somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বদমাশ

০৬ ই জানুয়ারি, ২০১৮ সকাল ১১:৪৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


জানালা খোলা হয় না। ওপাশে দেয়াল। শালতি ইটের গাঁথুনি। প্লাস্টারবিহীন। কোথাও কোথাও নোনা ধরেছে। সবুজ-ধূসর শ্যাওলা। স্যাঁতসেতে। অদ্ভুত ভেজা ভেজা গন্ধ। দেয়ালের পেছনে গাছ। ছোট। বুকল ফুল। বরষার আগে আগে ফুল ফোটে। মাদক সৌরভ। নিচে ছড়িয়ে থাকে তারার মতো ফুল। জানালার কার্নিশে। চৌকাঠে। জানালা খুলে রাখলে সেই ফুল বিছানায় এসে জমে থাকে। এই দেয়ালের সঙ্গে শোবার খাট।
সে একদিন জানালা খুলে দিল। অনেকদিন পর। আলো তেমন আসে না। কিছু বাতাস। প্রলম্বিত ধীর। সেই সঙ্গে কখনো গন্ধ। দুর্গন্ধ। দূরে খাল নালার মতো দিঘল ড্রেন। ঝাঁকে ঝাঁকে মশা। ভয়ংকর বড়। সমস্ত ঘর অন্ধকার করে রাখে। সেই থেকে জানালা খোলা বারণ। নিষেধ। জানালা খোলা যাবে না। তারপরও কখনো কখনো মনে হয় জানালা খোলা হয়েছে। ঘরের সবখানে ছড়িয়ে থাকে মশা। সে নিষেধ শোনে না। অথবা মনে থাকে না। কিংবা কে জানে কী। একদিন তাই বলতে হলো।

‘নিমা জানালা খুলে দিয়েছিলে?’
‘হুঁ।’
‘কেন খোলো বলো তো? ওদিকে বড় ড্রেন। মশার ফ্যাক্টরি। জানো তো মশার কামড় সহ্য হয় না।’

অরুণিমা মুখে হাসি নিয়ে টেবিলের কাছে এসে দাঁড়ায়। হাতে অ্যারোসল।

‘মশা দেখি তোমাকে বেছে বেছে কামড়ায়। আমার কাছে তো আসে না।’
‘তুমি যে পরী।’

সে আবার মৃদু হাসে। নিশ্চুপ। চেহারায় সেই দুষ্টুমি কৌতুক। আমার দুচোখে মুগ্ধ বিস্ময়।

‘এসো একটু বাইরে বসি। চা খাবে আরেক কাপ?’
‘খাব।’

সে স্প্রে করে। আমাকে বাইরে বসতে হয়। আঙিনায় কয়েকটি ফুলের গাছ। নিমার খুব শখ। কয়েক রকমের ঘাসফুল। গোলাপি। লাল। সাদা। হলুদ। কতগুলো দোপাটি। গোলাপি। সাদা। দেয়াল ঘেষে গোলাপের সারি। সারা শরীরে কাঁটা নিয়ে নিশ্চুপ দাঁড়িয়ে থাকে। কবে ফুল ফুটবে কে জানে। এখন ওর সঙ্গে আমারও অপেক্ষা।

‘তুমি ওই জানালা খুলো না।’
‘কেন?...বকুলের সুবাস আসে তো!’
‘ড্রেনের দুর্গন্ধ। আর মশা।’
‘মশা শুধু তোমাকে কামড়ায়।’
‘মশা খুব যন্ত্রণা।’
‘তুমি কিন্তু দু-বার মশার কথা বলেছ।’
‘বলেছি। আর বলব না।’

সে হাসে। এই একটি মুখ...আনন্দ মূর্তি। অবিমিশ্র সুন্দর। অপরূপা। এই একটি মানুষের জন্য কত কি করেছি। তখন নাইন থেকে টেনে। কাঁধের দু-পাশে বেণি। দুচোখে কাজল। চিকন ঠোঁটে লাজুক হাসি। কখনো দুষ্টুমি মনে হয়। আমার ঘরের জানালা খোলা। হাতে বই নিয়ে তাকিয়ে থাকি রাস্তায়। মনের অলিন্দে দখিনা বাতাস। সে আসে।

