somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমাদের স্বপ্ন এবং একজন তারেক রহমান

০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:২৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


শর্ত ১.
লেখাটি পড়ার আগে আপনাকে অবশ্যই মনে রাখতে হবে, বিএনপি এবার নির্বাচনে জয়যুক্ত হবে সেটা শতভাগ নিশ্চিত, এই নিশ্চয়তা জেনেই আমি পোস্ট লিখছি। তো জেনেশুনে কেউ তো সুনিশ্চিত প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে লিখবে না, তাই না?
এটা আপনাকে বলা, কারণ, আপনি সেই অন্ধ সাপোর্টার, যে বিএনপি শত চাঁদাবাজি করলেও আপনি বিএনপিকেই ভোট দেবেন, বিএনপির নেতারা দেশের সবগুলো ব্যাংক লুটে নিলেও আপনি বিএনপিকেই ভোট দেবেন! ফলে বিএনপির কোন কৃতকর্মের জন্যই কখনও অনুশোচনা হবে না। আপনিই তার চাঁদাবাজিকে সমর্থন যোগাচ্ছেন বিধায় সে আগামীতে একশোর জায়গায় দুইশো করে চাঁদা নেবে, আপনাকে খুশি রাখার জন্যই শুধু। দোষ তো কোন দলেরই না, দোষ আপনার। আপনিই আপনার দলকে শত অপরাধ করলেও ভালোবাসেন বলেই দলেরা এভাবেই আপনাকে আদর করে এবং বাকি জনগণকে শুষে খায়। আপনাকে শুষে খেলে আপনি হয়ত খুশিই হন। আমার তারেক রহমানকে ভয় নেই, উনি আমার বক্তব্য বুঝবেন, আমার ভয় আপনাকে নিয়ে, কারণ আপনার কাছে রাইট রং বলতে কিছু নেই, আপনার কাছে দলই বড়।

শর্ত ২.
বিএনপির সমালোচনা করতে হবে বেশি বেশি, যাতে নিশ্চিত ক্ষমতায় যাওয়া এই দলটি ভুল কম করতে পারে, কিংবা কোন ভুল পদক্ষেপ নিতে গেলেই তাকে আগেই হুশিয়ার করা বা থামানো যায়! এখন একদল আছেই, যারা নিরপেক্ষ বলতে যে একটা শব্দ পৃথিবীতে এগজিস্ট করে, তা বোঝেনই না। অতএব, আমি বিএনপির সমালোচনা করতে গেলেই আমাকে আপনারা জামায়াত বানিয়ে দেবেন, এই ভয়েই লিখব লিখব করেও লিখছিলাম না। যদিও আপনার অন্ধ আবেগ বুঝবে না যে, বিএনপিকে ভালোবাসি বলেই তাকে সমালোচনা করে সতর্ক করতে চাই। এবং বিএনপিকে ভালো না বাসিও যদি, তাতেও জামায়াতই একমাত্র অপশন নয়, স্বতন্ত্রও প্রার্থী আছে যিনি ভালো লোক, তিনি হয়ত জিতবেন না, তবু তাকে একটি ভোট দিয়ে হলেও উৎসাহ দেবার মত অপশন আমার মত নিরপেক্ষ মানুষের হাতে আছে।

ওকে, মূল আলোচনায় আসি।

বাংলাদেশ বিপুল স্বপ্ন নিয়ে অপেক্ষায় ছিল তারেক রহমান আসবেন, দেশের হাল ধরবেন।
তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনের দিন মানুষের যে ঢল নেমেছিল তা প্রমাণ করে দেয় যে নির্বাচন দরকার নেই, এই নেতা এমনিতেই দেশের ক্ষমতা পেয়ে গেছেন! এরপর তারেক বললেন, আই হ্যাভ এ প্ল্যান! বাংলাদেশের বক্ষ তখন ৩৬ থেকে ৪৪ হয়ে গেল এই প্রত্যাশায় যে আমাদের নেতা এবার আটঘাট বেঁধে একটা সময়োপযোগী পরিকল্পনা নিয়ে এসেছেন, এবার অবশ্যই ভালো কিছু হতে যাচ্ছে! অতঃপর যখন প্ল্যান শোনানো হল, আগ্রহী জনতার বিশাল একটা অংশ হতাশ হয়ে গেল কেননা এই প্ল্যানের মধ্যে তেমন কোন অভিনবত্ব দেখা গেল না। তারেক রহমান যা কিছুই প্ল্যান দেখাচ্ছেন তার প্রায় সবই ইতোমধ্যে বাংলাদেশে আছে। তিনি ফ্যামিলি কার্ডের কথা বললেন, এই কার্ড অলরেডি টিসিবিতে আছে। টিসিবির এই কার্ডের বেলায় আমরা দেখোছি, কেবল আওয়ামীলীগের সমর্থক হলেই কার্ড পাওয়া যায়, ফ্যামিলি কার্ডের বেলাতেও এটা নিশ্চিত যে কেবল বিএনপির সঙ্গে খাতির থাকলেই কার্ডটি পাওয়া যাবে! তাহলে সেই তো বৈষম্যের ব্যবস্থাই হল। ইতোমধ্যে, আমরা বিভিন্ন ভিডিওতে দেখেছি এই কার্ডের জন্য একশো থেকে এক হাজার টাকা ঘুষ নেওয়া আরম্ভ হয়ে গেছে! তাছাড়া এই কার্ড নিয়ে বিভ্রান্তিকর বক্তব্যের অভাব নেই, কেউ বলছে, ৫০ হাজার পাওয়া যাবে, কেউ বলছে দশ হাজার, কেউ বলছে এই কার্ড দিলেই এক মাসের বাজার পাওয়া যাবে, ২৫ কেজি চাল, দুই কেজি চিনি, তেল ইত্যাদি ইত্যাদি! কেউ বলছে, এটা দেখিয়ে বাজার করলে ৫০% ডিসকাউন্ট পাওয়া যাবে, কেউ বলছে এটিএম মেশিনে এই কার্ড দিলেই টাকা পাওয়া যাবে!

