somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

উগান্ডায় নয়মাস (পর্ব ২)

০৭ ই অক্টোবর, ২০১৩ দুপুর ১:৪৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পুর্ব কথা: আগেই ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি দেরী করে ফেলার জন্য, আসলে আমি উগান্ডার যে অঞ্চলটায় আছি সেখানে বিদু্যৎস্বল্পতা এবং প্রায়ঃশই ৪-৫দিন বিদু্যৎ না থাকার কারণে পোস্ট দিতে বেশ দেরী হচ্ছে, তবুও গত সপ্তাহে কষ্ট করে লেখার পর যখনই ব্লগে প্রকাশ করুন লেখাটিতে ক্লিক করলাম তখনই এই মুহুর্তে সার্ভার ব্যাস্ত আছে অনুগ্রহ করে একটুপর আবার চেষ্টা করুন যখন দেখলাম, তখনই বুঝে নিলাম আমার লেখাটি হারিয়ে গেছে। এবং হলোও তাই, যেহেতু ম্যাক ইউজ করি তাই কম্পিউটারে বাংলা না থাকায় সামহয়্যারইন এর নতুন ব্লগ লিখুন পেজটি খুলে অফলাইনে লিখি এবং এরপর অনলাইন হয়ে পোস্ট করি। যাইহোক, আবার লেখার চেষ্টা করছি এবং আশা করছি এবার পোস্ট করতে পারবো.....






সকাল এলো সকালের নিয়মেই.... আমিও ঘুম থেকে উঠলাম। ফ্রেশ হয়ে নিচে রিসিপশনে আসতেই আমার মতো এখানে কাজ করতে আসা দুজনরে সাথে পরিচিত হলাম, একজনের বাড়ি পার্শ্ববর্তী দেশ কেনিয়া এবং আরেকজনের দেশ জাম্বিয়া। তো যাই হোক, তাদের সাথে পরিচিত হলাম, যেহেতু কেনিয়া ক্রিকেট খেলে এবং বাংলাদেশের সাথে বেশ কয়েকবার খেলেছে, তাই ফেলিক্স বাংলাদেশ নামটার সাথে পরিচিত। অন্যদিকে প্যাসকেল এর কাছে বাংলাদেশ হলো ভারতের একটা প্রদেশের নাম, তার ধারণা বাংলাদেশ একটি দেশ বটে কিন্তু তা আয়ারল্যান্ড কিংবা স্কটল্যান্ড এরমতন ভারতের একটি অংশের নাম।

তার ভুল ভাঙালাম এবং বললাম বাংলাদেশ একটি স্বতন্ত্র দেশ। এবং সেই ভুল ভাঙার পর সে বেশ দুঃখ পেয়ে আমার কাছে দুঃখ প্রকাশ করলো, যাই হোক এরপর তাদের সাথে পরিচিত হয়ে আরও জানতে পারলাম তারাও আমার মতন নয়মাসের জন্য এসেছে। এরপর শুধু অপেক্ষার পালা কারণ আমাদের গাড়ি নিতে আসার কথা।

সেই অপেক্ষার প্রহর শেষ হলো বেলা প্রায় ১২.০০ টার দিকে। আগেই শুনেছিলাম আফ্রিকান টাইমের কথা, সাধারণ ১ ঘন্টা নাকি তারা বিচার করে ১৫ মিনিট হিসেবে! সেক্ষেত্রে ১০.০০ টায় আসার কথা বলে ১২.০০ টায় আসাতো অনেক আগেই বলতে হবে নাকি? যাক শেষমেশ গাড়িতে উঠে বসলাম এবং কান্ট্রি অফিসের দিকে রওয়ানা হলাম।

যেতে যেতে বরং আপনাদের উগান্ডা সম্মন্ধে একটু জ্ঞান দেই!
উগান্ডা পূর্ব আফ্রিকার একটি দেশ। ব্রিটিশদের কাছ থেকে এই দেশটি স্বাধীনতা লাভ করে ১৯৬২ সালের ৯ই অক্টোবর। উগান্ডা নামটি শুনলে আরো যে নামটি আমাদের মনের মধ্যে ভেসে ওঠে সেটি হলো ইদি আমিন, এই লোকটি একটি মিলিটারি কু্য এর মাধ্যমে দেশটির অধিপতি হন ১৯৭১ সালে। যেহেতু মিলিটারি কু্য এর মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছেন তাই স্বাভাবিক ভাবেই দেশের জণগণ তাকে মেনে নিতে পারেনি, তাই তাদের বশে রাখতে ইদি আমিন সাহেব কে বেশ রক্তের হোলি খেলতে হয়েছিলো, সে সময় বেশকিছু ভারতীয় এদেশে ব্যাবসা করার জন্য বসবাস করছিলো, এবং ইদি আমিন সাহেব ঠিক করলেন এই দেশ শুধুমাত্র উগান্ডানদের তাই অন্য কোনো জাতী এদেশে বসবাস করতে পারবে না। সেই লক্ষ্যে শুরু করলেন ভারতীয় নিধন এবং দেশ থেকে তাদের হঠানো। এছাড়া তার বিরোধি শিবির নিধন তো চলছিলোই, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মতে ইদি আমিনের শাসণামলে তিনি প্রায় চার লক্ষ মানুষকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে হত্যা করেন। এবং ১৯৭৬ সালে তিনি নিজেকে দেশটির আমরণ রাষ্ট্রপতি হিসেবে ঘোষণা করেন।

