
কিছু নরাধমের শাস্তি সম্ভবতঃ শুরু হয়ে যায় দুনিয়াতেই...
কিছু মানুষ অর্থ বিত্তের লাভ এবং লোভে পড়ে বা অন্যবিধ কারণে অপরাধে যুক্ত হন। পাপের পথে পা বাড়িয়ে অন্যায় অপরাধ করে থাকেন এবং এইসব অপরাধ তারা নিজেরা করেন বলে এগুলো তাদের ব্যক্তিগত অপরাধের পর্যায়েই থেকে যায়। তারা অপরাধ নিজেরা করেন ঠিকই কিন্তু অপরকে অপরাধের দিকে ডাকেন না। কাউকে উৎসাহিত করেন না। উদ্বুদ্ধ করেন না। প্ররোচিত করেন না। কাউকে অপরাধকর্মে যুক্ত হতে প্রলুব্ধ করেন না। ডেকে নেন না। যুক্ত করেন না। তবে অপরাধ যে প্রকারেরই হোক, পরিমান মত অপরাধীকে শাস্তি অবশ্যই পেতে হবে। তাই ব্যক্তিগত অপরাধ বলে কারও প্রতি ছাড়ের প্রশ্ন নেই। এই শ্রেণির অপরাধীগণও শাস্তি পাবেন। তবে ব্যক্তিগত পর্যায়ে সংঘটিত হওয়ার ফলে তাদের অপরাধকর্মের পাপের যেমন সীমা থাকা স্বাভাবিক, শাস্তিরও একটা লিমিটেশনের আশা করা যায়। তারা হয়তো নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত শাস্তি ভোগ করবেন। এরপরে ক্ষমাপ্রাপ্ত হয়ে নাজাতলাভেও সক্ষম হবেন।
পক্ষান্তরে কিছু মানুষ এর সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম। তারা নিজেরা অপরাধ করার পাশাপাশি অন্যদের অপরাধে শামিল করেন। নিজেরা বিভ্রান্ত হওয়ার সাথে সাথে অন্যদের বিভ্রান্তির পথে টেনে নেন। নিজেরা অন্যায় করেই থেমে যান না; বরং বিশাল সংখ্যক মানব গোষ্ঠীকে অপরাধকর্মে প্রবিষ্ট হওয়ার পথ খুলে দেন। সুযোগ সৃষ্টি করেন। সেই দিকে তাদের আহবান করেন। আকৃষ্ট করেন। নিজেদের স্বার্থ আদায়ে, কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিতে লোভ লালসা দিয়ে, ছলনায় ভুলিয়ে সেই অন্যায়ের পথে আসতে বাধ্য করেন। এই শ্রেণির অপরাধীর শাস্তি ভয়ঙ্কর থেকে ভয়ঙ্করতম পর্যায়ের হতে পারে। হওয়াটা খুবই স্বাভাবিক। কারণ, এরা যাদের বিভ্রান্তির মধ্যে ফেলে বিপথগামী করেন, পাপাচারী হতে সাহায্য করেন, তাদের সকল অন্যায় অপরাধের একটি অংশও এদের আমলনামায় অটোমেটিক যোগ হতে থাকে। এজন্য, যার বা যাদের কারণে যত বেশি সংখ্যক মানুষ বিভ্রান্তির মধ্যে নিপতিত হবেন, পাপাচারে লিপ্ত হবেন; তারা তত বেশি বদ আমলের অধিকারী হবেন। মজার ব্যাপার হচ্ছে, এই শ্রেণির মহা অপরাধী অনেকের শাস্তি দুনিয়াতেই শুরু হয়ে যায়। কবরে যাওয়ার পূর্বে দুনিয়াতে জীবিত থাকাবস্থায়ই কবর আযাব ভোগ করার খোশ নসিব(!)ও হয়ে যায় কারও কারও।
