somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জিতুন বা হারুন, একইভাবে আপনারা ভারতের কনজুমার থেকে যাবেন

০৭ ই মার্চ, ২০১৬ দুপুর ২:৫১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

[রাহুল পান্ডা নামের এক ভারতীয়র স্টাটাস এটি। পড়ে দেখতে পারেন। বিষয়টি আমার কাছে ভাবনার মনে হয়েছে।]

নাহ, এই ম্যাচ নিয়ে আমার কোন আবেগ নেই। ভারতীয় হিসেবে নেই, বাঙালি হিসেবেও নেই। তবু হয়তো সন্ধ্যে বেলা টিভির সামনে বসব এবং ভারতের জয় চাইব, কারণ ক্রিকেট নিয়ে বাংলাদেশীদের আবেগ বিরক্তিকর।


আমার ফ্রেন্ডলিস্টে প্রতি চারজনে একজন বাংলাদেশি। তাঁরা কাল রাত থেকে উন্মাদের মতো আচরণ করছেন। 'মাইর‍্যা ফেলুম, কাইট্যা ফেলুম' টাইপ চলতি লবজে ওয়াল ভরিয়ে ফেলছেন। রাতে দুঘন্টার একটা স্প্যানে নিরানব্বই শতাংশ মানুষ জাতীয় পতাকার রঙ-এ নিজের প্রোফাইল পিকচার চেঞ্জ করেছেন, ফ্রিকুয়েন্সিতে নিশ্চিত যা গিনেস রেকর্ড। তাঁরা খাচ্ছেন না, ঘুমোচ্ছেন না, দু:স্বপ্ন দেখছেন, আর তাল ঠুকছেন কখন ম্যাচ শুরু হয়। উইকেট পড়লে খিস্তিয়ে ভারতের ভূত ভাগিয়ে দেবেন।

আমার প্রশ্ন কেন? মানে এত উন্মাদনা কীসের? আজ জিতুন বা হারুন, একইভাবে আপনারা ভারতের কনজুমার থেকে যাবেন। আপনাদের ব্যবসা, বৈদেশিক নীতি, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক একইভাবে দিল্লির দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হবে, যা এদ্দিন হয়ে আসছে। মায় টিভিতেও আপনারা তাই দেখবেন যা স্টার জলসা আর জি বাংলা দেখাবে। জিতলে আপনাদের সাপ্রেসড ইগো স্যাটিসফায়েড হতে পারে, বাড়তি কিচ্ছু ছেঁড়া যাবে না। তবু আপনারা পাগল হয়ে যাচ্ছেন।

আপনাদের অধিনায়ক মাশরফির একটা সাক্ষাতকার নিয়ে খুব প্রশংসা হচ্ছে এখানে। সাক্ষাতকারে মাশরফি বলেছেন ক্রিকেটটা বিনোদনমাত্র, জাতীয়তাবাদের হাতিয়ার নয়। তিনি একথা বলেছেন, বলতে বাধ্য হয়েছেন, কারণ ক্রিকেট নিয়ে আপনাদের চণ্ডনীতির মাশুল তাঁকে গুণতে হচ্ছে। কদিন আগেই গ্যালারিতে সাকিবের স্ত্রীর সংগে অশালীন আচরণ করা হয়েছিল, যার ঘা এখনও দগদগে। সৌম্য সরকার বা লিটন রান না পেলে তাঁদের ভারতের দালাল বলে গালিগালাজ করা হচ্ছে। টাকা-আনা-পাইয়ের হিসেব আর বিজ্ঞাপনের খতিয়ান দিয়ে শুনিয়ে দেওয়া হচ্ছে লুটে তো নিচ্ছ, খেলে পরিশোধ কর। এই পরিবেশ অস্বাভাবিক, অসুস্থ। উন্মাদের সংখ্যা কাঁটাতারের এপারেও কম নয়। খারাপ খেললে এখানেও ধোনির বাড়িতে ইঁট পড়ে, রাস্তায় আগুন জ্বলে, ঘরে ঘরে অরন্ধন হয়। কিন্তু সেটা এমন সামগ্রিক জহরব্রত নয়। সামান্য এদিক-ওদিক হলেই আপনারা ফুঁশে উঠছেন, চিল্লাচ্ছেন, খিস্তাচ্ছেন। কেন!?

