somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গল্প: ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট।

০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ সন্ধ্যা ৭:৫৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


অনেকদিন পর পুরনো আইডিটাতে ঢুকলাম। না অনেকদিন পর বলতে, মেয়েদের মতো শ-খানেক ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট আর হাজার খানেক মেসেজ জমে নেই। এই কিছু পুরনো মেসেজের রিপ্লাই আর ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট নোটিফিকেশনে জ্বল-জ্বল করতে দেখলাম, ফোনে চার্জও বেশী নেই। না গতানুগতিক নিয়মে এবারও কোন সুন্দরি ললনার ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট নেই। যা দু-একটা আছে সিউর হতে পারলাম না রিয়েল না ফেক। আমি আবার সব রিকুয়েস্ট ফটাফট একসেপ্ট করতে যাই না। একমাত্র পরিচিতরাই লিস্টে ঢুকে, বিশেষ করে ফিমেল আইডিগুলো। ফেক আইডির জ্বালাতেন দিন দিন ফেসবুকে টেকা যেন অসহ্য হয়ে উঠছে, তাই ভয়টা মনে থেকেই যায়। একসময় নিজেও ফেক আইডি চালিয়ে অনেককে নাকানি চুবানি খাইয়েছি কিনা!!

যাকগে সে কথা বাদ যাক। অনেকদিন পরে ফেসবুকে ঢুকে পুরনো এক বন্ধুর মেসেজের রিপ্লাই দেখে যেমন মনটা ভালো লাগল তেমনি আবার প্রচন্ড রাগও হলো। ইনি আবার ঢাকায় আবাসিক কলেজে পরেন। মেসেজ দিয়ছিলাম ঈদের আগে আর এই দুদিন আগে পেলাম তার রিপ্লাই। রাগে দু:খে ওকে অনলাইনে দেখে কনভারসেশন ১ ঘন্টা মিউট করে রাখলাম।

মন ভাল রাখার জন্য পুরনো লাইকড পেজগুলো ঘুরে দেখছিলাম । আর (MEME) মিমগুলো দেখে বিনোদন নিচ্ছিলাম। পুরনো গ্রুপগুলো দেখে বেছে বেছে বাংলা ভাষায় এক কথায় "সুন্দ্রি" ললনাদের প্রোফাইলে গিয়ে ফলো মারছিলাম আর প্রোফাইল পিকে "লভ" রিএক্ট দিচ্ছিলাম। খুবই রোমাঞ্চকর একটি পদ্ধতি। যদি কপাল খুলে^_^ কিন্তু অভাগা যেদিকে যায় সাগর শুকিয়ে যায়। বেশিরভাগ প্রো-পিকেই আগে থেকে ১০-১২টা করে লাভ রিএক্টের উপস্থিতি টের পেলাম, সাথে বুকের ভেতরও একটা চিনচিন ব্যাথা অনুভূত হলো।

তাও সময়টা ভালোই কাটছিল। কিন্তু বিপত্তির শুরু এখান থেকেই।-_- একটু পর একটা নোটিফিকেশন আসলো "সিপন হ্যাজ কমেন্টেড অন অমুক পোস্ট"। "ফারজানা ইফতি" নামে এক্টা আইডিটে গেলাম। ও সিপন হলো আমার ক্লাসমেট। আমরা একই কলেজের এইবার হশচ পরিক্ষার্থী। গেলাম পোস্টে, এক সুন্দরি ললনাকে প্রো-পিকে দেখতে পেলাম। হ্যা, চেনা চেনা লাগছে আরে এতো "ফারিয়া"। কিন্তু প্রোফাইলে তো অন্য নাম দেয়া। যাকগে, আজকাল তো মেয়েরা প্রোফাইলে এন্জেল হাসিনা, এন্জেল জরিনা কত নামই ইউজ করে।-_- সিপনের কাছে কতদিন ওর আইডি চাইছি, নাম বলে নাই। ও নাকি জানে না, আবার পিকে কমেন্ট করছে "নাইছ"। দাড়াও হারামি তোমারে একবার কাছে পাই, মজা দেখামু তোমার গফরে বইলা। -_-

