somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এবার সকল হিন্দু আস্তিক ভাইদের প্রতি চ্যালেঞ্জ জানাইলাম ।।

২৮ শে নভেম্বর, ২০১১ রাত ১২:২১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

(এই পোস্ট খানা রাতারাতি বিখ্যাত হবার জন্য করা কোন পোস্ট না,সেই ইচ্ছা থাকলে আগেই তা করতাম এত দিন অপেক্ষা করতাম না।উল্লেখ্য এটি একটি ক্রমিক পোস্ট - হিন্দু আস্তিক আলাদা ভাবে কেন প্রশ্ন করা হয়েছে সকল ধর্মের আস্তিকদের কেন নয়,আমি কোন ধর্মের এবং আমি কয়জন দেবতাকে মানি কিংবা ঘণ্টা ধ্বনি শুনে সৃষ্টিকর্তার আওয়াজ মনে করি কিনা কিংবা কোন বাপ মা বিহীন জারজের দেখানো পথে চলি কিনা কিংবা আমি কি বিশ্বাস করি এইসব অদ্ভুত প্রশ্ন এবং অন্য কোন ধর্মের মানুষ হয়ে নিজের ধর্মের গুণগান এখানে দয়া করে করবেন না,একদম নীচে দুই খানা শর্ত উল্লেখিত আছে ,শর্ত মেনে এর পর কমেন্ট করবেন। )

হিন্দুধর্ম প্রাচীন একটি ধর্ম।তিন প্রধান দৈবপুরুষ, পৃথিবীতে ঈশ্বরের বাণীর প্রবক্তা ছিলেন। এরা হলেন ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও মহেশ্বর। ব্রহ্মার জন্ম মধ্যভারতে, বিষ্ণু (যাঁর অপর নাম নারায়ন বা ভগবান বেঙ্কটেশ্বর বা ভগবান বালাজী) ছিলেন দক্ষিণ ভারতের অধিবাসী এবং মহেশ্বর (যাঁর অপন নাম শিব/রুদ্র/শংকর) কাশ্মীর অর্থাৎ উত্তর ভারত থেকে এসেছিলেন।মুলত এরাই সনাতন ধর্মের প্রবর্তক।এই অংশটুকুতে আপনাদের কখনই কোন আপত্তি থাকেনা।আমার প্রথম প্রশ্ন - "আগে হিন্দুধর্মের আদি নাম ছিল সনাতন ধর্ম এবং তার প্রধান দর্শন বৈদিক ধর্ম অর্থাৎ বেদ প্রদত্ত ধর্ম।তাহলে ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও মহেশ্বর এর বেদের আগে মানুষের ধর্ম কি ছিল??আপনাদের পরম পুরুষ,সর্বব্যাপী,অনাদি-অনন্ত,নিরাকার,বর্ণহীন অপদার্থ ঈশ্বর আগে ঠিক কি করে তার Time-pass করতেন? "

ঈশ্বর তাঁর মহত্ত্বের প্রতিফলন স্বরূপ দৈবপুরুষ অথবা দেবতাদের পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে মানুষ রূপে প্রেরণ করেন। এঁদের কোনও কোনও ভারতীয় ভাষায় দেবতা বলা হয়।
ভক্তরা ঈশ্বরের উপসনা করেন এবং মন্দিরে দেবতাদের জীবন, কীর্তি ও উপদেশাদি স্মরণ করে উৎসব পালন করেন। দেবতা অলৌকিক ক্ষমতা সম্পন্ন মানুষ। আমার দ্বিতীয় প্রশ্ন - "আপনাদের বিশ্বাস মতে তাহলে প্রথম সভ্যতার শুরুর দিকে যিনি আগুন জ্বালাতে পারতেন তিনি অলৌকিক ক্ষমতা সম্পন্ন মানুষ।বর্তমানে মানুষ ম্যাচের একটা কাঁঠি ঠুকেই আগুন জ্বালাতে পারছে,তাহলে আপনাদের সেই দেবতাই তাহলে সময়ের সাথে সাথে মানুষে পরিবর্তিত হয়ে যাচ্ছে ব্যাপারটা কি এমনই নয় নাকি এর ভিতরে আলাদা কোন জিলাপির প্যাঁচ আছে?আসলেই তাহলে এত দেবতার আরাধনার নামে আপনারা জড় বস্তুর সামনে মাথা ঠুকিয়ে নিজেদের অক্ষমতা কে প্রকাশ করার নামই কি আপনাদের কাছে অপদার্থ ঈশ্বরের প্রার্থনা? যদি বলেন "দেবতাদের অলৌকিক ক্ষমতাবিশিষ্ট মানবকুলকে বীর ও বীরাঙ্গণ হিসাবে শ্রদ্ধা করা হয় এবং আপনারা বিশ্বাস করেন যে তাঁরা ঈশ্বরপ্রদত্ত বিশিষ্ট কোনও কোনও গুণের অধিকারী।" তাহলে বলতেই হয় আপনাদের ঈশ্বর কিছুই জানেন না এবং তিনি নির্বোধ। তিনি যদি বিশেষ গুনের অধিকারি হতেনই তবে তিনি একবারে আদিম মানুষদের ম্যাচের কাঁঠি হতে আগুন জালান শিখাইতেন এত কষ্ট করে কাঠ ঠুকে ঠুকে আগুন জালান শিখাইতেন না।কারন যে আগুন জ্বালাতে কাঠ ঠুকছে সে তো ঈশ্বর থেকেই শিখেই আসছে।সেই ক্ষেত্রে কাঠ দিয়ে ঘষে ঘষে জ্বালান যেমন,কাঁঠি দ্বিয়ে জ্বালান ও একই হবার কথা কিন্তু আপনাদের অপদার্থ বোকা ঈশ্বর সহজ পথ ছেড়ে কঠিন পথের সন্ধান মানুষকে দিলেন তাই থেকে কেও যদি ভেবে নেই আপনাদের ঈশ্বর বোকা কিংবা স্বাভাবিক বুদ্ধি সম্পন্ন নয় তাহলে তার সেই রকম চিন্তা ধারা কতটুকু ভুল কিংবা সঠিক বলে গণ্য হবে? "

