somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রিক্সাওয়ালা

১৮ ই মার্চ, ২০১০ ভোর ৪:০১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ইদানীং অল্পতেই কেউ তর্ক করলে আমি আরো জেকে বসচ্ছি.......ছেড়ে দেইনা। রাগ ঝাড়ার জায়গা পেলেই হল! কিন্তু রাগ নেমে গেলে খারাপ লাগে......পরে মনে হয় এতটা না করলেও পারতাম। সেদিন এক রিক্সাওয়ালার সাথে খারাপ ব্যবহার করলাম! প্রায়ই অবশ্য এমন হয়। ৭ টাকার ভাড়া ১০ টাকা চাইলো আমি দিলাম না। সে রেগে গিয়ে জিগেশ করলো 'আপনে দিবেন না??' আমিও প্রতিত্তোর করে বললাম 'দিবো না।'
'আপনে ভাড়ার সিস্টেম জানেন??'
'ভাড়ার সিস্টেম কি?জানি নাতো......আমাকে সিস্টেম শেখান তারপর দিবো' মানুষ জড় হচ্ছে। আমার সেদিকে কোন ভ্রুক্ষেপ নেই।
'নতুন বাজার যাইতেই ৫ টাকা ভাড়া......আপনে এই পর্যন্ত আসছেন ১০ টাকা দিবেন'
'বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত ভাড়া কত?'
'১০ টাকা'
'এখান থেকে বাসস্ট্যান্ড গেলে ৬ টাকা......আমি যেখান থেকে আসলাম সেখান থেকে বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত ১০ টাকা ভাড়া! তাইলে আমার হিসাব তো ঠিকই আছে। আপানাকে তো টাকা আমি বেশীই দিলাম!'
ফ্রেন্ডের বাসার সামনে এত ঝামেলা করতে মন চাইছিলো না........কিন্তু আর বেশী ঝামেলা করলে চড় মারার ইচ্ছাটাও একটু ছিলো।
'আপনে টাকা দিবেন না??'
'আপনার সিস্টেম আমি বুঝি নাই....আপনি আমারটা বুঝছেন তো? আমি দিবো না।' কিছু মানুষ হাসলো আমার কথায়। মনটা খারাপ ছিলো সেদিন। খেটে খাওয়া মানুষ এরা.......তবু এদের সাথেই এমন ব্যবহার করি আমরা! সে কথা গুলো একটু নরম হয়ে বললেই কিছু বেশী টাকা দিতাম। তার যুক্তিহীন টাকা চাওয়ার ধরণটাই ভালো লাগেনি তখন। একদিন এক রিক্সাওয়ালার সাথে তর্ক লেগে গেলো......সেই রিক্সাচালক ভাড়া না নিয়েই চলে যায়। সে হয়ত জানবে না নিজের বিবেকের কাছে আমি হেরে গিয়েছিলাম সেদিন.....প্রচন্ড অপমানবোধ করেছিলাম!

কিছু রিক্সাওয়ালাদের সাথে আমার ভালো খাতির আছে। এর ভেতর একজন আছে যে রাস্তায় আমি আছি দেখলেই রিক্সা থামিয়ে একটা হাসি দেয় 'কই যাবেন?' এদের সাথে দেখা হলেই বিপদ! তারা যেহেতু খাতির করে সেই খাতিরের মুল্য দিতে হয়....এড়ানোর উপায় খুজে পাইনা।

একদিন এক রিক্সায় উঠলাম শুধু কই যাব সেটা জিগেশ করলো। তারপর আমি কিছু বলার আগেই বাসার গেটে রিক্সা থামলো। অবাক হলেও কিছু জিগেশ না করে ব্যাগ থেকে টাকা বের করছিলাম। সে আমাকে জিগেশ করলো 'আপা ভালো আছেন?'
আমি তার দিকে তাকালাম 'আপনাকে আমি চিনি?'
'কালকেও আপনে আমার রিসকায় আইছিলেন এহানে'
আমি এবার আসলেই বিস্মিত! অন্ধকারে চেহারা দেখতে পাচ্ছিলাম না লোকটার। এত লোক প্রতিদিন তার রিক্সায় যাতায়াত করে আর আমি দিনে একবার রিক্সায় উঠি। সে আমাকে মনে রেখে বসে আছে! আগের দিন ভাড়া বেশী দিয়েছি বলেতো মনে পড়েনা!

