somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দুই মন্ত্রীর ধৃষ্টতাপূর্ণ বক্তব্য বিষয়ে মহল বিশেষের নীরবতায় প্রশ্ন

২৩ শে মার্চ, ২০১০ রাত ১০:৪০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহনগরীর আমীর মাওলানা রফিকুল ইসলাম খানের একটি বক্তব্যকে মিসকোড করে একটি মহলের পক্ষ থেকে গত কয়েক দিন দেশজুড়ে যে বিভ্রান্তি আর অপপ্রচার চালানো হয়েছে তাতে বিস্ময় প্রকাশ করার পাশাপাশি মর্মাহতও হয়েছেন এ দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলিম সমাজ ও বিজ্ঞমহল। একই সাথে ঠিক তার দুদিন পর সরকারের আইন প্রতিমন্ত্রীর মহান আল্লাহ তায়ালার সাথে শিরক করে দেয়া বক্তব্যের প্রতিবাদে ঐ মহলটির মুখ কুলুপ এঁটে বসে থাকা এবং কোনরূপ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত না করায় এটাই প্রমাণিত হয়েছে জামায়াত নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে যে মিথ্যাচার আর অপপ্রচার চালানো হয়েছে তার সর্বৈব একটি ষড়যন্ত্রেরই অংশ। একই সাথে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী নবীপ্রীতির বহিঃপ্রকাশ করে বলেছেন, একমাত্র আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাই রাসূল (সাঃ)-এর উম্মত। তিনি বলেছেন, জামায়াতের লোকজন নিজামী আর বিএনপি'র লোকজন জিয়ার উম্মত। (নাউজুবিল্লাহ) তার ভাষায় একমাত্র তারাই রাসূল (সাঃ)-এর খাঁটি উম্মত। আইনমন্ত্রী এডভোকেট কামরুল ইসলাম প্রকাশ্যেই বলেছেন আল্লাহ যদি কোটি বছর পর আমাদের বিচার করতে পারেন তাহলে আমরা মাত্র ৪০ বছর পরেও যুদ্ধাপরাধীর বিচার করতে পারবো না কেন? আইন প্রতিমন্ত্রীর এই বক্তব্যকে দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম সমাজ আল্লাহর ক্ষমতার সাথে সরাসরি শিরক করার শামিল মনে করছেন। আলেমগণের মতে মহান আল্লাহতায়ালাই একমাত্র পরাক্রমশালী, অসীম ক্ষমতার অধিকারী। তার এই অসীম শক্তির সাথে কোন মানুষের শক্তির তুলনা করা শুধু নয় এটা চিন্তা করাটাও বড় ধরনের শিরক বা অন্যায়। কোন মুসলমান এই ধরনের কথা বলাতো দূরের কথা চিন্তাও করতে পারে না।
এদিকে জামায়াত নেতার বক্তব্যকে মিসকোড করে ইতোমধ্যে জামায়াতের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। ঐ অনুষ্ঠানে যে বক্তব্য দেয়া হয়েছে তা প্রতিটি মুসলমানেরই বক্তব্য হওয়া দরকার। কারণ জনাব খান বলেছেন, যুগে যুগে নবী-রাসুলদের ওপর ইসলাম প্রচারের অপরাধেই তাদেরও বিরুদ্ধে অপপ্রচার আর নির্যাতন চালানো হয়েছে। আমাদের শেষ নবী মুহাম্মদ (সাঃ) ছোটকালে মক্কাবাসীর কাছে তার সততার জন্যই আল আমিন উপাধি পেয়েছিলেন। কিন্তু এই নবী যখন ইসলাম বা দ্বীন প্রচারের কাজে নিজেকে নিয়োজিত করলেন ঠিক তখনি শুরু হলো অত্যাচার আর অমানুষিক নির্যাতন। এমনিভাবে যারাই ইসলাম প্রচারের কাজে নেমেছেন তাদের ওপরও চলতে থাকে জুলুম-নির্যাতন। মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী জামায়াতের আমীর নির্বাচিত হওয়ার আগে তার বিরুদ্ধে এই অপপ্রচার ছিল না। কিন্তু যখনি তিনি একটি বৃহৎ ইসলামী দলের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করলেন তখন থেকেই তার বিরুদ্ধে এই অব্যাহত নির্লজ্জ মিথ্যাচার শুরু হলো। এখানে নবীর (সাঃ)-এর সাথে নিজামীকে মোটেই তুলনা করা হয়নি। শুধুমাত্র ইসলাম প্রচারের কাজকে বাধাগ্রস্ত করতে যুগে যুগে কিভাবে ব্যক্তি বিশেষের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হয়েছে তারই দৃষ্টান্ত দেয়া হয়েছে মাত্র।
এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার যে জামায়াত নেতার সঠিক বক্তব্যকে ইস্যু বানিয়ে যেভাবে জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে কিন্তু দুঃখজনক হলো সরকারের দুজন মন্ত্রীর অত্যন্ত ধৃষ্টতাপূর্ণ বক্তব্যের পরেও কিন্তু সেভাবে আলোচনা বা সমালোচনা হচ্ছে না। তাহলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে জামায়াতের নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে এই অন্ধ অপপ্রচার একটি বড় ষড়যন্ত্রেরই অংশ নয় কী ?
বিজ্ঞ মহল মনে করছেন জামায়াত নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ ইস্যুটিও একইভাবে মিথ্যার আশ্রয়ে সাজানো। কারণ ১৯৭১ সালে জামায়াতে ইসলামী তেমন কোন বড় রাজনৈতিক দল ছিল না। তখন মুসলিম লীগ এবং আওয়ামী লীগই বড় রাজনৈতিক দল হিসেবে দেশে প্রতিষ্ঠিত ছিল। এছাড়া দেশের ইউনিয়ন পর্যায়েও তাদেরই লোকজন দায়িত্ব পালন করেছে। আর জামায়াতের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের মধ্যে যাদের বিরুদ্ধে ইতিহাসের অত্যন্ত নির্লজ্জ এই মিথ্যাচার যুদ্ধাপরাধী অভিযোগ দেয়া হচ্ছে তাদেরও অনেকে ছিলেন তখন ছাত্র। তারা কোন কমিটিতেও অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না। এই সকল নেতৃবৃন্দ শান্তি কমিটি, আলবদর বা রাজাকার কমিটিতেও ছিলেন না। জামায়াতে ইসলামীকে রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য বিভিন্ন ব্যক্তির বক্তব্যেও কিছু মিডিয়াতে যেসব কল্পকাহিনী সাজানো হচ্ছে সেখানে সত্যেরও লেশ মাত্র নেই। একটি বিষয় এখানে পরিষ্কার তাহলো জামায়াত নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে যতই ঢাক-ঢোল পিটিয়ে অপপ্রচার আর মিথ্যাচার করা হোক না কেন দেশবাসীর কাছে তা গ্রহণযোগ্য হচ্ছে না। উপরন্তু দেশের মানুষের কাছে জামায়াতে ইসলামীর গ্রহণযোগ্যতা দিন দিন আরো বাড়ছে।
দেশের সকল সচেতন নাগরিকদের কাছে আজ পরিষ্কার যে, যারা কথায় কথায় ইসলামী আন্দোলন বন্ধ করার কথা বলেন, নারীর সমঅধিকারের নামে কুরআনের বিধান পরিবর্তনের মতোও ধৃষ্টতা দেখাতে কুন্ঠাবোধ করেন না, অতি নবীপ্রেম দেখাতে গিয়ে নবীর অবমাননা করেন, আল্লাহর ক্ষমতার সাথে শরিক করেন তাদেরও পক্ষ থেকে যতই অপপ্রচার করা হোক না কেন দেশের জনগণ তাতে বিশ্বাস করবে না। বরং যাদের বিরুদ্ধে এই অপপ্রচার তারাই জনগণের আস্থা আর ভালবাসা অর্জন করবে।
১৪টি মন্তব্য ১২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাঙ্গু এনালিস্ট কাম ইন্টারন্যাশনাল সাংবাদিক জুলকার নায়েরের মাস্টারক্লাস অবজারবেশন !