অনেকেই আবার এই কোটি কোটি দেবতার সম্পর্কে দাবী করেন "যে নামেই পূজা হোক বা যে ভাবেই অর্চনা করা হোক, ঈশ্বর তা গ্রহণ করেন।" তাহলে আমার প্রশ্ন হল - আমার কাছে যদি মানুষ হত্যাই আমার অর্চনা করার মাধ্যম হয়ে থাকে;তবে সবার মঙ্গল কামনাকারী অপদার্থ ঈশ্বর সেই অর্চনা মেনে নিবেন কি? মেনে নিলে সেটা কতটুকু যুক্তিগ্রাহ্য?

আপনারা বেদকে বলেন অপৌরুষেয়ম্‌। পুরুষ অর্থাৎ মানুষের রচিত নয়, বেদ ঈশ্বরপ্রেরিত মনুষ্য জীবনযাপনের মূলমন্ত্র।"ঈশ্বরপ্রেরিত মনুষ্য জীবনযাপনের মূলমন্ত্র"এর নাম "অপৌরুষেয়ম্" আপনাদের ঈশ্বর কি লিঙ্গবৈষম্য পছন্দ করেন??না করলে অমানুষেয়ম্ না হয়ে বেদের নাম অপৌরুষেয়ম্ কেন বলা হয়?

আর রামায়ন নামক কল্পকথায় সাত মাথা বিশিষ্ট রাবন,কথা বলা বান্দর হনুমান, ৬ মাস ঘুমিয়ে থাকা দশরথ,বিশাল লিঙ্গর অধিকারী শিব, অসংখ্য হাত বিশিষ্ট মা কালী কিংবা হাতির মাথা বিশিষ্ট গণেশের ইত্যাদি ইত্যাদি কল্পিত চরিত্র দ্বারা মানুষকে অপমান করার অধিকার আপনাদের ঈশ্বরকে কে দিলেন এবং এই ভাবে মানুষের কল্পিত রূপরেখা বানানোর যৌক্তিকতা আসলেই কতটুকু?

(কেন জানি মনে হইল এই ব্লগখানা পড়ার পরে অন্য ধর্মের আস্তিক ভাইদের চুলকানি উঠবে হিন্দু ধর্ম কে আলাদা ভাবে গালি দেবার তাই দুই খানা শর্ত যুক্ত করে দিলাম কোন অদ্ভুত কমেন্ট করার আগে শর্ত দুই খানা ভাল করে পরে নিবেন আশা করি - (১) তর্ক করবেন শুধু বিজ্ঞান, দর্শন কিংবা মানবতার বিচারে। আবেগ,অন্ধ বিশ্বাস আর গাঁজাখুরি কোন মন্তব্য দিয়ে ত্যানা পেঁচাইবেননা। আর দর্শন কিংবা মানবতার হিসাবে যুক্তি দিলে মাথায় রাখবেন আপনি যেই যুক্তি দিলেন আপনার নিজের জন্য প্রযোজ্য কিনা। (২) গালি দিবেন না।ধর্ম নিয়ে চরম সত্যি কথাগুলি ধর্মভীরু মানুষের অন্ধবিশ্বাসের সামনে চলে আসলে মানুষ অসহায় হয়ে গালি দেয়। যাহা সত্যি তাহা মানতেই হবে,তাই সেটা যতই খারাপ হোক। আর প্রথমেই বলা হয়েছে এটা একটি ক্রমিক ব্লগ।এর আগে ইসলাম ধর্মের আস্তিক ভাইদের জন্যও এমনই কিছু প্রশ্ন ছিল।মুসলিম আস্তিক ভাই যাহারা হিন্দু ধর্মকে হেয় করার জন্য প্রস্তুত হয়ে বসে আছেন তাদের জন্য নীচে চারখানা লিঙ্ক দিলাম শর্ত মেনে তর্ক করার ইচ্ছা থাকলে সাদরে আমন্ত্রিত।শর্ত মেনে চললে আপনাদের কোন কমেন্ট কেই Delete করা হবেনা। )

সকল ধর্মের সকল আস্তিক ভাইদের প্রতি আবার চ্যালেঞ্জ জানাইলামঃকুরবানি,তৃতীয় লিঙ্গ এবং মানুষের বিবেক ইস্যু

নারী এবং ইসলাম,সকল মুসলিম আস্তিক ভাইদের প্রতি আবার চ্যালেঞ্জ জানাইলাম (পর্ব-৩)।

পোস্টমর্টেম-কুরআন,সকল মুসলিম আস্তিক ভাইদের প্রতি আবার চ্যালেঞ্জ জানাইলাম (পর্ব -২)।

সকল মুসলিম আস্তিক ভাইদের প্রতি চ্যালেঞ্জ জানাইলাম।
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে নভেম্বর, ২০১১ রাত ১২:২১
৩টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×