somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যুদ্ধ যখন পতাকা নিয়ে

০৫ ই ডিসেম্বর, ২০১৪ রাত ১১:৪৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পতাকা ইশ্যু নিয়ে কিছু বলতেই হচ্ছে।বরাবরের মত বাঙালি পাছার মত দুই ভাগে বিভক্ত।কেউ পতাকা প্রফাইল পিকচার করবে।কেউ সেটা করবে না।যারা করবে না তারা সবাই অন্য পক্ষকে গালি দিচ্ছে মৌসুমী দেশপ্রেমিক হিসেবে।কিন্তু এইদিকে নিজে এই ছোট্ট কাজটা করতেও নারাজ।হুম।তিনি বিরাট দেশপ্রেমিক।তিনি এইসব ছোট খাটো কাজ কেনো করবেন?তিনি পহেলা বৈশাখে পান্তা,ইলিশ খান না।এতে একদিনের বাঙালি হওয়া হয়,তিনি একুশে ফেব্রুয়ারীতে শহীদ মিনারে যান না এতে ভাষা সৈনিকদের অপমান করা হয়,তিনি ছাব্বিশে মার্চ ও পালন করেন না।কারন তিনি আসল দেশ প্রেমিক।এই সব ছোট খাটো সেন্টিমেন্টে তিনি মাতা ঘামান না।তিনি বড় বড় কাজ করবেন।কবে করবেন জানান নি।তবে করবেন।এছাড়া তিনি মা দিবস পালন করেন না।কারন মায়ের প্রতি ভালোবাসা শুধু একদিনের নয়।তিনি বাবা দিবস ও পালন করেন না।কারন বাবার জন্য ভালোবাসা তার একদিনের জন্য নয়।তিনি বন্ধু দিবস ও পালন করেন না।কারন বন্ধুত্ব অনেক বড় একটা ব্যাপার।শুধু একদিনের জন্য সেটা নয়।এভাবে বছরে ৩৬৫টা দিন তিনি স্রোতের বিপরীতে গা ভাসিয়ে না তিনি হতে পারেন একজন দেশপ্রেমিক,না তিনি হতে পারেন একজন বন্ধু কিংবা সন্তান।তিনি কপট ই থেকে যান।

কিন্তু হ্যাঁ।যে প্রফাইল পিকচার হিসেবে পতাকা দিয়েছে বা যে পতাকা দেন নি,যে মা দিবস পালন করেছে বা যে করে নি,যে বাবা দিবস ভুলে গেছে বা যে যায় নি তারা সবাই ই সাকিব ছয় মারলে চিৎকার দিয়ে লাফিয়ে ওঠে,৭ই মার্চের ভাষন শুনলে এখনো সবার গায়ের লোম খাড়া হয়ে যায়,রক্ত টগবগ করে।বিশ্বাস করুন উভয় পক্ষই জাতীয় সঙ্গিত শুনলে আবেগী হয় যায়।এরা সবাই কিন্তু মা এর মুখ দেখার জন্য আকুল হয়ে থাকে,মধ্যরাতে বাবার ফোন কল আসলে সবাই চিন্তিত হয়।সবার বুক ধরফর করে ওঠে।-"কোন বিপদ হল না তো আবার?"এসব কিন্তু শুধু একদিনের জন্য নয়।এটা প্রতিটা দিন,প্রতিটা ক্ষন।
বন্ধু অসুস্থ হলে সবাই ই ছুটে যায়।হোক সকাল,দুপুর বা মধ্যরাত।

এক একজনের ভালোবাসার পদ্ধতি এক এক রকম।কেউ প্রফাইল পিকচার চেঞ্জ করে ভালোবাসা প্রকাশ করে,কেউ সেটা না করে ভালোবাসা নিজের কাছে গোপন রেখে ভালোবাসে।কিন্তু ওই একটা জিনিস কিন্তু কমন।জ্বী।তারা উভয় ই ভালোবাসে।শুধু পদ্ধতিটা আলাদা।বুঝেছেন?পানি কিন্তু পরিষ্কার।দুই পক্ষে ভাগ হয়ে পানি ঘোলা করতে করতে না আবার ভালোবাসতেই ভুলে যান।তখন কিন্তু ব্যাপারটা ভয়ানক হবে।

ভালোবাসুন যেভাবে খুশি।আপনার নিজস্ব পদ্ধতিতে।কিন্তু ভালোবাসা যেন হারিয়ে না যায়।ভালোবাসুন,ভালোবাসুন এবং ভালোবাসুন।ঠিক আছে?আপনার নিজের কাছে যদি আপনি সৎ থাকেন,আপনার নিজের কাছে যদি মনে হয় আপনি ঠিক আছেন,আপনার যুক্তি ঠিক আছে,আপনার ভালোবাসার পদ্ধতি যদি আপনার কাছে ঠিক মনে হয় তো ঠিক।সব ঠিক।দুনিয়া ঠিক।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ধর্মোন্মাদদের কল্পিত বাস্তবতা: "দি ম্যাট্রিক্স" এবং নীল বড়ি

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:১৭


বাংলাদেশ ধর্মোন্মাদ ও জঙ্গিদের কবলে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধম্যের কল্যানে এই ধর্মোন্মাদনা দাবানলের মতো সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে।

ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে, কদিন আগে সাতক্ষীরায় একদল ধর্মোন্মাদ ও জঙ্গি ওয়াহিদুজ্জামান শামীম... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফেসবুক অ্যাক্টিভ মানেই- অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট নয়।

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:১৩

ফেসবুক অ্যাক্টিভ মানেই- অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট নয়।

বর্তমান ডিজিটাল যুগে ‘অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট’ একটি বহুল ব্যবহৃত পরিচয়। সামাজিক এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে এই পরিচয়ের কদর দিন দিন বাড়ছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে- ফেসবুকে নিয়মিত পোস্ট... ...বাকিটুকু পড়ুন

যারা ব্রয়লার মুরগী খায় তারা সমকামী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৩


ওয়াজ শোনেন অথচ মুফতি কাজী ইব্রাহিম হুজুরকে চেনেন না, এমন মানুষ বাংলাদেশে খুব কমই আছেন। হুজুরের আরেকটি বড় পরিচয় হলো, তিনি করোনার ওষুধ স্বপ্নে পেয়েছেন বলে দাবি করেছিলেন। হুজুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেইপ শিফটার ৩ - মাছ কন্যা

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:১৯


২০১১ এর দিকে নর্থ –ইয়র্কে থাকাকালীন রুমার বাসার আশেপাশে তেমন কোন বাঙালি দোকান ছিল না ।সেই টরোন্টর নামকরা চাইনিজ সুপারমার্কেট –টা বেশ দূরে। পায়ে হেঁটে যাওয়ার পথ নয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে পথ ধরে রথো রাফি হেঁটে যেতেন: চলে গেলেন ব্লগার রাফি

লিখেছেন শরৎ চৌধুরী, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:০৩

কবি, ব্লগার ও অনুবাদক রথো রাফির স্মরণ
রথো রাফি ব্লগ
রথো রাফি আর নেই—সত্যটি মেনে নেওয়া ভীষণ কঠিন। একজন মানুষের চিরপ্রস্থানের পর আমরা কেবল তার শারীরিক অনুপস্থিতিই টের পাই না, বরং গভীরভাবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×