somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ত্রি

১৩ ই মে, ২০২০ দুপুর ১:৫২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


জানালার পর্দা সরাতেই ঘরের মধ্যে আলোরা যেন বাঁধ ভাঙা জোয়ারের মতো ঢুকে গেলো। ঘুমানোর সময় আলো একেবারেই সহ্য করতে পারে না মিহির।হঠাৎ আলোর ঝলকানিতে ঘুম ছুটে গেলো এক নিমেষে এবং অবাক হয়ে চেয়ে দেখলো সামনে মিলা দাড়িয়ে আছে।

খানিক অবিশ্বাসে নিজের চোখ কচলে মিলার মুখটা ভালো করে দেখলো সে। হ্যাঁ এতো মিলা। অবাক কান্ড! নিজের অজান্তেই মুখ ফসকে বেরিয়ে গেলো,
-তুমি?
-হ্যাঁ আমিতো! অন্য কাউকে আশা করছিলে নাকি?মিলা কেমন যেনো খিল খিল করে হেসে উঠলো।
-না না কি যে বলো।

- আমি তোমার রুমে এসেছি বলে তোমার কোন অসুবিধা বা অস্বস্তি?
-না ঠিক তা নয় তুমি তো আসো না তাই বললাম!
- ওহ! ওঠ উঠে পড়। আজকের দিনটা কি মনে আছে তো?
-আছে। তোমার জন্মদিন আর আমাদের বিবাহ বার্ষিকী।

-বাহ গুড বয়।এবার তাহলে তাড়াতাড়ি উঠে পড়। ফ্রেশ হয়ে নাও।আমি কিন্তু বিকেলের মধ্যেই বেরুবো।নিজে তো এখনো রান্নাটা শিখলে না।এইবার বিপদে পড়বে। এই বাজারে কাজের লোক পাওয়াই তো মুশকিল। আমি অবশ্য তোমার এই সমস্যার জন্য দায়ী সেটা স্বীকার করতে আমার কোন দ্বিধা নেই।আমি চলে গেলে তুমি তোমার মনের মতো একটা মেয়েকে ঘরের বউ করে আনবা। আমি কিন্তু এতে খুব খুশিই হবো। আর হ্যাঁ তোমার প্রতি আমার অশেষ কৃতজ্ঞতা রইলো।বিনা স্বার্থে এক বছর ধরে নিরন্তর সার্পোট দেওয়ার জন্য।

যাহোক এখন তাড়াতাড়ি ওঠো তো আর আলসেমী নয়। বাজারে যেতে হবে।জাহিদকে দুপুরে খেতে বলেছি ,আমরা এক সাথে দুপুরে খাবো।যাওয়ার আগে একটা সেলিব্রেট হয়ে যাক। কি বলো।জাহিদকে বলতেই এক কথায় রাজী হয়ে গেলো।

কি বলবে মিহির। কি বলা উচিত তার সে কিছুই বুঝে উঠতে পারলো না।মিলার যদি তার প্রতি বিন্দু মাত্র ভালোবাসা থাকতো তবে এই নিদারুণ রসিকতা টুকু করতে পারতো না।কৃতজ্ঞতাটুকু তো শুধু কথার কথা। মিহিরের মুখটা হঠাৎ করেই ভীষণ অপমানে কালো হয়ে গেলো।তবু সে স্বাভাবিক ভাবে বিছানা ছাড়লো।এখন কিছুতেই নিজের বিরুপ মনোভাব প্রকাশ করতে তার মন চাইছে না।

মিহির মনে মনে ভাবলো,আজ হয়তো এই অপমানের জীবনের শেষ হবে।সে সত্যি সত্যি আর পারছে না।গত এক বছর ধরে জীবনের সাথে যুদ্ধ করতে করতে সে এখন ভীষণ রকমের ক্লান্ত।

