somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

"Life is impossible without friends/ ক্ষনিকের ডায়েরী-১২"

১৯ শে অক্টোবর, ২০১৯ রাত ৯:৩৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



Life is impossible without friends
বাক্যটির কথা চিন্তা করলে বা কোথাও শুনলে কতগুলো চিত্র চোখের সামনে ভেসে ওঠে। যেমন অনেকগুলো ফ্রেন্ড একসাথে কোথাও যাচ্ছে, চিল করছে, আনন্দ-ফুর্তি, খাওয়া-দাওয়া, এছাড়াও ছেলে-মেয়ে একে অপরের সাথে ভার্সিটির সিঁড়িটাতে বসে আড্ডা দিচ্ছে, সিনেমা দেখতে যাচ্ছে এই ধরনের দৃশ্যগুলো উপরে উল্লেখিত বাক্যের যথার্থতা পুরণ করে বলে আমরা মনে করি। বন্ধুত্ব কি শুধুমাত্র এই ধরনের কাজগুলো শেয়ার করে নেওয়াকেই বোঝায়?
এবার মুল ঘটনায় আসি। ঘটনাটি
ক্ষনিকের_ডায়েরীর ১২তম পর্ব হিসাবে লিপিবদ্ধ করা হচ্ছে এই প্ল্যাটফর্মে।


২০১৬ সালের শেষের দিকের কথা। আমার ক্যাম্পাসে আমাদের সিনিয়র একটা ব্যাচের বিদায়ী অনুষ্ঠান চলছে। তখন আমার দুইজন ফ্রেন্ড আমার ক্যাম্পাসে ঘুরতে আসল। ফ্রেন্ড বলতে এরা আমার চট্টগ্রামের প্রথম ফ্রেন্ড মাদ্রাসায় দাখিল একসাথে দিয়েছি। কলেজে একসাথে পড়েছি। তারপর আমি টেক্সটাইলে চলে আসলাম একজন মেরিন একাডেমীতে চলে গেল আর একজন চট্টগ্রাম পলিটেকনিকে ভর্তি হয়ে গেল। যাই হোক মোটামুটি প্রায় এক বছর পর দেখা হল ওদের সাথে। ক্যাম্পাসের গেটের সামনে ওরা সম্ভবত দুপুর সাড়ে বারটা নাগাত নেমে আমাকে ফোন দিল। আমি হল থেকে বের হয়ে দশ মিনিটের মাথায় ওদের সাথে দেখা হল। একে অপরকে সালাম দিয়ে, বুকে জড়িয়ে ধরে কেমন আছে জিজ্ঞাস করায় "আলহামদুলিল্লাহ ভাল আছি " জবাব পেলাম। ভালোমন্দ জিজ্ঞাস করার ঠিক পরপরই দুইজন বন্ধুর একজন রাশেদ (কাল্পনিক নাম কিন্তু বাস্তব চরিত্র) বলে উঠল, "আজানতো দিয়ে দিবে এখনই চল অযু করে সলাতের জন্য প্রস্তুতি নেই। "

কিছুক্ষণ অবাক হয়ে থাকলাম। আমাদের যারা টুকটাক ধর্ম পালন করি তাদের মুসলমানিত্ব সাধারণত নিজস্ব পরিবেশেই। পরিবেশ থেকে বের হলে আমরা আমাদের সলাতকে কর্মতালিকার শেষে স্থান দেই। অনেকদিন পর বন্ধুদের পেলাম আগে আড্ডা দিয়ে নেই। একবারে বাসায় গিয়ে সব ওয়াক্তের সলাত পড়ে নিব বা কালকে থেকে নিয়মিত পড়ব এরকম একটা চিন্তা উঁকি দেয়। কিন্তু আমরা সেদিন একত্রে জামা'আত করে যোহরের সলাত আদায় করলাম। সলাতের পর খাওয়া-দাওয়া করলাম। হলে এসে গল্প করা শুরু করলাম। কি গল্প জানেন? আমাদের মুসলিম সমাজ ধর্মীয় গন্ডির বাইরে বের হয়ে যাওয়ার প্রবনতা এবং ফলাফল। কুর'আনের একটি আয়াত "আর তারা বলে আমরা শুনলাম এবং মান্য করলাম। "[1] আয়াতটির যথাযথ প্রয়োগ আবু বকর (রাঃ) এর মাধ্যমে ইত্যাদি আরও নানা ধরনের বিষয় নিয়ে।

আসরের সলাত শেষে একটু ঘুরতে বের হলাম। অনেক হাঁটার পর যখন ক্লান্ত হয়ে গিয়েছি ঠিক তখন মাগরিবের আযান দিল। অজোপাড়া গাঁয়ের ছোট্ট একটা মাটির মসজিদে জামা'আতে সলাত আদায় করলাম। ফিরে আসার সময় History চ্যানেলে সম্প্রচারিত 10 Ways to destroy the world অনুষ্ঠানে পৃথিবী ধ্বংস হওয়ার যে দশটি সম্ভাব্য কারন আলোচনা করা হয়েছে কোর'আনের বর্ণনার সাথে তা কতটুকু মিল বা অমিল এই নিয়ে গল্প করলাম। পরিশেষে সালাম বিনিময় করে এবং একে অপরকে বুকে জড়িয়ে বিদায় জানালাম।

