্ব দেয়া হয়। হলটির বাকী কাজ সম্ভবতঃ অনেকটা আমাদের জেলা শহরগুলোর ‘টাউন হল’ এর মত। হলের ওপরে একটি “ক্লক টাওয়ার” বসানো হয়েছে, অনেক দূর থেকেও সে ঘড়ির দিকে তাকিয়ে সময় দেখা যায়। এমনকি রাতেও লেসারের সাহায্যে ঘড়িটি নানা রঙে রঞ্জিত হয়ে জিজ্ঞাসুদেরকে সময় বলে দেয়। জানালার পর্দা সরানো থাকলে আমার শয্যা থেকেই আমি এ ঘড়িটি দেখতে পাই। হাঁটতে হাঁটতে এক সময় সে ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি, মাগরিবের নামাজের সময় ( ঐ দিন ৮টা ৪৩ মিনিট) প্রায় সমাগত। আমরা তাই তাড়াতাড়ি বাসায় ফিরে এলাম।


মেলবোর্ন, অস্ট্রেলিয়া
০৬ জানুয়ারী ২০২০


প্রিয় প্রাঙ্গণ ---- A favorite place


সেখানে "All are welcome"।


চা পানের সময় এখানে বসি


চা পানের সময় এখানে বসি
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই জানুয়ারি, ২০২০ দুপুর ১২:৫২
১৪টি মন্তব্য ১৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন কাওসার চৌধুরী ও তার গল্পগুচ্ছ 'পুতুলনাচ' (বই রিভিউ)

লিখেছেন আকতার আর হোসাইন, ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ২:১৫



লেখকের প্রথম বই--- বায়স্কোপ: যে বইয়ে কাওসার চৌধুরী এঁকেছেন জীবনের বায়স্কোপ

আর সবার মতন একজন লেখকেরও রয়েছে স্বাধীনতা। যার যে বিষয়ে ইচ্ছে সে সেই বিষয়েই লিখবে। জোড় করে কোন লেখকের... ...বাকিটুকু পড়ুন

যীশুর রহস্যময় বাল্যকালঃ মিশর অবস্থান কাল বার বছর পর্যন্ত

লিখেছেন শের শায়রী, ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ৩:৩০



যীশুর জীবনের অন্যতম রহস্যময় ঘটনা হিসাবে যা আমার কাছে মনে হয় তা হল যীশুর বাল্যকাল। ইতিহাস প্রসিদ্ধ ধর্মপ্রচারকদের মাঝে যীশুর জীবনির একটা অংশ নিয়ে আজো কোন কুল কিনারা পাওয়া যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাড়ী ভাড়া বিষয়ক সাহায্য পোস্ট - সাময়িক, হেল্প/অ্যাডভাইজ নিয়েই ফুটে যাবো মতান্তরে ডিলিটাবো

লিখেছেন বিষন্ন পথিক, ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ সকাল ৯:১৭

ফেসবুক নাই, তাই এখানে পোস্টাইতে হৈল, দয়া করে দাত শক্ত করে 'এটা ফেসবুক না' বৈলেন্না, খুব জরুরী সহায়তা প্রয়োজন।

মোদ্দা কথা...
আমার মায়ের নামে ঢাকায় একটা ফ্লাট আছে (রিং রোডের দিকে), ১৬০০... ...বাকিটুকু পড়ুন

সমস্ত দিনের শেষে শিশিরের শব্দের মতন সন্ধ্যা আসে...

লিখেছেন পদ্ম পুকুর, ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ সকাল ১০:৪৫


জীবনানন্দ দাস লিখেছেন- সমস্ত দিনের শেষে শিশিরের শব্দের মতন সন্ধ্যা আসে...। বনলতা সেন কবিতার অসাধারণ এই লাইনসহ শেষ প্যারাটা খুবই রোমান্টিক। বাংলা শিল্প-সাহিত্যের রোমান্টিসিজমে সন্ধ্যার আলাদা একটা যায়গাই রয়ে গেছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাবার ঘরেও খেতে পাইনি, স্বামীর ঘরেও কিছু নেই!

লিখেছেন চাঁদগাজী, ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ৮:৪৪



"বাবার ঘরেও খেতে পাইনি, স্বামীর ঘরেও কিছু নেই!", এই কথাটি আমাকে বলেছিলেন আমাদের গ্রামের একজন নতুন বধু; ইহা আমার মনে অনেক কষ্ট দিয়েছিলো।

আমি তখন অষ্টম শ্রেণীত, গ্রাম্য এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

×