কে যেন বলছিল বিউটি পার্লার থেকে বেরুনো অতীব সুন্দরী মেয়েটার দিকে হা করে তাকিয়ে ‘ওয়াও’ বলার কিছু নেই, কারন সেই মেয়েটাই হয়তো মহল্লার পান্তা বুড়ীটা। সাজগোজের প্লাষ্টার মূলত পরিচিত মুখটাকে অপরিচিত করে দেয়। আমার নিজের বোনের বিয়ের সময়েই আমি তাকে চিনতে পারিনি অনেক্ষণ। ভাবছিলাম কোন অপরিচত মেহমান বসে আছে রুমে!
তাই সাজ জিনিষটা মূলত বিরক্তিকরই। যে কাউকেই সাজ বিহীন, প্লেইন বা স্বাভাবিক থাকলেই ভালো লাগে। আমি সব সময় যেমন তেমনি দেখানোটাই তা ভালো।
কিন্তু ব্যাপারটা যদি এমন হয় যে কেউ একজন শুধু আমাকে দেখানোর জন্যেই নিজেকে সাজালো! কেউ এক জন আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে যত্ন করে চোখের পাতায় কাজল নাকি আই শ্যাডো বা মশকরা কিংবা মাশকারা সে যাই বলুকনা কেন সেটা লাগালো! দু গালে ফেসিয়াল বা হালকা কিছু রঙ দিলো। যত্ন করে চুল আঁচড়ালো। তার কাছে থাকা সেরা ড্রেসটা পরিপাটি করে পড়লো। সব শেষে আয়নায় ঘুরে ফিরে নিজেকে দেখলো। যাচাই করলো তাকে আমার কাছে যথেষ্ট রুচিশীল লাগবে কিনা। শুধু আমার জন্যে সাজগোজের খুঁটিনাটি বিষয় গুলাও শুধরে নিয়েই বাসা থেকে বেরুলো। পুর ব্যাপারটার মাঝে কি অপার্থবীয়, রাজকীয় সম্মান লুকানো!!
এক সময় মনে হতো সাজগোজ মানে এক ধরনের প্রতারণা। কিন্তু, ইদানিং হালকা সাজগোজওয়ালীদের প্রতি একধরনের শীরশীররে ভালোলাগা তৈরী হচ্ছে। এক ধরনের ইর্ষাও। হালকা সাজের রুচিশীল কোন আপুকে দেখলেই মনে হচ্ছে, আহারে মেয়েটা না জানি কার জন্যে এমন সেজেগুজে বেরুলো! কে সেই সৌভাগ্যবান হারামজাদা!!
১১২৮২০১৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


