মালয়েশিয়া ঘুরে এলাম। দেখে এলাম অনেক কিছু। কুয়ালালামপুরের রাস্তায় জ্যাম নেই, মানুষ মোটামুটি আইন মেনে চলার চেষ্টা করে, যোগাযোগ ব্যবস্থা অনেক উন্নত, প্রায় সবকিছুতেই ওরা আমাদের থেকে যোজন ব্যবধানে এগিয়ে, তাই স্বাভাবিকভাবেই এগুলো নিয়ে বলার কিছু নেই। তবে কয়েকটা জিনিসে আমরা এখনো ওদের থেকে অনেক এগিয়ে আছি! সেগুলো নিয়ে লিখতেই বসা।
১) ওদের দেশের গাড়ির চালকেরা মনেহয় হর্ন বাজাতে পারেনা। এমনও হতেপারে গাড়িতে হর্নই নেই! ৫ দিনে একবারের জন্যও হর্নের শব্দ না শুনে মনে হলো আমরাই ভালো আছি! যখন তখন প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে অন্যের কানের কাছে শুধু ‘প্যাকককককক ......’ বাজিয়েই শান্ত হইনা, গাড়ির পেছনে সুন্দর করে লিখেও রাখি “ভ্যাপু বাজান”!!
২) পুরো দেড় দিন ধরে কুয়ালালামপুর শহর ঘুরেছি। কোথাও কোন দেয়ালে একটা পোষ্টার মারা দেখিনি। একটা ফেস্টুন নেই, একটা ব্যানার নেই!! “ওমুক ভাইকে তমুক পদে নির্বাচন করায় ওমুককে অভিনন্দন” নেই। একদ ল আরেক দলের বিরুদ্ধে প্রচারনার জন্য ‘বিভৎস’ সব ছবি হাইরেজুলেশনে কালার প্রিন্ট করে দেয়ালে দেয়ালে সাটানো নেই! মুদ্রন ও প্রকাশনায় আমরা ওদের থেকে অনেক গুন এগিয়ে আছি!
৩) সবথেকে বড় যে জিনিসটা ওদের নেই সেটা হলো স্বাধীনতার সুখ! যেখান সেখান দিয়ে কেউ রাস্তা পার হওয়ার আনন্দ নিতে পারেনা। ট্রাফিক পুলিশ না থাকার পরও সবাই সিগনাল মেনে চলে! রাস্তার মাঝখানে গাড়ি থামিয়ে ‘ঐ ফার্মগেট গুলিস্তান’ বলে চিল্লা পাল্লা করা নেই! তাহলে আছেটা কি?? মানুষ জন রাস্তায় দাড়িয়ে মনের সুখে সিগারেট টানার আনন্দ থেকেও বঞ্চিত। সম্ভবত কেউ রাস্তায় দাঁড়িয়ে সিগারেট খায়না, খেলেও অন্তত আমার চোখে পড়েনি।
তবে একজন পড়েছিল। এগিয়ে যেয়ে বেশ সাহস নিয়ে বাংলায়ই জিজ্ঞাস করেছিলাম “ভাই কি বাংলাদেশী?” ভাই খুব মিষ্টি করে হেসে দিয়ে উত্তর দিয়েছিল, “জ্বি ভাই, বুঝলেন ক্যাম্নে!?”
ক্যাম্নে যে বুঝলাম, তাই কি আর বলা যায়!! (দীর্ঘশ্বাস...!!)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