সত্যি আর ভালো লাগে না দাদা। একদমই ভালো লাগে না। এই উপমহাদেশের মানচিত্রে বহু রক্তের দাগ, বহু যুদ্ধের স্মৃতি। ছেঁড়া সীমানায় ভাইয়ের লাশ লুকিয়ে টিভির সামনে বসি আমরা। পাশবিক উল্লাসে টুকরো করে ফেলতে চাই পড়শি মানুষকে। কিন্তু এভাবে আর কদ্দিন! ক্লান্ত লাগে না? হতাশ হন না? এই প্রজন্মের হাত ধরে আমাদের উঠে দাঁড়ানোর কথা ছিল, তৃতীয় বিশ্বের দারিদ্র‍্য আর বঞ্চনা ঠেলে আমাদের উঠে দাঁড়ানোর কথা ছিল। কিন্তু আমরা পারছি কই? আমাদের আড্রিনালিন ক্রিকেট মাঠেই ফুরিয়ে যাচ্ছে। সেটাই কী চান? বেশ, ফুরিয়ে যাক তাহলে, দেশ যাক ভাড়মে। আসুন ক্রিকেট খেলি। [রাহুল পান্ডা নামের এক ভারতীয়র স্টাটাস এটি। পড়ে দেখতে পারেন। বিষয়টি আমার কাছে ভাবনার মনে হয়েছে।]

নাহ, এই ম্যাচ নিয়ে আমার কোন আবেগ নেই। ভারতীয় হিসেবে নেই, বাঙালি হিসেবেও নেই। তবু হয়তো সন্ধ্যে বেলা টিভির সামনে বসব এবং ভারতের জয় চাইব, কারণ ক্রিকেট নিয়ে বাংলাদেশীদের আবেগ বিরক্তিকর।

আমার ফ্রেন্ডলিস্টে প্রতি চারজনে একজন বাংলাদেশি। তাঁরা কাল রাত থেকে উন্মাদের মতো আচরণ করছেন। 'মাইর‍্যা ফেলুম, কাইট্যা ফেলুম' টাইপ চলতি লবজে ওয়াল ভরিয়ে ফেলছেন। রাতে দুঘন্টার একটা স্প্যানে নিরানব্বই শতাংশ মানুষ জাতীয় পতাকার রঙ-এ নিজের প্রোফাইল পিকচার চেঞ্জ করেছেন, ফ্রিকুয়েন্সিতে নিশ্চিত যা গিনেস রেকর্ড। তাঁরা খাচ্ছেন না, ঘুমোচ্ছেন না, দু:স্বপ্ন দেখছেন, আর তাল ঠুকছেন কখন ম্যাচ শুরু হয়। উইকেট পড়লে খিস্তিয়ে ভারতের ভূত ভাগিয়ে দেবেন।

আমার প্রশ্ন কেন? মানে এত উন্মাদনা কীসের? আজ জিতুন বা হারুন, একইভাবে আপনারা ভারতের কনজুমার থেকে যাবেন। আপনাদের ব্যবসা, বৈদেশিক নীতি, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক একইভাবে দিল্লির দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হবে, যা এদ্দিন হয়ে আসছে। মায় টিভিতেও আপনারা তাই দেখবেন যা স্টার জলসা আর জি বাংলা দেখাবে। জিতলে আপনাদের সাপ্রেসড ইগো স্যাটিসফায়েড হতে পারে, বাড়তি কিচ্ছু ছেঁড়া যাবে না। তবু আপনারা পাগল হয়ে যাচ্ছেন।

আপনাদের অধিনায়ক মাশরফির একটা সাক্ষাতকার নিয়ে খুব প্রশংসা হচ্ছে এখানে। সাক্ষাতকারে মাশরফি বলেছেন ক্রিকেটটা বিনোদনমাত্র, জাতীয়তাবাদের হাতিয়ার নয়। তিনি একথা বলেছেন, বলতে বাধ্য হয়েছেন, কারণ ক্রিকেট নিয়ে আপনাদের চণ্ডনীতির মাশুল তাঁকে গুণতে হচ্ছে। কদিন আগেই গ্যালারিতে সাকিবের স্ত্রীর সংগে অশালীন আচরণ করা হয়েছিল, যার ঘা এখনও দগদগে। সৌম্য সরকার বা লিটন রান না পেলে তাঁদের ভারতের দালাল বলে গালিগালাজ করা হচ্ছে। টাকা-আনা-পাইয়ের হিসেব আর বিজ্ঞাপনের খতিয়ান দিয়ে শুনিয়ে দেওয়া হচ্ছে লুটে তো নিচ্ছ, খেলে পরিশোধ কর। এই পরিবেশ অস্বাভাবিক, অসুস্থ। উন্মাদের সংখ্যা কাঁটাতারের এপারেও কম নয়। খারাপ খেললে এখানেও ধোনির বাড়িতে ইঁট পড়ে, রাস্তায় আগুন জ্বলে, ঘরে ঘরে অরন্ধন হয়। কিন্তু সেটা এমন সামগ্রিক জহরব্রত নয়। সামান্য এদিক-ওদিক হলেই আপনারা ফুঁশে উঠছেন, চিল্লাচ্ছেন, খিস্তাচ্ছেন। কেন!?

