somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাধ্যগত ভালোবাসা

০৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৬ দুপুর ১২:৩৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



হাহাহাহাহাহাহা মেয়েটি খল খল করে হেসে উঠলো, একটা সফেদ সুন্দর কোমল পদ্ম থেকে যেন বিষাক্ত কুৎসিত সাপ বেরিয়ে এলো আতিককে ছোবল দেয়ার জন্য, নাহ শেষ পর্যন্ত ছোবল দিলো না, আস্তে করে সরে গেলো রোহিণী, এত সুন্দর মেয়ে কি করে এমন হয় আতিকের চোখে মুখে ভয়, বিস্ময়। চুপ করে চেয়ে চেয়ে দেখা ছাড়া আর কিছুই করার নেই আতিকের, ওকে হয়ত আজ রাতেই মেরে ফেলা হবে, কিংবা আরও দুই একদিন বাঁচিয়ে রাখবে; কি আসে যায়! ভালোবাসা ওকে এই উপহার দিয়েছে, দিয়েছে ধংস, দিয়েছে অনিশ্চিত মৃত্যু, দিয়েছে অপহরণ, হ্যাঁ অপহরন করা হয়েছে আতিককে এবং এই নিষ্ঠুর খেলার পরিকল্পনা সার্থক হয়েছে ভালোবাসা নামক প্রতারনায়।
আতিকের বাবা Garments ব্যাবসায়ী, কি জানি কিসে তার এত শত্রু হল যে কারনে আজ তার একমাত্র ছেলে আতিকের কিডন্যাপ । আর ওদের কথায় এটা ক্লিয়ার যে আতিককে কিছুতেই ওরা জীবিত ছাড়বেনা।
আতিককে কিডন্যাপ করার ঘটনাটা ও বেশ কমন, ছোট বাচ্চা ছেলেকে যেমন বুদ্ধ বানায় আতিককে ও তেমন বানিয়েছে, এই খবলিয়ে হাসা মেয়েটিই ওকে ভালোবাসার ফাঁদে ফেলে বোকা বানিয়েছে দিনের পর দিন। প্রায় চার মাসের ভালোবাসার সম্পর্ক ছিল ওদের যেটা এখন এসে আতিক বুঝতে পারলো আসলে ওটা ছিল ষড়যন্ত্র।
গতকাল যখন ওকে কিডন্যাপ করা হল তখনো ও ভাবছিল রোহিণী ওকে ভীষণ ভালোবাসে, যখন রোহিণী ওকে ওর জন্মদিনের কথা বলে ওর বাসায় নেয়ার নাম করে এই বদ্ধ গুমোট অন্ধকার ঘরে নিয়ে এলো ও তখনো ভেবেছিল রোহিণী নিশ্চয়ই কোন মজা করছে। কি অদ্ভুত!!!
রোহিণী একটা অপরাধী দলের সাথে যুক্ত, এই ভালোবাসা এই যে কতদিন হাত ধরে পাশাপাশি চলা এটা শুধুই ছিল ওর কাজের অংশ।
- কি এত ভাবছ? বলে ওঠে রোহিণী।
গতকাল সন্ধ্যায় সেই যে আতিকের হাত ওরা আড়মোড়া করে বেঁধেছে আর খোলেনি, হাত দুটো যেন অবশ হয়ে গেছে, প্রচণ্ড ক্ষুধায় চোখে অন্ধকার দেখছে, যার কিছুক্ষন পর মৃত্যু নিশ্চিত তার আবার ক্ষুধা কি।
- তোমার কি একটু ও খারাপ লাগছেনা রোহিণী? বলে আতিক
- হাহাহাহা শব্দ করে হেসে ওঠে রোহিণী, খারাপ লাগবে কেন?
- তুমি কি এতদিনে আমায় একটুও ভালবাসনাই?
- সে তো তুমি দেখতেই পাচ্ছ,
- তারপর ও তুমি বল
- না, ভালবাসিনাই। ওটা কেবল আমার কাজ ছিল.
- আমাকে হত্যাকাণ্ডের ষড়যন্ত্রের কাজ?
- সেটাই।
- তোমার দলের আর লোক কই আমাকে মেরে ফেলার জন্য দা বটি পিস্তল আনতে গেছে?
- হত্যা করতে এত কিছু লাগেনা, মুখে বালিশ চাপা দিলেই হয়।
- তো আমাকে মুখে বালিশ চেপেই মারা হবে,
- হয়ত
- সেটা কখন?
- আজ রাতেই।
- এখুনি তো সেটা করা যায়, তুমিই না হয় আমার মুখে বালিস চেপে ধর, আমি আমার ভালোবাসার হাতেই মরে যাই।
- এই সব আবেগ আমায় হৃদয় স্পর্শ করবেনা আতিক, আমাদের দুজন লোক তোমার বাবার কাছে থেকে তোমার মুক্তির জন্য ২ কোটি টাকা আনতে গেছে ওটা হাতে পেয়ে তবে তোমায় মারা হবে। মৃত্যুর জন্য একটু অপেক্ষা তোমায় করতেই হবে।
- তোমার কি একটুও খারাপ লাগবে না? আবারো জানতে চাইল আতিক।
- লাগবে না। বললাম তো লাগবেনা।
-
রাত ২ টা, আতিক আর রোহিণী তুরাগ নদীর তীরে বসে আছে, রোহিণীর দলের সবাই মারা গেছে পুলিশের হাতে গুলি খেয়ে, আতিকের বাবা কীভাবে কীভাবে যেন এখানে চলে এসেছে পুলিশ নিয়ে যেখানে আতিককে মেরে ওরা ডুবিয়ে দিতে চেয়েছিল। রোহিণীকে আতিকের অনুরোধেই মেরে ফেলা হয়নি, শত হলেও ছিল আতিকের নিখাদ ভালোবাসা। ভালোবাসা ব্যাপারটা সব কিছুর উপরে। এর কোন ব্যাখ্যা নেই একে ছোঁয়া যায় না ধরা যায় না দেখা যায় না কিন্তু পুরো জীবনটা যেন এর অধীন করে দেয় মানুষকে। এত কিছুর পর ও আতিক রোহিণীর প্রতি তীব্র টান অনুভব করে সাথে অনেকখানি ঘৃণাও, কেননা ভালোবাসা আছে বলেই আছে ঘৃণা, আছে কষ্ট জ্বালা যন্ত্রণা অনুতাপ, আচ্ছা রোহিণী কি কখনো অনুতপ্ত হবে! ভাবে আতিক। হয়ত হবে হয়ত হবেনা, কি আসে যায়, সব মানুষ তো আর একরকম হয়না, রোহিণী থাকুক ওর মত ওর হয়ত সাজা হবে জেল হবে এই জীবনে হয়ত আতিকের সাথে আর দেখা হবেনা, তবু ওর জন্য আতিকের ভালোবাসা থাকবে, ভালোবাসা সহসাই কমিয়ে ফেলা যায় না।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৬ দুপুর ১২:৩৮
৫টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সৌদি আরবে নারীসহ দুই বাংলাদেশির শিরশ্ছেদ: প্রতিমন্ত্রী, নাকি পাপেট?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৫০


