somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রাইটার্স ব্লক

০৪ ঠা নভেম্বর, ২০১৯ রাত ১১:৫১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

হচ্ছে না...

হচ্ছে না ইদানিং। সন্ধ্যা থেকে এখন অব্দি গোটা সাত আট ফুল পেগ মেরে ঝিম ধরে বসে আছি। এইতো কিছুদিন আগেও দুপেগেই সাহিত্য গড় গড় করে বেরুত। উগড়ে দেওয়া আবেগ বলপেনে সৎকার করে নিশ্চিন্ত মনে আরো এক পেগ সাথে পাতার বিড়ি নইলে সস্তা সিগারেট, বেশ চলে যাচ্ছিল। কাটতি আমার ভালোই, ইদানিং পাব্লিক সাহিত্য বলতে বুঝে কে কত কাঁচা খিস্তি করতে পারে, শরীরের ভাঁজের উপমাটা কতটা প্রশংসার খাঁজে সাজানো যায় তাই বোঝে। আমি তো আর ওসব ছাই পাশ লিখি না। নারীনং কামনায়ং তপ তপস্যার চটিফটি লেখার জন্যে রবি মশায় বাদে আজ অব্দি কেউ নোবেল পেল না, পেলে হয়ত ঐ কফি হাউজের নাচিয়েটার ভূয়সী প্রশংশা করেছিল না কোন ছেলেটা ?? কি নাম যেন - অহ গোবিন, সেই পেত। এমন অখাদ্য কেমন করে যে পত্রিকায় ছাপে আর মানুষ খায় আমার মাথায় ঢোকে না।

নাহ আজ মনে হয় বেশীই হয়ে গেছে। বয়সের ভারে আর পারি না আগের মত। এইত সেদিনই যেন গোটা শহরে গেল গেল রব পড়ল। নবীন এক লেখকের এক লেখায় জাত পাত সবই গেল। আমার হাসিই পায় বুঝলে, লেখায় কেন জাত যাবে?? জাত যাওয়া কি এতই সোজা। কই এত পড়াশুনা করে মানুষের মত মানুষ যাদের হবার কথা তাদের ছেনালগিরি আর উপরি কামাইয়ে কি জাত যায় না সমাজের?? খুন দাঙ্গা আর ধর্ষনের খবরে যাদের হাই ওঠে তাদেরই পা চাটতে চাটতে তো বেলা ফুরায়। উপরে বসে এক কলমের খোঁচায় নিম্ন মধ্যবিত্তের সব স্বপ্ন শেষ করে দিতে তারা একবারও কি দ্বিধা করে?? করে না হয়ত,নইলে করার অবকাশ নেই। হুকুমদারের উপরেও হুকুমদার থাকে, তার উপর থাকে কাগ। কাগ কি চেন ?? কাগ বাঘের উপরে যে থাকে সে। তাতে আমার মত ভূত লেখকের কোন কিছু যায় ও না আসেও না। বেনামে লিখি, বেচে দেই, তারপর কি হয় না হয় আমার তাতে কিসসু যায় আসে না।

সেদিন শেষ বেলায় এক ভদ্রলোক এলেন, বললেন একটা গল্প লিখতে হবে। কি গল্প?? তার জীবনের গল্প।সোজা না করে দিলাম, যে ব্যাক্তি নিজের গল্প নিজেই লেখাতে আসে সে যাই হোক ভগবানের সাথে নিজের মিল না পাওয়া পর্যন্ত সে খ্যান্ত হবে না।তার অর্জন যতই ছোট হোক না কেন সেটা হতে হবে সূর্যসম উজ্জ্বল। হাওলাদার চক্কোত্তি এসব লেখে না। তবে আমি কি লিখতে চাই এখন নিজেও জানি না। সমাজ নিয়ে লিখব?? সে তো কবেই পচে গেছে, মরা মানুষের দূর্গন্ধ ছড়ায় তাতে। যতই এগিয়ে নিতে চাও না কেন গোত্তা মেরে তা আবার তোমার পরদাদাদের আমলেই ফিরে যাবে। আগের দিন ভাল ছিল এটা শুনবে সবার কাছেই, আগের দিনে কি খুন ধর্ষন ছিল না ?? আগে কি সবাই সাধু ছিল?? উপরি খেত না কেউ?? জমিদার বংশ বলে গর্ব করা মানুষটারও বংশে হাজারো খুনের দাগ, চোখের নোনা জল আর শোষণের ইতিহাস। এসব কেউ ঘাঁটতে যায় এখন ?? পয়সা হলেই পা চাটতে ব্যাস্ত সবাই, পাছে কিছু সুবিধা পাওয়া যায় যদি।

