somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

নতুন নকিব
নিজেকে লেখক বলে পরিচয় দিতে সংকোচ হয়; লেখালেখি ইবাদতসদৃশ সাধনা বলেই লিখি। নিজেকে জানা, বিশ্বকে অনুধাবন করা এবং সর্বোপরি মহান স্রষ্টার পরিচয় অন্বেষণই আমার নীরব যাত্রার পাথেয়। দূরে সরিয়ে দেওয়া নয়-সৃষ্টিকূলকে ভালোবাসায় আগলে রাখার শিক্ষাই ইসলামের মূল বাণী।

নিজেকে এবং অন্যকে গীবত থেকে বাঁচানোর কৌশল

০৫ ই আগস্ট, ২০২৫ দুপুর ১:৩৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
নিজেকে এবং অন্যকে গীবত থেকে বাঁচানোর কৌশল

ছবি অন্তর্জাল থেকে সংগৃহিত।

ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা। এ জীবনব্যবস্থায় ব্যক্তি যেমন নিজের আত্মার পরিশুদ্ধির দিকে মনোযোগ দেয়, তেমনি সমাজের কল্যাণেও ভূমিকা রাখে। ইসলামে গীবত বা পরনিন্দা এমন একটি ঘৃণিত গুনাহ, যার কারণে ব্যক্তিগত আমল ধ্বংস হয়ে যেতে পারে এবং সামাজিক সম্পর্কগুলো বিষিয়ে উঠতে পারে।

আল্লাহ তায়ালা কুরআনে স্পষ্টভাবে গীবতকে হারাম ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেন—

"يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اجْتَنِبُوا كَثِيرًا مِّنَ الظَّنِّ إِنَّ بَعْضَ الظَّنِّ إِثْمٌ ۖ وَلَا تَجَسَّسُوا وَلَا يَغْتَب بَّعْضُكُم بَعْضًا ۚ
أَيُحِبُّ أَحَدُكُمْ أَن يَأْكُلَ لَحْمَ أَخِيهِ مَيْتًا فَكَرِهْتُمُوهُ ۚ وَاتَّقُوا اللَّهَ ۚ إِنَّ اللَّهَ تَوَّابٌ رَّحِيمٌ"

অর্থ: "হে ঈমানদারগণ! তোমরা অধিক সন্দান থেকে দূরে থাকো, কিছু কিছু সন্দেহ পাপ। এবং গুপ্তচরবৃত্তি করো না এবং তোমরা একে অপরের গীবত করো না। তোমাদের কেউ কি পছন্দ করে যে, সে তার মৃত ভাইয়ের মাংস খাবে? নিশ্চয়ই তোমরা তা ঘৃণা করো। সুতরাং আল্লাহকে ভয় করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাওবা কবুলকারী, পরম দয়ালু।" -সূরা হুজুরাত: ১২

এই আয়াতে গীবতকে মৃত ভাইয়ের গোশত খাওয়ার মতো ভয়ংকর ও জঘন্য অপরাধ বলে চিত্রিত করা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ ﷺ গীবতের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেন—

"الْغِيبَةُ: ذِكْرُكَ أَخَاكَ بِمَا يَكْرَهُ."

"তোমার ভাই সম্পর্কে এমন কিছু বলা যা সে অপছন্দ করে— সেটাই গীবত।" -মুসলিম, হাদীস: ২৫৮৯

তাহলে, গীবত এমন একটি গুনাহ, যা সমাজে হিংসা, বিদ্বেষ, অবিশ্বাস ও বিবাদ সৃষ্টি করে। একজন মু’মিনকে চাই, সে যেন নিজেকে গীবত থেকে দূরে রাখে এবং অন্যকেও এই মারাত্মক গোনাহ থেকে বাঁচায়।

কিন্তু প্রশ্ন হলো— আমি কীভাবে নিজেকে গীবত থেকে রক্ষা করব এবং অন্যকেও এই পাপ কাজ থেকে বিরত রাখব, বিশেষত যখন কেউ আমার সামনে গীবত শুরু করে?

