somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

লিখন, পুনর্লিখন। সৃষ্টি, পুনঃসৃষ্টি

০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২১ রাত ১১:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



চোখের অন্দরমহল

তাঁবুর ভিতরকার জীবনের একটা স্মৃতি আমার মধ্যে প্রবল হয়ে উঠছে।/টর্চটা নিভিয়ে দিয়ে যেই না ঘুমানোর চেষ্টা করতাম,/অমনি আমার চোখের সামনে অন্ধকারে ভেসে উঠতো/কত কী ছবি..।অমূলপ্রত্যক্ষ নিয়ে এরকম কিছু কবিতা পড়ছিলাম কবি কেতকী কুশারী ডাইসনের। বলছিলেন, আঠারো শতকের সুইস দার্শনিক শার্ল বনে (Charles Bonnet) এ-জাতীয় অভিজ্ঞতার প্রথম নির্ভরযোগ্য বর্ণনা দিয়েছিলেন। তার স্বীকৃতিতে বিশ শতকের তিরিশের দশকে এর নাম রাখা হয় শার্ল বনে সিনড্রোম। আমাদের প্রত্যক্ষীকরণের সব অর্থোদ্ধার করবার জন্য মস্তিষ্কের বিভিন্ন বিশেষীকৃত এলাকা সংরক্ষিত থাকে: যেমন, কোনো এলাকা রঙ দেখার জন্য, কোনোটা গতি দেখার জন্য, কোনোটা মুখ দেখার জন্য, আবার কোনোটা ভূদৃশ্য দেখার জন্য। সমস্তটা মিলিয়ে এক বিশাল সার্কিট বা মানচিত্র। যখন কোনো অসুস্থতা বা ট্রমার কারণে কোনো বিশেষ স্নায়ুপথ বেয়ে দৃষ্টিগত সংকেত মস্তিষ্কের তৎসম্পৃক্ত বিশেষ সংরক্ষিত এলাকাটিতে আর পৌঁছয় না, তখন সেই এলাকার কোষগুলি বেকার ব’সে থাকতে থাকতে বিরক্ত হয়ে যায়। তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রদীপ্ত হয়ে উঠে এইসব অলীক দেখার ফুলকি সৃষ্টি করে। তার পর আবার একটা সময় আসে যখন মস্তিষ্কের সেই এলাকা কিছু কম সংকেত পেয়ে অভ্যস্ত হয়ে যায়, কোষগুলি ঝিমিয়ে পড়ে, আর অলীক দর্শনের স্ফুলিঙ্গ রচনা করে না, বা মাঝে-মধ্যে— সাধারণতঃ মানুষটি ঘুমিয়ে পড়বার আগে— একটু-আধটু করলেও আগেকার মতো তীব্র, দাবিদার, উদ্দীপ্ত ভঙ্গিতে আর করে না।

শার্ল বনে সিনড্রোম নিয়েও কবিতা হতে পারে ভাবিনি কখনো। ‘চোখ’ শিরোনামে দারুণ একটি কবিতা এটা। কবি কেতকী কুশারী ডাইসন অন্য কবিদের থেকে আলাদা বুঝাই যাচ্ছে। গতানুগতিক বাংলা কবিতা থেকে একটু অন্য ধাঁচের তাঁর লেখা। বিশ্ব সাহিত্যের স্রোতের সাথে এগিয়ে যান তিনি ধীর লয়ে। তাঁর বর্ণনাত্মক কবিতাগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খ ছবি তুলে ধরে পাঠকের সামনে। খুব সাধারণ ও সহজভাবেই গল্প করার ভঙ্গিতে তিনি বলেন—

একবার মাছের কথা ভাবতে ভাবতে
দৃষ্টির অন্ধকার সায়রে
বঁড়শিতে বিঁধে তুলে ফেললাম
রীতিমত চোখওয়ালা লেজ-ঝাপটানো একটা মাছ।
অন্ধকারে মাছ দেখতেই মনে প’ড়ে গেলো অশোকদার কথা।
তাঁর মুখটাও ভেসে উঠলো শুশুকের মতো।

(মাছ এবং অশোকদার গল্প/অগ্রন্থিত কবিতা)