আর ভালোবাসা এখন চটকদার বস্ত, এক চিমটি ঝামেলার সাথে একটু অনিশ্চয়তা আর আবেগ মিশিয়ে দাও, আর শেষটা যেন মিল হয় বুঝলে, তবেই না সেটা ভালবাসা। আমাকে বুঝল না, এত কিছুর পরেও ছেড়ে চলে গেল, বাড়িতে মেনে নেয় নি এসব দিয়ে আর ভালবাসা হয় না। এখনকার ভালবাসা হয় লাভ ক্ষতিতে, আর আমিত্বটা থাকতে হবে ষোলআনা। নিজেকে বদলে, পাশের মানুষটাকে একটু বুঝে কিংবা আঁকড়ে ধরে সৎ থাকাটা তো আজ নেই বললেই চলে। বাজারে আসা নতুন জামার মতই বদলে ফেলা যায় সব এখন কিন্তু সেই পুরোনটাকেই আঁকড়ে ধরে রাখার ধ্বজী আর সাহস এখন কোনটাই দেখতে পাই নে। দোষ কাকে দেব আর কাকে দেব না, আসলে আমাদের মনেই পচন ধরে গেছে, কারূ ভাল কেউ দেখতে তো পায়-ই না উলটো আমার কেন হল না এমন তার কেন হল এই নিয়েই হায় হুতাশ করতে ব্যাস্ত সবাই। নিজের কি আছে সেটা নিয়ে দেখার অবকাশ নেই। এসব রদ্দি মার্কা ন্যাকামো আমার আসে না মশায়। ভালবাসতে শক্তি লাগে, ভেতর থেকে আসতে হয়, নইলে সেটা টিকবে কি করে শুনি ??

আবোলতাবোল বকছি, নাহ আজ আসলেই চড়ে গেছে। নিশুতি রাত, অমবশ্যাই হবে নইলে বাইরে এমন ঘুটঘুটে অন্ধকার কেন?? বোতলটা সামনেই, বিলেতি। দুদিন আগে রাতুল এসে দিয়ে গেছে। ছেলেটা ভালোই তবে মাথায় একটু সমস্যা আছে। কি এক মেয়ের পাল্লায় পড়ে রাত দিন মায়া মায়া বলে পার করে দিচ্ছে। বলেছিলাম বাছা তোর লেখার হাত ভাল, কলমটা ধর। অনেক উন্নতি করতে পারবি। বোকাটা তার ঝুলি থেকে খাতা বের করে দেখালো কবিতা। ভালো লেখা, বললাম এটা দে আমি কোথাও ছাপিয়ে দেই, দু এক কড়ি যাই পাবি তাই দিয়ে জুতোটা সারিয়ে নিস। বলল না দাদা, এ শুধু তার জন্যেই লেখা। গোটা বিশেক লিখেছি,সব তার জন্যেই। কোন মানে হয়?? আরে বাবা তাকেই নাহয় গোটা কতক বাদাম কিনে দিতি, নইলে কাঁচের চুড়ি আর টিপ। নাহ, এসবের ধারের কাছে সে নেই। কেন বাপু, কড়ি ছাড়া এই ভবে কে তোমাকে কিছু দেবে?? বোঝে না, বয়স হলে ঠিকই বুঝবে।

অর্থ বিত্তের কমতি নেই আমার, গোটা দুয়েক ছেলেপুলে আছে,পড়াশুনা করে। বড়জন হবে মস্ত উকিল যদিও বুদ্ধিশুদ্ধি তেমন খোলতাই না। আর আরেকজন তো সমাজ সেবক হবে, দেশ বদলে ফেলবে হেন করবে তেন করবে। করবে কচু, এসবে হয়ত সাময়িক আরাম পাওয়া যায় তবে ভাত কাপড় যোগাতে সেই রাস্তায়ই নামতে হয় জুতোর তলা ক্ষয় করতে। যে সমাজে পয়সা কথা বলে সে সমাজে এসবের কোন মূল্য নেই। আমি লিখব শুনে আমার পিতাস্রী আমাকে জুতোপেটা করেছিলেন, আজ বই বেরুবার পর আমি নাকি তার লক্ষ্মী ছেলে তিনি আগেই জানতেন আমি অনেক বড় লেখক হব। হাসি পায় আমার, মুখোশ বদলাবার হাসি, মুখোশ বদল দেখবার হাসি। যা করেছি আমি নিজেই, একাই। অবশ্য আমার বউ সাথে ছিল, প্রেম করে বিয়ে তবে একটু জেদী মেয়েছেলে হলে যা হয় আরকি। তাকে বোঝাতে অনেক বেগ পেতে হয়েছিল, এখন দিব্যি সুখে আছে সে, কার্পন্য করিনি যে। তবে কি আমার সব না থাকাতেই সে পাশে ছিল, এমনটা আর হয় না এখন। বিধাতা আমাকে দিয়েছেন অনেক কিন্তু কি যেন খচখচ করছে মনে, কি যেন নেই।

