somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

নতুন নকিব
নিজেকে লেখক বলে পরিচয় দিতে সংকোচ হয়; লেখালেখি ইবাদতসদৃশ সাধনা বলেই লিখি। নিজেকে জানা, বিশ্বকে অনুধাবন করা এবং সর্বোপরি মহান স্রষ্টার পরিচয় অন্বেষণই আমার নীরব যাত্রার পাথেয়। দূরে সরিয়ে দেওয়া নয়-সৃষ্টিকূলকে ভালোবাসায় আগলে রাখার শিক্ষাই ইসলামের মূল বাণী।

তায়াম্মুম: ইসলামী শরীয়তের সহজীকরণ নীতি ও বাস্তব প্রয়োগ

১৭ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
তায়াম্মুম: ইসলামী শরীয়তের সহজীকরণ নীতি ও বাস্তব প্রয়োগ

ছবি সংগৃহীত।

ভূমিকা

ইসলাম একটি বাস্তবমুখী, মানবকল্যাণমুখী এবং সহজীকরণভিত্তিক জীবনব্যবস্থা। এর ইবাদতের ক্ষেত্রে আল্লাহ তাআলা বান্দার ওপর কখনোই তার সাধ্যের বাইরে কোনো দায়িত্ব আরোপ করেননি। এই নীতির স্পষ্ট প্রতিফলন দেখা যায় তায়াম্মুমের বিধানে। পানি দ্বারা পবিত্রতা অর্জন ইসলামের মূলনীতি হলেও, বিশেষ পরিস্থিতিতে পানি ব্যবহার অসম্ভব বা ক্ষতিকর হলে আল্লাহ তাআলা বিকল্প হিসেবে তায়াম্মুমের অনুমতি প্রদান করেছেন।

তায়াম্মুম কী

শরীয়তের পরিভাষায় তায়াম্মুম বলতে বোঝায়, পানি ব্যবহারে অক্ষমতার ক্ষেত্রে পবিত্র মাটি বা মাটিজাতীয় বস্তু দ্বারা নিয়তসহ নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে মুখমন্ডল ও কনুইসমেত উভয় হাত মাসেহ করে হাদাস দূর করা। আরবি শব্দ تيمم অর্থ ইচ্ছা করা বা উদ্দেশ্য করা, যা বান্দার আল্লাহর আদেশ পালনের নিয়তকে নির্দেশ করে।

কুরআনে তায়াম্মুমের বিধান

তায়াম্মুম কোনো মানুষের উদ্ভাবিত বিধান নয়, বরং কুরআন ও হাদিস দ্বারা প্রমাণিত একটি ইবাদত। এটি ইসলামী ফিকহে একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা, যা শরীয়তের সহজীকরণ নীতির বাস্তব উদাহরণ। কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন: "يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا قُمْتُمْ إِلَى الصَّلَاةِ فَاغْسِلُوا وُجُوهَكُمْ وَأَيْدِيَكُمْ إِلَى الْمَرَافِقِ... فَلَمْ تَجِدُوا مَاءً فَتَيَمَّمُوا صَعِيدًا طَيِّبًا فَامْسَحُوا بِوُجُوهِكُمْ وَأَيْدِيكُمْ" অর্থাৎ, "হে ঈমানদারগণ, তোমরা যখন নামাজের জন্য দাঁড়াও তখন তোমাদের মুখমণ্ডল ও কনুই পর্যন্ত হাত ধৌত করো... অতঃপর যদি তোমরা পানি না পাও, তবে পবিত্র মাটি দ্বারা তায়াম্মুম করো এবং তা দিয়ে তোমাদের মুখ ও হাত মাসেহ করো"। -সূরা আল-মায়িদা, আয়াত ৬

আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: وَإِن كُنتُم مَّرْضَىٰ أَوْ عَلَىٰ سَفَرٍ... فَلَمْ تَجِدُوا مَاءً فَتَيَمَّمُوا صَعِيدًا طَيِّبًا অর্থাৎ, "যদি তোমরা অসুস্থ হও অথবা সফরে থাকো এবং পানি না পাও, তবে পবিত্র মাটি দ্বারা তায়াম্মুম করো"। -সূরা আন-নিসা, আয়াত ৪৩