আমিও একেবারে শুরুর বাক্যের সাথে একমত। বন্ধু ছাড়া আসলেই লাইফ ইম্পসিবল। কিন্তু ইসলাম আমাকে এমন বন্ধু নির্বাচন করতে বলেছে যে বন্ধু ছাড়া লাইফ এবং আফটার লাইফ সবই ইম্পসিবল। তো কেমন বন্ধু নির্বাচন করব দেখা যাক আল্লাহর নির্দেশ "আপনি নিজেকে তাদের সংসর্গে আবদ্ধ রাখুন, যারা সকাল-সন্ধ্যায় তাদের পালনকর্তাকে তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে আহ্বান করে এবং আপনি পার্থিব জীবনের সৌন্দর্য কামনা করে তাদের থেকে নিজের দৃষ্টি ফিরিয়ে নেবেন না। যার মনকে আমার স্মরণ থেকে অবচেতন করে দিয়েছি, যে নিজের প্রবৃত্তির অনুসরণ করে এবং যার কার্যকলাপ হচ্ছে সীমা অতিক্রম করা, আপনি তার আনুগত্য করবেন না।" [2]

আলহামদুলিল্লাহ হয়তো আমি এমন কিছু বন্ধু পেয়েছি যারা একা জান্নাতে যাওয়ার ইচ্ছা পোষন করে না। তার সংগী, সাথীদেরও জান্নাতে নিয়ে যেতে চায়। আমার কাছে এরাই সেই ধরনের বন্ধু যাদের ছাড়া আসলেই Life is impossible.

[1] The Holy Quran 2:285 (part)
[2] The Holy Quran 18:28
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে অক্টোবর, ২০১৯ রাত ৯:৩৯
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গঞ্জিকা সেবনকারীরাই পঞ্জিকা লিখে....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২২ শে জানুয়ারি, ২০২২ সকাল ৯:৪৫

গঞ্জিকা সেবনকারীরাই পঞ্জিকা লিখে....

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রত্যাহিক জীবনে পঞ্জিকা একটি অপরিহার্য বিষয়। তাদের পুজো, বার-তিথি-নক্ষত্র দেখা ছাড়াও পঞ্জিকার গুরুত্ব আছে বাংলা সাহিত্যে। আমার মতে, পঞ্জিকার মতো নির্মল হাস্যরসের ভাণ্ডার বাংলা সাহিত্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতা লেখা, কবি হওয়া ও নিজস্ব কিছু চিন্তাধারা

লিখেছেন নীল আকাশ, ২২ শে জানুয়ারি, ২০২২ সকাল ৯:৫০



কবিতা লেখা একটা গুণ। একটা বিশেষ গুণ। ইচ্ছে করলেই সবাই কবিতা লিখতে পারে না। কবিতা লেখার জন্য বুকের ভিতরে ‘কবি কবি’ একটা মন থাকতে হয়। বাংলা সাহিত্যে বহু বছর ধরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গত ৫০ বছরে বাংলাদেশ কতটা উন্নতি করলো?

লিখেছেন রাজীব নুর, ২২ শে জানুয়ারি, ২০২২ বিকাল ৩:৫১

ছবিঃ আমার আঁকা।

গত ৫০ বছরে বাংলাদেশ অনেক এগিয়েছে বলা যাবে না।
যতদূর এগিয়েছে তার চেয়ে ত্রিশ গুণ বেশি এগোনো দরকার ছিলো। শুধু মাত্র দূর্নীতির কারনে আজও পিছিয়ে আছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগার নতুন নকিবের গোপন এজেন্ডা

লিখেছেন এল গ্যাস্ত্রিকো ডি প্রবলেমো, ২২ শে জানুয়ারি, ২০২২ বিকাল ৪:৩৮


আসসালামুয়ালাইকুম। আপনারা সবাই ব্লগার নতুন নকিবকে চেনেন। তাকে আমার খুব পছন্দ ছিলো। কারণ সে ইসলামী ভালো ভালো পোস্ট দেয়। কিন্তু হঠাৎ করে এক পোস্টে তার মুখোশ খুলে গেছে। দেখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্নানঘরের আয়না

লিখেছেন মনিরা সুলতানা, ২২ শে জানুয়ারি, ২০২২ সন্ধ্যা ৭:৪৯



দিনের শেষে প্রিয়বন্ধু হয়ে থাকে একজন' ই
- স্নানঘরের দর্পণ
যে দর্পণে তুমি নিজে পৃথিবীর সবচাইতে সুন্দরী রাজকন্য হয়ে র'বে
কনে সাজে তুমি, অথবা মাতৃত্বের জ্বরতপ্ত বিষণ্ণ মুহূর্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

×