হিন্দিতে একটা প্রবাদ ভাইরাল হয়েছে ইদানীং, বলা হয়, যো জনতা ইয়ে নেহি জানতা কে কাচরা কাহাঁ ডালনা হ্যায়, ও ইয়ে কেয়সে জানেগা কে ভোট কাহাঁ ডালনা হ্যায়??

অতএব, এই জনতাকে বলদ বানানো যে কতটা সহজ তা সবাই জানে বলেই এসব ভাঁওতাবাজি চালাতে পারছে নিঃসঙ্কোচে! যদিও অবশেষে তারেক রহমান বলে দিয়েছেন যে দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা পাওয়া যাবে এই কার্ড থেকে প্রতি মাসে! এখানেও সমস্যা, টাকাটা আসবে কোত্থেকে? এক কোটি মানুষকেও এই কার্ড দিলে আড়াই হাজার কোটি টাকা লাগবে প্রতি মাসে! অথচ এই টাকায় অনায়াসে প্রতি জেলায় জেলায় আড়াই হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা যায় পর্যায়ক্রমে! তাহলে প্ল্যানের হলটা কী!! আপনি কাউকে বসে খাওয়ার ব্যবস্থা করে দিলে কি সে আর কাজ করতে চাইবে? তাহলে আপনি আলটিমেটলি মানুষকে আরো কর্মবিমুখ করারই প্ল্যান নিয়ে এসেছেন!! এমনটা তো আমরা চাইনি!

এরপর তারেক রহমান একেকটি জেলায় গিয়ে যা-ই বললেন, মানুষ বাস্তবতার সঙ্গে তফাত খুঁজে পেল, খুব ট্রল হল, অসঙ্গতিগুলো কী ছিল আপনারা সবাইই জানেন। তা আর নতুন করে বলতে গিয়ে লেখা বড় করার দরকার দেখি না!

জামায়াতের মত দল কখনও কল্পনাই করেনি যে তারা সারা দেশ থেকে দশটি আসন পাবে, ডা. শফিকুর রহমান প্রথম দিকে বলছিলেন, আমরা ক্ষমতায় না এলেও আপত্তি নেই, আমরা একটি ভালো বিরোধী দল তো হতে পারব! সেই জামায়াত এখন ক্ষমতায় যাবে এমন স্বপ্ন দেখাও শুরু করেছে! কারণ কী? কারণ বক্তব্যের বিচক্ষণতা, কারণ, বিএনপির চাঁদাবাজি! সাধারণ জনগণের বিরাট একটা অংশ এখন এই চাঁদাবাজির কারণেই কেবল বিএনপি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে! কাল পর্যন্ত একটা ভিডিও দেখলাম, যেখানে অটোচালক চাঁদাবাজকে বলছেন, এখন নির্বাচন এসে গেছে, এখন তো একটু লজ্জা কর, মানুষ এখনও চাঁদা নিলে ভোট দেবে না! এর সাথেই আবার যুক্ত হল ঋণখেলাপী প্রার্থীদের মনোনয়ন!

তারেক রহমান প্রথম থেকেই বলে এসেছেন, সমস্ত চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে, কেউ বন্ধ করেনি! সাত হাজার কর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে এই চাঁদাবাজির কারণে, তারপরও এখন পর্যন্ত চাঁদাবাজি বন্ধ হয়নি!