হাদিসে তায়াম্মুমের গুরুত্ব

হাদিসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তায়াম্মুমকে উম্মতের জন্য আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: "جُعِلَتْ لَنَا الْأَرْضُ مَسْجِدًا وَطَهُورًا" অর্থাৎ, "আমাদের জন্য পুরো জমিনকে মসজিদ ও পবিত্রতা অর্জনের মাধ্যম বানানো হয়েছে।" আরেক হাদিসে এসেছে: الصَّعِيدُ الطَّيِّبُ طَهُورُ الْمُسْلِمِ وَإِنْ لَمْ يَجِدِ الْمَاءَ عَشْرَ سِنِينَ অর্থাৎ, "পবিত্র মাটি মুসলমানের জন্য পবিত্রতা অর্জনের মাধ্যম, যদিও সে দশ বছর পানি না পায়"। -সুনান আবু দাউদ, হাদিস ৩৩২; সহিহ

তায়াম্মুম কেন অনুমোদিত হলো

এই বিধান ইসলামের মৌলিক নীতি "يُرِيدُ اللَّهُ بِكُمُ الْيُسْرَ وَلَا يُرِيدُ بِكُمُ الْعُسْرَ" অর্থাৎ, "আল্লাহ তোমাদের জন্য সহজতা চান, কঠোরতা চান না", -এর প্রতিফলন। এই নিবন্ধে তায়াম্মুমের শর্ত, পদ্ধতি, ভঙ্গের কারণ, মাযহাবভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি, প্রচলিত ভ্রান্ত ধারণা এবং বাস্তব প্রয়োগ বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে, যা কুরআন, হাদিস এবং ফিকহি গবেষণার উপর ভিত্তি করে।

তায়াম্মুমের শর্ত এবং বৈধতা

ইসলামী শরীয়তে পানি দ্বারা পবিত্রতা অর্জন মূলনীতি, এবং তায়াম্মুম তার সাময়িক ও শর্তসাপেক্ষ বিকল্প। তায়াম্মুমের বৈধতা সম্পূর্ণভাবে পরিস্থিতিনির্ভর। কুরআনের আয়াত "فَلَمْ تَجِدُوا مَاءً فَتَيَمَّمُوا صَعِيدًا طَيِّبًا" অর্থাৎ, "যদি তোমরা পানি না পাও, তবে পবিত্র মাটি দ্বারা তায়াম্মুম করো" -এর মূল বক্তব্য হলো পানি অনুপস্থিত বা অপ্রাপ্য হলে তায়াম্মুম অনুমোদিত। ফিকহবিদগণের মতে, পানি না পাওয়া অর্থ বাস্তব অনুসন্ধানের পরও পানি না পাওয়া।

তায়াম্মুমের বৈধ অবস্থাগুলো নিম্নরূপ:

সাধারণতঃ নিচের অবস্থাগুলোতে তায়াম্মুম বৈধ-

১। পানি সম্পূর্ণ অনুপস্থিত: যেমন মরুভূমি, দুর্গম এলাকা, যুদ্ধক্ষেত্র বা দুর্যোগপূর্ণ অঞ্চলে। হাদিসে বলা হয়েছে: "فَإِذَا لَمْ يَجِدِ الْمَاءَ فَلْيَتَيَمَّمْ" অর্থাৎ, "যদি সে পানি না পায়, তবে সে তায়াম্মুম করবে"।

২। পানি থাকলেও ব্যবহার ক্ষতিকর: অসুস্থতার ক্ষেত্রে, যদি পানি ব্যবহারে রোগ বৃদ্ধির আশঙ্কা থাকে। কুরআনে বলা হয়েছে: "وَإِن كُنتُم مَّرْضَىٰ ... فَتَيَمَّمُوا" অর্থাৎ, "যদি তোমরা অসুস্থ হও, তবে তায়াম্মুম করো"। এখানে রোগীর নিজের অভিজ্ঞতা বা বিশ্বস্ত মুসলিম চিকিৎসকের মতামত গ্রহণযোগ্য।

৩। জীবন রক্ষার জন্য পানি সংরক্ষণ জরুরি: অল্প পানি থাকলে এবং তা পান করার জন্য প্রয়োজন হলে, যেমন মরুভূমিতে সফরে। এটি কুরআনের নীতি "وَلَا تَقْتُلُوا أَنفُسَكُمْ" অর্থাৎ, "তোমরা নিজেদেরকে ধ্বংসের মধ্যে নিক্ষেপ করো না" -এর অন্তর্ভুক্ত।