মিলা সকাল সকাল রবীন্দ্র সঙগীত ছেড়েছে ।আনন্দে আছে মেয়েটা।
যেহেতু আনন্দে আছে মিলা আনন্দেই থাকুক। তার যতই কষ্ট হোক না কেন মিলার সুখ আনন্দ মিহিরের সুখ আনন্দ।সকাল সকাল মিলার এই গান শুনবার অভ্যাসটা তার খুব ভালো লাগে।মে নিজেও গান পাগল মানুষ।

শুধু এই অভ্যাস কেন মিলার সব অভ্যাসই তার কাছে ভালো লাগে।এই রূপবতী মেয়েটাকে সে অসম্ভব রকমের ভালোবাসে।বলা যায় জীবনের থেকে বেশি ভালোবাসে। সবাই বুঝতে পারে শুধু মিলাই তাকে বুঝলো না । এটাই সারাজীবনের আফসোস রয়ে গেলো মিহিরের কাছে।

মিলাকে হয়তো আজকের পর থেকে আর সামনে পাওয়া যাবে না কোনদিন। চুক্তি মোতাবেক আজ মিলার সাথে শেষ দিন। এর পর মিলা এই বাড়ি এই সংসার ত্যাগ করবে। কোন আপিল আহাজারিই সেখানে খাটবে না সেখানে।

মিলা খুব কঠিন হৃদয়ের মেয়ে। সে যা বলে তাই করে। মেয়েদের অতিরিক্ত জিদ ভালো না । তার পরিনাম ভালো হয় না কখনো। শুধু মেয়ে কেন সবার ক্ষেত্রে এই একই কথাটা প্রযোজ্য।

মিলাকে যে বাগে আয়ত্বে আনতে পারতো বড়ই দুঃখের ব্যপার হলো সে আজ পরপারে। মিহিরের ভাগ্যটা সবসময় এতো খারাপ কেন?কেন তাকে অসময়ে সবাই ছেড়ে চলে যায়।মিহির একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বিছানা থেকে ওঠে যা হবার তা হবে,এসব নিয়ে ভেবে লাভ নাই।

মিলা তাগাদা দেয় ,
-কি হলো কি তোমার হলো? আজ বাড়িতে কত কাজ? সব তো আমায় একলাই করতে হবে? সকাল সকাল বাজারে না গেলে হবে?
মিহির ভেবেছিলো একবার না বলে দেবে। কিন্তু পরক্ষণেই বাদ দিয়েছে। মিলা যা জেদি সে হয়তো নিজেই বাজার করতে চলে যাবে।কি দরকার আর শেষ সময়ে ঝামেলা বাড়াবার।আজই তো শেষবার এরপর মিলা তাকে আর কোন আদেশ করবে না।
সে তাড়াতাড়ি ফ্রেশ হতে টয়লেটে ঢুকলো।

ছোটবেলা থেকে মিলা,মিহির আর জাহিদ হরিহর আত্মা । একে অন্যকে না দেখে থাকতে পারে না কিছুতেই।জ্ঞান হওয়া অবধি একই পাড়ায় থাকার সুত্র ধরে শুধু দেখা দেখি না খাওয়া দাওয়া, খেলা ঘুরে বেড়ানো সবই চলতো একসাথে।তাদের বন্ধুত্বের সুত্র ধরে তিন পরিবারের ঘনিষ্ঠতা ও জোরদার সবসময়ই।

মিলা একটু বড় হলে দুরত্ব বজায় রাখার চাপ আসে জাহিদ ও মিলার পরিবার থেকে কিন্তু কে শোনে কার কথা আর মিহিরের পরিবার বলতে তেমন কেউ নেই এক বয়স্ক ফুপু ছাড়া। ফুপু তাকে খুব বেশি শাসন করতেন না করবেনই বা কি তিনি সারা বছর প্রায় অসুস্থ থাকতেন।