আরেকজন রিক্সাওয়ালার কথা মনে পড়লো। মধ্যবয়স্ক লোক। আমার এক ফ্রেন্ডের বাসার সামনে রাস্তার পাশেই তার আস্তানা। যে দিনই যাইনা কেন তাকে সেখানে দেখা যায়। তবে যতবারই জিগেশ করি 'যাবেন?' ততবারই সে বলে যাবে না। সবসময় সিটের সাথে আধা হেলান দিয়ে থাকে। রিক্সা চালানো তার জন্য জরুরি কিছু বলে মনে হয় না যতক্ষন না তার টাকার দরকার হচ্ছে। নিজের দায় না পড়লে কাজ বন্ধ। এরপর থেকে আমিও তাকে কখনও জিগেশ করতাম না যাবে কিনা। তবে হাসি পেত। তার পাশের আরেকটা রিক্সা ঠিক করতে করতেই বলতাম 'আপনারে আর কি জিগেশ করবো, যাবেন তো না।' সে হয়ত একটু হাসত আমার ধারণা যে ভুল না শুধু এইটুকু বোঝানোর জন্য। মাঝে মাঝে জিগেশ করতাম 'ভালো আছেন?' সে অনাগ্রহের সাথে মাথা নাড়াতো 'ভালো আছে'। অবাক লাগতো আমি যে তার কুশল জানতে চাইলাম সে আমাকে কোনো পাত্তাই দিলো না!

লিখতে বসে রিক্সা সংক্রান্ত অনেক স্মৃতি মনে পড়ে যাচ্ছে।

তখন খুব সম্ভব ক্লাস এইট/ নাইন এ পরি.....ঠিক মনে করতে পারছি না। একদিন একজন রিক্সাচালক ভাড়া মেটানোর পর অদ্ভুত এক আবদার করলো। সে আমার কাছে কিছু বই চাইলো। সামনে পরীক্ষা তার বই দরকার। আমাকে জিগেশ করেছিলো আমার কাছে আছে কিনা......খুব সম্ভব কিছু ইংরেজী বই চেয়েছিলো। আমি অবাক হয়েছিলাম তার কথা শুনে! চালকের বয়স কম। মজার ব্যাপার হলো তার চেহারা বলে না যে সে আসলে একজন রিক্সাচালক। আমি খেয়াল করেছিলাম আসার সময় অনেকেই তার দিকে তাকিয়েছিলো।
একটু ভেবে বললাম 'আপনি ওয়েট করেন আমি দেখছি।' সে অপেক্ষা করছিলো। বাসায় গিয়ে আমি পুরোনো বই ঘেটে তার যেগুলো দরকার কিছু বই বের করে দেই। সেদিন সেই রিক্সাচালক বইগুলো হাতে পাওয়ার পর খুশি হয়ে যে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছিলো আমার প্রতি, সেইটা যে আমার জন্য কত বড় পাওয়া তা আমার ব্যাখ্যার বাইরে। মানুষের নির্ভেজাল আনন্দ দেখার সৌভাগ্য সবসময় হয় না।

I feel good when I see a hungry face
Because now I'll have the opportunity to love a hungry tongue
I feel intoxicated when I see a destitute hungry being
Because now a life will be changed in front of me.

My lord! Give me so much wealth
That all the indigent people of the world can inherit it.
Once I stand before Mankind
With hands full of wealth and love-
Let me return back weightless and empty.
S.M. Zakir Hussain

(উপরের মুল লেখার সাথে শেষের ইংরেজী লেখাগুলোর মিল নেই। এগুলো কেবলমাত্র আমার নিজের প্রার্থনা।)
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০১১ রাত ২:০২
৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

অভিনব প্রতারনা - ডিজিটাল প্রতারক

লিখেছেন শোভন শামস, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:১৮



একটি সাম্প্রতিক সত্য ঘটনা।
মোবাইল ফোনে কল আসল, একটা গোয়েন্দা সংস্থার ছবি এবং পদবী সহ। এই নাম্বার সেভ করা না, আননোন নাম্বার। ফোন ধরলাম। বলল আপনার এই নাম্বার ব্যবহার করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আগে নিজেকে বদলে দিন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৪১



"আমার স্বামী সংসারের কুটোটাও নাড়ান না। যেখানকার জিনিস সেখানে রাখেন না। মুজা খুলে ছুঁড়ে যেখানে সেখানে ফেলে দেন। নিজেকে পরিষ্কার রাখতে বারবার ভুল করেন! এতো বছর বিবাহিত জীবন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×