৪। মারাত্মক শীতজনিত ক্ষতির আশঙ্কা: প্রচণ্ড ঠান্ডায় পানি ব্যবহারে মৃত্যু বা পক্ষাঘাতের আশঙ্কা থাকলে এবং গরম পানির ব্যবস্থা না থাকলে। এক হাদিসে এক সাহাবির ঠান্ডায় তায়াম্মুমের ঘটনা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অনুমোদন করেছেন।

৫। পানি সংগ্রহে গুরুতর ঝুঁকি: শত্রুর ভয়, জান-মালের ক্ষতি বা প্রাকৃতিক বিপদের আশঙ্কায়। এগুলো শরীয়তের কষ্ট দূরীকরণের নীতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

অকারণে বা অলসতায় তায়াম্মুম করা শরীয়তের সীমা লঙ্ঘন। মনে রাখতে হবে, এটি আল্লাহর রহমত। আল্লাহ তাআ'লা দয়া করে আমাদের জন্য একটি বিধানকে সহজ করে দিয়েছেন। ইহাকে অপব্যবহারের হাতিয়ার বানানোর জন্য নয়।

তায়াম্মুমের ফরজসমূহ এবং সঠিক পদ্ধতি

তায়াম্মুম একটি পূর্ণাঙ্গ ইবাদত, যার নির্দিষ্ট ফরজ এবং সুন্নত পদ্ধতি রয়েছে। হানাফি ফিকহ অনুযায়ী তায়াম্মুমের ফরজ তিনটি:

১। নিয়ত করা: নিয়ত অপরিহার্য, যা অন্তরে হবে এবং মুখে বলা সুন্নত। নিয়ত হবে পবিত্রতা অর্জনের জন্য। হাদিসে বলা হয়েছে: "إِنَّمَا الْأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ" অর্থাৎ, "সকল কাজ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল"।

২। মুখমণ্ডল মাসেহ করা: সম্পূর্ণ মুখমণ্ডল (চুলের গোড়া থেকে থুতনি এবং কানের লতি থেকে লতি পর্যন্ত) মাসেহ করা ফরজ। কুরআনে বলা হয়েছে: "فَامْسَحُوا بِوُجُوهِكُمْ" অর্থাৎ, "অতঃপর তোমাদের মুখমণ্ডল মাসেহ করো"।

৩। উভয় হাত কনুইসহ মাসেহ করা: আঙুল থেকে কনুই পর্যন্ত। কুরআনে বলা হয়েছে: "وَأَيْدِيكُمْ" অর্থাৎ, "এবং তোমাদের হাতসমূহ"।

তায়াম্মুমের সঠিক পদ্ধতি:

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নতসম্মত পদ্ধতি হচ্ছে, তায়াম্মুম করতে কিবলামুখী হয়ে নিয়ত করা। পবিত্র মাটিতে দুই হাত লাগানো। অতিরিক্ত ধুলো ঝেড়ে ফেলা। সম্পূর্ণ মুখমণ্ডল মাসেহ করা। পুনরায় মাটিতে হাত লাগানো। উভয় হাত কনুইসহ মাসেহ করা। লক্ষ্য রাখতে হবে, যাতে মুখমন্ডল ও হাতের কোন অংশ মাসেহর বাইরে থেকে না যায়।

হাদিসে বলা হয়েছে: "التَّيَمُّمُ ضَرْبَتَانِ ضَرْبَةٌ لِلْوَجْهِ وَضَرْبَةٌ لِلْيَدَيْنِ" অর্থাৎ, "তায়াম্মুম হলো দুইবার হাত লাগানো। একবার মুখের জন্য এবং একবার হাতের জন্য"।

তায়াম্মুমে ব্যবহৃত বস্তু

যেসব বস্তু দ্বারা তায়াম্মুম সহিহ সেগুলো হচ্ছে, মাটির প্রকৃতিজাত ও পবিত্র, যেমন: মাটি, বালি, পাথর, ইট, চুন ও সিমেন্ট যদি ধুলোযুক্ত হয়। হাদিসে এসেছে: جُعِلَتْ لِيَ الْأَرْضُ مَسْجِدًا وَطَهُورًا অর্থাৎ, "আমার জন্য জমিনকে মসজিদ ও পবিত্রতা অর্জনের মাধ্যম করা হয়েছে। -সহিহ মুসলিম, হাদিস ৫২১

যেসব বস্তু দ্বারা তায়াম্মুম সহিহ নয়

কাঠ, লোহা, কাচ, প্লাস্টিক ও ছাই দ্বারা তায়াম্মুম সহিহ নয়। কারণ এগুলো মাটিজাত নয়।

