somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

স্বৈরতান্ত্রীক মানসিকতা দিয়ে গণতন্ত্রের ফানুশ উড়ানো যায় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা নয়।

০২ রা ডিসেম্বর, ২০১৪ সকাল ১০:১৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


পাঁচ জানুয়ারির নির্বাচন শুধুমাত্র ভারতের সহযোগিতায় সম্ভব হয়েছে। কথাটা বলে বিএনপি প্রকারান্তরে এ দেশের মানুষের ক্ষমতাকেই অস্বীকার করছে। এর মানে কি এই যে, এদেশে কে ক্ষমতায় থাকবে কে থাকবে না সেটা নির্ধারণ করে দেয় বাইরের শক্তি?
তাই যদি হয় তাহলে বিএনপি জনগণের দোহাই কেন দিচ্ছে?

আসল কথা হল বাইরের শক্তির প্রভাবে হোক আর নিজেদের শক্তিতেই হোক অথবা বিএনপি-জামাতের সীমাহীন কুকর্মের কারণে হোক এ দেশের মানুষ পাঁচ জানুয়ারির অনৈতিক নির্বাচনকে মেনে নিয়েছে। তাঁর একটি মাত্র কারণ, আর তা হল বিএনপি-জামাত আওয়ামী লীগের থেকে যোগ্যতম স্থানে পৌঁছুতে পারেনি। এমনকি আওয়ামীলীগের বিকল্প অবস্থানেও আর নিজেদের নিয়ে যেতে পারেনি। যার প্রমাণ হল আজ পর্যন্ত মানুষ বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা জ্ঞাপন করেনি। যেমনটি করেছিল নব্বইয়ে যেমনটি করেছিল ২০০৪ সালে। কাজেই এই সরকারের একটি জন ভিত্তি এখনো আছে এটা দিবালোকের মতই স্পষ্ট।

তবে এ কথা অস্বীকার করার জো নেই যে, এর জন্য আওয়ামী লীগের খুব একটা কৃতিত্ব আছে। আওয়ামীলীগ বরং বিএনপি-জামাতের পূর্বাপর ব্যর্থতারই ফলটি ভোগ করছে।
কাজেই মির্জা ফখরুল ইসলাম যে গন অভ্যুত্থানের আশায় বসে আছেন সেটি আর এ মুহূর্তে অন্তত ঘটার কোন সম্ভাবনা নেই।

গন অভ্যুত্থান যে আদর্শ রাজনৈতিক শক্তিকে আশ্রয় করে ঘটে। আগে বিএনপি; জামায়াতকে বর্জন করে এবং জনগণের পক্ষে সোচ্চার হয়ে সেই আদর্শিক শক্তির পরিচয় দিক। তবেই না জনগণ ভেবে দেখবে আওয়ামীলীগকে হটিয়ে দেশ লাভবান হবে কিনা।

এটা যেমন স্বীকৃত সত্য যে, এ দেশের সাধারণ মানুষের স্ব উদ্যোগে পরিচালিত কর্মযজ্ঞের উপর ভড় করেই দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। তেমনি এটাও সত্য এ দেশের মানুষ অন্ধ আবেগে নয়। দেশপ্রেমে উব্দুদ্ধ হয়েই কখনো কখনো মন্দের ভালোটিকে বেছে নিয়ে হলেও দেশের মঙ্গল চেষ্টায় রত থাকে। এখানে কে ক্ষমতায় এলো আর কে এলো না সেটা গৌণ। মুখ্য বিষয় হল দেশ কতটা উপকৃত হল।

আজ যারা গণতন্ত্র গেল বলে মায়াকান্না করছেন তারা আগে স্পষ্ট করুক যে, তারা কোন গণতন্ত্র চান। সেটা কি নির্বাচন কেন্দ্রিক ক্ষমতার পালাবদলের গণতন্ত্র না আক্ষরিক অর্থেই গণতন্ত্র বলতে আমরা যে সাধারণ মানুষের মুক্তির উপায়কে বুঝি সেই গণতন্ত্র? যদি তারা আক্ষরিক অর্থেই দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হোক সেটা চান তাহলে কেন সরকারে এবং সরকারের বাইরে থাকা প্রতিটি দলে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দাবী তুলছেন না?