অ্যাংলো-স্যাক্সন কবিতা

পৃথিবীতে কবিতার অনুবাদক যত, কবিতার অনুবাদ সম্বন্ধে মতামতও বোধ হয় তত। আর এজন্যই বোধয় আইলিয়া কামিনস্কি বলছিলেন, ‘তুমি কি বিশ্বাস করো তোমার ভেতরে একটি আত্মা আছে? বলতে পারবে সে আত্মাটির অবস্থান শরীরের ঠিক কোথায়? ঠিক তেমনি, অনুবাদ এক প্রকার শিল্প যার মাধ্যমে এই ধরনের নিশ্চয়তা/ অনিশ্চয়তা সমৃদ্ধ হয়ে ওঠে। এটি একটি প্রয়োজনীয় শিল্প মাধ্যমও বটে। কিন্তু সেই সাথে অনুবাদ পুরোপুরি সম্ভবও নয়। এজন্যই হয়তো প্রতি বছর নতুন নতুন দান্তেকে পাই আমরা। একটি, দুটি বা তিনটি দান্তের অনুবাদ প্রকাশিত হয় প্রতি বছর।’

ইংরেজি সাহিত্যের ইতিহাসে খৃষ্টোত্তর পঞ্চম শতাব্দী থেকে আরম্ভ করে একাদশ-দ্বাদশ শতাব্দী পর্য‌ন্ত সময় আদি-ইংরেজি বা অ্যাংলো-স্যাক্সন পর্যাপয় হিসেবে গণ্য হয়ে থাকে। আধুনিক ইংরেজির জননী অ্যাংলো-স্যাক্সন ইন্দো-ইউরোপীয় পরিবারের ভাষা। সেই সময়, হার্পে ঝংকার দিয়ে কবিরা গান বাঁধতেন, মুখে মুখে রচনা করে সবাইকে শোনাতেন অতীতের উদ্দীপক কীর্তিকলাপের কাহিনী; বীরত্বের বা বিষাদের, বিচ্ছেদের বা বিজয়ের গাথা; লৌকিক উল্লাস বা তার চেয়েও বড় অলৌকিক দুঃখের স্মৃতিকথা; বিবাদের বা সংগ্রামের অর্থগর্ভ ইতিহাস। অ্যাংলো-স্যাক্সন কবিতা মূলত মৌখিক রীতির (oral-formulatic)। মনে করা হয় এইসব অনেক রত্নই কালের গর্ভে লুপ্ত হয়েছে।

এই অ্যাংলো-স্যাক্সন কবিতা বাংলায় অনুবাদ করতে গিয়ে কেতকী কুশারী ডাইসন বলেছেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে আমার কাছে এ কাজের আনন্দ এক দেশের চারাকে অন্য দেশের মাটিতে রোপণের আনন্দ। ঠিক যেমন বিলেতে বসে লঙ্কা ফলাতে পারলে বাঙালীর বিমল আনন্দ হয়, তেমনি বিদেশী ভাবনা আর চিত্রকলাকে বাংলা শব্দের গ্রন্থিতে আটকাতে পারলে আমার বিশেষ তৃপ্তি হয়।’ বলেছেন, ‘এক-এক ভাষার পিছনে থাকে এক-এক গোটা সংস্কৃতি: চিন্তাভাবনার, ধ্যানধারণার, জীবনবীক্ষার জটিল বুনট।’ তিনি তাঁর অনূদিত কবিতাগুলোয় দিতে চেয়েছেন বিদেশী চিন্তার, ভাবানুষঙ্গের, চিত্রকল্পের ভিন্ন ঠাটঠমকের স্বাদ। চেষ্টা করেছেন নতুন দ্যোতনা সংযোজনের। অ্যাংলো-স্যাক্সন কবিতায় মাত্রাগণনার ব্যাপার নেই, তবে কবিতার ধ্বনিপৌরুষ এবং অনুপ্রাসধর্মিতার আভাস দিতে সংস্কৃত শব্দ পরম সহায়ক। বাংলার সংস্কৃতাশ্রয়ী প্রতিশব্দবহুলতা অ্যাংলো-স্যাক্সন কবিতার অনুবাদে খুবই সুবিধার। তবে, অনুপ্রাসের চেয়ে ছন্দের সামগ্রিক ঝংকারমুখর উদাত্ত রূপটিই এখানে গুরুত্বপূর্ণ।

