ছাত্রশিবির বাংলাদেশের ইতিহাসে বর্তমানে একটি হট ইসু্যতে পরিণত হয়েছে। এটা সম্ভব হয়ে পত্র-পত্রিকা ও মিডিয়ার সৌজন্য। আগে শিবিরের নাম শুনলেই একশ্রেণীর শিক্ষার্থী ও জনতা ভয়ে শিউরে উঠত। কিন্তু এখন সেটা হয় না। কারণ, মানুষ এখন সচেতন। যা সম্পর্কে রটনা হয়, তার সত্যিকার ইতিহাস জানতে চায়। তাই তো শিবির সম্পর্কে জানছে সবাই আর আশ্চর্য হচ্ছে, পত্র-পত্রিকার লেখা, টিভি নিউজ আর বিরোধীদের কথার সাথে কোনোই যে মিল নেই! শিবিরের ছেলেদের আদর্শে মুগ্ধ হচ্ছে সবাই। অনেকে তো পণ করে ফেলেছেন তার ছেলেটি বড় হলে শিবিরের হাতে তুলে দেবেন।
আমার বক্তব্য সেটা না, পত্র-পত্রিকা, মিডিয়া বা সরকার পক্ষ ও বিরোধী পক্ষ কে কী বলল বা করল তা নিয়ে আমার মাথা ব্যথা নেই, আমার মাথা ব্যথা সেখানে, সরকারের এই উগ্র পদক্ষেপে লাভ হলো কার? আমার তো মনে হয় জাতি কিছু সম্ভাবনাময় তরুণকে ইচ্ছে করেই গলাটিপে হত্যা করছে। তাই সরকারকে বলব, এখনও সময় আছে, ওসব প্রতিহিংসা বাদ দিয়ে দেশের কল্যাণে মনোযোগী হোন। তাতে বরং পরবর্তী মেয়াদে ক্ষমতায় আসা সহজ হবে। নইলে সঠিক জবাব দিতে এ জাতি জানে, বহুবার তা দিয়েছেও।
সর্বশেষ, গতকাল এক আলোচনা সভায় আ'লীগের ঢাকা মহানগর সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেছেন, 'শিবির একটি বটগাছে রূপান্তরিত হয়েছে। ৪০ বছর ধরে তারা ধীরে ধীরে এ পর্যায়ে এসেছে। একে কেটে ফেলতে হবে।'
কে না জানে, বটগাছ ক্লান্ত পথিককে ছায়া প্রদান করে তার মনে প্রশান্তি প্রদান করে! শিবিরও বোধকরি পথহারা ছাত্রসমাজকে পথের সন্ধান দিয়ে তাদের জীবন গঠনে সহযোগিতা করছে। তাই জিঘাংসার রাজনীতি পরিহার করে ভালোকে ভালো হিসেবে মেনে নেয়ার চর্চা শুরু করলে দেশ ও জাতি উভয়েরই লাভ।
আমি জানি আমার এই লেখা পড়ে একশ্রেণীর ব্লগার দৌড়ে আসবেন মাইনাস দিতে এবং বিভিন্ন অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করবেন। কিন্তু তাদের বলব, আমি তো কোনো দলের হয়ে কথা বলছি না, যা সত্য তাই প্রকাশ করছি। পারলে এর জবাব দেবেন এবং সেই অনুযায়ী কমেন্ট করবেন। আমি বাংলাদেশকে ভালোবাসি তাই দেশের কল্যাণ কামনায় নিজেকে নিয়োজিত রাখতে চায়। এজন্য কাকে বিচার করতে হবে, কাকে করতে হবে না- সেদিকে তাকাতে চাই না। জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের বিচার করে যদি দেশের মঙ্গল করা যায়, তাহলে আজই তাদের বিচার করা হোক।
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই মার্চ, ২০১০ রাত ৯:২৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