এই শ্রেণিরই একজন বিদায় হয়ে পরপারে চলে গেলেন অতি সম্প্রতি। এই লোকের নাম নিতে ইচ্ছে হয় না। তা ছাড়া এই ব্যক্তি এখন আর জীবিতও নেই। তিনি মৃত। তার সমালোচনা করাও নিষ্ফল। ইচ্ছেও নেই। শুধুমাত্র তার সৃষ্ট ফেতনা থেকে মানুষ যাতে সতর্কতা অবলম্বন করতে পারেন সেজন্যই এই লেখা। আরও আগে শুনেছিলাম, তিনি না কি নিজেকে খোদা দাবি করেছিলেন। তার কিছু ভক্ত মুরিদকে তার মৃত্যুর পরে 'মৃত বাবার কাছে সাহায্য কামনা করতে' দেখে সেই শোনা কথার প্রমান প্রত্যক্ষ করা সম্ভব হল।
মানুষ মৃত্যু বরণ করলে হাদিসের ভাষ্যানুযায়ী তিনটি আমল ব্যতিত তার সকল আমল বন্ধ হয়ে যায়। প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন। হযরত আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু তাআ'লা আনহু বর্ণনা করেন, ‘যখন মানুষ মারা যায়, তিনটি কাজ ছাড়া মানুষের আমলের দরজা বন্ধ হয়ে যায়। প্রথমটি হলো অর্জিত ধন-সম্পদ থেকে সাদকা করা, যে দানের সাওয়াব অবিরাম দানকারী মৃতবক্তির আমল নামায় পৌঁছবে। দ্বিতীয়টি হলো এমন জ্ঞান অর্জন করা; যার দ্বারা মানুষ উপকৃত হবে। আর তৃতীয়টি হলো এমন নেক সন্তান রেখে যাওয়া; যে সন্তান মৃত্যুর পর মৃতব্যক্তির জন্য আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করবে।' -মুসলিম শরিফ
তিনটি আমলের একটি হচ্ছে- এমন জ্ঞান অর্জন করা; যার দ্বারা মানুষ উপকৃত হবে। এটির বিপরীত যদি হয়, অর্থাৎ, মানুষের জন্য অপকারী, ক্ষতিকর এমন অজ্ঞতা এবং অজ্ঞানতার পথ ও পদ্ধতি যদি কেউ তৈরি করে রেখে যান, যা অনুসরণ করার দ্বারা মানুষ গোমরাহিতে লিপ্ত হতে থাকেন, তাহলে এই বিভ্রান্তির পথ আবিষ্কারক নিশ্চয়ই উক্ত পথ ও পদ্ধতি অনুসরণকারী জনগোষ্ঠীর বদ আমলের ভাগও যথাযথভাবে লাভ করবেন।
একজন জানালেন যে, সাম্প্রতিক মারা যাওয়া উক্ত লোকের ছেলে না কি ফেসবুকে পোস্ট করে ফতোয়া দিয়েছেন যে, 'যারা বিশ্বাস করবে যে, তার বাবা মারা গেছেন তাদের ঈমান থাকবে না। তিনি সাক্ষাতে গিয়েছেন।'
বাপরে বাপ! কি সাংঘাতিক ফতোয়া! ঈমানই থাকবে না! বুঝুন অবস্থা। একটা লোক মৃত্যুবরণ করেছেন। তাকে দাফন দেয়া হয়েছে। তিনি গত হয়ে চলে গেছেন। এখন এই কথা বিশ্বাস করলে না কি মানুষের ঈমান চলে যাবে! সর্বনাশা কথা! 'বাপ কা বেটা' তাহলে একেই বলে!
প্রশ্ন হচ্ছে, কার সাক্ষাতে গিয়েছেন তিনি? শয়তানের? ইবলিসের? আরে, ইবলিস শয়তানকেও তো মনে হচ্ছে পাবেন না তিনি। কারণ, ইবলিস শয়তানও তো কিছু লোককে ভয় পায়। শয়তানের চেয়েও অন্যায়-অপরাধ-শয়তানিতে যেসব মানুষ বড়, যারা বড় বড় আকাম কুকামগুলো অবলীলায় শয়তানের চেয়ে অধিক দক্ষতায় করে যেতে সক্ষম, শয়তান তাদের ধারেকাছে দিয়েও তো যায় না। যাবে কিভাবে? যাওয়ার সাহসই তো পায় না। শয়তান নিজেই তো তাদেরকে ওস্তাদ ভেবে নিরাপদ দূরে সরে দাঁড়ায়। দূর থেকে মাথা নত করে শুধু কুর্নিশ করে চলে যায়। তো, তিনি সাক্ষাৎ করতে গেলেন কার সাথে?