‘এ্যই বিয়ে করবি?’
‘করব।’
‘তোর মা-বাবা রাজি হবে তো?’
‘আমার একটা ডাকাত ভাই আছে। বলে দেব। খুন করে ফেলবে তোকে।’
‘শফিককে বলিস না নিমা। আমার অরুণিমা।’
‘বদমাশ কোথাকার।’
‘তোকে খুব ভালবাসি রে।’
‘ওই জন্যই তোকে মারবে। আমিও মারব।’
‘মার না।’
‘বদমাশ।’

তারপর হাজার কবিতা লিখি। উনিশ বছর বয়স কবিতা লেখার। আকাশের রংধনু আর পাখি দেখার। ভেসে বেড়ানো মেঘের মতো উদাস প্রতীক্ষার। সে আসে। কবিতা লিখি। সব কবিতা ওর জন্য। একদিন কবিতা ছেড়ে হাত ধরলাম। ওর দুচোখে দুষ্টুমি। লাজুক হাসি। পালিয়ে গেলাম বড় বোনের বাসায়। আপা আর দুলাভাই বললেন, -

'পাগলা করেছিস কি! ওর বয়স সবে পনেরো। ইলোপ কেসে ফাঁসিয়ে দেবে।'

কী বলব? সাহস করে সমুদ্রে নেমে ভ্যাবাচ্যাকা। অনিশ্চিত পথযাত্রায় একটু তো ভয় ভয় লাগে। অরুণিমা আমার মুখের দিকে তাকিয়ে রইল। কিছু বলতে হয়। সে মৃদু ধাক্কা দিয়ে বলে ওঠে, -

‘আমি নিজের জ্ঞানে এসেছি। ওর কাছেই থাকব।’

আমার সাহস দ্বিগুণ। কিছু পেতে গেলে সাহস থাকতে হয়। অপমান সইবার মতো মুখছবি। কথা হজম করার মতো বুকে নিষ্পৃহ সাহস। সবকিছু করতে পারি। তখন দুর্দান্ত সাহস। হিমালয় পেরোতে বললে...পারি। আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখে ঝাঁপ দিতে বললেও। এত সাহস হয়তো ওর কাছে থেকে পেয়েছি।

তারপর ওকে নিয়েই পেরিয়ে গেল কতগুলো বছর। সকলে প্রায় মেনে নিয়েছে। মানুষ হিসেবে মন্দ না। কথা যা একটু বেশি বলি। ওর অপছন্দ আজকাল। সে কথা বলতে দেয় না। কবিতা লেখা হারিয়ে গেছে। আমার এখন অন্য কবিতা।

কোনো কোনোদিন অফিস থেকে ফিরে এসে দেখি, সে জানালার দিকে তাকিয়ে আছে। ওটা বন্ধ। একটি হালকা পরদা ঝোলে। নিষ্প্রাণ। নিস্পন্দ। কোনোদিন বলতে ইচ্ছে হয়, তুমি জানালা খুলে দিয়ো। বলা হয় না। বকুল গাছ আরও বড় হয়। মাথা উঁচু আকাশ স্পর্শ করতে চায়। চারপাশে ছড়িয়ে দেয় ডালপালা। ফুল ফোটেনি। এখন ফুলের সময় নয়। রাস্তায় নেমে দেখি। সামনে বিশাল মাঠ। তার কোণায় কোণায় ঝোপঝাড়। নাম না জানা অচেনা লতাগুল্মের সারি। কতগুলো দ্রোণপুষ্প। কালোমেঘ। মালতি। ভাট ফুল। সম্মুখে বড় গভীর ড্রেন। জলাবদ্ধ নোংরা। মশা আর মশা।