গত বুধবার সৌদি আরবের শরিয়া আদালত একজন নারীসহ দুই বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকের শিরশ্ছেদ কার্যকর করেছে। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ যে বিবৃতিটি দিয়েছেন, সেটা পড়ে বোঝা গেল যে, পররাষ্ট্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছবি ব্লগ -৭ বিনীত, অবনত বৃক্ষ

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:০৯

পথে যেতে চোখে পড়লো নুয়ে পড়া বৃক্ষের শাখাগুলো। মনে হলো স্রষ্টার কাছে সে যেন নিবেদিত প্রার্থনায় অবনত। সব অহংকার, সব আত্মগরিমা, কৃতিত্বের ভার সে ধীরে ধীরে ঝরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশ সচিবালয় স্থানান্তর....দ্রুত বাস্তবায়ন হোক।

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:১১

বাংলাদেশ সচিবালয় স্থানান্তর....

বর্তমান সচিবালয়ের আয়তনঃ ঢাকার আবদুল গনি রোড- সেগুনবাগিচায় অবস্থিত বর্তমান বাংলাদেশ সচিবালয় প্রায় ৩২ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত হলেও সেখানে মাত্র ১৭ লাখ বর্গফুট যায়গায় অপরিকল্পিত ভবন নির্মিত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা কোন ইসলাম পালন করছি! কাদের ফলো করছি!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:৫১

খোদা ও নবীজীকে অবমাননা করলে অর্থাৎ ধর্মীয় অবমাননা করলে মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে, এমন আয়াত কোরআনে পেলাম না!
অনেক খুঁজলাম.........আমি পাই নাই। আপনি পেয়েছেন কি?



পবিত্র কোরআনে উল্লেখ আছে যে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন, প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগ এবং ঢাকা দক্ষিণের নতুন সমীকরণ: রাজনৈতিক খেলায় ইশরাক কোথায়?

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫২

রাজনীতির মাঠে অতি-উৎসাহ কখনো কখনো যে আত্মঘাতী হয়ে দাঁড়াতে পারে, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। গত শনিবার রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় যেভাবে প্রকাশ্য দিবালোকে আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে, দলবল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×