সত্যি আর ভালো লাগে না দাদা। একদমই ভালো লাগে না। এই উপমহাদেশের মানচিত্রে বহু রক্তের দাগ, বহু যুদ্ধের স্মৃতি। ছেঁড়া সীমানায় ভাইয়ের লাশ লুকিয়ে টিভির সামনে বসি আমরা। পাশবিক উল্লাসে টুকরো করে ফেলতে চাই পড়শি মানুষকে। কিন্তু এভাবে আর কদ্দিন! ক্লান্ত লাগে না? হতাশ হন না? এই প্রজন্মের হাত ধরে আমাদের উঠে দাঁড়ানোর কথা ছিল, তৃতীয় বিশ্বের দারিদ্র‍্য আর বঞ্চনা ঠেলে আমাদের উঠে দাঁড়ানোর কথা ছিল। কিন্তু আমরা পারছি কই? আমাদের আড্রিনালিন ক্রিকেট মাঠেই ফুরিয়ে যাচ্ছে। সেটাই কী চান? বেশ, ফুরিয়ে যাক তাহলে, দেশ যাক ভাড়মে। আসুন ক্রিকেট খেলি।
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই মার্চ, ২০১৬ দুপুর ২:৫১
৯টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমরা কোন ইসলাম পালন করছি! কাদের ফলো করছি!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:৫১

খোদা ও নবীজীকে অবমাননা করলে অর্থাৎ ধর্মীয় অবমাননা করলে মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে, এমন আয়াত কোরআনে পেলাম না!
অনেক খুঁজলাম.........আমি পাই নাই। আপনি পেয়েছেন কি?



পবিত্র কোরআনে উল্লেখ আছে যে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন, প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগ এবং ঢাকা দক্ষিণের নতুন সমীকরণ: রাজনৈতিক খেলায় ইশরাক কোথায়?

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫২

রাজনীতির মাঠে অতি-উৎসাহ কখনো কখনো যে আত্মঘাতী হয়ে দাঁড়াতে পারে, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। গত শনিবার রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় যেভাবে প্রকাশ্য দিবালোকে আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে, দলবল... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি আরবের প্রতি বাংলার মানুষের কেন এত ক্ষোভ?

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮



বাংলাদেশের বেকারত্ব সমস্যা দূরীকরণে সৌদি আরব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। দেশটিতে বাংলাদেশের প্রায় ৩৫ লাখ শ্রমিক কাজ করছেন। সৌদি আরবই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বৈদেশিক শ্রমবাজার। ২০২৫–২৬ অর্থবছরে সৌদি আরব... ...বাকিটুকু পড়ুন

=মনের হিংসা দূর করো রব=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:২৯


তবুও হিংসা এসে যায় কারণে অকারণে;
পারি না সামলাতে মন আমার - ইয়া রব,
নিতে পারি না সহজ করে কিছু
মনের কিনারে ভাঙ্গে হুড়মুড় স্বার্থের কলরব।

স্বচ্ছ মনের মানুষ কী করে হই,
সহজরে করে ফেলি... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি প্রবাসীর মৃত্যুদন্ড ও রটানো গুজব

লিখেছেন মঞ্জুর চৌধুরী, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:২২

আপনি যে দেশে যাবেন, সেই দেশের আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রাখাটা আপনার দায়িত্ব।
আমেরিকায় আপনি মদ কিনতে পারবেন। কিন্তু আপনার বয়স অবশ্যই ন্যূনতম ২১ হতে হবে। ইউরোপে হয়তো এই বয়সটা ১৮।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×