যারা নিজ নিজ দলের মধ্যেই চরম স্বৈরতন্ত্র চালু রেখেছেন তাদেরকে দিয়ে গণতন্ত্রের ফানুশ উড়ানো যায় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা নয়। এটা তারা নিজেরাও ভাল জানেন, শুধুমাত্র ব্যক্তি স্বার্থে স্বীকার করেন না এই যা।

কেবলমাত্র জয়লাভের নিশ্চয়তা পেলে তবেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন। হেরে গেলে পরের দিন থেকেই সরকারকে টেনে হিচরে নামানোর শপথ নিয়ে রাজপথ দখলে নিবেন। সংসদের চৌকাঠটিও পেরুবেন না। আবার সাংসদ হিসেবে নির্লজ্জের মত বেতন ভাতা সহ সকল সুযোগ সুবিধা ভোগ করবেন। এই তো আপনাদের গণতন্ত্রের নমুনা! এমন গণতন্ত্র থাকলেই কি আর না থাকলেই কি?

আগে ব্যক্তি পর্যায় থেকে শুরু করে দলীয় ফোরামে গণতান্ত্রিক হোন; তারপরে গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করুন। আগে জনগণের কথা ভাবুন তাদের দাবীর সাথে একাত্ম হোন তারপরে জনগণের দোহাই দিন। তবেই না সফলকাম হবেন। নয়ত এই ধোঁকাবাজির বেড়াজালে নিজেরাই আঁটকে থাকবেন। সাধারণ মানুষ সময়মত তুলনামূলক সেরা বিকল্পটা ঠিকই বেছে নেবে। সেজন্য জ্বালাও পোড়াও করে ভীতি সঞ্চার করতে হবে না। নিশ্চিত থাকুন তাঁতে হিতে বিহিত বৈ আর কিছু হবে না।


[email protected]
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ধর্মোন্মাদদের কল্পিত বাস্তবতা এবং "দি ম্যাট্রিক্স" এর নীল বড়ি

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:১৭


বাংলাদেশ ধর্মোন্মাদ ও জঙ্গিদের কবলে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কল্যানে এদের ধর্মোন্মাদনা দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ছে।

ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে, কদিন আগে সাতক্ষীরায় একদল ধর্মোন্মাদ ওয়াহিদুজ্জামান শামীম নামের এক যুবককে পিটিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

যারা ব্রয়লার মুরগী খায় তারা সমকামী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৩


ওয়াজ শোনেন অথচ মুফতি কাজী ইব্রাহিম হুজুরকে চেনেন না, এমন মানুষ বাংলাদেশে খুব কমই আছেন। হুজুরের আরেকটি বড় পরিচয় হলো, তিনি করোনার ওষুধ স্বপ্নে পেয়েছেন বলে দাবি করেছিলেন। হুজুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেইপ শিফটার ৩ - মাছ কন্যা

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:১৯


২০১১ এর দিকে নর্থ –ইয়র্কে থাকাকালীন রুমার বাসার আশেপাশে তেমন কোন বাঙালি দোকান ছিল না ।সেই টরোন্টর নামকরা চাইনিজ সুপারমার্কেট –টা বেশ দূরে। পায়ে হেঁটে যাওয়ার পথ নয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রাইভেট টেলিফোন কম্পানি হলে কেমন হতো?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩



গত ব্লগে টেলিফোন নিয়ে বলেছিলাম। মোবাইল থেকে টেলিফোনে কল দেওয়া বা রিসিভ করা যেতো না। শুধু টিএনটি একটিভ করা সিমে টেলিফোনে কল করা যেতো। বা টেলিফোন... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে পথ ধরে রথো রাফি হেঁটে যেতেন: চলে গেলেন ব্লগার রাফি

লিখেছেন শরৎ চৌধুরী, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:০৩

কবি, ব্লগার ও অনুবাদক রথো রাফির স্মরণ
রথো রাফি ব্লগ
রথো রাফি আর নেই—সত্যটি মেনে নেওয়া ভীষণ কঠিন। একজন মানুষের চিরপ্রস্থানের পর আমরা কেবল তার শারীরিক অনুপস্থিতিই টের পাই না, বরং গভীরভাবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×