ইসলাম ধর্মের বিশ্বাস, নীতি ও আদর্শ বিরুদ্ধ তার অনেক আপত্তিকর লেখা তার বিভিন্ন পুস্তিকায় বিদ্যমান। তার বিতর্কিত বহু বক্তব্যের ভিডিও ইউটিউবসহ বিভিন্ন মিডিয়ায় রয়েছে। তিনি নিজেকে আমাদের প্রিয়নবী হযরত মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কণ্যা হযরত ফাতিমাতুজ্জাহরা রাদিআল্লাহু তাআ'লা আনহার স্বামী দাবি করেছেন। তার ভ্রান্ত আকিদা সম্মন্ধে ধারণা নেয়ার জন্য খুব বেশি আলোকপাত করার প্রয়োজন নেই। তার বিতর্কিত লেখা এবং প্রচার করা আকিদা বিষয়ক অল্প কিছু উক্তি রেফারেন্সসহ উল্লেখ করা হল।
তার লেখা এবং প্রচার করা আকিদা বিষয়ক বিতর্কিত কিছু উক্তিঃ
১। তিনি বলেন, “আমার অসংখ্য মুরিদান স্বপ্ন ও কাশফের মাধ্যমে আল্লাহর দীদার লাভ করেছে। আমার স্ত্রী হামিদা বেগম ও আমার কন্যা তাহমিনা এ খোদা স্বপ্নের মাধ্যমে আল্লাহকে দাড়ী গোফ বিহীন যুবকের ন্যায় দেখতে পায়।” –(সূত্র: আল্লাহ কোন পথে-২৩), নাউজুবিল্লাহ।
২। সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন “শুধু আমি নই, আমার স্ত্রী কন্যা সহ লক্ষ্য লক্ষ্য মুরিদানও আল্লাহকে দেখেছেন”–সূত্র: সাপ্তাহিক দেওয়ানবাগ, নাউজুবিল্লাহ।
৩। তিনি বলেন, “দেওয়ানবাগে আল্লাহ ও সমস্ত নবী রাসূল, ফেরেস্তারা মিছিল করে এবং আল্লাহ নিজে শ্লোগান দেন।”– সূত্র: সাপ্তাহিক দেওয়ানবাগ, মার্চ ১৯৯৯ ইং, নাউজুবিল্লাহ।
৪। “আমি এক ভিন্নধর্মের লোককে ওজীফা ও আমল বাতলে দিলাম। ক’দিন পর ঐ বিধর্মী স্বপ্নযোগে মদিনায় গেল। নবীজীর হাতে হাত মিলালো। নিজের সর্বাঙ্গে জিকির অনুভব করতে লাগলো। তারপর থেকে ওই বিধর্মী প্রত্যেক কাজেই অন্তরে আল্লাহর নির্দেশ পেয়ে থাকে।”– সূত্র: মানবেতর নির্দেশিকা: ২৩, সূফী ফাউন্ডেশন, ১৪৭ আরামবাগ, ঢাকা, নাউজুবিল্লাহ।
৫। “কোনো লোক যখন নফসীর মাকামে গিয়ে পৌঁছে, তখন তাঁর আর কোনো ইবাদাত লাগে না।” – সূত্র: দেওয়ানবাগী রচিত, আল্লাহ কোন পথে, পৃ- ৯০, নাউজুবিল্লাহ।
৬। “জিব্রাইল বলতে আর কেও নন, স্বয়ং আল্লাহ-ই জিব্রাইল।” –সূত্র: মাসিক আত্মার বাণী, ৫ম বর্ষ, ১ম সংখ্যা ২১, নাউজুবিল্লাহ।
৭। “সূর্যোদয় পর্যন্ত সাহরী খাওয়ার সময়। সুভে সাদেক অর্থ প্রভাতকাল। হুজুরেরা ঘুমানোর জন্য তারাতারি আযান দিয়ে দেয়। আপনি কিন্তু খাওয়া বন্ধ করবেন না। আযান দিয়েছে নামাজের জন্য। খাবার বন্ধের জন্য আযান দেয়া হয়না।” –সূত্র: মাসিক আত্মার বাণী, সংখ্যা: নভেম্বর- ৯৯, পৃ- ৯, নাউজুবিল্লাহ।
৮। “মানুষের জন্ম থেকে মৃত্যুপর্যন্ত হাঅয়তে জিন্দেগীকে পুলসিরা বলা হয়।” –সূত্র: দেওয়ানবাগী রচিত, আল্লাহ কোন পথে, তৃতীয় সংস্করন: ৬০, নাউজুবিল্লাহ।
