somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মায়াস্পর্শ
মানুষের মাঝে মিশে থাকতে চাই, তবে কিভাবে শুরু করব তা ভাবতেই অনেক সময় পেরিয়ে যায়। তাই, গান কবিতা এগুলোর আশ্রয় নিয়ে চলি নিজেকে আড়াল করে।

শীতের কিছু পুরোনো স্মৃতি

২০ শে নভেম্বর, ২০২৪ দুপুর ২:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

শীত শুধু একটা ঋতু নয়, অনেকগুলো আবেগ আর স্মৃতির জননী। প্রতিটি শীত আমাদের নতুন নতুন কিছু উপহার দেয়। কেড়েও নেয় অনেকের জীবন। আমাদের দেশের গরিব অসহায় মানুষদের শীতকালে কষ্টের কোনো অন্ত থাকে না। শীতকে ঘিরে কিছু স্মৃতি আজ লিখছি। হয়ত আমার সাথে অনেকের স্মৃতির মিল হয়ে যাবে।

যখন খুব ছোট ছিলাম, সালটা হবে ১৯৯৫ বা ১৯৯৬, বয়স ৪- ৫ বছর হবে তখন ঘুম থেকে উঠতাম ভোরবেলা। চারিদিকে কনকনে শীত। সেই ভোরবেলা পায়ে স্পঞ্জের সেন্ডেল, কাপড়ের ইংলিশ প্যান্ট, গায়ে সোয়েটার, কানে মাথায় মাফলার পেঁচিয়ে বাবার সাথে বেরিয়ে যেতাম বাড়ির পাশের পার্কে। পার্কের এক কোনায় একটা অনেক বড় কাঠবাদাম গাছ ছিল। সারারাত বাদুড় পাকা কাঠবাদামগুলোর ওপরের ছাল খেয়ে গাছ থেকে কাঠ বাদামগুলোকে নিচে ফেলে দিতো। গাছের নিচে অনেকটা জায়গা জুড়ে ছিল ঘন সবুজ ঘাস। আমরা সেই পড়ে থাকা কাঠবাদামগুলো কুড়িয়ে বাড়িতে নিয়ে আসতাম। এরপর হাতুড়ি বা বড় পাথর দিয়ে ভেঙে ভিতর থেকে বাদাম বের করে খেতাম। অনেক সময় হাতে হাতুড়ির বা পাথরের আঘাত লেগে যেত। শীতের ভোরে এই কাঠবাদাম কুড়ানোটা আমাদের পাড়ায় একটা নেশা এবং প্রতিযোগিতা ছিল। আমি আর বাবাই সবচেয়ে বেশি কাঠবাদাম কুড়িয়ে নিয়ে আসতাম।এখন সেই শিশির ভেজা ঘাসকে খুব মিস করি।
কাঠবাদাম কুড়িয়ে এনে একটু সকাল হলেই পাড়ার ছেলেরা চলে আসতাম স্কুল মাঠে। তখন শীত কালীন ছুটি থাকতো। সে সময় এতো আধুনিক ক্রিকেট খেলার ব্যাট আমাদের মতো ছেলেদের থাকতো না। এলাকার বড়োলোকের ছেলেদের কাছে থাকতো। তাদেরকে তাদের বাবা মা আমাদের সাথে মিশতে দিতো না তারা খারাপ হয়ে যাবে সেই ভয়ে। তাই আমরা নিজেরাই নারিকেল গাছের ডাল (ঢেঁজ্ঞা) কেটে ব্যাট বানাতাম। কোনো কোনো সময় কোনো নির্মানাধীন বিল্ডিঙের নিচে পড়ে থাকা সমান কাঠ কুড়িয়ে নিয়ে দা দিয়ে কেটে ব্যাট বানাতাম। আট আনা বা চার আনা যাই থাকতো সেটাই একত্র করে তিন টাকা দিয়ে বেঙ্গল বিস্কুট কিনে সেটা খেলার প্রাইজ বানাইতাম। যারা জিতবে তারা সেই বেঙ্গল বিস্কুট খেত। তিন টাকার প্যাকেটে নয়টি বিস্কুট থাকতো।
সকাল এবং বিকেলে দুই বেলাতেই ভাপা পিঠার দোকান বসতো। এলাকার মহিলারা দোকান দিতেন। মাটির চুলো আর পাতা খড়ি দিয়ে আগুন জ্বালাতো সেই চুলায়। চার আনার পিঠাগুলো ছিল গুড় ছাড়া আর আট আনার পিঠাগুলো ছিল গুড় আর নারিকেল কুড়া দিয়ে বানানো।এখন অনেক পিঠা খাই কিন্তু সেই আবেগ আর স্বাদ কোথাও পাইনা।
শীতের রাতে পিকনিক খাওয়ার মজা মনে হয় লিখে বা বলে প্রকাশ করা সম্ভব নয়। সবার বাড়ি থেকে মানুষ অনুযায়ী হিসেবে করে চাউল, একটা করে ডিম, আর সর্বোচ্চ ১০ টাকা করে চাঁদা। আমাদের পাড়ার সবাই মোটামুটি পিকনিকে অংশগ্রহণ করতো শুধুমাত্র কয়েকঘর ছাড়া। তারা সেই সময়েই অনেক বৈষম্য নিয়ে বসবাস করতেন।
পাড়ার সব মহিলারা একসাথে বসে কাটাকুটার কাজ করতেন,পুরুষেরা একপাশে বসে আড্ডা দিতেন, কয়েকজন ছিলেন যারা বাজার করায় পটু, তারা বাজারে যেতেন গোস্ত, মশলা এবং অন্যান্য কেনাকাটা করার জন্য। যারা একদম বয়স্ক ছিলেন তারা ঢোসকাতে (একধরণের মাটির পাত্র ) চুলোর গরম কয়লা নিয়ে বসে তাপ পোহাতেন। আমরা ছোটরা দুস্টুমি করতাম অনেক, নাচানাচি, বৌচি খেলা, কানা মাছি ভোঁ ভোঁ খেলা খেলতাম। আমাদের পাড়াতেই এক সুনাম ধন্য বাবুর্চি থাকতেন। পিকনিকের রান্না বান্নার প্রধান কাজ উনিই করে দিতেন। রান্না শেষ হলে সবার যার যার নিজের থালা আর গ্লাস নিয়ে চলে আসতাম। পিকনিকের জন্য ডেকোরেটর থেকে ছামিয়ানার কাপড় নিয়ে আসতো, সেটা মাটিতে পেতে সবাই বসে গরম গরম খাবার খেতাম। প্রথমে ছোটরা বসে পড়তাম,আমাদের খাওয়া শেষ হলে বড়রা বসে পড়তেন। কত আনন্দঘন দিনই না ছিল তখন।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে নভেম্বর, ২০২৪ দুপুর ২:৪১
১৭টি মন্তব্য ১৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