এর উত্তম কৌশল হলো— কৌশলে, সদ্ব্যবহারে তাকে গীবত থেকে বিরত রাখা। যেমন ধরুন, কেউ যখন আপনার সামনে গীবত করছে, তখন আপনি তাকে সরাসরি থামাতে গেলে সে লজ্জা পেতে পারে বা প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে। তাই আপনি সহজ ও হিকমতপূর্ণভাবে যদি বলেন:

"ভাই, আমি নিয়ত করেছি, আমি কারো গীবত করব না। দয়া করে আপনি আমার জন্য দুআ করবেন— যেন আমি এই অভ্যাস থেকে বাঁচতে পারি। আমি চেষ্টা করছি নিজেকে সংশোধন করার, আপনি আমার পাশে থাকুন। যদি আমার মুখ দিয়ে কখনো গীবতের মতো কিছু বের হয়, তাহলে আমাকে সতর্ক করবেন।"

এইভাবে আপনি নিজেকে অসম্মানিত না করে, অপরকেও অপমান না করে তাকে বুঝিয়ে দিলেন যে, গীবত করা ঠিক নয়। এতে সে আপনাকে গীবত করতে উৎসাহিত তো করবেই না, বরং নিজেও লজ্জা পাবে এবং আশা করা যায়, সে যে গীবত করছিল তার সেই কাজটি অবশ্যই থেমে যাবে ইনশাআল্লাহ।

এটি নবীজি ﷺ-র হাদীসের আলোকে একান্ত গুরুত্বপূর্ণ হিকমত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন—

"مَنْ رَدَّ عَنْ عِرْضِ أَخِيهِ، رَدَّ اللَّهُ عَنْ وَجْهِهِ النَّارَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ"

"যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের মান-সম্মান রক্ষা করে, আল্লাহ কিয়ামতের দিন তার মুখকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করবেন।" -তিরমিযি, হাদীস: ১৯৩১

অতএব, গীবত থেকে নিজেকে রক্ষা করা যেমন জরুরি, তেমনি অন্যকে এই গোনাহে লিপ্ত হওয়া থেকে ফিরিয়ে আনার দায়িত্বও একটি ঈমানী কর্তব্য। হিকমত ও কৌশলের সাথে, সম্মান বজায় রেখে— আপনি নিজেও নিরাপদ থাকুন, সমাজকেও নিরাপদ রাখুন।

আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে গীবতের ভয়াবহতা উপলব্ধি করে, তা থেকে বেঁচে থাকার তাওফিক দিন এবং অন্যকে রক্ষা করার ঈমানি শক্তি দিন। আল্লাহুম্মা আমীন।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই আগস্ট, ২০২৫ দুপুর ২:০১
২টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনঃ কেন আমি বিএনপিকে ভোট দিবো?

লিখেছেন ভুয়া মফিজ, ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:২৯



আসছে ১২ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ এ ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সরকারপক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই নির্বাচন হবে বিতর্কমুক্ত এবং উৎসবমুখর পরিবেশে। আমার অবশ্য এই দুই ব্যপারেই দ্বিমত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আওয়ামিলীগ আবার মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:১৫



চাঁদগাজী বলেছিলেন,
"যেসব মানুষের ভাবনায় লজিক ও এনালাইটিক্যাল জ্ঞান না থাকে, তারা চারিপাশের বিশ্বকে সঠিকভাবে বুঝতে পারে না, কোন বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। সমাজে তাদের অবদান... ...বাকিটুকু পড়ুন

‘বাঙালি মুসলমানের মন’ - আবারও পড়লাম!

লিখেছেন জাহিদ অনিক, ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩



আহমদ ছফা'র ‘বাঙালি মুসলমানের মন’ বইটা আরাম করে পড়ার মতো না। এটা এমন এক আয়না, যেটা সামনে ধরলে মুখ সুন্দর দেখাবে- এমন আশা নিয়ে গেলে হতাশ হবেন। ছফা এখানে প্রশংসা... ...বাকিটুকু পড়ুন

নারায়ণগঞ্জ ডায়েরি: রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও মানুষের অস্তিত্বের লড়াই

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১:৪৪


২০২৩ সালের নভেম্বর। ঢাকার কোলাহল পেছনে ফেলে আমরা যখন নারায়ণগঞ্জে পা রাখলাম, আমাদের চোখে তখন স্থায়ী ঠিকানার স্বপ্ন। ঢাকায় জমি দখল হয়ে গেছে, ফেনীর জমি জোর করে কেড়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কলেজ ও ভার্সিটির তরুণরা কেন ধর্মের দিকে ঝুঁকছে? করনীয় পথ নকশাটাই বা কী?

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৩৬


ধর্মের দিকে ঝোঁকার মানচিত্র

অচেনা পথে হাঁটে আজ তরুণের দল
পরিচয়ের কুয়াশায় ঢেকে গেছে কাল
শিক্ষা, কর্ম, সম্পর্ক সবই আজ প্রশ্নবিদ্ধ
কোথায় জীবনের মানে মন দ্বিধাবদ্ধ।

এই দোলাচলে ধর্ম দেয় দৃঢ় পরিচয়
উদ্দেশ্য, শৃঙ্খলা,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×