৯। “আল্লাহ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার ফলে আত্মা এক বিচ্ছেদ যাতনা ভোগ করতে থাকে। প্রভূর পরিচয় নিজের মাঝে না পাওয়া অবস্থায় মৃত্যু হলে সে বেঈমান হয়ে কবরে যাবে। তখন তাঁর আত্মা এমন এক অবস্থায় আটকে পড়ে যে, পুনরায় আল্লাহর সাথে মিলনের পথ খুঁজে পায়না। আর তা আত্মার জন্য কঠিন যন্ত্রনাদায়ক। আত্মার এরূপ চিরস্থায়ী যন্ত্রনাদায়ক অবস্থাকেই জাহান্নাম বা দোযোখ বলা হয়।” –সূত্র: দেওয়ানবাগী রচিত, আল্লাহ কোন পথে ৪৪, নাউজুবিল্লাহ।
১০। তিনি নিজেকে ইমাম মাহদী দাবী করেন। অতঃপর দরুদে মাহদী রচনা করেন। দরুদে মাহদীঃ “আল্লাহুম্মা ছাল্লী আ’লা সাই ওয়ালা আ’লা ইমাম মাহদী রাহমাতাল্লিল আলামীন ওয়ালিহী ওয়াছাল্লীম।'' নাউজুবিল্লাহ।
১১। ”ময়লার স্তূপে অর্ধমৃত ও বিবস্ত্র অবস্থায় রাসুল (সাঃ) কে দেখেছি। দেওয়ানবাগী ১৯৮৯ সালে নাকি একটি ব্যতিক্রম দেখে ফেলেন। এ স্বপ্ন সম্পর্কে তিনি বলেন, “আমি দেখি ঢাকা ও ফরিদপুরের মধ্যবর্তী স্থান জুড়ে এক বিশাল বাগান ফুলে- ফলে সুশোভিত। ওই বাগানে আমি একা একা হেটে বা হঠাত বাগানের একস্থানে একটি ময়লার স্তূপ আমার চোখে পড়ে। আমি দেখতে পাই ওই ময়লার স্তূপে রাসুল (সাঃ) এর প্রানহীন দেহ মোবারক পড়ে আছে। তাঁর মাথা মোবারক দক্ষিন দিকে আর পা মোবারক উত্তর দিকে প্রসারিত। বাম পা মোবারক হাটুতে ভাজ হয়ে খারা অবস্থায় রয়েছে। আমি তাকে উদ্ধার করার জন্য পেরেশান হয়ে গেলাম। আমি এগিয়ে গিয়ে তাঁর বাম পায়ের হাটুতে আমার ডান হাত দ্বারা স্পর্শ করলাম। সাথে সাথেই তাঁর দেহ মোবারকে প্রাণ ফিরে এল। তিনি চোখ মেলে আমার দিকে তাকালেন। মূহুর্তের মধ্যেই রাসূল (সাঃ) সুন্দর পোশাকে সুসজ্জিত হয়ে গেলেন। তিনি উঠে বসে হাসি মুখে আমার দিকে তাকিয়ে বললেন, হে ধর্মপূনর্জীবন দানকারী! ইতিমধ্যেই আমার ধর্ম আরো পাঁচবার পুনর্জীবন লাভ করেছে। একথা বলে রাসূল (সাঃ) উঠে দাঁড়িয়ে হেটে হেটে সাথে চলে এলেন। এরপর আমার ঘুম ভেঙে গেল।” – সূত্র: দেওয়ানবাগীর স্বরচিত গ্রন্থ “রাসূল স. সত্যিই কি গরীব ছিলেন?” ১১-১২ প্রকাশকাল: জুন ১৯৯৯, নাউজুবিল্লাহ।
১২। “একদিন ফজরের পর মোরাকাবারত অবস্থায় আমার তন্দ্রা এসে যায়। আমি তখন নিজেকে লুঙ্গি-গেঞ্জি পরিহিত অবস্থায় রওজা শরীফের নিকট দেখতে পাই। দেখি রওজা শরীফের উপর শুকনা পাতা এবং আগাছা জমে প্রায় এক ফুট পুরুহয়ে আছে। আমি আরো ল্য করলাম, রওজা শরীফে শায়িত মহামানবের মাথা মোবারক পূর্ব দিকে এবং মুখমণ্ডল দণি দিকে ফিরানো। এ অবস্থা দেখে আমি আফসোস করতে লাগলাম। এমন সময় পাতার নীচ থেকে উঠে এসে এ মহামানব বসলেন। তার বুক পর্যন্ত পাতার উপর বের হয়ে পড়ে। তিনি আমার দিকে তাকিয়ে বললেন, আপনি দয়া করে আমার রওজা পরিষ্কার করে দেবেন না ? আমি বললাম, জী, দেব। তিনি বললেন, তাহলে দিন না। এভাবে বারবার তিনবার বলায় আমি এক একটা করেপাতা পরিষ্কার করে দেই। এরপর আমার তন্দ্রা ভেঙে যায়।”