সিগারেটের আগুন অনেক আগেই নিভে গিয়েছে, আরেকটা ধরালাম। হাত কাঁপছে। অনেক আগে একটা লেখা পড়েছিলাম, এমন নাকি হয়। মাথাটা কাজ করতে চায় না, ভবানীপুরের ওই রথের মেলার মাঠ ভরদুপুরে যেমন খালি তেপান্তর ঠিক তেমনি থাকে, না আসে রস না আসে কষ। ছোট বেলায় রস কষ খেলেছি বলে মনে পড়ছে,আর এখন দেখ আমাকে নিয়েই কেউ যেন খেলছে। শুধু একটা খোঁড়া বড়ে ছাড়া নিজেকে কিছুই মনে হয় না। বউটা বাপের বাড়ি চলে গেছে রাগ করে, যাক, বাধা দেইনি। জানি আবার চলে আসবে। কিন্তু আমার লেখাটা .......।
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০১৯ রাত ১১:৫১
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মহাসাগরের ধারের সেই ছোট্ট দ্বীপ সামোয়া এবং বিশ্বকাপ ফুটবল

লিখেছেন হাসান মাহবুব, ০২ রা জুলাই, ২০২৬ রাত ১০:৩২

বিশ্বকাপের এই মৌসুমে ফুটবল নিয়ে একটা দারুণ হার্ট লিফটিং মুভি দেখে ফেললাম - "Next Goal Wins"
গল্পটা আমেরিকান সামোয়ার জাতীয় ফুটবল দলকে নিয়ে। ২০০১ সালে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৩১-০ গোলে হেরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

সিনেমা-গান-খেলাধুলা

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ রাত ২:১৭

আইন সমাজ নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি নয়। আইন দৃশ্যমান, প্রতিরোধযোগ্য। সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি হলো মানুষকে নিজেই নিজের আনন্দ নিষিদ্ধ করতে শেখানো। জীবন থেকে আনন্দের উচ্ছেদ ঘটানো। এই কাজটি বাংলাদেশে গত... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রতি বছর জুলাই আসলেই কি কাউয়া ক্যাচাল লাগতে হবে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ রাত ৩:৫০


জুলাই মাসটা আবার ঘুরে ফিরে আসতেই দেশের রাজনৈতিক পাড়ায় পারদ চড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে যারা গত দুই বছর আগের আন্দোলনের ফসল ঘরে তুলেছেন, তাদের কাছে এই জুলাইয়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ওরা ভয়ংকর

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ সকাল ৮:৪৯



বাঙালির উদরঘাটতি থাকলেও উৎসবে সদা মশগুল!
দ্যাশ নতুন কইরা স্বাধীন হইছে গো!
রঙবেরঙে পতাকায় বিলুপ্ত স্বজাতির মানচিত্র!

শুধু পতাকায় সীমাবদ্ধ নেই!
মনে হচ্ছে পাল্টে গেছে জাতীয়তা!
মধ্যরাতে ভেঙে যায় সুনিদ্রা কর্কশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

জাপান যেভাবে মাত্র ৭ বছরে অর্থনৈতিক পরাশক্তিতে পরিণত হয়

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:২৭



জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হায়াতো ইকেদা ১৯৬০ সালের শেষভাগে তাঁর বিখ্যাত "ইনকাম ডাবলিং প্ল্যান" বা "আয় দ্বিগুণকরণ পরিকল্পনা" চালু করেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসস্তূপ থেকে ফিনিক্স পাখির মতো জাপানের অর্থনৈতিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

×