somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রঙ্গীন ঘুড়ি
উড়তে ভালো লাগে,মেঘের সাথে লুকোচুরি ভাল লাগে। ভাল লাগে এক আকাশ তারা কে সাক্ষী রেখে নাবিকের মত পথ খুঁজে নিতে। চোখ বন্ধ করে একটা নীল সমুদ্র আকঁতে ভাল লাগে। আর ভাল লাগে "তুমি" তে হারিয়ে যেতে ।

"বয়:সন্ধি,আত্মহত্যার জিজ্ঞাসা এবং একটি উত্তর "

০৪ ঠা জুলাই, ২০১৬ রাত ৮:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আপনার মোটামুটি সবটুকু জানলাম যতটা আপনি বললেন। আপনি সেই ছোট বেলা থেকে খুব বড় ধরণের একটা শকের মধ্যে ছিলেন। একটা ছোট বাচ্চা কিভাবে বড় হয় জানেন? বাবা-মা এর সমান সমান,কখনো বাবার বেশি আদর কখনো মায়ের বেশি আদরে। এটা একটা শিশুর সুস্থ বিকাশ দেয়। আপনি সেই পরিবেশটা পান নি। আপনার ভাই সেটা মানিয়ে নিতে পেরেছে। কিন্তু আপনি পারছেন না।

এবার একটু অন্যদিকে আসি। আপনি যে বয়স টা পার করছেন সে বয়স টা পুরো জীবনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জিং একটা সময়। এই সময়ে মানুষের মনের ব্যাপক চ্যাঞ্জ ঘটে । নাটকীয় পরিবর্তন যাকে বলে। আস্তে আস্তে পৃথিবীটা অনেক বেশি সুন্দর,একটু ঘুরে বেড়ানো, নিজের স্বাধীনতা, একটু খানি ফ্যান্টাসি কারো কথা ভেবে,অনেক বেশি ইমোশনাল। এটা শুধু আপনি না আপনার বয়স পাড় করা প্রতিটা ছেলে মেয়ের জন্য প্রযোজ্য। কিছু ভাল লাগে না মনে হয়।

আচ্ছা, মানুষ কেন আত্মহত্যা করে? নিশ্চয় খুব বেশি মানসিক কষ্ট কিংবা খুব বেশি ইমোশনাল হয়ে গেলে। তাই না?? আত্মহত্যা কতটা যুক্তিযুক্ত?? আপনি পৃথিবীতে এসেছেন একটা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য। এই সময়ের পর আপনি চাইলেও নিজেকে ধরে রাখতে পারবেন না। দুনিয়ার জীবনটা অনেক বেশি উপভোগ্য। অনেক বেশি সুন্দর। এই একটা জীবন চলে গেলে আর আসবে না। আপনি চলে গেলে কি হবে?? আপনার জন্য মানুষ ২ দিন কাঁদবে। আপনার মা,বাবা, ভাই মাসের পর মাস আপনার শত স্মৃতি মনে করে লুকিয়ে লুকিয়ে কাঁদবে। কিন্তু তারপর?? সময় সব ক্ষত শুকিয়ে দেয়। একসময় সবাই ভুলে যাবে তারিন নামে কেউ একজন ছিল। আর আপনি বাঁচলে কি হবে?? কারো কোন লাভ হবে না। লাভ টা হবে আপনার ই। আপনি আরো কিছুদিন স্বপ্ন দেখতে পারবেন। আরো কিছুদিন নিজের মত নিজের তৈরি একটা পৃথিবীতে ঘুরতে পারবেন। হয়ত কেউ একজন আপনার হাতটা একবার ধরবে বলেই আছে। কেন তাকে নিরাশ করবেন?? কোন দু:খই চিরস্থায়ী না। বিশ্বাস করেন কোন দু:খই চিরস্থায়ী হয় না। চোখ বন্ধ করে একটা অন্ধকার তারা ভরা আকাশ কল্পনা করুন। কল্পনা করুন আপনি পাহাড়ের ঠিক চূড়ায় শোয়ে শোয়ে একটা পূর্ণিমার চাঁদ আর এক আকাশ তারা দেখছেন। পাশে আপনার প্রিয় মানুষ। যে মানুষ শুধুই আপনাকে পেয়ে খুশী। তার আর কিছুই পাওয়ার নেই। দেখুন তো জীবনটা কত বেশি সুন্দর। তবে কেন মরে যাবেন?? একটুও কি ইচ্ছা করে না বিকাল বেলা এক চিলতে আলো আপনার জানালার কাঁচ গলে গালে এসে পড়ুক?? জীবনটা সিনেমা না। নাটক না। যেখানে সবটা জুড়ে সুখ আর সুখ। জীবনটা উপন্যাসের মত। যেখানে সুখের পর দু:খ তারপর আবার সুখ।