সূত্র: রাসূল কি সত্যিই গরিব ছিলেন-দেওয়ানবাগ থেকে প্রকাশিত, নাউজুবিল্লাহ।
১৩। “দেওয়ানবাগী এবং তার মুরীদদের মাহফিলে স্বয়ং আল্লাহ্, সমস্ত নবী, রাসূল (সা), ফেরেস্তা, দেওয়ানবাগী ও তার মুর্শিদচন্দ্রপাড়ার মৃত আবুল ফজলসহ সমস্ত ওলি আওলিয়া, এক বিশাল ময়দানে সমবেত হয়ে সর্বসম্মতিক্রমে দেওয়ানবাগীকে মোহাম্মাদী ইসলামের প্রচারক নির্বাচিত করা হয়। অত:পর আল্লাহ সবাইকে নিয়ে এক মিছিল বের করে। মোহাম্মাদী ইসলামের চারটি পতাকা চারজনের_ যথাক্রমে আল্লাহ, রাসূল (সা), দেওয়ানবাগী এবং তার পীরের হাতে ছিল। আল্লাহ, দেওয়ানবাগী ও তার পীর প্রথম সারিতে ছিলেন। বাকিরা সবাই পিছনের সারিতে। আল্লাহ নিজেই স্লোগান দিয়েছিলেন_ ”মোহাম্মাদী ইসলামের আলো_ ঘরে ঘরে জ্বালো।” সূত্র: সাপ্তাহিক দেওয়ানবাগী পত্রিকা- ১২/০৩/৯৯, নাউজুবিল্লাহ।
১৪। দেওয়ানবাগীর নেমকভোগী এক চাটুকার (নাম: মাওলানা আহমাদুল্লাহ যুক্তিবাদী) বলেন, “আমি স্বপ্নে দেখলাম হযরত ইব্রাহীম (আ) নির্মিত মক্কার কাবা ঘর এবং স্বয়ং রাসূলুল্লাহ (সা) বাবে রহমতে হাজির হয়েছেন। আমাকে উদ্দেশ্য করে নবী করীম (সা) বলছেন_”তুমি যে ধারণা করছ যে, শাহ্ দেওয়ানবাগী হজ্জ করেননি আসলে এটা ভুল। আমি স্বয়ং আল্লাহর নবী মোহাম্মাদ (সা) তার সাথে আছি এবং সর্বদা থাকি। আর কাবা ঘরও তার সামনে উপস্থিত আছে। আমার মোহাম্মাদী ইসলাম শাহ দেওয়ানবাগী প্রচার করতেছেন।'' নাউজুবিল্লাহ।
১৫। মানুষের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত হায়াতে জিন্দেগী কে পুলসিরাত বলা হয়।” –সুত্রঃ আল্লাহ কোন পথে, তৃতীয় সংস্করনঃ ৬০, নাউজুবিল্লাহ।
মতিঝিল ও আরামবাগ এলাকায় জমি ও বাড়ি-ঘর দখলের লোমহর্ষক তথ্যঃ
“তথাকথিত ছুফী সম্রাট দেওয়ানবাগী পীর জাল দলিলের মাধ্যমে জোর পূর্বক কয়েক কোটি টাকার জমি দখল করে নিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন জমির প্রকৃত মালিক আব্দুল গফুর। গত কয়েক মাস আগে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি এই অভিযোগ করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন তার ছেলে মহিদুল ইসলাম, শহিদুল ইসলাম, শফিকুল ইসলাম প্রমুখ।