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৮ ই ডিসেম্বর, ২০২৫ রাত ১২:২৬

বাংলাদেশের দক্ষিণপন্থীদের দম আছে বলতে হয়! নির্বাচন ঠেকানোর প্রকল্পের গতি কিছুটা পিছিয়ে পড়তেই নতুন টার্গেট শনাক্ত করতে দেরি করেনি তারা। ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহ ঘিরে নতুন কর্মসূচি সাজাতে শুরু করেছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ক্ষমতাচ্যুত ফ্যাসিবাদ: দিল্লির ছায়া থেকে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র

লিখেছেন কৃষ্ণচূড়া লাল রঙ, ১৮ ই ডিসেম্বর, ২০২৫ ভোর ৫:৫৭

একটা সত্য আজ স্পষ্ট করে বলা দরকার—
শেখ হাসিনার আর কোনো ক্ষমতা নেই।
বাংলাদেশের মাটিতে সে রাজনৈতিকভাবে পরাজিত।

কিন্তু বিপদ এখানেই শেষ হয়নি।

ক্ষমতা হারিয়ে শেখ হাসিনা এখন ভারতে আশ্রয় নিয়ে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

Grameen Phone স্পষ্ট ভাবেই ভারত প্রেমী হয়ে উঠেছে

লিখেছেন অপলক , ১৮ ই ডিসেম্বর, ২০২৫ দুপুর ২:৪৯



গত কয়েক মাসে GP বহু বাংলাদেশী অভিজ্ঞ কর্মীদের ছাটায় করেছে। GP র মেইন ব্রাঞ্চে প্রায় ১১৮০জন কর্মচারী আছেন যার ভেতরে ৭১৯ জন ভারতীয়। বলা যায়, GP এখন পুরোদস্তুর ভারতীয়।

কারনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কম্বলটা যেনো উষ্ণ হায়

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ১৮ ই ডিসেম্বর, ২০২৫ বিকাল ৩:৫৭


এখন কবিতার সময় কঠিন মুহূর্ত-
এতো কবিতা এসে ছুঁয়ে যায় যায় ভাব
তবু কবির অনুরাগ বড়- কঠিন চোখ;
কলম খাতাতে আলিঙ্গন শোকাহত-
জল শূন্য উঠন বরাবর স্মৃতির রাস্তায়
বাঁধ ভেঙ্গে হেসে ওঠে, আলোকিত সূর্য;
অথচ শীতের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইউনুস সাহেবকে আরো পা্ঁচ বছর ক্ষমতায় দেখতে চাই।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৯ শে ডিসেম্বর, ২০২৫ রাত ১:৪৪


আইনশৃংখলা পরিস্থিতির অবনতি পুরো ১৫ মাস ধরেই ছিলো। মব করে মানুষ হত্যা, গুলি করে হত্যা, পিটিয়ে মারা, লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার করতে না পারা, পুলিশকে দূর্বল করে রাখা এবং... ...বাকিটুকু পড়ুন

×