একদিন দেখি অরুণিমা শুয়ে আছে। দরজা খুলে দিয়ে আবার বিছানায়। জানালা হাট হয়ে খোলা। ঝাঁকে ঝাঁকে মশায় ঘর অন্ধকার। অদ্ভুত মিহি গুঞ্জন। জানালা বন্ধ করতে করতে ওর দিকে তাকালাম। চোখ-মুখ লাল। কোনোদিন ওকে এত উদাস আর ক্লান্ত দেখায়নি। সন্ধের আগেই শুয়ে আছে। কপালে হাত দিতে দিতে জিজ্ঞেস করি, -

‘জ্বর?’
‘সেই মাথাব্যথা। তুমি হাত-মুখ ধোও। চা করে দিই। নাকি কফি খাবে?’
‘তুমি শুয়ে থাকো...রেস্ট নাও। কোনো ট্যাবলেট খেয়েছ?’
‘শুয়ে থাকব কি? রান্না করতে হবে না? কী খাবে?’
‘কিছু করতে হবে না।’
‘না তোমার কষ্ট হবে। একটুপর উঠছি।’
‘উঠতে হবে না। আর জানালা খুলে মশার কামড় খাচ্ছ? ম্যালেরিয়া ধরেছে তোমাকে।’
‘কি যে বলো! সেই ভালুক-জ্বর আর আজকাল আছে?’

সামনের রেস্তোরাঁ থেকে নান আর কাবাব আনা হলো। ও শুয়ে থাকল। কিছু খেল না। খেতে ইচ্ছে করছে না। বিবমিষা।

রাত নয়টা। আকস্মিক বিছানায় এপাশ-ওপাশ ছটফট। টেবিল ছেড়ে উঠি। রক্ত। অরুণিমার নাক দিয়ে রক্ত ঝরছে। এ অসুখ যে কত জ্বালাবে কে জানে। অনেকদিন হয়ে গেল। ডাক্তার ধরতে পারে না। আবার যেতে হবে। তার মুখ-চোখ দ্রুত পাণ্ডুর ফ্যাকাশে হয়ে যায়। রক্ত দেখে মাথা কেমন কেমন করতে লাগল। রক্ত আর রক্ত। বিছানা...ঘরের মেঝে...চারদিকে শুধু রক্ত। টিস্যু পেপার শেষ হয়ে যায় যায়। কি করে কী হলো? কী করি?

হাসপাতাল। ডেটল-ফিনাইলের গন্ধ ভুর-ভুর। রোগাক্রান্ত মানুষের গায়ের গন্ধ। বিকট দুর্গন্ধ। বিদঘুটে। অসহায় চাহনি। কারও ব্যস্ত চলাচল। কারও কৌতূহল। কোনোকিছুর মূল্য নেই। দৃষ্টিতে এসে এসে দ্রুত সরে যায়। মানুষকে অনেকসময় অনেককিছু সহ্য করে নিতে হয়। উপেক্ষা করতে হয়। আমার পালা।
বাতাসের বেগে খবর চলে গেছে। যারা কোনোকিছু মেনে নেয়নি। যারা তাকে মৃত বলে ঘোষণা দেয়। তারা এসেছে। আলোচনা। গুঞ্জন। কথাবার্তা। ফিসফাস। এরই ফাঁকে শফিক এসে শক্ত করে হাত চেপে ধরে।

‘ওর কিছু হলে তোকে খুন করে ফেলব শালা।’