সুখ লুকিয়ে থাকে খুব ছোট খাট কোন কাজে। খুঁজে বের করে বুকের ভিতর রাখতে হয়। আমি আমার কথাই বলি। আমার কোনদিনই কোন ধরণের এক্সট্রা চাহিদা ছিলো না। যতটুকু সুখ তা যদি খুব অল্প হয় তাতেই আমি খুশি। :) সিম্পল জীবন। সাদামাটা সবকিছুই।


জীবনকে জটিল করলে শুধু জটিলই হবে। সহজ সরল করে দিন জীবনকে। কারো চোখের তারায়,কারো ঠোটের হাসির মাঝে হারিয়ে যান। নিজেকে খুঁজে পাবেন। যে মানুষ আপনার গুরুত্ব বুঝবে তাকে মনে প্রাণে ধরে রাখুন। যেতে দিবেন না। এতবেশি ভালবাসা দিবেন যেন সে আর যেতেই না পারে এই মায়া ছেড়ে !

আপনার জীবনের অনেক বেশি মূল্য। অনেক বেশি। আমি বলবো আপনি এমন কিছু করুন যা আপনার ভাল লাগে। এই যেমন আমি ফেসবুকে টুকটাক লিখি,ছবি তুলি এগুলো আমার ভাল লাগে। আমার সময় কেটে যায়। সৃজনশীল কাজে নিজেকে মেলে ধরুন সবার সামনে। একটা লাইন আছে এমন, "মেয়ে, তুমি অনন্যা,অদ্বিতীয়া " মাথায় রাখবেন।

আর একটা কথা। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়বেন। দেখবেন কতটা শান্তি লাগে। আমি যখন খুব হতাশায় পড়ে যায় তখন আল্লাহকে ডাকি এক মনে। খুব বেশি শান্তি পাই তখন। বিপদ যায় না তবে বিপদ কাটানো র মত মানসিক শক্তি পাই।

দিনশেষে এক একটা দিন বেঁচে থাকা আল্লাহর বিশেষ নিয়ামত। আল্লাহ স্পষ্ট বলে দিয়েছেন "আত্মহত্যাকারী" কোনদিনই জান্নাতে প্রবেশ করবে না। তাদের জন্য রয়েছে নরকের সর্বনিম্নতম জায়গা।

আশা করি আমার সবগুলো কথা বুঝতে পেরেছেন এবং খুব ভাল করে মেনে চলবেন। জীবনটা আপনার, তাকে সুন্দর করার দায়িত্ব ও আপনার। কষ্ট সব ঠিক হয়ে যাবে। ধৈর্য্য ধরুন, আস্থা রাখুন সৃষ্টিকর্তার উপর। ধন্যবাদ
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা জুলাই, ২০১৬ রাত ৮:২৩
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ধর্মোন্মাদদের কল্পিত বাস্তবতা: "দি ম্যাট্রিক্স" এবং নীল বড়ি

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:১৭


বাংলাদেশ ধর্মোন্মাদ ও জঙ্গিদের কবলে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধম্যের কল্যানে এই ধর্মোন্মাদনা দাবানলের মতো সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে।

ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে, কদিন আগে সাতক্ষীরায় একদল ধর্মোন্মাদ ও জঙ্গি ওয়াহিদুজ্জামান শামীম... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফেসবুক অ্যাক্টিভ মানেই- অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট নয়।

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:১৩

ফেসবুক অ্যাক্টিভ মানেই- অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট নয়।

বর্তমান ডিজিটাল যুগে ‘অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট’ একটি বহুল ব্যবহৃত পরিচয়। সামাজিক এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে এই পরিচয়ের কদর দিন দিন বাড়ছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে- ফেসবুকে নিয়মিত পোস্ট... ...বাকিটুকু পড়ুন

যারা ব্রয়লার মুরগী খায় তারা সমকামী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৩


ওয়াজ শোনেন অথচ মুফতি কাজী ইব্রাহিম হুজুরকে চেনেন না, এমন মানুষ বাংলাদেশে খুব কমই আছেন। হুজুরের আরেকটি বড় পরিচয় হলো, তিনি করোনার ওষুধ স্বপ্নে পেয়েছেন বলে দাবি করেছিলেন। হুজুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেইপ শিফটার ৩ - মাছ কন্যা

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:১৯


২০১১ এর দিকে নর্থ –ইয়র্কে থাকাকালীন রুমার বাসার আশেপাশে তেমন কোন বাঙালি দোকান ছিল না ।সেই টরোন্টর নামকরা চাইনিজ সুপারমার্কেট –টা বেশ দূরে। পায়ে হেঁটে যাওয়ার পথ নয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে পথ ধরে রথো রাফি হেঁটে যেতেন: চলে গেলেন ব্লগার রাফি

লিখেছেন শরৎ চৌধুরী, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:০৩

কবি, ব্লগার ও অনুবাদক রথো রাফির স্মরণ
রথো রাফি ব্লগ
রথো রাফি আর নেই—সত্যটি মেনে নেওয়া ভীষণ কঠিন। একজন মানুষের চিরপ্রস্থানের পর আমরা কেবল তার শারীরিক অনুপস্থিতিই টের পাই না, বরং গভীরভাবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×