somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কোরবানি! সে বড় কঠিন কাজ!

১২ ই আগস্ট, ২০১৯ রাত ৮:৪২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কুরবানী ব্যাপারটা মূলতই খুব কঠিন একটা কাজ। এটা করতে গেলে জীবনটা প্রায় ওলট পালট হয়ে যাবে। যে দেশ দূনিয়া দেখতেছি তা তছনছ হয়ে যাবে। সবই বদলে যেতে বাধ্য কুরবানীর কারনে।
.
ঘেঁটে ঘুটে যতদূর বুজলাম কুরবানী ব্যপারটা এই রকম: নবী ইব্রাহীম (আ:) যখন নিজের পুত্রকে কুরবানী দেওয়ার আদেশ পেলেন, তিনি নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে তা পালন করতে গেলেন। বিষয়টা দাঁড়ালো এমন- নিজের ব্যাক্তিগত সুখ, ইচ্ছা, অনিচ্ছা, আরাম, পছন্দ সবই সর্বউচ্চ ক্ষমতাধর স্বত্তার ইচ্ছা এবং বিধানের কাছে সেক্রিফাইস করতে হবে। যখন আমার ব্যাক্তিগত ইচ্ছার সাথে খোদার বিধানের সংঘর্ষ হবে তখন বিধান বা নিয়ম কানুনকেই আগে গুরুত্ত্ব দিয়ে মেনে চলতে হবে। বিশ্বাস রাখতে হবে যে যিনি আমাকে এবং বিশ্বভ্রম্মান্ড তৈরী করেছেন তিনি সাংঘর্ষিক বিষয়টা আমার থেকে বেশি বুজেন, একই সাথে তিনি তার বিধানেই বেশি এবং বৃহত্তর মঙ্গল রেখেছেন। এখানেই সমস্যা। ফযরের নামাজের সময়েই দেখি যে ইবলিশ খুব আদরে মাথায় হাত বুলাতে থাকে।

.
তো নবী ইব্রাহীম (আ:) কেও প্রবৃত্তি, মনের ভেতরে বাস করা ড: হাইড বা শয়তান, যেটাই ডাকি না কেন তা কাজের সময় ডিষ্টার্ব দিচ্ছিলো-‘আমার এত্ত আদরের পুত্র, এই ভাবে কুরবানি দিয়ে দিবো! এটা কোন কথা!” কিন্তু বিধানতো বলছে তাতেই মঙ্গল! তাই তিনি কুরবানির রাস্তায় চলতে চলতে সেই প্রবৃত্ত্বির উপর ক্ষিপ্ত হয়ে তিন বার পাথর ছুঁড়ে মারেন। শয়তান সায়েস্তা করে, নিজের ইচ্ছা বা প্রবৃত্ত্বির উপরে খোদার আইনকে গুরুত্ত দিয়ে নিজের সব চেয়ে পছন্দের জিনিষটাই কুরবানি দিয়ে দিলেন!!! পরে দেখলেন যে মূলত পশু কুরবানি হয়েছে যেটা দিয়ে ভালো করে খাই দাই করা যাবে। নবী বিরাট আরাম পেলেন দেখে।
.
সারা বছর এমন সাংঘর্ষিক ক্ষেত্রে নিজের ইচ্ছা বা প্রবৃত্ত্বি গুলোকে কুরবানি করতে পারলেইতো বছর শেষে পশু জবাই দিয়ে আরাম করে খাওয়া যায়। সেলিব্রেট করা যায় ব্যাপারটা। যেমন, যখনি মন বলছে দুই পুরিয়া ঘুঁষ খেয়ে থাইল্যান্ড গিয়ে বডি ম্যাসাজ নিবো তখনি সেই ইচ্ছা কুরবানি দিলাম। রডের জায়গায় বাঁশ, সিমেন্টের জায়গায় বালি, দুধের মধ্যে ডিটারজেন্ট, রাস্তা ভরা চান্দাবাজি, অফিস ভর্তি ঘুঁষ, ব্যাংক ভর্তি খেলাপি লোন সবইতো নিজের ইচ্ছায়! কোথায় কোন কুরবানি নাই। নিজের প্রবৃত্ত্বিতে একটা পাথরও না মেরে লিকার খেয়ে বরং পিত্তে পাত্থর জমাইলাম। এর পর আরব দেশে গিয়ে শয়তানরে পাথ্থর মেরে চমকে দিচ্ছি। শয়তান ভাবতেছে সারা জীবন ইয়ার দোস্তের মত চললাম। তুই ব্যাটা হজ্জ্বেও আসছস আমার টাকায়, কোথায় এক সাথে বসে চা সিগারেট খাবো, তা না। ব্যাটা মারতেছস পাথ্থর!!’
.
পুর আয়োজনটাকেই আমরা দারুন ইন্টারেস্টিং করে তুলছি! এমনকি বাচ্চাদের খাবারেও ভেজাল দিচ্ছি, সেটা খেয়ে তারা যখন অসুস্থ হয়ে ওষুধ খাবে সেই ওষুধও বিষাক্ত করে প্রজন্ম পঙ্গু করছি। কিছু টাকা পয়সা ছড়িয়ে বিচার আচারও বন্ধ করে দিচ্ছি! এই কু-কাজ, লোভ আর প্রবৃত্তির টাকা দিয়ে আবার বছর বছর পশু জবাই দিয়ে নিজের কুপ্রবৃত্ত্বি কুরবানির সেলিব্রেট করছি! কোথাও কোথাও আবার সেই গরু ছাগলটাও ছেলের বউয়ের বাড়ি থেকে আদায় করে জবাই করতেছে!! খুবই ইন্টারেস্টিঙ! ঘটনাটা যেন এমন- ‌কোন টুর্নামে‌ন্টে একটা দল সব ম্যা‌চেই গো হারা হার‌লো, তবু ও চ্যাম্প‌িয়ন হওয়া উৎযাপন কর‌তে‌ছে!
.
যাই বলি, সবার জন্যেই কুরবানিটা আসলে কঠিন, গরু জবাই না। হালকা করি লিখাটা একটু। ধরেন বউ যদি আপনাকে সাবেক বান্ধবীর সংখ্যা জিজ্ঞেস করে বসে- শিল্পীর ছোঁয়ায় মিথ্যা বলার প্রবৃত্ত্বিটা আপনি কি দমন করতে পারবেন তখন?”
.
তো যাই হোক। ঈদ মোবারক।
.
08122019
#Afnan_Abdullah
১০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পৃথিবীতে শ্রেষ্ঠ সম্পদ কি?