ও কথায় কথায় মূল কথাই বলা হচ্ছে না। ফারিয়া হচ্ছে আমার কলেজমেট, একই ক্লাস বাট ওরকম বন্ধুত্ব হয়ে ওঠেনি যে, আইডি লিংক চাইব। যদি অন্যকিছু মনে করি। ইনি হলেন আমার ক্রাশ, কলেজে ভর্তি হওয়ার দিন থেকেই যাকে দেখছি।আমি আসলে মেয়েদের সাথে জরুরি দরকার ছাড়া খুব একটা কথা বলি না, একটা মুড আছে না। আর এইটার জন্য প্রেম-টেমও আমার কপালে হইয়া ওঠে নাই। যাকগে প্রোফাইল পিকে দেখলাম হিজাব পরে স্টাইল পরে আছে; ওকে খনিকটা মোটা আর একটুখানি বয়স্ক লাগছে। সম্ভবত জন্মদিনের ছবি। বয়স্ক মানে বয়স বেশি বুঝাচ্ছি না কিন্তু দেখে মনে হচ্ছে কলেজ লেভেলের চেয়ে একটু বেশিই মেচিউর। ১৫ দিনের বন্ধেই এই অবস্থা!! পাশে অবশ্য আরেকজন রয়েছে, তবে হাত দিয়ে মুখ খানিকটা ঢাকা বলে চেহারা ঠিকমতো দেখা যাচ্ছে না। আর দেখারও প্রয়োজনও নাই, ওর আইডি পেয়েছি এই ঢেড়। তাই আশে পাশে প্রোফাইল ট্রোফাইল চেক না করে কাপা কাপা হাতে দিলাম ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট করলাম মেসেজ। এটাই যে আমার জীবনের অন্যতম ভুল হতে চলেছে কে জানতো!!

একটা বিশাল কবিতাময় মেসেজ করলাম। যার সারাংশ এইরূপ "তোমার যে জনৃমদিন ছিল বলনি তো? কলেজের প্রথম দিন হতেই তোমাকে ভাল লাগে, কিন্তু বলতে পারি নি এতদিন। আচ্ছা তুমি কি আমার মা-বাপার মিষ্টি পুত্রবধুটি হবে?"। একটু পর দেখলাম সিন করলো কিন্তু কোন রিপ্লাই নাই। রিকুয়েস্টও একসেপ্ট করে নাই। খানিক বাদে দেখি লেখা "ও কেন নট রিপ্লাই দিজ কনভারসেশন"। আমার মাথায় তো বাজ পরলো। কথা নাই বার্তা নাই সোজা ব্লক। পাশার দান উল্টাই গেলো কেম্নে!! এমনি তো কলেজে সারাক্ষণ আমার দিকে সুন্দর তাকাই থাকে, মাঝে মাঝে আমাদের চোখাচোখিও হয়ে যায়। তো এখন কি হইল? আমার কি বুঝতে ভুল হলো না আমাকে চিনতে পারে নাই??

দ্বিতীয় কারণটাকেই অন্তীম সত্য মনে করে ঐদিনের মতো ঘুমিয়ে পরলাম। ১৫দিন পর ক্লাস! পরের দিন আমার জন্য কি অপেক্ষা করছে জানলে ওই দিনটা আর কামনা করতাম না। কলেজে গিয়েই দেখলাম ফারিয়া আমার দিকে তেড়ে আসছে, যা অন্যদিন করে না। আমি বুঝলাম আজ "ডাল ম্যায় কুচ কালা জরুর হ্যায়।" সামনে এসেই আমাকে কুত্তা, বিলাই, ছাগল, মহিষ, উট, ভেড়া, দুম্বা ইত্যাদি ইত্যাদি বলে গালি দিতে থাকল। মেয়েরা সাধারণত যেসব বলে গালি দেয় আরকি!! তখনও সবকিছু আমার মাথার উপর দিয়ে যাচ্ছে। ওর বকা দিয়ে রাগের ঝাজ কিছুটা কমলে আমাকে বললো, "নিলয় তোমাকে আমি ভাল ছেলে মনে করেছিলাম। কিন্তু তুমি এত নীচ?"। বাংলা সিনামার মতো ডাইলগটা আমার মনে গিয়ে লাগল। আমি বললাম, "আমি করলাম টা কি?" ও এইবার ক্ষেপে গিয়ে বললো, "তুই জানস না তুই কি করছস?" হঠাৎ তুমি হতে তুই তে অবনিত হওয়ায় একটা ছোট খাটো শখ খেলেও নিজেকে সামলো নিয়ে বল্লাম "না আমি সত্যিই জানি না।" ফারিয়া তখন বল্লো "তুই কারে কি মেসেজ পাঠাইছস জানস?" আমি বল্লাম, "কেন তোমাকে"। ও তখন বল্লো, "ক্যাপসনে যে With my little sis লেখা ছিল দেখস নাই আর রিলেশনশিপ স্ট্যাটাস চোখে দেখা যায় না?কি খাইয়া ফেসবুক চালাও?" এবারও কথাগুলো আমার মাথার উপর গেল। লক্ষ্য করলাম ক্লাসের পোলাপাইন অনেকক্ষণ ধরে আমাদের দিকে তাকাই আছে, যদিও দরজার বাইরে কথা বলছিলাম। এতক্ষণ কথায় কথায় লক্ষ্য করিনি। হিউজ পরিমাণ লজ্জা পেলাম। আমি আর কিছু জিজ্ঞেস করলাম না। ফারিয়াও তার সিটে গিয়ে বসলো।