একটা দলের মেজরিটিই যদি দুর্নীতিবাজ চাঁদাবাজ হয়, তাহলে তারেক রহমান কেন, ফেরেশতা এসে চেষ্টা করলেও কোন অনিয়ম দুর্নীতি কিছুই বন্ধ হবে না। এ নিয়ে তারেক রহমানকে কোন স্ট্যান্ড নিতে তো দেখা যায়ইনি, বরং মনোনয়নেই উনি এদের কাছে আত্মসমর্পণ করে ফেলেছেন।

উনার ইশতেহারে সংবিধান সংশোধন, আইনী ব্যবস্থার সংশোধন, জুলাই হত্যার বিচার এসব কোন বিষয়ই উঠে আসেনি, এটাও হতাশাব্যাঞ্জক! উনি এই ইশতেহারে এমন কিছু অভিনবত্ব আনতে পারেননি যা উনার "আই হ্যাভ এ প্ল্যান" উক্তিটাকে জাস্টিফাই করে। বরং আমার কাছে অনেক ক্ষেত্রে অপরিপক্ক মনে হয়েছে উনাকে।

এরপরও মানুষ উনাকেই ভোট দেবে এটা নিশ্চিত। আমার এই পোস্ট উনার ভোট কাটার জন্যও নয়। আমার ভোট আমি উনাকেই দিতে পারি, নাও দিতে পারি এটা যেমন আমার একান্ত বিষয় তেমনি আপনি উনাকে ভোট দেবেন কি দেবেন না এটাও অবশ্যই আপনার চয়েস। আমি কোনভাবেই এই বিষয়টাকে ইনফ্লুয়েন্স করতে চাই না। আমি শুধু বলব, আপনি যে দলকে ভালোবাসেন, যে দলের কাছে আপনার ও দেশের নিরাপত্তা প্রত্যাশা করেন, সে দলের ভুলগুলো সবার আগে আইডেন্টিফাই করে আওয়াজ তুলুন, কারণ আপনার প্রিয় দল ভুল করলে, ভুল পদক্ষেপ নিলে আপনারই ক্ষতি। আমি ঠিক এই কাজটিই করছি আমার নাগরিক দায়িত্ববোধ থেকে।

পরিশেষে, আমি এখনও একটি স্টেবল বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখি, স্বপ্ন দেখতে তো দোষ নেই, মানুষ বাঁচেই তো স্বপ্ন নিয়ে। তবে স্বপ্ন দেখতে দেখতেই মরে যাওয়াটা কোন কাজের কথা নয়।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:২৫
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমরা যেন পারষ্পরিক সম্মান আর ভালোবাসায় বাঁচি....

লিখেছেন জানা, ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:৪২



প্রিয় ব্লগার,

শুভেচ্ছা। প্রায় বছর দুয়েক হতে চললো, আমি সর্বশেষ আপনাদের সাথে এখানে কথা বলেছি। এর মধ্যে কতবার ভেবেছি, চলমান কঠিন সব চিকিৎসার ফলে একটা আনন্দের খবর পেলে এখানে সবার সাথে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বালাদেশের নির্বাচনী দৌড়ে বিএনপি–জামায়াত-এনসিপি সম্ভাব্য আসন হিসাবের চিত্র: আমার অনুমান

লিখেছেন তরুন ইউসুফ, ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:২৩



বিভিন্ন জনমত জরিপ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রবণতা এবং মাঠপর্যায়ের রাজনৈতিক তৎপরতা বিশ্লেষণ করে ৩০০ আসনের সংসদে শেষ পর্যন্ত কে কতটি আসন পেতে পারে তার একটি আনুমানিক চিত্র তৈরি করেছি। এই... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্ম পরে, আগে আল্লাহ্‌কে মনে রাখো

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৫:৩৭

প্রিয় শাইয়্যান,
পরম করুণাময় সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ্‌কে তুমি যখন সবার আগে স্থান দিবে, তখন কি হবে জানো? আল্লাহ্‌ও তোমাকে সবার আগে স্থান দিবেন। আল্লাহ্‌ যদি তোমার সহায় হোন, তোমার আর চিন্তা... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনঃ কেন আমি বিএনপিকে ভোট দিবো?

লিখেছেন ভুয়া মফিজ, ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:২৯



আসছে ১২ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ এ ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সরকারপক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই নির্বাচন হবে বিতর্কমুক্ত এবং উৎসবমুখর পরিবেশে। আমার অবশ্য এই দুই ব্যপারেই দ্বিমত... ...বাকিটুকু পড়ুন

‘বাঙালি মুসলমানের মন’ - আবারও পড়লাম!

লিখেছেন জাহিদ অনিক, ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩



আহমদ ছফা'র ‘বাঙালি মুসলমানের মন’ বইটা আরাম করে পড়ার মতো না। এটা এমন এক আয়না, যেটা সামনে ধরলে মুখ সুন্দর দেখাবে- এমন আশা নিয়ে গেলে হতাশ হবেন। ছফা এখানে প্রশংসা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×