I Have a plan / মুচলেকা দিয়ে যাওয়া এবং মুচলেকা দিয়ে ফেরত আসা সরকারের রাষ্ট্র ‼️

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ ভোর ৫:৪৬





ওয়াশিংটন – যদিও তিনি এমন একটি নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছেন যার বৈধতা নিয়ে ব্যাপক প্রশ্ন রয়েছে, এবং শক্তিশালী মহলের প্ররোচনায় যাদের হস্তক্ষেপ কখনোই সন্দেহের বাইরে ছিল না, তারেক... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড় কাউকে জয়ী হতে দেয় না

লিখেছেন মুনতাসির, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১১




আমরা প্রায়ই বলি, অমুক এভারেস্ট জয় করেছেন, তমুক কে-টু জয় করেছেন, অমুক অন্নপূর্ণা জয় করেছেন। শব্দটি এতটাই প্রচলিত যে আমরা আর ভাবিই না—আসলে কি পাহাড়কে জয় করা যায়?

আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

৩৫ হাজার টাকা বিনিয়োগে ৩ লাখ ২৭ হাজার টাকা ফেরতের প্রলোভন!

লিখেছেন শাহাবুিদ্দন শুভ, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:৩৯

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন একটি ওয়েবসাইটের প্রচার দেখা যাচ্ছে, যেখানে প্রথম আলোর আদলে তৈরি একটি ডিজাইন ব্যবহার করে উচ্চ মুনাফার বিনিয়োগের প্রলোভন দেখানো হচ্ছে। এমনকি তৃতীয় মাত্রা অনুষ্ঠানের ফটোকার্ড... ...বাকিটুকু পড়ুন

এনসিপিকে মারছে কেন? (অথবা) এনসিপি মার খাচ্ছে কেন?

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:৪০


(ইহা নাকি এনসিপিকে পিষিয়ে মারবে!)

এনসিপিকে মারছে কেন (?) অথবা এনসিপি মার খাচ্ছে কেন? প্রশ্ন দুটো হলেও আদতে প্রশ্ন একটাই উত্তরও একটাই। বিগত ১৫/১৬ বছর অর্থাৎ খুনি হাসিনার আমলে যাহারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুলাই আন্দোলনের সম্ভাবনাময়, রৌদ্রোজ্জ্বল মুখগুলো ডানপন্থার অনুরাগী হচ্ছে! দায় কার?

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০৩



জুলাই আন্দোলনের অন্যতম সেই আইকনিক ফটো--যেখানে দেখা যাচ্ছিল একটা ভার্সিটির ফাস্ট কি সেকেন্ড ইয়ারের মেয়ে পুলিশের গাড়ি আটকাচ্ছে, ওর ভার্সিটির এক বড় ভাইকে পুলিশের গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×