somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কয়েকটি কবিতা

৩১ শে ডিসেম্বর, ২০২০ সকাল ৮:২১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


[১]
সখা সখী
_________

প্রণয় আকর্ষণে দুটি প্রাণ একত্রিত হইলো।
অলীক স্বপ্ন সুখে জোয়ারে ভাসিলো।
দুটি চোখ দুটি চোখে দৃষ্টি স্থির।
সেই ক্ষণের সাক্ষী সেথা নয়নের নীর।
সখা অকস্মাৎ সখীর আনন তুলিয়া ধরিল।
প্রেম স্পর্শে সখী দারুণ লজ্জিত হইল।
আহা কি সুখ আহা কি সুখ সখা পুলকিত।
ভালবাসার স্পর্শে সখীও দারুণ শিহরিত।
© রফিকুল ইসলাম ইসিয়াক

[২]

প্রিয় জ্যাকেট
_____________

বেশি শীত পড়লে একটা কথা ভেবে আমার খুব মন খারাপ হয়, জানো তো!
সামনে থাকলে চপল চোখে চেয়ে প্রশ্ন করতে হয়তো।
আচ্ছা থাক, আমি তোমার হয়েই প্রশ্ন করছি ,
লোকে তো আর জানে না ,
তুমি তো আর প্রশ্ন করবে না আমায় কোনদিন!
ব্যস্ত এখন অন্য কারো শীতের পোষাক হয়ে, সেতো আমি জানি,
যাহোক, এক্ষেত্রে তুমি কি প্রশ্ন করতে?
তুমি বলতে, শীত পড়লে আমার কথা মনে পড়বে কেন? অন্য সময় কেন নয়?
আরে অবুঝ মেয়ে,
তোমার কথা আমার সব ঋতুতে মনে পড়ে
আবহাওয়ার রকমফেরে।
বিশেষ করে শীতের দিনে,
আমি যে তোমার বুকের ওমের পাগল সেটি কি করে ভুলে গেলে?
কিভাবে ভুলে গেলে?
প্রিয়তমা,
তোমার বুকের ওম যে আমার সবচেয়ে প্রিয় জ্যাকেট।
তারপর?
তারপর আর কি?
এখন আমি মিস করছি আমার প্রিয় জ্যাকেট!!!

[৩]
ডুব
------

মন গভীরে ডুব দাও প্রেমিক
আরো গভীরে ডুব।
তোমার স্পর্শে আমি খুঁজে পাই
দুঃখ সুখের অসুখ।
হাত বাড়িয়ে ছুয়ে দাও প্রেমিক,
আরো গভীর স্পর্শ চাই ।
তুমি বিনে দ্বিতীয় কেউ
ভাবনায় আমার নাই।
এই নিশি না হোক ভোর
থামুক প্রহর থামুক।
আরো বেশি অন্ধকার নিয়ে
জমাট আঁধার নামুক।

কৃতজ্ঞতাঃ
আমার প্রিয় কবি জাহিদ অনিকের পোস্টের ছবি দেখে কবিতাটি লেখা।


[৪]
দ্বিধা
______

তোমায় চিনিতে চাহিয়াও চিনতে চাই না কেন যেন।
তোমায় অনেকটা বুঝি তবু নানা ভান ধরি,
এ কেমন ছেলেখেলা।
যদিও রয়েছে তুমি অন্তর মাঝে।
কিসের এতো দ্ধিধা লাজ সেও জানিনা,
আবার মনেহয় জানি, জানি হয়তো।
বসন্তে ফুটেছে বাসন্তী ফুল,
বনে বনে লেগেছে দোলা।
গাইছে গান কোকিল কুউহু কুউহু ,,
মাতাল হাওয়ার মন নাচে দোদুল দুল,
তবু তারে না পারি প্রকাশে একি জ্বালাতন।
তুমি এসো হে মনোমিতা ,
এসো প্রাণনাথ
ভাঙিয়ে দাও সকল দ্বিধা লাজ।
দুর করে দাও অহেতুক জড়তা তব স্পর্শ আদরে।
তুমি এগিয়ে না এলে প্রিয় কাটবে না'গো বাঁধা ।
সমাজ থাকুক দূর বহু দুর,
লোক নিন্দার ভয় করবো জয় নিশ্চয়।
কলঙ্ক তিলক হোক অলংকার,
তোমার প্রেম থাকুক মম অন্তরের অন্তস্থলে।
তুমি হও আপন ,হও একান্ত নিজের।
শুধু মাত্র আপনার ।