কার একসিডেন্টে মারা যাওয়া দম্পতির এক মাত্র ছেলে মিহির। ঢাকা শহরে এই বাড়িটার ভাড়ার আয় থেকে তার সংসার সহ যাবতীয় খরচ চলে।মিলার বাবা যদি সময় মতো পাশে না দাড়াতো। তো কোথায় ভেসে যেতে হতো তাকে এতোদিনে।মিলার বাবার প্রতি কৃতজ্ঞতার শেষ নাই মিহিরের।লোকটি তাকে ছোটবেলা থেকে জান প্রাণ দিয়ে আগলে রেখেছে। তার মধ্যেও অল্প বয়সেই সে জীবনের অনেক অনেক জটিল দিক দেখে ফেলেছে।এটুকুও জানে পৃথিবীতে ভালো মানুষের সংখ্যা খুবই কম।

যা হোক সময় বয়ে চলে সময়ের নিয়মে।কলেজ লাইফে বোঝা গেলো জাহিদ ও মিহির দুজনেই মিলার প্রেমে পড়েছে।মিলা বরাবরই খুব চালাক প্রকৃতির মেয়ে।মিলার ফিলিংস খুব একটা বোঝা না গেলেও মিলার জাহিদের প্রতি আলাদা একটা টান লক্ষনীয় বরাবরই। যদিও মিহিরের সেটা অজানা নয়। কিন্তু ভালোবাসা সবসময়ই অন্ধ হয়।এক্ষেত্রেও তাই।

ছাত্র জীবনের এক পর্যায়ে মিহির মেডিকেলে পড়তে চলে যায়।দীর্ঘ বিরতি সেই সময় চালাক জাহিদ খুব সহজে মিলাকে তার নিজের দিকে, মিলার দূর্বলতা টুকু কাজে লাগিয়ে সুকৌশলে আয়ত্বে নিয়ে নেয় ।
কিন্তু বাঁধ সাধে মিলার পরিবার। মিলার বাবা মায়ের সবসময়ের পছন্দ মিহিরকে।নিঝঞ্জাট পরিবার। তার উপর মিহিরের মতো ছেলেই হয় না।তার প্রফেশনটাও ভালো।নিশ্চিত জীবন।

সময় মত কথা পাড়বেন বলে অপেক্ষা করতে থাকেন মিলার বাবা হাসান সাহেব। কিন্তু অভিজ্ঞ চোখে খুব সহজেই মেয়ে ভালোবাসা যে অন্যখানে তা ধরা পড়ে যায়।

এই নিয়ে অশান্তির এক পর্যায়ে মিলার বাবা স্ট্রোক করে। দিন দশেক আই সি ইউ তে থাকার পরে কিছুটা সুস্থ হলে কেবিনে আসার সাথে সাথে মিলার মাকে মিলার বিয়ের জন্য নির্দেশ দেন। তিনি মিলার বিয়ে মিহিরের সাথে দেওয়ার জন্য ব্যস্ত হয়ে ওঠেন।

মিলা কোন সময়ই চুপচাপ সবকিছু মেনে নেওয়ার পাত্রী নয়।কিন্তু এবার বাবার অসুস্থ অবস্থা আর মায়ের করুণ মুখের দিকে তাকিয়ে তার ভিতরটা কেঁদে ওঠে। সে মিহিরের সাথে বিয়েতে রাজী হয়। রাজী হবার আগে সে শেষ চেষ্টা হিসাবে মিহিরকে অনুরোধ করে এই বিয়ে ভেঙে দিতে।

মিহির যে মিলাকেই সবসময় নিজের করে চেয়ে এসেছে, সে কি করে এই কাজ করবে? মিহির এই বিয়ে ভাঙতে রাজী হয় না।সে কারণ দেখিয়ে হাসান সাহেবের অসুস্থতাকে তুলে ধরে।

