প্যান্ট মানব জীবনের এক গুরুত্বপূর্ন উপাদান।ইহা ছাড়া চলা দায়।
ব্যাচেলর প্যান্ট: ঘন্টা দুই নয় মিনিট পাঁচেক সময় হাতে নিয়ে নিউমার্কেট চলে যান।মনের মত সবধরনের কালারফুল প্যান্ট পাবেন।ইচ্ছামতো রঙ সিলেক্ট করাটা বোকামী হবে।কালো অথবা নেভীব্লু একটা নিয়ে নেন যাতে ময়লার দুই তিন স্তরেও বুঝা না যায়।ভুল করেও হলুদ বা সাদা নেওয়া চলবেনা।ব্যাচেলর মানুষ কালারে কি আসে যায় লজ্জাস্থান ঢাকাটাই মূল উদ্দেশ্য আপাদত সেটাই মাথায় রাখেন।যাক পছন্দ হই গেছে এবার দাম করে কিনে ফেলুন।দুই তিন দোকান ঘুরার কুনো দরকার নাই সব দোকানেই একই দাম ১৫৫০,১৭৫০,২২৫০।
বিদ্র: আপনার বলার অপশন আছে,ঘাবড়ে যাবেন্না ৩৫০ বা ৪০০ বলে ফেলুন দিয়ে দেবে।
এবারে মেইন কাজটি করতে হবে।
ফিটিংস
ব্যাস এবারে চাইলে নতুন প্যান্ট পড়েই বাসায় ফিরতে পারেন।এরপর থেকে আগের সব প্যান্ট বাদ নতুন প্যান্ট পড়তে থাকেন।ক্লাস,বিকেলে বন্ধুদের আড্ডায় ভালোই চলছে আপনার প্যান্ট।মাঝে মাঝে রাত্রে বেলায় বাসায় গেস্ট থাকলে শর্টেজ অফ লুঙ্গীর কারনে প্যান্ট পড়েই ঘুমাতে পারেন।
দিন পনেরো ভালোই গেল।একটু কস্ট করে মাসটা পার দিয়ে ফেলছেন।বাহ দারুন লাগছে একটু কালো হইছে ব্যাপার না নতুনের গন্ধই যায়নি এখনো।আরো দিন পনেরো পর হঠাত্ই একদিন গুড়িগুড়ি বৃষ্টি।ভাবছেন কি করবেন?আরে অনেক ক্লাস করছেন আজকে এই বৃষ্টি ভেজা দিনে বাসায়ই একটু খিচুড়ী রান্না করে ফেলুন আর তাশের একটা আসর জমিয়ে ফেলেন।
বৃষ্টিভেজা গোধুলীতে প্রেয়সীর ফোনকলে দেখা করার ইঙ্গীত হাতছাড়া করলেই লস।বেড়িয়ে পড়ছেন!!ধরাটাও খাইছেন।একবার পিছে ফিরে দেখুনতো প্যান্টের পিছে কাদা লেগে গেছেনা।ইস ব্যাচেলর মানুষ এত রেকলেস ভাবে হাটলে হয়।একটু সাবধানে পা টিপে টিপে ফেলুন।
পরদিন সকালে কি ধোয়া প্যান্ট পরবেন?আপনার মত আইলস্যা কি আর হয়।যান ওই প্যান্ট টাই একটু ঝাকি টাকি দিয়ে ভেজা গামছা দিয়ে একটা ডলা মেরে পরে ফেলুন।কুনো ব্যাপার না চলতাছে যখন চলতে দিন।
কি অনেক কালো হই গেছে?!! ঠিকইতো এক প্যান্ট পড়ে আর কয়দিন।আপনিতো ব্যাচেলর মানুষ প্যান্ট ধুয়ে দিবে কে??!! একটু ভাব নিয়ে পড়তে থাকেন কিচ্চু হবেনা।
আরে আবার কি হল!!??ও আচ্ছা কুনো ব্যাপার না ওই গোড়ালীর নিচে একটু ছিড়ে গেছে।জানেন তো বেলা বাড়ার সাথে সাথে মাজা চিকন হই যায় ফলাফল গোড়ালীর নিচে প্যান্ট।যাইহোক এবার ওটা কেটা ফেলুন নাইলে বিপদ হবে।কি কেচিও নাই আচ্ছা ছাড়ুন কোনো ব্যাপার না রান্নাঘরে পেয়াজ মরিচ কাটার চাকুটা আছে।আরে ভাই হ্যারে চাকু দিয়ে কোনরকমে কাজ চালান।
বাহ বেশ এতো নতুনের মত লাগতাছে।আচ্ছা আবার পুনারাবৃত্তি করেন।মাস ছয়েক গেলেই হয়।একটা প্যান্ট আর কয়দিন পড়া যায়।ধুয়ে পড়ার কথা ভাবতাছেন, সামনেতো কোন হরতাল নাই তাইলেতো হবেনাহ।
তার চাইতে একেবারে ফেলেদিন!! হ্যা কইলেই হইল ম্যাচের বুয়ায় কইছেনা ঘর মুছার কিছু নাই।দিয়ে দেন প্যান্ট টা।ইস নতুন প্যান্টরে ভাই!!!! বুয়ারে বইলা রাইখেন যাতে আপনার সামনে ওইডা দিয়ে ঘর না মুছে।
এ গ্রেট জার্নি অফ এ ব্যাচেলর প্যান্ট।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