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ১৯৮৫ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকের পিছনে ১৪২/১ দক্ষিণ কমলাপুরে ৮০ শতাংশ ভূমি তিনি ক্রয় করেন। জমিটি ক্রয়ের পর থেকেই তথাকথিত পীর দেওয়ানবাগী তার সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে দখলের পাঁয়তারা করে আসছিল। ভন্ডপীর দেওয়ানবাগীর সন্ত্রাসী বাহিনী গত ২০০২ সালে রাতের অন্ধকারে বাড়ির ভাড়াটিয়াদের জোর পূর্বক বের করে দিয়ে জমিটি দখল করে নেয়। ভূমি অফিসের কিছু অসাধু অফিসারের সাথে অবৈধ লেনদেন করে তিনি কাগজপত্র তৈরি করেন। জমি দখলের বিরুদ্ধে জজ কোর্টে মামলা করলে কোর্ট গত ২০০৩ সালে স্থগিতাদেশ প্রদান করেন। উল্লেখ্য যে, দেয়ানবাগী ও তার সন্ত্রাসীচক্র উক্ত বাড়িতে বর্তমানে উটের খামার করে। এখন নিয়মিত শতাধিক সন্ত্রাসী সেখানে অবস্থান করে। তার সন্ত্রাসী বাহিনী মামলা উঠিয়ে নেয়ার জন্য নিয়মিত মোবাইলে হুমকি দিয়ে আসছে। এ ব্যাপারে মতিঝিল থানায় একাধিক জিডি করা হয়েছে।
তিনি আরো অভিযোগ করে বলেন, উক্ত জমির উপর আদালতের স্থগিতাদেশ থাকার পরেও গত ১৪ সেপ্টেম্বর তার স্ত্রীকে সমাধিস্থ করা হয়। তার পালিত সন্ত্রাসীদের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না। তিনি মতিঝিল ও আরামবাগ এলাকায় একাধিক বাড়ি দখল করে নিয়েছেন। তাই জমি ফেরত পেতে জমির প্রকৃত মালিক আব্দুল গফুর প্রশাসনের সহায়তা কামনা করেন।” -দৈনিক সংগ্রাম
দেওয়ানবাগী সম্পর্কে বাংলাদেশের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় পরিচালিত ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রদত্ত ফতোয়াঃ
১৯৯১ সালের ৫ সেপ্টেম্বর দেওয়ানবাগী পীরের বিতর্কিত বক্তব্য ও কর্মকান্ড নিয়ে একটি ফতোয়া জারি করা হয়েছিল ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ এর পক্ষ থেকে। সেই ফতোয়াটি নিম্নরূপ-
ক. দেওয়ানবাগের পীর নিতান্তই গোমরাহ ও পথভ্রষ্ট।
খ. ধর্মীয় দীক্ষা গ্রহন করা তো দূরের কথা, এর সাহায্য সহযোগিতা করা, সান্নিধ্যে উঠা-বসা বরং তাঁর সাথে কোন রকম সংশ্রব রাখা হারাম।
গ. আর তাঁর অপপ্রচার প্রতিহত করা প্রত্যেক মুসলমানের কর্তব্য। (১৭৬৭ ইসঃফাঃ সং ও দাওয়াহ/৩/৮৭/৫১২২ তাং ৫/৯/৯১ ইং। )
যাই হোক, এত অপকর্মের পরেও প্রায় বিনা বাধায় তিনি তাঁর কাজ চালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছেন। বরং সরকারের পক্ষ থেকে বড় ধরণের কোন রকম বাধার সম্মুখীন না হওয়ায় দিন দিন তাঁর পেশিশক্তি ক্রমবর্ধমান ভাবে বৃদ্ধি পেয়েই এসেছে। অসংখ্য মানুষকে তিনি গোমরাহ এবং পথভ্রষ্ট করতে সক্ষম হয়েছেন। অনেকের বাড়ি-ঘর, জমিজমা ইত্যাদি হাতিয়ে নিয়েছেন কিংবা জবরদখল করেছেন বিভিন্ন কৌশলে।
দেওয়ানবাগীর অপকর্ম প্রতিরোধে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছিলেন কিছু মানুষঃ