[৫]
প্রকৃত স্বাধীনতা
______________

পরের সম্পদ নিজ অধিকারে পাওয়ার লোভ
কখনো রেখো না মনে।
অল্পতেই সন্তুষ্ট হয়ে জীবন উৎসর্গ করো
মানবতার কল্যাণে।
ভেবে দেখেছো কি কখনো অঢেল সম্পদ গড়েছে
যে দুর্জন ব্যক্তি।
কেটেছে কি তার ইহ জন্মে আরো অধিক
লাভের আসক্তি?
পেয়েছে কি সে খুঁজে প্রাচুর্যের মাঝে
সত্যিকারের সুখ।
খবর নিয়ে দেখো মনো বৈকল্য তার
প্রধানতম অসুখ।
দু হাতা ভাত,পরিধেয় বস্ত্র একটু মাথা
গোঁজার ঠাঁই।
চির সুখী সে জন,যে জন অল্পতেই সন্তুষ্ট
হয়ে সাজিয়েছে নিজ আশ্রয়।
ফন্দী ফিকিরে সম্পদ গড়তে গড়তে
বেলা ফুরিয়ে হয় শেষ।
সুখ স্বাচ্ছন্দ্যের মিছে মরিচীকায় ফাঁদে
দুঃখ অনিঃশেষ।
এসো ত্যাগের মহান আদর্শে, পরিহার করি
যত মিথ্যা পাপাচার।
পরহিতে জীবন উৎসর্গ করি,
সেবক হই মানবতার।
তবেই যেনো পাবো প্রকৃত স্বাধীনতার স্বাদ,
প্রকৃত সোনার দেশ।
এগিয়ে যাবে দূর্বার গতিতে লাখো শহীদের
রক্তে গড়া আমাদের বাংলাদেশ।

[৬]
তবুও ছায়া হয়ে পাশে আছি
________________________

শত চেষ্টায় তোমার মনের নাগাল না পেলেও
তোমার ছায়ার পিছু ছাড়িনি কখনো।
তোমার মন বারান্দায় ঠাঁই না পেলে কি হবে প্রিয় ,
তোমায় নিয়ে ভালোমন্দ স্মৃতিগুলো ঠিকই বুকপকেটে নিয়েছে আশ্রয়।
মন ভেঙে কি সুখ পেলে জানি না,
কিন্তু সত্যি যেন তাতেও তোমার কোন দোষ দেখি না।
এখনো আশা রাখি তোমাতে,
এখনো ভরসা রাখি তোমাতে,
তোমার ভাবনায় মন হয় উন্মুক্ত সারাক্ষণ,
দিবস রজনী প্রতিটি প্রহর।
জানি তোমার সুরে বেঁধেছি আমার সুর
তুমি যতই যাও না কেন দুর বহুদুর।
আমি আছি তব গানের মাঝে
ছায়া হয়ে পাশে পাশে নই অদুর।

[৭]
ছন্নছাড়া
_________
আচমকা,

বুকের মরুতে তুমি হঠাৎ শীতল হাওয়া হয়ে বয়ে গেলে যেন তেড়েফুঁড়ে।
তুমি কি জানো
আমার কাছে এক আকাশ আনন্দ তোমার উদাসী চাওয়া?
যদি কিছু মনে না করো,জানতে সাধ হয়,
কেনগো বালিকা এখনো কারো হওনি?
ছেড়েছো খোঁপা সেই সে কবে এখনো বাঁধোনি।
এতোটা উদাসী হলে কি চলে?
গাঁটছড়া বেঁধে ফেলো কোথাও না কোথাও
বেলা যে বয়ে যায়।
কেমন বিষন্ন মন নিয়ে থাকো দুর পানে চেয়ে।
সত্যি কষ্ট হয় তোমায় দেখে দেখে।
তবে কি তোমায় বেসেছি ভালো।
অবশেষে
তোমার তীরে কি তবে আমার তরী ভীড়লো?
বুঝিনা না কিছু তবে কেন জানি মায়া মায়া লাগে।
তোমায় নিয়ে ভাবনায় অলীক স্বপ্ন মনে জাগে।

[৮]
পাষাণী
__________

স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যায়
বাস্তব আর হলো না।
কষ্টের অনল বুকেতে জ্বলে
সে তো আর নেভে না।
কেন তুমি এতোটা নিষ্ঠুর,
কেন এতো পাষাণ?
কি দোষে পোড়ালে বল
সাজানো বাগান।

[৯]
বিষ্ময়
________

বড় বিস্ময়ে অবাক হয়ে ফিরে দেখি।
মনের স্মৃতিপটে।
যত দেখি তত বিষ্ময় জাগে হারানো সে দিনগুলির দিকে তাকিয়ে !
সময় সর্বদা প্রবাহমান ,
অথচ স্মৃতিপটের ফ্রেমে
সময় থেমে আছে কত কত বছর ধরে।
কত রূপ গেছে হারিয়ে
কত হাজার পরিবর্তন।
হারিয়েছে কেউ কেউ মহাকালের অতলে
অথচ মানসপটে আটকে যাওয়া সময়ে তারা প্রত্যেকেই জীবিত।

[১০]
তুমি যেন সদ্য প্রস্ফুটিত স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা
______________________________________________

সকালের স্বেদহীন নীলাভ আকাশ।
সদ্য জোছনা স্নাত রূপালী গাছের পাতায়,
নবীন তির্যক রবি কিরণ যেন,
প্রিয়তমা লাবণ্য মন্ডিত মায়াময় কোমল মুখের আদল।
এমন আলো ঝলমল রঙিন দ্যুতিময় দিনে,
কোমল মায়াবতী তুমি ছুটে চলেছো,শিশির মাড়িয়ে গায়ের মেঠো আলপথ ধরে।
দিগন্ত জুড়ে সবুজ কচি ধান ক্ষেত পেরিয়ে।
মনোমুগ্ধকর সবুজের মাঝে তুমি রক্ত লাল পোষাকে
ঠিক যেন সদ্য প্রস্ফুটিত স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা।

© রফিকুল ইসলাম ইসিয়াক

সবার জন্য নববর্ষের শুভেচ্ছা রইলো।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ২০২০ সকাল ৮:৩০
৯টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×