এরিমধ্যে ১৯৭৮ সালে ইদি আমিন সাহেব তানজানিয়ান বর্ডারে মিলিটারিদের প্র্যাক্টিস করার অনুমতি দিয়ে তানজানিয়ার সরকার কে ক্ষেপিয়ে তোলেন এবং সেই দেশরে সরকার প্রধান জুলিয়াস নিয়েরেরে উগান্ডা আক্রমণ করার সিদ্ধান্ত নেন, এবং সে সময় ইদি আমিন কর্তৃক ক্ষমতাচ্যুত দেশটির প্রথম প্রধানমন্ত্রি ওবতে তাকে সাহায্য করার আশ্বাস যিনি ওইসময় তানজানিয়ায় রাজনৈতিক আশ্রয়ে ছিলেন। এবং জুলিয়াস কর্তৃক সফলভাবে ১৯৭৯ সালে ইদি আমিন পরাজিত হয়ে সৌদি আরবে পালিয়ে যান।

ওবতে ক্ষমতায় এসেই ১৯৮০ সালে প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনে নিজেকে জয়ী ঘোষণা করেন এবং দেশটির ক্ষমতার অধিকারি হন। এবং ১৯৮৫ সালে আবার একটি মিলিটারি কু্য এর মাধ্যমে ক্ষমতাচু্যত হয়ে পালিয়ে যান। তখন দেশটির দায়িত্ব নেন জেন: টিটো ওকেলো। এবং ১৯৮৬ সালে তিনি ক্ষমতা হারান ইউরি মুসেভেনির কাছে, একটি সশস্ত্র বিপ্লবের মাধ্যমে। এখন পর্যন্ত তিনিই দেশটির রাষ্ট্রপতি।

এবার দেশটির প্রাকৃতিক বর্ণনা দেয়া যাক, প্রাকৃতিক ভাবে দেশটি সবুজ এবং দেশটির মাটি লাল। চারিদিক থেকে বিভিন্ন দেশদ্বারা বেষ্টিত দেশটিতে কোনো সমুদ্র বন্দর নেই, তবে নীল নদের উৎপত্তিস্থল আছে।

মোট জনসংখ্যার ৭৫% ১৮ বছরের নিচে। তাই দেশটিকে সবচেয়ে তরুণ দেশ বলা হয়ে থাকে। এছাড়া আফ্রিকার অন্যান্য দেশগুলোর মতন এইডস ও ম্যালেরিয়ার প্রকোপ বেশ ভয়ানক।

এভাবেই আমি আমার দ্বিতিয় দিন শেষ করলাম অফিসে সবার সাথে পরিচিত হয়ে এবং আমার যেখানে যাওয়ার কথা সেখানকার ইনফর্মেশন নিয়ে। আমার কাজের শহরটির নাম কুমি। পশ্চিম উগান্ডার একটি ছোট শহর..... কথা হলো আগামী দিন আমরা রওয়ানা হবো, প্রথমে প্যাসকেল, এরপর ফেলিক্স এবং সবশেষে আমাকে নামিয়ে দেবেন আমাদের কো-অর্ডিনেটর নিনা।

অনেক চেষ্টা করেও ছবি দিতে পারলামনা। আশাকরছি এরপর দিতে পারবো

এছাড়া আমার ইংরেজী ব্লগ

আগের পর্ব




সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই অক্টোবর, ২০১৩ দুপুর ১:৪৩
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কেউ পুড়বে আর কেউ পোড়াবে!

লিখেছেন রাজীব নুর, ২১ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

অনেকদিন নিশ্চুপ আছি কিছুদিনের অপেক্ষায়;
কেউ কেউ বলে কিছুদিন নাকি হারিয়ে গেছে,
অনেকদিনের গর্ভে তাই মেলাতে সরল গণিত।
কিছুদিনের অপেক্ষায় অপেক্ষায়-
ছেটে দিয়েছি কথামালার ডালপালা।
বসে বসে মেলাই কাণ্ডহীন বৃক্ষের... ...বাকিটুকু পড়ুন

৫০১ নাম্বার রুম কি বিজয় নাকি লাম্পট্যর সাক্ষী।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ২১ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:২৮





মাওলানা মামুনুল হক নামের হেফাজত ইসলামের এক নেতা তার ফেসবুক ওয়ালে দীর্ঘ একটি পোস্ট লিখেছেন। তার এই পোস্টটি এক অদ্ভুত রসাত্মক ট্র্যাজেডি।

লেখাটি পড়লে মনে হয়, তিনি... ...বাকিটুকু পড়ুন

Good governance starts with respecting public money....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২১ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৬



Good governance starts with respecting public money....

গত দুই দশক রাষ্ট্রীয় সফর মানেই ছিল বিশাল বহর, শত শত সঙ্গী, অপ্রয়োজনীয় জাঁকজমক আর জনগণের টাকায় এক শ্রেণির মানুষের বিদেশ ভ্রমণের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইসলাম প্রতিষ্ঠায় যুদ্ধের প্রয়োজন নেই, ভালোবাসাই যথেষ্ট

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২১ শে জুন, ২০২৬ রাত ১১:৪৮



চীনের লিংশান পর্বতে শুয়ে আছেন ইসলামের শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা (সাঃ)-এর দুই সাহাবী সা-কে-জু (Sa-Ke-Zu) এবং
উউ-কো-শুন (Wu-Ko-Shun)। এই নামেই তাঁদের চিনতো স্থানীয় চীনবাসীরা। অবাক হতে হয়, আরব... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রিয় সামু ব্লগারদের কাছে খোলা চিঠি.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২২ শে জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫০

প্রিয় সামু ব্লগারদের কাছে খোলা চিঠি.....

প্রিয় সহব্লগার,
একসময় সামু ছিল আমাদের ছোট্ট এক মহাবিশ্ব।
দৈনিক গড়ে তিন-চারশ' ব্লগার অনলাইনে থাকতেন। প্রতি মিনিটেই নতুন নতুন পোস্ট আসত। কেউ গল্প লিখছেন, কেউ কবিতা, কেউ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×