somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সাইয়িদ রফিকুল হক
আমি মানুষ। আমি ত্বরীকতপন্থী-মুসলমান। আমি মানুষ বলে আমার ভুলত্রুটি হতেই পারে। বইপড়তে আমার ভালো লাগে। সাহিত্য ভালোবাসি। লেখালেখি আমার খুব শখের বিষয়। বাংলাদেশরাষ্ট্র ও গণমানুষের জন্য আমি লেখনিশক্তিধারণ করেছি।

জীবনটাতো কচুপাতার পানি

১০ ই নভেম্বর, ২০১৮ দুপুর ১:৫২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



জীবনটাতো কচুপাতার পানি
সাইয়িদ রফিকুল হক

শৈশবে যখন গ্রামের বাড়িতে যেতাম, কিছুদিন সেখানে থাকতাম, মানুষের সঙ্গে মিশতাম, তখন গ্রামের বয়ঃজ্যেষ্ঠ মুরুব্বিদের মুখে শুধু শুনতাম—জীবনটাতো কচুপাতার পানি! খুব সহজ আর সাধারণ কথা এটি। কিন্তু, তখন এ-কথার কোনো অর্থ বুঝতে পারতাম না। এসব শুনে শুধু বড়দের মুখের দিকে ফ্যাল-ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকতাম। কিন্তু এখন বুঝি, আর এখন হৃদয়ঙ্গম করতে পারি: এর মতো নিরেট, দামি ও ধ্রুব সত্য পৃথিবীতে আর নাই। এটি ধর্মগ্রন্থের মহাবাণীর মতো চিরসত্য। আসলেই তো মানুষের জীবনটা কচুপাতার পানির মতো! সবসময় যা সংশয়-সন্দেহে দোদুল্যমান।

মানবজীবনের সঙ্গে এতো সুন্দর তুলনীয় কোনোকিছু আর খুঁজে পাচ্ছি না। মানুষের জীবন বড়ই সামান্য ও তুচ্ছ। এই পৃথিবীতে মানুষের জীবন যেকোনো মুহূর্তে ও যেকোনোভাবে যখন-তখন শেষ হয়ে যেতে পারে। আর কোনো মানুষই আগে থেকে জানতে পারে না—সে কখন এই পৃথিবী থেকে চিরবিদায় নিবে। অথচ, এই মানুষ নিজের বাহাদুরি দেখাতে ও ক্ষমতাপ্রদর্শন করতে কতই না আস্ফালন করছে! এই মানুষ এখনও জানে না যে, সে যখন-তখন মরে যেতে পারে! আর তার এই মরে যাওয়া একেবারে চিরস্থায়ী। এ-কথা শুনে হয়তো কেউ বলতে পারেন, এসবতো সবাই জানে। আসলে, এই ধারণাটিও সম্পূর্ণ ভুল। তার কারণ, মানুষের মৌখিক-স্বীকৃতির চেয়ে আত্মিক-স্বীকৃতি ও অনুভবের মূল্য অনেক-অনেক বেশি। আজকাল সবাই সব-বিষয়ে খুব পণ্ডিত। আর তাই, কাউকে কিছু বলা যায় না। এরা সবই জানে। সবই বোঝে। আর এরা ভয়ানক সবজান্তা! কিন্তু জানে না শুধু—তার জীবনটা যে ভয়ংকর তুচ্ছ। অথচ, এই জীবনের জন্য সে যেকোনো-ধরনের অন্যায়-অপকর্ম করতে কোনোপ্রকার দ্বিধাবোধ করছে না। এমনকি এই পৃথিবীতে সামান্য কয়টা দিনের জন্য সে মানুষ পর্যন্ত খুন করতে দ্বিধা করছে না!

কচুপাতার উপরে বৃষ্টির সামান্য পানি কিংবা শিশিরের জলকণা জমে থাকে। আর এই জলটুকু সবসময় সংশয়ে, সন্দেহে ভয়ানকভাবে দোদুল্যমান-অবস্থায় টলমল করতে থাকে। যেকোনো-সময়ে এগুলো পড়ে যেতে পারে। এতটুকু ছোঁওয়া লাগলেও কচুপাতার উপরে জমে থাকা এই টলটলায়মান পানিটুকু পড়ে যাবে। মানুষের জীবনটাও এই কচুপাতার পানির মতো সদাসর্বদা টলটলায়মান। তবুও কি আমরা তা কখনও উপলব্ধি করতে পারি? আমাদের অনেকেরই আজ ভোগের ও লোভের কোনো শেষ নাই। আজ আমাদের সবখানে শুধু চাই-আর-চাই। আর কী-না চাই? আমাদের এখন সবকিছু চাই! আগের দিনের সাধারণ মানুষের মতো অল্পে কিংবা স্বল্পে সন্তুষ্টি যেন কারও মধ্যে নাই! আমাদের বর্তমান সমাজ-রাষ্ট্রে স্বল্পেতুষ্টপ্রাণ-মানুষের আজ বড় অভাব। আর প্রায় সবাই এখন শুধু নিজের লাভটা বোঝে। আর এজন্য এরা নিজেকে আজকাল যথেষ্ট বুদ্ধিমানও ভেবে থাকে! এখানেই আমাদের দুশ্চিন্তা আরও বেড়ে গেছে।