তায়াম্মুম ভঙ্গের কারণ, করণীয় এবং মাযহাবভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি

যেসব কারণে ওজু ভঙ্গ হয় (যেমন পেশাব-পায়খানা, বায়ু নির্গত, গভীর ঘুম, অচেতনতা বা জানাবাত), সেগুলোতেই তায়াম্মুম ভঙ্গ হয়। পানি পাওয়া গেলে এবং ব্যবহার সম্ভব হলে তায়াম্মুম তৎক্ষণাৎ বাতিল হয়। হাদিসে বলা হয়েছে: "فَإِذَا وَجَدَ الْمَاءَ فَلْيَمَسَّهُ بَشَرَتَهُ" অর্থাৎ, "যখন সে পানি পাবে, তখন তা দিয়ে নিজের শরীর ধৌত করবে"। নামাজ চলাকালীন পানি পেলে হানাফি মতে নামাজ ভেঙে পুনরায় ওজু করে আদায় করতে হবে।

এক তায়াম্মুমে একাধিক নামাজের বিষয়ে মাযহাবভিত্তিক পার্থক্য:

হানাফি মাযহাব: এক ফরজ নামাজে এক তায়াম্মুম; নামাজের সময় পানি পেলে নামাজ বাতিল।
মালিকি মাযহাব: পানি পাওয়ার দৃঢ় আশঙ্কা না থাকলে এক তায়াম্মুম যথেষ্ট।
শাফেয়ি মাযহাব: সময় প্রবেশের পর তায়াম্মুম শর্ত; একাধিক নামাজে বৈধ।
হাম্বলি মাযহাব: ওজুর মতোই কার্যকর যতক্ষণ না ভঙ্গ হয়।

তায়াম্মুম অলসতার বিকল্প নয়, কারণ কুরআনে বলা হয়েছে: "وَمَا جَعَلَ عَلَيْكُمْ فِي الدِّينِ مِنْ حَرَجٍ" অর্থাৎ, "তিনি তোমাদের ওপর দ্বীনের মধ্যে কোনো কষ্ট আরোপ করেননি"।

প্রচলিত ভ্রান্ত ধারণা এবং বাস্তব প্রয়োগ

প্রচলিত ভ্রান্ত ধারণাগুলো:

অনেকে মনে করেন, তায়াম্মুমে ইবাদতের মর্যাদা কমে যায়। কিন্তু এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল; বরং শর্তপূরণ সাপেক্ষে এটি ওজুর মতোই গ্রহণযোগ্য। কুরআনে বলা হয়েছে: "مَا يُرِيدُ اللَّهُ لِيَجْعَلَ عَلَيْكُمْ مِنْ حَرَجٍ وَلَٰكِن يُرِيدُ لِيُطَهِّرَكُمْ" অর্থাৎ, "আল্লাহ তোমাদের ওপর সংকীর্ণতা আরোপ করতে চান না, বরং পবিত্র করতে চান"। আবার, কেউ কেউ মনে করেন, পানি থাকলেও তায়াম্মুম করা যায়। এই ধারণাও সঠিক নয়। পানি থাকাবস্থায় এবং পানি ব্যবহারে সক্ষমতা থাকতে তায়াম্মুম জায়েজ নয়। কেবল পানি ব্যবহারে অক্ষম হলেই তায়াম্মুম জায়েজ। এছাড়া, এমন ভুল ধারণাও পোষন করতে দেখা যায় যে, তায়াম্মুম সব সময়ের জন্য যথেষ্ট। এই ধারণা ভুল। কারণ, তায়াম্মুম সাময়িক। তায়াম্মুমের কারণ দূর হলে তায়াম্মুম বাতিল হয়ে যায়।

তায়াম্মুম ইসলামের সহজীকরণ নীতিগুলো প্রমাণ করে:

দ্বীন কষ্টের নয়, জীবন সংরক্ষণ পূর্বশর্ত, সক্ষমতা অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করাটাই ইসলামী শরিয়তের নির্দেশনা। কুরআনে বলা হয়েছে: "لَا يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا" অর্থাৎ, "আল্লাহ কাউকে তার সাধ্যের বাইরে দায়িত্ব দেন না"।