এরপর বিয়ে তো হয়ে যায় এক রকম।কিন্তু বাসর রাতেই মিলা সরাসরি মিহিরকে জানিয়ে দেয় তারা কখনোিই স্বামী স্ত্রী রূপে থাকবে না। সেটা সম্ভবও না। সে তাকে বন্ধু ভাবে স্বামী নয়। আর বাইরে সবাই জানবে যে তারা স্বামী স্ত্রী কিন্তু আসল সত্যিটা হবে অন্য।
মিহির মিলার কথায় আহত হয়। সে জানতে চায় তবে কেন এই বিয়ে। কেন এই ছলনা।

মিলা স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, মোটেও এটা তার ছলনা নয়। মিহির তো সব জানেই সে তো কিছু লুকায়নি।এরপর চুক্তি হয় এক বছর সময় দিতে হবে মিলিকে। তারপর সে তার নিজের পথ দেখে নেবে কারণ ততদিনে তার একটা ভালো কাজ জুটে যাবে।এবং শেষ পর্যন্ত সে জাহিদকেই জীবন সঙ্গী হিসাবে বেছে নেবে।

বাবা মাকে ঠিকই সে এর মধ্যে ম্যানেজ করে নেবে।আর যদি মিলার কথা মিহির না মেনে চলে তো সে নিজের জীবন দিয়ে দেবে।

মিহিরের খুব কষ্ট হয়।কিন্তু মিলার প্রতি তীব্র ভালোবাসা থেকে সে কিছুটা আশা জিইয়ে রাখে মনে মনে।মিলা নিশ্চয় ফিরবে। এক বছর অনেক সময়।কিন্তু মিলা তার সিদ্ধান্তে এখনো পর্যন্ত অটল ।

গতমাসে মিলা একটা বড় কোম্পানিতে যোগ দিয়েছে। ভালো বেতনের চাকরি। তার কিছুদিন পরে সে জানায় জাহিদের সাথে তার কথা হয়েছে। সময় মত মিলা মিহির কে ত্যাগ করবে।মিহির যেন প্রস্তুত থাকে।

ছোট বেলা থেকেই পৃথিবীতে সে অনেক দুঃখ কষ্ট সয়ে মানুষ্। এধরনের মানুষের সহ্য ক্ষমতা থাকে অসীম। মিহিরেরও কষ্ট সহ্য করার ক্ষমতা অসীম তবে মিলার দেয় ব্যাথা যেন বেশি কষ্টের। সে কিছুতেই সহ্য করতে পারছে না। বুকটা ফেটে যাচ্ছো। গতরাতে সে ঠিক মতো ঘুমাতে পারেনি পর্যন্ত।মিলার মনটা এতো পাষাণ কেন? ওর মনটা কি দিয়ে তৈরি?

বাজার করতে করতে বারবার তার চোখ ভিজে উঠছে। রোদ চশমার আড়ালে ভালো করে খেয়াল করে দেখলে বোঝা যাবে তার বেদনাগুলি স্পষ্ট ফুটে উঠেছে চোখে মুখে।

মিহির ভাবে আজ যদি মিলার বাবা বেঁচে থাকতেন তবে মিলা এতোটা বেপরোয়া হতে পারতো না। ভাগ্য সবসময় তার সাথে প্রতারণা করেছে। মিহির হঠাৎ করে খুব নিঃসঙ্গ বোধ করল।আজ তার কিছুই ভালো লাগছে না।

মিলার সব কাজ বেশ গোছানোএবং অল্প সময়ের মধ্যে সে ঝটপট অনেক কাজ সেরে ফেলে।মিহিরের আসতে আসতে সে রান্নার আনুষাঙ্গিক কাজ গুলো সেরে ফেলল।সব রকমের মসলা করা শেষ।