দেওয়ানবাগীর অপকর্ম এবং ইসলামের মৌলিক বিশ্বাস পরিপন্থি কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম ১৯৯৯ সালের শেষের দিকে প্রতিবাদ জানায় ঈমান আকিদা সংরক্ষণ কমিটি নামের একটি সংগঠন। সে সময় তাদের সাথে দেওয়ানবাগী সমর্থকদের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছিল। সেই সংঘর্ষে কয়েকজনের প্রাণহানীও ঘটেছিল। সে সময় পুলিশ দেওয়ানবাগীর আস্তানায় হানা দিয়ে ব্যাপক গোলাবারুদ, হাত বোমা, বন্দুক, গুলি, রামদা, কিরিচ, চাকু, বল্লম, চাপাতি ইত্যাদি উদ্ধার করেছিল এবং তার ৪৩ জন ক্যাডারকে গ্রেফতার করেছিল।
সকল মুসলমানের ঈমানী দায়িত্ব এ সকল ফেৎনা থেকে নিজে বেঁচে থাকা এবং এসব ধোকাবাজি থেকে সকলকে সজাগ ও সতর্ক করা।
প্রতিবেদন তৈরিতে তথ্য এবং সহায়তা নেয়া হয়েছে যেসব সূত্র থেকেঃ
১। দেওয়ানবাগী পীর হিসাবে পরিচিত সৈয়দ মাহবুবের উত্থান যেভাবে
২। পীর সাহেব দেওয়ানবাগ : সুফী সম্রাট নাকি শয়তান সম্রাট ??
৩। http://www.manobotar-kotha.com/2018/
৪। Click This Link
৫। দেওয়ানবাগী হুজুর সম্পর্কে চাঞ্চল্যকর কিছু তথ্য !! কি শুনতেছি এই ভিডিওতে !!! #সত্যান্বেষন- পর্বঃ১
৬। ভন্ড দেওয়ানবাগী পীরের হাক্বীকত উন্মোচন
৭। দেওয়ানবাগীর ‘বিতর্কিত’ বক্তব্য প্রতিরোধের উপায় খুঁজছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন!
৮। যেভাবে উত্থান দেওয়ানবাগী পীরের
৯। view this link
পোস্ট আপডেট বিষয়ক তথ্যাবলীঃ
পোস্টটি প্রথমতঃ দেয়া হয়েছিল কোনো প্রকারের রেফারেন্স ছাড়া এবং খুবই সংক্ষিপ্তাকারে। বস্তুতঃ তার বিতর্কিত আকিদা বিশ্বাস, ভয়াবহ শিরক বিদআত এবং ইসলাম ধর্মের মৌলিক বিশ্বাস পরিপন্থি তীব্র আপত্তিকর অসংখ্য কর্মকান্ড সম্মন্ধে যারা জ্ঞাত নন, তারা স্বভাবতঃই বিষয়টিকে ভিন্নভাবে নিতে পারেন কিংবা সার্বিক বিষয়টি তাদের কাছে নিছক ব্যক্তি বিশেষের প্রতি অন্যায় অভিযোগের কারণ মনে হতে পারে। এ কারণে সম্মানিত প্রিয় পাঠকের জানার সুবিধা বিবেচনায় রেখে পোস্ট এডিট পূর্বক পোস্টের যৌক্তিকতা প্রমানে প্রয়োজনীয় কিছু তথ্য উপযুক্ত রেফারেন্সসহ যুক্ত করে দেয়া হল।
দীর্ঘ সময় নিয়ে পোস্ট পাঠে অশেষ কৃতজ্ঞতা। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আমাদেরকে সকল প্রকারের শিরক, বিদআত এবং বাতিল মতবাদের আগ্রাসনের হাত থেকে রক্ষা করুন। নির্ভেজাল তাওহিদের ঝান্ডাতলে সমবেত হয়ে একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যকে আমাদের চলার পথের উদ্দেশ্য এবং পাথেয় হিসেবে কবুল করুন। তাওফিকদাতা কেবলমাত্র তিনিই।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