উপসংহার

তায়াম্মুম ইসলামী শরীয়তের সৌন্দর্য, ভারসাম্য এবং মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এটি প্রমাণ করে যে ইসলাম বাস্তব জীবনের ধর্ম, যেখানে পবিত্রতায় আপসহীনতা রয়েছে কিন্তু বান্দার দুর্বলতা বিবেচনায় আল্লাহ তাআ'লার রহমতের দরজা খোলা। পানি ব্যবহার অসম্ভব হলে তায়াম্মুম বৈধ, কিন্তু এটিকে কখনোই অলসতার হাতিয়ার বানানো উচিত নয়। সঠিক নিয়ত ও পদ্ধতি ছাড়া তায়াম্মুম সহিহ হয় না, এবং তায়াম্মুমের কারণ দূর হয়ে গেলে সাথে সাথে তায়াম্মুম বাতিল হয়। এই ভারসাম্যই ইসলামের মহত্ত্ব ও শ্রেষ্ঠত্বকে তুলে ধরে। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআ'লা আমাদেরকে পবিত্রতা অর্জনের পথ ও পন্থাগুলোর সুন্নাহ সম্মত সহিহ তরিকা জেনে সেই অনুযায়ী আমল করার তাওফিক দান করুন। আমীন।

রেফারেন্স

সূরা আল-মায়িদা, আয়াত ৬।
সূরা আন-নিসা, আয়াত ৪৩ ও ২৯।
সূরা আল-বাকারা, আয়াত ১৮৫ ও ২৮৬।
সূরা আল-হাজ্জ, আয়াত ৭৮।
সহিহ বুখারি: হাদিস ৩৩৫, ৩৪৮, ১।
সহিহ মুসলিম: হাদিস ৫২১, ৫২২, ১৯০৭।
সুনান আবু দাউদ: হাদিস ৩৩২, ৩৩৬।
সুনান দারাকুতনি: হাদিস ৬৮৬।
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৯:৫০
৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ওমর খাইয়ামের পোস্টে কমেন্ট করতে পারছি না!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০২ রা মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:৩৫

(সাময়িক পোস্ট)
ব্লগার ওমর খাইয়ামের পোস্টে কমেন্ট করতে গিয়ে বুঝতে পারলাম, তিনি আমাকে ব্লক করেছেন। আজকে তাঁর একটি পোস্টে কয়েকটি কমেন্ট করেছিলাম, একসাথে ৬- ৭টা! এরপরে, দেখি, লেখা উঠছে -... ...বাকিটুকু পড়ুন

শূন্যতাকে ছুঁয়ে

লিখেছেন স্প্যানকড, ০৩ রা মার্চ, ২০২৬ রাত ২:৩৯

ছবি নেট



কে বলেছে আমার কেউ নেই
এইযে সুনীল আকাশ
যার বুক ভরা থোকা থোকা মেঘের দল
নক্ষত্রের উঠানামা
ওরা কি আমার পর?

এইযে রোদ
যা গায়ে মেখে চলে যাই কতোদূর
নিমেষে দু:খ ভুলি
এইযে বৃষ্টি জল
কখনো কখনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইরান যুদ্ধ

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৩ রা মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৫:০৬



ইরানের মাটি পানি ও আবহাওয়া কৃষি উৎপাদনের জন্য খুবই অনুকূল পরিবেশ। বাংলাদেশের তুলনায় ইরানের সমতল ভূমি কম তারপরও ইরানে গম উচ্চ ফলন হয়। ভোজ্য তৈল জাত শষ্য উচ্চ ফলন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধোলাই-৭১

লিখেছেন মায়াস্পর্শ, ০৩ রা মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৫:২২



মধ্যপ্রাচ্যে আছি। দেশে ফেরার টিকেট কাটা ছিল ২ তারিখে। এর মধ্যেই শুরু হয়ে গেলো যুদ্ধের দামামা।আমি আরবি বুঝিনা। এয়ারপোর্টে কাউকে ইংরেজিতে কিছু জিজ্ঞেস করলে বলে ''খালাস খালাস'' মাফি মাফি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে জিহাদের ডাক দিলে কাজ হবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৩ রা মার্চ, ২০২৬ রাত ১০:১৩


সম্প্রতি শিয়া ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ কামাল আল-হাইদারির পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে 'জিহাদের' ডাক দেওয়া হয়েছে। ইরানের সার্বভৌমত্ব ও ধর্মীয় কর্তৃত্ব রক্ষার দোহাই দিয়ে এই আহ্বান জানানো হলেও,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×