বিস্ময়কর এই ভগ্নাবশেষ, ভাগ্যের দ্বারা ভূলুণ্ঠিত,
অবকীর্ণ নগরীর অট্টালিকা, অবক্ষীণ দানবদের কীর্তি।
ধ্বসে পড়েছে সব ছাদ, খসে পড়েছে সব শিখর,
খিলওয়ালা দরজাও দোমড়ানো, তুষারদষ্ট পলস্তরা।
বর্ষণ থেকে যা আচ্ছাদন করতো বার্ধক্যের দাপটে তা
হাঁ হয়ে গেছে। ধরিত্রীর হাত আঁকড়ে ধরেছে
নিঃশেষিত-আয়ু এদিকে মানবসন্তানদের
শত পুরুষ গত হলো, আর কতবার এই প্রাকার,
শৈবালে ধূসর, কোথাও বা গৈরিক, সাম্রাজ্যের পর সাম্রাজ্য
ঝঞ্ঝার ঝাপট সহ্য করলো: এখন ঝুরে পড়েছে তার জমক।

(ভগ্নাবশেষ(The Ruin)/অ্যাংলো-স্যাক্সন কবিতা)

ধাঁধার আকারে ছোট ছোট কবিতা পরিবেশন করা অ্যাংলো-স্যাক্সন কবিদের প্রিয় নেশা ছিল। ধাঁধাগুলির উত্তর অবশ্য ওইসব পুঁথিতে অনুপস্থিত।

পোশাক আমার নীরব থাকে যখন পা ফেলি মাটিতে,
বা যখন ঘরে থাকি, বা জলে তরঙ্গ তুলি।
কখনও আমাকে উপরে তোলে জনপদভবনের ঊর্ধ্বে
অলংকার আমার আর এই অনুকূল বায়ু।
তখন মেঘপঞ্জের বল আমাকে বেগে নিয়ে যায়
মানুষদের ঊর্ধ্বে; আর আমার আভারণ
উচ্চনাদে ঝংকৃত হয়, মধুর স্বরে উদীরিত হয়,
অমল কণ্ঠে গান গায়— যখন আমি না ছুঁই মাটি,
না ছুঁই পানি, উড়ন্ত একটি প্রাণী।

(রাজহাঁস/অ্যাংলো-স্যাক্সন কবিতা)

৫০ থেকে ৬০ বছর আগে করা অনুবাদ, অথচ কী ঝরঝরে পড়তে লাগে আজও।

নূতন লাতিনো লোকগীতি

রাতের বেলা কাজ শেষে বাইরে হাঁটতে বেরিয়েছিল এক মাঝবয়সী মেয়ে। এদিকে চাঁদের আলোয় রোমান্টিক হয়ে উঠতে শুরু করেছে কংক্রীটে বাঁধাই রাস্তা। আর মেয়েটির মনের ভেতর শরীরে পাক খেতে শুরু করে ভাবনারা। কী সেই ভাবনা। যৌবনের উষ্ণতার আকাঙ্ক্ষা। প্রিয় পুরুষকে আহ্বান করছে তার ভেতরকার ডিম্বাশয়ে সঞ্চিত অব্যবহৃত পুঞ্জ পুঞ্জ অপরিণত অপরিমেয় ডিম্বাণুগুলো। জন্মের পর থেকেই যেন সে বহন করে চলেছে এদের।কয়েক-শ’ ডিম্বাণু বড় হয়ে উঠেছে। ভেসে বেরিয়ে গেছে পৃথিবীর সমুদ্রের দিকে। হ্যাঁ, প্রতিটি নারীরই কথা এটি। মাসের একটা সময়ে এসে ঋতুমতি হয় সবাই। কিন্তু সব ডিম্বাণুই কাজে লাগে না। হয়তো লাগে একটি কী দুটি। যারা তাদের শুক্রাণু মানে কাঙ্ক্ষিত পুরুষের সাথে মিলিত হতে পারে।

চাঁদের আলোয় এক রাতে
বেড়াতে বেরিয়েছিলাম;
দেখলাম এক ছোকরাকে,
আঁখি ঠারলো সে আমাকে,
তখনই ক্যাফেতে টেনে নিলো,
দুটি ছোট চুমু দিয়ে দিলো।
চাঁদের আলোয় এক রাতে
বেড়াতে বেরিয়েছিলাম।

