সদ্ধ প্রকাশিত টিআইবির রিপোর্ট বাংলাদেশ দূর্নীতিতে তৃতীয় হয়েছিল। আগের বছর গুলোতে প্রথম হয়েছিল। তাহলে এবার কি দেশের দূর্নীতি একটু কমেছিল? না কমেনি, রয়ে গেছে আগের মতই অথবা আগে চেয়েও বেশী। হয়তো অন্যান্য দেশ বাংলাদেশের চেয়েও বেশী দূর্নীতি পরায়ন হয়েছে।
আমাদের দেশে দূর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি উভয়টাই বিদ্যমান। আমার দৃষ্টিতে স্বজনপ্রীতিও এক টাইপের দূর্নীতি। মামু বা আংকেল এর জোরে চাকরি পাওয়া বা প্রয়োজনীয় কাজ সেরে নেওয়া। এটাও কি দূর্নীতি হয়না। স্বজনপ্রীতি টাইপের দূর্নীতি কারনে আমার মনে হয় বাংলাদেশ দূর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয় নাই। টাকার বিনিময়ে কাজ সেরে দেওয়া টাইপের দূর্নীতিটা একটু বেশি ভয়ংকর। মানুষ পরোক্ষ লাভের দিকে তেমন আকর্ষিত না, তবে প্রত্যেক্য লাভের দিকে অবশ্যই মোহটা বেশি।
অর্থের বিনিময়ে দূর্নীতি করাটাই বাংলাদেশের এই কলংকিত অধ্যায় তৈরি করেছে। যাই হোক দেশ এখন অবশ্য এই কলংক মুছার পথে। দেশের দূর্নীতি চীরতরে মুছে যাক এটাই আমাদের কামনা।
দেশ হিসেবে সউদি আরব দূর্নীতি মুক্ত একটি দেশ। ইসলামী দেশ হওয়ায় ইসলামের বিধি অনুযায়ী দূর্নীতিকে এরা সামাজিক ভাবে এখনো অনেক দূরে রেখেছে। কিন্তু একটু আগে যা বললাম এরা স্বজনপ্রীতি টাইপের দূর্নীতি এরা করে থাকে। এটাকে দেখলাম অনেকে দূর্নীতি মনে করে না। আপনার সাথে যদি কোন অফিসের কারো সাথে পরিচয় থাকে আপনার কাজটা আগে হয়ে যাবে। সব ক্ষেত্রেই চলে এটা। চাকরি থেকে নিয়ে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করার সময় পর্যন্ত।
আরবরা জাতি হিসেবে এক কথায় বর্ণবাদী। যদিও ইসলাম ধর্মে বর্ণবাদের স্থান নেই, যদি তাই হতো, তাহলে হযরত বেলাল এতটা সম্মানীত হতে পারতেন না। তিনি ই ছিলেন ইসলামের প্রথম মুয়াজ্জিন। তার পরেও এরা বর্নবাদী। এশিয়ান বা সাউথ এশিয়ান লোকদেরকে এরা মানুষ মনে করে না। পশু বা তারও নিচের কিছু মনে করে। মুখে মুখে ভাল ব্যাবহার দেখা গেলেও এদের কার্যকলাপে বর্ণবাদের প্রকাশ পায়।
সামাজিক প্রানী হিসেবে মানুষ শ্রেষ্ট হলেও এদেরকে সামাজিক বলা যায় না। এদের সমাজ বড়ই বিচিত্র। পাশের বাড়ির মালিকের নাম কি বা বড় ছেলের নাম কি তাও এরা জানে না। পাশের বাড়ির কেউ মারা গেলেও দেখতে আসেনা। বলতেও পারেনা যে এ বাড়িতে কেউ মারা গেছে। বাড়িতে কেউ মারা গেলে কান্না কাটি দূরে থাক এক সপ্তাহ যাবত সে বাড়িতে পার্টি চলে। হয়তো এটা চল্লিশা হিসেবে খাওয়ানো হয়। কেউ কারো খবর রাখেনা। পড়শির মেয়ে অনৈতিক কাজ করে চলেছে এতে কারো কোন মাথা ব্যাথা নেই। প্রশ্ন করলে বলে এটা ওর কর্ম , যে যার কর্মের প্রতিফল ভোগ করবে। তোমার কোন দায়িত্ব নেই তা প্রতিরোধ করার? না এটা আমার দায়ীত্ব না, পুলিশের দায়িত্ব।
চুপে চুপে অনেক খারাপ কাজ চলছে এদেশে। এমন কিছু অপরাধ আছে আমাদের যা দেশে করা সম্ভবনা কিন্তু এরা খুব সহজেই তা করে যাচ্ছে।
সউদিতে মহিলাদের জন্য বিবাহ জনিত কিছু অতিরিক্ত আইন প্রয়োগ করা আছে। যেমন কোন সউদি মহিলা অন্য কোন দেশের পুরুষকে বিয়ে করতে পারবে না। কিন্তু পুরুষরা বাইরের দেশের মেয়েদের বিয়ে করতে পারবে। মেয়েরাও এ আইন ফলোও করছে। যদিও আমি কয়েকটা মহিলা দেখেছি যারা বাইরের পুরুষকে বিয়ে করেছে। তবে ওরাও আরব দেশের নাগরিক। বাইরাইন, আমিরাত, কুয়েত, মিশর, মরুক্কো ইত্যাদী। এশিয়ান বা এমেরিকান কাউকে বিয়ে করতে দেখিনি।
ইসলামের জন্মভূমিতে জন্মেও এরা ইসলামের অনেকটা বাইরে। কিছু কিছু দিক ছারা এরা অনেকটাই পশ্চিমাদের অনুষরণ কারী। দাদার দেশের লোকদেরকে এরা খুবই শ্রদ্ধা করে।
একটা ঘটনা লিখে শেষ করবো: সউদি এয়ার লাইন্স এর প্রথম শ্রেনীর এক যাত্রী। তার নিজের সিটে গিয়ে বসলো। একটু পরে এয়ার হোষ্টেস এসে বললো, আপনাকে অন্য সিটে যেতে হবে। লোকটি এয়ার হোষ্টেসকে তার ট্রিকেট দেখালো। তার পরেও এয়ার হোষ্টেস বললো আপনাকে উঠতে হবে। লোকটি বললো কেন?
- এখানে আমিরের দুই মেয়ে বসবে।
- তাতে আমার কি?
- এরা দোজন এখানে বসবে।
- না আমি এখান থেকে উঠবো না।
সরাতে না পেরে সরাসরি ঐ আমিরের মেয়ে দুটি এল। বললো সিট থেকে উঠতে।
- না আমি উঠবো না।
- তোমাকে উঠতেই হবে।
- না উঠলে কি করবে?
- আমি তোমাকে দেখে নেব। জান আমি কে? অমুক আমিরের মেয়ে। আমরা দেশ চালাই। আমরা তোমাদের রিজিক দেই। আমরা তোমাদের দেখা শুনা করি। আমাদের কথা কেন শুনবে না। শেষ পর্যন্ত সে লোকটা উঠছে না দেখে মেয়েরা পাইলটের শরনাপন্ন হল। পাইলট এসে পাসপোর্ট ও ট্রিকেট চাইলো। পাসপোর্ট দেখে পাইলট চলে গেল। কিছুই বললো না। সে লোকটি ছিল সউদি এমেরিকান।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



