একদা তুমি অল্পতেই চেতে যেতে, উত্তেজিত হতে ;
রক্তে ভেতরে ছিলো আগুনের বহ্নি__
এখন তুমি কেমন নিথর, স্থবির, বিবর্ণ ঝরাপাতাদের উপমা।
তাই বুঝি হয় ?
সময় সকল দুরারোগ্য ব্যাধির উপসম করে__
মানুষের সকল অহঙ্কার, প্রেমের আগুন, ফুলবতী ফাগুন__সব সময়ের বানে
ভেসে অনন্তে হারায়। আমরা মিছেয় হাতে হাত রেখে করি শপথের উৎসব
ভালোবাসার ফুলে সাজাই হৃদয়ের বিছানা__সাধ করে প্রিয়ার খোঁপায় গুঁজে দেই
গুঞ্জার মালা। আনন্দের রেণুতে ভেসে থাকি সারাবেলা।
তুমি এখন কেমন মিতভাষি ; অথচ কেমন উচ্ছল ছিলে
তোমার নিটল যৌবন, মেঘবালিকার কেশ, কমলারঙের বুক, গহীনচোখ
সব কেমন পাণ্ডুর হয়ে গেছে__তোমার বাক্যাবলীতে আজ গুরুচণ্ডালী দোষ
অথচ সাধু-চলিতের মিশ্রণে তুমি ভীষণ রেগে যেতে, আকাশের মেঘ দেখে
নৃত্য করতো তোমার ময়ূরমন__আজ তুমি শিশুর মতোন হাঁটি হাঁটি পা পা করো
মনে হয় আবার হাঁটা শিখছো তুমি, তোমার উচ্চারিত বর্ণমালা এখন ভুলেভরা,
মেধাহীন ছাত্রের মতোন জীবনের পাঠ আর তোমার একদম মনে নেই। তোমার সব
বিস্মৃতির অতলে হারিয়ে গেছে।
সময়ের কাছে এসে আমরা সবাই নতজানু হই
অর্ধস্তন কর্মকর্তার মতোন কুর্ণিশ করি ; রঙিন বসন্ত গ্যালো কই, গ্যালো কই !!
০৪.১২.২০১৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