কার বুকে কি ঝড় বয়ে চলে কেউ জানে না। কি বলি? কী বলার আছে? কখনো ওর মুখে কখনো মেঝের শীতলতা অথবা ডাক্তারের চেহারা-ভাবভঙ্গি দেখতে দেখতে বুঝতে বুঝতে রাত পার হয়ে যায়। মানুষ দাঁড়িয়ে থাকে। চারপাশ ঘিরে থাকে। কথার পিঠে কথা। প্রয়োজনীয়। অপ্রয়োজনীয়। কোনো কথা কানে আসে না। কোথাও একটি ঝড় ওঠে। কবিতার স্তবগান বেজে যায়। ওর অর্ধ-নিমীলিত দুচোখে না কি এই পোড়া বুকে কে জানে।
সকালে চোখ মেলে দিল সে। যেভাবে আকাশে সূর্য ওঠে। ধীরে ধীরে মধ্য-আকাশে উঠে যায়। আমার বুকে পাখি ডেকে ওঠে। সেই বকুলের সুবাস ভেসে ভেসে মন-উন্মন। ওকে হয়তো আর পাণ্ডুর-ফ্যাকাশে দেখায় না। সেই যেমন দু-কাঁধের পেছন থেকে এগিয়ে আসা প্রগাঢ় বেণি বুকে এসে আমার বিকেল আলোকিত করে দেয়। তার ঠোঁটে সেই হাসি। মৃদু। আজও হয়তো সেখানে দুষ্টুমি খেলা করে। আমার অরুণিমা। আমার কবিতা। মায়াবী। আকাশ থেকে নেমে আসা অচেনা অথবা চিরচেনা পরী। আকাশের অনুজ্জ্বল মধ্যভূমিতে আবার আলোকিত খেলা। বিষণ্ন ম্লান দিনযাপন রংধনু বর্ণিল? ইশারায় কী বলে সে? কী বলতে চায়?

‘ভয় পেয়েছিলে?’

ওর হাত চেপে ধরি। কাচের চুড়িগুলো ফরসা হাতে অতিরিক্ত রঙিন দেখায়। ঝিকিমিকি তারা। দুচোখের পাতা থিরথির। ঠোঁটের উপরে রক্তের হালকা দাগ। আলগোছে মুছে দিতে চাই। সে আবেশে দুচোখ বোজে। আবার তাকায়। আমার দৃষ্টিতে সরোবর। কত পদ্ম দল মেলে দিয়ে হাসে।

‘এই বলো না...ভয় লাগছিল?’
‘না।’
‘মিথ্যেবাদী। চোখ-মুখ এত শুকনো! কেন? যদি মরে যাই?’
‘তুমি এখন মরতে পারো না অরুণিমা। এসব বললে মার দেব কিন্তু।’
‘সে তুমি পারবে না বদমাশ। খেয়েছ?’
‘এখন খাব।...তুমি জানো পারব না।’
‘জানো ওই বকুল গাছে না একটা পাখি আসে। প্রতিদিন।’
‘তুমি জানালা খুলে তাকে দেখ?’
‘হু।’
‘গাছ থাকলে পাখি আসবে এ আর অদ্ভুত কি?’
‘না এ পাখিটা ঠিক তেমন নয়...অন্যরকম।’
‘যেমন?’
‘তুমি যখন অফিসে চলে যাও, দুপুর হয়ে আসে; হাতে কোনো কাজ থাকে না। জানালায় পাখিটা ডেকে ওঠে। আমি জানালা খুলে দিই। পাখিটা এই ডাল থেকে ওই ডালে লাফিয়ে লাফিয়ে ওড়ে। তারপর নিশ্চুপ তাকায়। তোমার মতো স্থির-নিষ্কম্প। মনে হয় তুমি সেই পাখি। রুপোলি ডানা। ধূসর-কালো শরীর। নির্নিমেষ মায়াবী চোখ।’
‘কি পাগলামি অরুণিমা?’
‘শোনো না...তুমি জানালার ধারে বসতে। আমার স্কুল ছুটি হয়। তোমার চোখের ভাষা আমি পড়ি। পড়তে পড়তে বুঝতে শিখি। তুমি পাগল।’
‘হা হা হা! তুমি আমার হলুদ পাখি।’
‘হুঁ! একটু জড়িয়ে ধরবে?’