আজকের মেনু দুই রকমের ভাজি,আলু , বেগুন আর মাছ।ডিম ভুনা ,রোষ্ট,খাসির মাংস।সাদা ভাত।
মিহির মনে মনে ঠিক করলো আজ সে সন্ধ্যা পেরিয়ে গেলে তার পর বাড়ি ফিরবে। সে কিছুতেই জাহিদের মুখোমুখি হতে পারবে না। জাহিদ আর মিলাকে একসাথে দেখলে তার বুকটা ফেটে যাবে।

দই আর কোক আনা পরে সিগারেট আনার বাহানায় সে বাড়ি থেকে বের হয়ে এলো।
এই রোড়ে কাছাকাছি একটা পার্ক
আছে সে ঠিক করল পার্কে গিয়ে বসে থাকবে। মিলা নিশ্চয় বিকালের দিকে বের হবে। সেরকমই সে জানিয়েছে।সেই ভালো মিলা চলে গেলে সে বাড়ি ফিরবে। তার বুকের মধ্যে অদ্ভুত চিনচিনে ব্যথা হচ্ছে। গলা বুক শুকিয়ে আসছে। এরকম হচ্ছে কেন সে ঠিক বুঝতে পারছে না।মাথাটাও ধরেছে খুব।

মাগরিবের আযান হয়ে গেছে বেশ কিছুক্ষণ আগে।মিহিরের খুব আশা ছিলো যাবার আগে অন্তত মিলা একবার ফোন দেবে।মিলার কোন ফোনই এলো না। এই যে সে দুপুরে খায়নি। বাসায় এতো আয়োজন।মিহির খেয়েছে কি না। কোন খোঁজ নেবারও প্রয়োজন টুকুও বোধ করেনি মেয়েটা।

আসল কথা হলো মিলা তো তাকে ভালোই বাসে না। সেও কি বোকা একথা তো মিলা গত একবছর ধরে বারবার বলে এসেছে। সেতো বলেইছে তার যাবার কোন জায়গা নেই তাই সে বাধ্য হয়ে মিহিরের সাথে স্বামী স্ত্রী খেলা খেলছে।
পৃথিবীতে তাকে ভালোবাসার মতো কেউ আর অবশিষ্ট রইলো না।

অন্ধকার হয়ে আসতেই মিহির উঠে দাড়ালো।মনে হচ্ছে দেহের চলার শক্তি নষ্ট হয়ে গেছে।কোন রকমে সে পা টেনে টেনে বাড়ির পথ ধরলো।
বাড়ি!

বাড়ি না বলে শ্মশান বলাই ভালো।মিলা চলে গেছে। হ্যাঁ মিলা চলে গেছে। তাই কোন ঘরেই সন্ধ্যাবাতি জ্বলেনি।
মিহিরের বুকটা হঠাৎ হাহাকার করে উঠলো।সে দরজা খুলেই জোরে ডুকরে কেঁদে উঠলো। সে একটু কাঁদতে চায়। তার মনের কষ্ট সে দুর করতে চায়।না কাঁদলে তো সে হালকা হবে না । হালকা না হলে তো বুক ফেটেই মরে যাবে।

কিন্তু একি হঠাৎ সারা ঘর ময় আলো আলো হয়ে গেলো কি করে। এতো আলো কেন? কে জ্বালালো এতো আলো?
ঝাপসা চোখে সে দেখতে পেলো কিছু লোকজন কে।এরা কারা ?সবাই এতো হাসি খুশি কেন?আচ্ছা সে কি পাগল হয়ে যাচ্ছে?
হঠাৎ একটা মেয়ে কণ্ঠ বলে উঠলো,
-কোথায় ছিলে এতোক্ষণ? ফোন বন্ধ করে?

মিহির নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারলো না।এতো মিলার গলা তবে কি মিলা যায়নি নাকি এখন যাবে?
চোখ মুছতেই মিলার দিকে খেয়াল করলো মিলার চোখ ও ভেজা।
মিলা অভিযোগের সুরে বলল,
-তুমি আমায় এতো ভালোবাসো তা আগে বলবে তো?

