প্রচলিত বিচার নয়, দীপু চন্দ্র দাসের খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই
দীপু চন্দ্র দাসকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তারপর প্রকাশ্যে গাছে ঝুলিয়ে তার শরীরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এমন ভয়ংকর বর্বরতা দেখে হৃদয় কেঁপে ওঠে। কোন সমাজে আমরা বাস করছি, যেখানে এভাবে মানুষের জীবন এত সহজে কেড়ে নেওয়া যায়? একজন হৃদয়বান ও প্রজ্ঞাসম্পন্ন মানুষ অন্য মানুষকে খুন করা তো দূরের কথা, অকারণে একটা পিঁপড়া মারতেও দ্বিধা করেন। অথচ এখানে ধর্মের নামে/ মব সৃষ্টি করে নির্দ্বিধায় মানুষ হত্যা করা হচ্ছে। ভাবতেই গা শিউরে ওঠে। হায়রে মানবতা, আমরা কী দেখছি!
ইসলাম কখনোই যাচাই ছাড়া ব্যক্তিগত বা দলগতভাবে কাউকে হত্যার অনুমতি দেয় না। এ ধরনের বর্বরতা সম্পূর্ণ হারাম এবং মারাত্মক অপরাধ। কুরআনুল কারিমে স্পষ্টভাবে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, কোনো অভিযোগ শুনেই তা বিশ্বাস করা যাবে না; প্রথমে যাচাই করতে হবে। অযাচিতভাবে কাউকে ক্ষতি করলে নিজেই জালিম হয়ে যাবে (সূরা আল-হুজুরাত: ৬)। আরও বলা হয়েছে, অন্যায়ভাবে একজন মানুষকে হত্যা করা যেন সমগ্র মানবজাতিকে হত্যা করা (সূরা আল-মায়িদাহ: ৩২)।
আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ ﷺ -এর জীবনের দিকে তাকালে দেখা যায়, তাঁকে প্রকাশ্যে গালি দেওয়া হয়েছে, অপমান করা হয়েছে, পাথর নিক্ষেপ করা হয়েছে; তবুও তিনি কখনো আবেগের বশে বা ব্যক্তিগতভাবে কাউকে হত্যা করার অনুমতি দেননি। তিনি বিচার ও শাস্তিকে সবসময় প্রমাণ ও ন্যায়ের সঙ্গে যুক্ত রেখেছেন। প্রমাণ ছাড়া মানুষকে শাস্তি দেওয়া হলে সমাজে রক্তপাত ও বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়বে- এ কথা তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন।
বিশেষভাবে, অমুসলিম বা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতি ন্যায়বিচারের প্রসঙ্গে একটি প্রসিদ্ধ হাদিসে রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: “যে ব্যক্তি কোনো জিম্মি (চুক্তিবদ্ধ অমুসলিম নাগরিক) কে অত্যাচার করে বা ক্ষতি করে, আমি কিয়ামতের দিন তার বিরুদ্ধে তার প্রতিপক্ষ হব।” (আবু দাউদ ও অন্যান্য সূত্রে বর্ণিত বিভিন্ন রূপে)। এই হাদিস থেকে স্পষ্ট যে, সংখ্যালঘু বা অমুসলিম নিরপরাধ ব্যক্তির উপর অত্যাচার করলে নবী ﷺ নিজে কিয়ামতের দিন নির্যাতিতের পক্ষে দাঁড়াবেন।
কোনো অভিযোগ সত্য হলেও শাস্তি দেওয়ার অধিকার ব্যক্তি বা জনতার নয়; এটি রাষ্ট্র ও আদালতের দায়িত্ব। গণপিটুনি, ধর্মের নামে হত্যা বা মব জাস্টিস সবই ইসলামে হারাম, মহাপাপ এবং ফিতনা সৃষ্টির সমতুল্য। সুতরাং যাচাই ছাড়া হত্যা তো দূরের কথা, সত্য অভিযোগ থাকলেও আইনি বিচার ছাড়া কাউকে শাস্তি দেওয়া ইসলাম সমর্থন করে না। এ ধরনের কাজকে ইসলামের নামে বৈধ বলা শুধু ইসলামের শিক্ষাকে বিকৃত করা নয়, বরং ইসলাম ধর্মেরই ক্ষতিসাধনের নামান্তর।
দীপু চন্দ্র দাসের খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। এই জঘন্যতম ঘটনায় যুক্ত অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক এমন শাস্তি দিতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এই ধরণের দুষ্কর্মের দুঃসাহস দেখাতে না পারে। আমরা চাই, এই সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হোক। ধর্ম কিংবা বর্ণের পরিচয়ে নয়, মানবতার স্থান হোক সবার উপরে।
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে ডিসেম্বর, ২০২৫ বিকাল ৫:১১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