সারাদিন ধরে আমি ওর কথাগুলো ভাবলাম, কিন্তু কিছুই মিলাতে পারলাম না। পরদিন আরেক বান্ধবির কাছে জানতে পারলাম, ঐটা ছিল ওর বড় বোনের আইডি, ২ বছর হলো বিয়ে হয়েছে। এবার সবকিছু মিলতে শুরু করলো আর তার ফলস্বরূপ যা পেলাম, তা দেখে আমার মাথায় ২য় বারের মতো বাজ পরলো। ওর বোন নাকি সন্দেহ করেছে আমি ওর লাভার আর ভুল করে ওর আইডি মনে করে ওর বোনের আইডিটে মেসেজ দিয়ে ফেলেছি। বিষয়টা নাকি ওর বোন ওর মাকেও জানিয়েছে আর তাই ফারিয়ার উপর একটা বড়সড় ঝড় বয়ে গেছে তা বলার বাকি রাখে না।

পরেরদিন ফারিয়াকে সরি-টরি বলে, যেভাবেই হোক মাপ পেলাম। আর কোন মতে আইডিটাও কিছুদিন পর এক বন্ধুর কাছ থেকে ম্যানেজ করলাম। এরপর যতদিন কলেজে ছিলাম প্রপোজ তো দূরে থাক ওর সামনে গিয়ে ঠিকমতো কথা বলার সাহস হয়নি। আর কলেজ থেকে পরীক্ষা দিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার পর আর দেখা করার কথা মাথায় চিন্তাতেও আনি নি। স্কুল লাইফে ছ্যাকা খেয়ে ব্যাকা হলে যা হয় আরকি!!

এরপর মাঝে মাঝে সময় পেলে ওর আইডিটা ঘুরে আসি, আর ঐ কথা মনে পড়লে মনে মনে হাসি আর বিরক্তও হই। ও আগের চেয়ে অনেক বেশি সুন্দর হয়েছে। কিম্তু একটা জিনিস আর কখনোই তাকে দেয়া হয় নি আর সেটি হলো "ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট!!!"।


©SaSagar
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ রাত ৮:০৫
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জাপান যেভাবে মাত্র ৭ বছরে অর্থনৈতিক পরাশক্তিতে পরিণত হয়

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:২৭



জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হায়াতো ইকেদা ১৯৬০ সালের শেষভাগে তাঁর বিখ্যাত "ইনকাম ডাবলিং প্ল্যান" বা "আয় দ্বিগুণকরণ পরিকল্পনা" চালু করেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসস্তূপ থেকে ফিনিক্স পাখির মতো জাপানের অর্থনৈতিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা কি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কাছে হেরে যাচ্ছি ০২

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৪


কাহিনীটা ৯০ এর দশকের শুরুতে। বুশ তখন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট- মার্কিনিদের আগ্রাসন চলছে তখন ইরাক জুড়ে। হাটে মাঠে ঘাটে আড্ডায় গল্প আলোচনা মিডিয়ায় এমনকি বাসর ঘরেও তখন নব পরিণীতার সাথে তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

জাতিসত্তার পরিচয়ের বাজার

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ০৪ ঠা জুলাই, ২০২৬ রাত ৩:২১

ইতিহাসে কোনো আদর্শ সত্যিকার অর্থে মরে না। সে শুধু নাম বদলায়, পরাজিত আদর্শেরও পুনর্জন্ম হয়।

১৯৭০ সালের নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানে মুসলিম লীগ একটি আসনও পায়নি। কিন্তু সেই রাতে মুসলিম লীগ মরেনি,... ...বাকিটুকু পড়ুন

একটা ছিলো সোনার কণ‍্যা, মেঘ বরন কেশ!!!!

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ০৪ ঠা জুলাই, ২০২৬ ভোর ৬:১৩



শাওন প্রশ্ন করেছিলে ৭৮ বছর বয়স্ক একজন মহিলার। অন্তর্বাস উচিয়ে যখন অন্তর্জালে দাঁত মুখ খিচিয়ে উল্লসিত বহু পোস্টে ভেসে যায় ।কিংবা দেয়ালে সরাসরি দি লিখে প্রচার করছিলো তখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

‘ছুটি’র স্মৃতি

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ০৪ ঠা জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:৫০

(প্রায় দু’মাস আগে লেখা। তখন গ্রীষ্মকাল হলেও ঢাকায় কয়েকদিন পরপর বৃষ্টি হতো। এখনকার মত “ঘাম ঝরে দরদর” ধরণের গরম ছিল না। রাতগুলো তুলনামূলকভাবে বেশ ঠাণ্ডা থাকতো।)

আজ খুব ভোরে (শেষরাতে)... ...বাকিটুকু পড়ুন

×