দুচোখের মিনতি নয়। আদেশ। এত মানুষজনের ভিড়ে তবু জড়িয়ে ধরি। তার গোলাপি গালে চুমো দিয়ে ফেলি। একবার। আবার। পরপর কতগুলো...জানি না। আমার ম্লান আকাশ অনেক আলোয় রংধনু হয়ে যায়। এই বেঁচে থাকা সকাল সারারাতের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ধুয়ে মুছে মুক্ত নীল আকাশ। আমার মন-পাখি সেখানে ডানা মেলে দেয়। ওকে ছাড়া যে আমার দিন চলে না। ওর হাত ধরে থাকি। তারপর আকাশে রংধনু বেশিক্ষণ থাকে না। আকস্মিক অন্ধকার মেঘে ঢেকে গেল। ওর হাত থির থির করে কাঁপে। নিষ্পলক দৃষ্টি। কি কথা বলতে চায়। বুঝতে পারি না অথবা বুঝে নিই। সেই থির থির কম্পন পাহাড়ের শেল হয়ে মেঘের গর্জন হয়ে বুকে হামলে পড়ে। পড়তে থাকে। যন্ত্রণা যন্ত্রণা। কী করি আমি? শেষবেলা আলোর ঝলকানি দিয়ে অরুণিমা...অরুণিমা...এমন করছ কেন?

ওইদিন রাতের শুরুতে গভীর নিস্তব্ধতায় চলে গেল। একটু শব্দ করল না। জানিয়ে গেল না। ‘এই আমি চলে যাচ্ছি বদমাশ।’ ভোরের অন্ধকারে একলা এককোণায় বসে রইলাম। কতক্ষণ জানি না। সব শেষ আমার। কেন এমন করে শেষ হয়ে যায়? সামান্য মাথাব্যথা। নাক দিয়ে রক্ত ঝরে। ক্যানসার অমনই। অতিধীর পায়ে আসে...নিশ্চুপ চলে যায়। স্বপ্নের মতো রেখে যায় কিছু স্মৃতি কিছু গান। বেঁচে থাকার মলিন দিনকাল পথরেখা। আমার শুধু তেপান্তর মাঠ। হাহাকার বিরান মরুভূমি।

আজ আকাশে চাঁদ জেগেছে। চারদিকে রুপোলি আলোর জলসা। বরষা হিমেল শীত-শীত রাত। আকাশের কোণায় জেগে থাকা মেঘ চলে গেছে অনেক দূর। আঙিনায় সারাদিন হাসিমুখ হিল্লোল ঘাসফুল নুয়ে পড়ে। আমার কিইবা দিন কিইবা রাত। প্রলম্বিত বেদনা সুরের মতো কয়েক সপ্তাহ চলে গেল। কোনো বোধ নেই। জেগে থাকা চেতনা নেই। অরুণিমা নেই। সত্যি কি? কখনো কখনো চমকে উঠি। সত্যি কি নেই সে? সেই দুষ্টুমি হাসির বদমাশ ডাক হারিয়ে গেছে? কখনো মনে হয় পাশে বসে আছে অরুণিমা। বুকে হাত রেখে শুয়ে পড়েছে। ঘরময় ছড়িয়ে গেছে সংগীতের মিহি ধ্বুন। আমার আঙুল সেই হাত ধরে থাকে। তারপর অদ্ভুত বিষণ্ন শূন্য খাঁ-খাঁ। পোড়া মন-উন্মন ব্যাকুল। আমার কোনো কবিতা নেই। কোথায় হারিয়ে ফেলেছি? এখন কোথায় যাই? কী করে ফিরে পাব তাকে?

জানালা বন্ধ। কখন যে ফাঁকফোকড় দিয়ে বকুলের সুবাস ভেসে আসে বুঝিনি। সে আছে...আর আছে বলেই সম্মোহিত জানালা খুলে দিই। ঝাঁকে ঝাঁকে মশা ঘরের সবটুকু দখল করে নেয়। মনের সুখে কামড়াতে থাকে। কোনো বোধ নেই।