মিহির আস্তে আস্তে বলল,
-আর কতোবার বলতে হবে? মনে হলো সে লজ্জা পাচ্ছে।
এবার জাহিদ হো হো করে হেসে উঠলো আচ্ছা কোন দুপুরের দাওয়াত আর এখনো না খাইয়ে রেখেছিস। তোদের তো দারুণ মিল মোহাব্বত হয়ে গেলো। খাওয়া দাওয়া কিছু জুটবে না এবার হাঁটা দেবো।

মিহির তাড়াতাড়ি বলল
-না না সে কী? আমারও না খুব ক্ষিদে পেয়েছে। আর এই মেয়েটি কে ঠিক চিনলাম না।
জাহিদ আবারো হো হো করে হেসে উঠলো
-আমি তোর মতো নিরামিষ নাকি? গোপনে বিয়েটা সেরেছি অনেক আগে। দুএকদিনের মধ্যে সবাইকে জানিয়ে দেবো।এর নাম অলোকা।
সমাপ্ত
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই মে, ২০২০ দুপুর ১:৫২
৬টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ব্যাটারিচালিত রিকশা , তিন-চাকার যানবাহন ব্যবস্থাপনা, অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ন্ত্রণ, সড়ক নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান ও জীবিকা সুরক্ষা এবং সিসা-দূষণরোধ বিষয়ে একটি সমন্বিত নীতিগত প্রস্তাব।

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৭:৪৮


বাংলাদেশের নগর ও শহরতলির পরিবহন ব্যবস্থায় ব্যাটারিচালিত রিকশা, ইজি-বাইক ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক তিন-চাকার যান ইতোমধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা। নিম্ন ও মধ্যম আয়ের যাত্রীদের জন্য অপেক্ষাকৃত কম খরচের পরিবহন, বিপুলসংখ্যক চালক... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধানমন্ডি ৩২: মানুষের হৃদয়ে যে বাড়ি আজও দাঁড়িয়ে আছে

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:০৭



ধানমন্ডি ৩২: মানুষের হৃদয়ে যে বাড়ি আজও দাঁড়িয়ে আছে

ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়ি কেনা ও নির্মাণের টাকা কোথা থেকে এসেছিল-এই প্রশ্নটা মাঝেমধ্যেই অনলাইনে ঘুরেফিরে আসে। উত্তরটা আসলে লুকিয়ে নেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

আওয়ামী লীগ দিয়ে উন্নয়ন সম্ভব নয় - দরকার বিকল্প সরকার

লিখেছেন মাথা পাগলা, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:৫৪



জামাতকে সংগঠন হিসেবে নিখুঁত বলা যায়, আলেম হতে হলে দীর্ঘদিন পড়াশোনা ও প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে যেতে হয় - মানে নেতা হবার আগে অবশ্যই পড়াশোনা করতে হবে, বিএনপি-লীগের এমন কোন... ...বাকিটুকু পড়ুন

বেলাশেষে

লিখেছেন নীল-দর্পণ, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৪

বাসায় আত্নীয় আসলে চলে যাবার সময় কিংবা তাদের বাড়ী থেকে ফেরার সময় ঘরের ছোট সদস্যের হাতে টাকা গুঁজে দেবার যে চল ছিল নিশ্চই আমরা কম বেশি সবাই সেটা সাথে পরিচিত।... ...বাকিটুকু পড়ুন

অসংখ্য মানুষের স্বপ্নের নায়িকা যিনি।

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:১২



একদিন যে বিয়েকে ঘিরে ছিল পাঁচতারকা হোটেলের ঝলমলে আলো, ক্যামেরার অসংখ্য ফ্ল্যাশ আর শত মানুষের করতালি, সেই সংসারের আকাশেই কয়েক বছরের মধ্যে জমেছিল বিচ্ছেদের মেঘ। ১৯৮৭ সালের মে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×