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৫ ই জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২১



এই মুহুর্তে আমি গাজীপুর যাচ্ছি।
সময় সকাল দশটা। রবিবার। রাস্তায় জ্যাম যেতে অনেক সময় লাগবে। লাগুক। সমস্যা নেই, হাতে অনেক সময় আছে। আজ আমার কোনো কাজ নেই। বউ বাচ্চা বাসায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

নির্বাসিত নক্ষত্রের শহর !

লিখেছেন দানবিক রাক্ষস, ০৫ ই জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৯



রাতের শেষে যে শহর জেগে থাকে
তার ভাঙা নীয়ন আলোয়
আমি দেখেছি মানুষের মুখ—
অথচ দেখিনি মানুষ ।
দেখেছি ক্লান্ত আত্মারা,
ধীরে ধীরে আত্মহুতি দেয় প্রতিরাতে।

চারদিকে শব্দ ছিল,
হাজার কথার বিষাক্ত ভিড় ছিল,
কর্পোরেট... ...বাকিটুকু পড়ুন

"তোমরা আমাদের মানুষদের কেন খুন করলে?"

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৫ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ৮:০১

জাপানের মানুষেরা আজও বুঝতে পারে নাই, কেন তাঁদের ছেলেমেয়েদের এভাবে হত্যা করা হলো। সেই দেশের মুরুব্বীরা এখনো এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে ফেরেন। আক্ষেপ করেন। আমার বোনের জামাই জাপানে পোস্ট ডক... ...বাকিটুকু পড়ুন

শত্রুর শত্রু

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ০৬ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ৯:১৪

উগ্রবাদী আর উদারবাদী, দুটি ইসলামই একই রাজনীতি করে। তাবলীগ জামাতের লোকটি মাঠে এসে বলে মেয়েদের ফুটবল হারাম। তারপর বিশ্বকাপে সৌদি আরবকে সমর্থন করে রাস্তায় নামে। এই দুটি আচরণ পরস্পরবিরোধী নয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

রুবা

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৬ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:২৩



বিয়ের মঞ্চে বসে আছি। মঞ্চ বলতে চকির মতো একটা খাট, তার সম্ভাবত এক পা ছোট বা নাই, কারন সামান্য নাড়াচাড়ায় খাটা টালমাটাল হয়ে একদিকে কাত হয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×