রাস্তার সোডিয়াম বাতি আর চাঁদের আলোয় মেয়েটির ভাবনা এগিয়ে যায়। সে ভাবে ঐ ডিম্বাণুগুলো তার গণ্ডা-গণ্ডা গোপন মেয়ে। চাঁদ যেভাবে পৃথিবীর জলকে নিজের দিকে টানে সেভাবেই যেন টানছে ওদের আর চিড়বিড় চিড়বিড় করে উঠছে ওরা যেন এক লাফে হুড়মুড় করে উঠে যেতে চায়। কিন্তু অসহায় তারা। নেমে আসে কান্না হয়ে। যদি মাত্র একটি বা দুটিই কাজে লাগে তবে কেন এই অমিত অপব্যয়! কেন এত ফুলের রেণু, ফলের বিচি, মাছের ডিম কিংবা ওই বদ্ধ পাগল সূর্য‌টার অপরিমিত তেজস্বিতা, যার প্রায় সবটাই বেরিয়ে যায় বিশাল শূন্যে! তাহলে কী প্রয়োজন চোখ মারার? কী প্রয়োজন কাছে টানার— চুমু খাওয়ার? বরং সবটাই বিলিয়ে দিই, ছিটিয়ে দিই, হারিয়ে ফেলি অসীম শূন্যে।

এটিও এক অভিনব কবিতা আমাদের জন্য। যুবতীর ডিম্বাশয় যেন একটা আস্ত গার্লস স্কুল— এইভাবে কি ভেবেছি কখনও? অন্তত আমার পড়া বাংলা কবিতায় এটি অভূতপূর্ব।

— ৩রা ফেব্রুয়ারি, ২০২১।
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২১ রাত ১১:০০
৭টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের কথা এমন লগনে তুমি কী ভাবো না ?

লিখেছেন সেলিম আনোয়ার, ২৬ শে জানুয়ারি, ২০২২ বিকাল ৫:৩৩



প্রবল বৃষ্টি
তোমার জ্বর,
বৃষ্টিতে আটকা পড়ে
আমি যেন বাসর রাতের অবরুদ্ধ লক্ষ্ণীন্দর।

বসে আছি— কোন এক অদূরে

শীতের প্রকোপ বাড়ে..
কিছুই কী করার নেই
হিমেল হাওয়া গায়ে মেখে
বৈরী আবহাওয়ায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

জাতে বাংলাদেশিরা সব পারে!

লিখেছেন মোহাম্মাদ আব্দুলহাক, ২৬ শে জানুয়ারি, ২০২২ বিকাল ৫:৪৮



A rural hospital in an area of Bangladesh vulnerable to rising sea levels has been named winner of the prestigious RIBA International Prize.

সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বাংলাদেশের একটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিক্ষার্থীদের অনশন তো ভাঙল, জিতলো কে ?

লিখেছেন মাহমুদ পিয়াস, ২৬ শে জানুয়ারি, ২০২২ রাত ১০:২৪

কোনো সরকারী অফিসার নয়- মন্ত্রী নয়, একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক জাফর ইকবালের অনুরোধে SUST এর শিক্ষার্থীরা অনশন ভেঙেছে, যিনি প্রায় বছর তিনেক আগেই অবসর গ্রহন করেছেন !
অথচ মাত্র কয়েকদিন আগেও... ...বাকিটুকু পড়ুন

করোনা নির্মূলের জন্য বিশ্বের ঐক্যের দরকার ছিলো

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৭ শে জানুয়ারি, ২০২২ রাত ১:১১

ছবিঃ গুগল।

করোনা মহামারী দুই বছর চলছে।
আরো কত বছর চলবে বলা মুশকিল। করোনার ফলে অনেক জাতির অর্থনীতি ভয়ঙ্কর সমস্যার মাঝে প্রবেশ করেছে। করোনামুক্ত হতে হলে- বিশ্বে... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুর মোবাইল এপ্লিকেশনের ইউজার ইন্টারফেস কেমন হতে পারে !

লিখেছেন অপু তানভীর, ২৭ শে জানুয়ারি, ২০২২ দুপুর ১:২১



কয়েক দিন ধরে একটা অনলাইন কোর্সে ফটোশপ এবং ইলাস্ট্রেটরের বিভিন্ন টুলসের ব্যবহার শিখছি। তবে শিখতে গিয়ে যা টের পেলাম তা হচ্ছে আমার ভেতরে ক্রিয়েটিভি শূন্য। যাই হোক, সেখানকার একটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×