
কয়েক মাস আগে আমাদের গ্রামে নারায়নগঞ্জ থেকে একটা ছেলে যখন বাড়ি গিয়েছিল তখন সাথে সাথে পুলিশ খবর পেয়ে ঐ বাড়িটিকে লকডাউন করে দিয়েছিল এবং আরো জেনেছিলাম গ্রামের মানুষও ঐ ছেলের বাইরে বেরুনো ও ঘোরাঘুরির ব্যাপারে কড়াকড়ি আরোপ করেছিল । যদিও ছেলেটি করোনা আক্রান্ত ছিল না ।
এটা শুধু আমাদের গ্রামে নয়, আরো অনেক জায়গায় এরকমটা করা হয়েছে । কিছু কিছু ক্ষেত্রে অবশ্য অমানবিকতাও দেখানো হয়েছে; যেটা অতি বাড়াবাড়ির পর্যায়ে পড়ে । এসব দেখে অনেক হৃদয়বান মানুষও চুপচাপ থেকেছে এবং এখনো থাকছে, কারণ এসব ঘটনা একটার পর একটা দেখতে দেখতে যেমন একটা অবস্থায় এসে স্বাভাবিক হয়ে গেছে তেমনি এসব ঘটনা তুলে ধরার গুরুত্বও হারিয়েছে । তবে এসব ঘটনাকে মোকাবেলা করতে স্থানীয় প্রশাসন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে এবং এখনো করছে । মাঝ থেকে যদি লকডাউন সিথিল করার ঘোষণা না দেওয়া হত, তাহলে তারা আরো বেশি দায়িত্বশীল হতো এবং প্রতি চব্বিশ ঘন্টায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা সাত'শ থেকে আজ সতের'শ প্লাস হতো না । এতে করে অচিরেই হয়ত আমরা করোনা থেকে মুক্তির একটা আশার আলো দেখতে পেতাম ।
যাইহোক, বেশ কিছুদিন থেকে শুনে আসছি, ঈদের আগে ঢাকাকে পুরোপুরি লকডাউন করে দেওয়া হবে; অর্থাৎ কেউ ঢাকা থেকে বের হতে বা নতুন করে ঢুকতে পারবে না । অবশ্য ঘোষণাটা এখনো বলবৎ আছে । কিন্তু বাস্তবে আমরা কি দেখছি, সেটা কয়েকটা লঞ্চ ও ফেরিঘাটের চিত্র দেখলেই অনুমান করা যায় । আসলে গৃহমুখী এসব মানুষদের দোষ দিয়ে কোন লাভও নেই; কারণ যেখানে মার্কেট, শপিংমল, দোকানপাট খুলে দেওয়া হয়েছে, মানুষ মনের আনন্দে ঈদের কেনাকাটা করছে; সেখানে ফেরি বা লঞ্চে গাদাগাদি করে মানুষ ঈদ করতে বাড়ি যাবে - এটা খুব স্বাভাবিক একটা ঘটনা ।
যদিও আমরা জানি, চব্বিশ ঘন্টায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা সতের'শ প্লাস হলেও কখনই সতের হাজারে পৌছাবে না; কারণ এক দিনে সতের হাজার করোনা আক্রান্ত রোগী পেতে হলে যে পরিমান করোনা টেস্ট করতে হবে, সে সক্ষমতা আমাদের নেই । অতএব, গরীবের শেষ ভরসা, ফি আমানিল্লাহ ! গাট্টি-গুট্টা বেঁধে নিয়ে এখনি বেরিয়ে পড়ো গ্রামে ঈদ করার উদ্দেশ্যে; কারণ দেরি হলে ফেরি বা লঞ্চে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে পাড়ি দিতে পারবে না ।
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে মে, ২০২০ বিকাল ৪:১৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