দূরের আকাশে আলোর শামিয়ানা। নক্ষত্রেরা পরস্পরের হাত ধরে ছায়াপথ মেলে দিয়েছে মহাশূন্যে। সকল কেন্দ্রবিন্দু হয়ে হেসে চলে বিশাল চাঁদ। হিম হিম রুপোলি রাত। সেই ক্যানভাসে একলা একটি বকুল গাছ নিশ্চুপ দাঁড়িয়ে থাকে। হালকা সুবাসে ঘর ভরে যায়। যেতে থাকে। সেই মাদকতায় মন কোথায় হারিয়ে যায়? অতীতের দিন কিংবা হারানো দিনকাল স্বপ্নময় রাত। অনেক দূর থেকে ভেসে আসে আকরাম বিহারির বাঁশি। বাঁশিতে কান্নার সুর। সময় বয়ে যায় কি না জানি না। জানা থাকে না। বোধের সমস্ত অস্তিত্ব বিষণ্ন সুরে বিলীন হতে থাকে। তারপর কোত্থেকে একটি পাখি ডানা ঝাপটায়। উড়ে এসে বসে। একেবারে হাতের নাগালে। আলোছায়ায় হলুদ-কালো-বর্ণিল। সে ডাকে না। কথা বলে না। উড়ে যায় না। নিশ্চুপ নিষ্পলক দৃষ্টি। তাকিয়ে থাকে। দিঘির জলের মতো অতলান্ত গভীর। জানালার আরও কাছে এগিয়ে যাই। পাখি সরে যায় না। অপলক দৃষ্টি চাহনি। সেই চোখ কিছু বলতে চায়। কী কথা? অরুণিমা...একবার শুধু একবার বলো। তারপর কখন পাখি ডেকে ওঠে? বদমাশ।
- - -


প্রকাশ: ১৮ ফেব্রুয়ারি ’১৭, পরস্পর অনলাইন ম্যাগাজিন। কিশোরগঞ্জ থেকে প্রকাশিত লিটল ম্যাগ ’ৎ’-ডিসে ’১৭
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই জানুয়ারি, ২০১৮ সকাল ১১:৪৩
৩টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমার প্রিয় ২৬টি পোস্ট; যেগুলো আপনারও ভালো লাগতে পারে

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ০৪ ঠা আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:১৭

গ্যাস নিয়ে গ্যাসলাইটিং: কোনটা আসল সংকট, কোনটা কৃত্রিম?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৪ ঠা আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:২১


বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে বড় সমস্যা কী, এই প্রশ্ন করলে সবাই একবাক্যে বলবেন গ্যাস সংকটের কথা। বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে গেছে, ফলে লোডশেডিং বেড়েছে বহুগুণ। কলকারখানা হোক বা বাসাবাড়ি, মানুষ... ...বাকিটুকু পড়ুন

Humans are (not) from Earth- তবে কি আমরা মহাবিশ্বের ভৃত্য?

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৪ ঠা আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:৫৫

Humans are not from Earth: A Scientific Evaluation of the Evidence বইটির লেখক ডক্টর এলিস সিলভার (Dr. Ellis Silver)-এর ব্যক্তিগত ও একাডেমিক জীবন নিয়ে মূলধারার তথ্যমাধ্যমে এক ধরনের রহস্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ অবস্থার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ-পর্ব ২

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৫ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৭:০১


বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ: মধ্যপ্রাচ্যনির্ভর রেমিট্যান্স কৃষিভিত্তিক শিল্পায়ন ও টেকসই উন্নয়নের বিকল্প কৌশল
একটি অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক ফিজিবিলিটি স্টাডি ।

একটি ধারাবাহিক গবেষনামুলক পোস্ট
[link|https://www.somewhereinblog.net/blog/ali2016/30393976|প্রথম পর্বে থাকা গবেষনাটির পটভুমির লিংক – পর্ব... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা ইতিহাসের ছিন্নপত্র...

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৫ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১০:০৩



আমরা ইতিহাসের ছিন্নপত্র...

২০১০, এক-এগারোর পর থেকে ৩৬ জুলাই পর্যন্ত- যারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে রাজপথে দাঁড়িয়েছিল, যারা গুম, নির্যাতন, কারাবাস, মামলা, চাকরি হারানো, পরিবার ভেঙে যাওয়া- সবকিছুর মূল্য দিয়েছে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×