মানুষের এখন মৃত্যুচিন্তা একেবারে নাই। জীবন-যৌবনে এখন শুধু ভোগের চিন্তা। ভোগচিন্তাই মানুষকে অমানুষে পরিণত করছে। তবুও এই মানুষের সেদিকে একটুখানি খেয়াল নাই। মানুষ কেবলই বল্গা-হরিণের মতো অবিরাম গতিতে ছুটে চলেছে। আজ তার যেন কীসের তাড়া। কীসের তাড়া এতো? কারও সঙ্গে মনখুলে দু-দণ্ড কথা বলার মতো সময় কারও নাই! কোথাও একটু থামার যেন সময় তার নাই! আজ এই মানুষের স্বস্তি, শান্তি, ধৈর্য ও স্থিতি একেবারে নাই। এই মানুষ যাবে কোথায়? আর মানুষ কতদূর যেতে পারে? আচ্ছা, মানুষ ছুটতে-ছুটতে কতবড় হতে পারে? কতবড়? হিমালয়ের সমান নাকি তারচেয়েও বড় কিংবা আকাশের সমান নাকি তারচেয়ে আরও বড়? তাও তো নয়। তবে কেন অবিরামগতিতে মানুষের এই ছুটে চলা? লাভ ও লোভের আগুনে পুড়তে-পুড়তে মানুষ আজ কয়লা হয়ে যাচ্ছে। লোভের আগুনে চারিদিকে মানুষের কলজে পোড়া গন্ধ পাচ্ছি! মানুষ লোভে বেহুঁশ হয়ে আজ বুঝি জাহান্নামের রাস্তাটাই ধরেছে! এই মানুষকে সত্য ও সুন্দরের দিকে ধাবিত করে তাদের এবার মনুষ্যত্বের পথে ফেরাতে হবে।

আমাদের জীবনটা কচুপাতার পানির মতো সদাসর্বদা কম্পমান! আর খুব টলটলায়মান! আর খুব নাজুক-অবস্থায় দোদুল্যমান। যেকোনো ভূমিকম্পের চেয়েও আমরা সবসময় ঝুঁকির মধ্যে জীবনযাপন করছি। অমোঘ ও মহাসত্য মৃত্যু আমাদের যেকোনো-সময়ে চিলের মতো ছোঁ-মেরে নিয়ে যেতে পারে। একটু বাতাসে কচুপাতা দুলছে, কাঁপছে! যেকোনো-সময়ে পড়ে যেতে পারে আমাদের আয়ুটুকু। সবসময় মনে রাখুন: আমাদের জীবনটা কচুপাতার পানির মতো।

হে মানুষ, কচুপাতার পানিতে শুয়ে-বসে তোমরা আর কত লোভ, লাভ ও পরের ক্ষতি করার চিন্তা করবে? আর কত মানুষখুন, পরের জায়গাজমি-দখল, সুদ-ঘুষসহ ইত্যাদি অপকর্ম করার চিন্তাভাবনা করবে?

কবে আমাদের বিবেক একটু জাগ্রত হবে? কবে আমাদের মনে মৃত্যুচিন্তা আসবে? আর কবে আমরা একটু মানুষ হবো?

কচুপাতাটি কাঁপছে! পানিটুকু পড়ে গেলে থমকে যাবে আমাদের এই সাধের জীবন!



সাইয়িদ রফিকুল হক
০২/১১/২০১৮
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই নভেম্বর, ২০১৮ দুপুর ১:৫৩
৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজকাল বিবাহযোগ্য নারী-পুরুষ যে কারণে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে ভয় পায়

লিখেছেন এমএলজি, ১৬ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১২:৩৪

বছর দশেক আগের কথা। আমি তখন কানাডায় ব্যবসারত অস্ট্রেলিয়ান এক ইঞ্জিনিয়ারিং ফার্মে সিনিয়র স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করি। আমার এক সহকর্মী ছিলেন যার বয়স কমবেশি ৪৫ বছর। বেশ ভালো... ...বাকিটুকু পড়ুন

গভীর রাতের যে আহ্বান পাল্টে দেয় জীবন

লিখেছেন নতুন নকিব, ১৬ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ৯:৩৬

গভীর রাতের যে আহ্বান পাল্টে দেয় জীবন

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

ভূমিকা: এক ফাঁকা রাতের গল্প

রাত গভীর হয়ে গেছে। ঘড়ির কাঁটা তিনটার ঘরে। ঘরের সবাই ঘুমে আচ্ছন্ন, পুরো বাড়িতে নিস্তব্ধতা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

সীমান্তের সুলতান

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৬ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ১০:৫৬



টেকনাফ মডেল থানার ভেতরের খাস কামরা। এসি চলছে তীব্র গতিতে, কিন্তু বাতাসে এক ধরনের ভারী, ভয়ের গন্ধ। টেবিলের ওপাশে দুই হাত জোড় করে কাঁপছে এক স্থানীয় বাসিন্দা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

রুবা

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১৬ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:১২




শ্রাবনের প্রথম দিন । এই সময়ে আকাশ তার দুই রকম চরিত্রে দেখা দেয় । পেট ভড়া মেঘ নিয়ে পশ্চিম কোন ঝুলে থেকে আবার পূবকোনে ঝলমলে সুর্যের দেখা মেলে ।... ...বাকিটুকু পড়ুন

গভীর ক্রন্দন

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ১৬ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১১:৫৮


মেম্বার বাড়ি আর সরকার বাড়ির শত্রুতা দীর্ঘদিনের। জমিজমা লইয়া আজ এমন একখানি ঘটনা ঘটিয়া যাইবে, কেহ বোধহয় কল্পনাও করিতে পারেন নাই।

সকাল আটটায় কাঠের ব্যাপারী খসরু আসিয়া হাজির। দলিল লেখক আবু... ...বাকিটুকু পড়ুন

×