somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কারবালার কাফেলা

০৬ ই জুলাই, ২০২৫ রাত ১০:৫৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ফোরাত নদীতে কোনো বাঁধ ছিল না। কিন্তু ৭ই মহররম, কমান্ডার উমর ইবনে সা’দ তার বিশাল বাহিনী নিয়ে নদীর প্রবেশপথগুলো আটকে দিলো। ফোরাতের পানি আর ইমাম হোসাইন (রা) এর কাফেলার মাঝে দাঁড়িয়ে গেলো ত্রিশ হাজার সৈন্যের একটি সেনা ব্যূহ। পিপাসা, ক্লান্তি, এবং ধীরে ধীরে মৃত্যুর হাহাকার শুরু হলো কাফেলার ভেতরে। এর চার দিনের মাথায় তারা হোসাইন (রা) - এর অর্ধমৃত কাফেলার উপর পূর্ণশক্তিতে আঘাত হানে।

ইমাম হোসাইনের সৎ ভাই আব্বাস ইবনে আলী তাঁর দলবল নিয়ে সেনা প্রহরা ভেদ করে পানি আনতে যান রাতের বেলায়। আশা করেছিলেন, আঁধারে সা’দের বাহিনী খেয়াল করবে না। কিন্তু ইয়াজিদের সেনাবাহিনীর সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল তাদের গোয়েন্দা বিভাগ। কুফার বিদ্রোহীদের সঙ্গে ইমাম হোসাইন (রা) এর চিঠি চালাচালি থেকে শুরু করে তাঁর মক্কা থেকে কুফা যাত্রার প্রতিটি পদক্ষেপই ইয়াজিদের সেনারা জানত।

মুসলিম ইবনে আকিল আগে কুফায় আসেন হোসাইনের পরিকল্পনা সহযোদ্ধাদের বোঝাতে। উদ্দেশ্য ছিল কুফার নেতাদের নিয়ে জনমত গড়ে তোলা। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী হোসাইন (রা) মক্কা থেকে রওনা দেন পরিবারসহ, যাতে প্রমাণ হয় তিনি যুদ্ধ নয়, ন্যায়ের সংলাপে যাচ্ছেন। স্ত্রীরা, সন্তানরা, শিশু এবং বৃদ্ধরাও ছিলেন কাফেলায়।

কিন্তু দক্ষ গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কুফার গভর্নর ইবনে জিয়াদ মুসলিম ইবনে আকিল এবং তাঁর কুফার সমর্থকদের গ্রেফতার করে দ্রুত বিচার ও হত্যা করেন। এদিকে হোসাইন (রা) পরিকল্পনামাফিক যাত্রা করেন এবং কারবালা প্রান্তরে পৌঁছে পড়েন সা’দের অবরোধে। সেই অবরোধে, রাতের আঁধারেও সেনাপ্রহরা ফাঁকি দেওয়া ছিল আব্বাস ইবনে আলীর জন্য অসম্ভব। অবরোধ ভেদ করে পানি আনতে গিয়েই তিনি শহীদ হন।

ইমাম হোসাইন (রা) - এর কাছে ইয়াজিদের দাবি ছিল একটাই - স্বীকৃতি। শূরা পদ্ধতি বাতিল করে পরিবারতন্ত্রের মাধ্যমে খিলাফত দখল করেছিল ইয়াজিদ, যা অনেকেই মেনে নেয়নি। সীমাহীন দুর্নীতি, ব্যক্তিগত ভোগ-বিলাস, দমন - পীড়নের শাসন পোক্ত করতে হোসাইনের স্বীকৃতি তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

কারবালা প্রান্তরে, হোসাইন (রা) - এর শিশু পুত্র আলী আসগর যখন পানির অভাবে ডিহাইড্রেশনে মারা যাচ্ছিলেন, তখনও তাঁর সামনে ছিল ইয়াজিদের পক্ষ অবলম্বনের প্রস্তাব। তিনি এবং তাঁর দল রাজি হননি। দশম দিনে ইবনে জিয়াদের নির্দেশে সা’দ বিশাল বাহিনী নিয়ে যুদ্ধ শুরু করেন। ইয়াজিদের হুকুম ছিল: স্বীকৃতি না দিলে হোসাইনের কেউ যেন বেঁচে না ফেরে। আর শুধু পানি ছাড়া মরলে সেটা বিদ্রোহ দমন বলে চালানো যাবে না। প্রায় একশ জন নারী, পুরুষ ও শিশু - অর্ধমৃত, পানিশূন্য, ক্ষুধার্ত তাঁদের উপরে হামলে পড়লো ত্রিশ হাজার সৈন্য। হোসাইন (রা) - এর কোলে থাকা অবস্থায় শিশু আলী আসগর তীরবিদ্ধ হয়ে শহীদ হন।

শেষের দিকে হুর ইবনে ইয়াজিদ নামে একজন কমান্ডার ইবনে জিয়াদের দল ত্যাগ করে ইমাম হোসাইনের দলে যোগ দেন। তিনিও দশম মহররমে সা’দের বাহিনীর হাতে শহীদ হন।

ইয়াজিদের দশা আজকের ই জরাইল এর মত। বা যেকোন ফ্যাসিস্ট সরকারের মতই। দেশের বড় বড় মানুষদের কাছে তার একটাই দাবি - ‘আমার সব অপকর্ম মেনে নাও, বিবৃতি দাও। না হলে আয়না ঘরে যাও, ঘুম হয়ে যাও, বিদ্রোহী হও, বোমা খাও, মরে যাও।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই জুলাই, ২০২৫ রাত ১০:৫৫
৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কেন আমি ইরানের বিরুদ্ধে-২

লিখেছেন অর্ক, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১:১৪



ইরান বিশ্বসভ্যতার জন্য এক অভিশাপ; এক কলঙ্ক। কাঠমোল্লারা ক্ষমতা পেলে একটি রাষ্ট্রের যে কি পরিণতি হয়, তার জ্বাজ্জল্যমান উদাহরণ ইরান। সম্পূর্ণরূপে অসভ্য বর্বর অসুস্থ রাষ্ট্র গড়ে উঠেছে সেখানে। যেখানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভাগাভাগি

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৭

ভাগাভাগি
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

এলাকায় এক ইফতার মাহফিল-এ
দাওয়াত পাই আর যথাসময় চলে যাই।
অনেক মানুষ পড়ছে দোয়া দুরুদ
ঘনিয়ে আসছে রোজা ভাঙার সময়।

তখন সবার সামনে বিলিয়ে দিচ্ছে বিরিয়ানি
আমার ভাবনা- হয়ত কেউ ভাবছে
যদি একসাথে খাওয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০২৩ এ ওয়াকআউট করেছিলেন, ২০২৬ এ তিনিই ঢাবির ভিসি ।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২২


২০২৩ সাল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সভা চলছে। একজন শিক্ষক দাঁড়িয়ে বললেন, হলগুলোতে ছাত্রলীগের গেস্টরুম নির্যাতন বন্ধ করতে হবে। কথাটা শেষ হতে না হতেই তৎকালীন ভিসি জবাব দিলেন, "গেস্টরুম কালচার... ...বাকিটুকু পড়ুন

এপস্টেইনের এলিট: ইসরায়েলের মিডিয়া নিয়ন্ত্রন এবং প্রপাগাণ্ডা

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৭ ই মার্চ, ২০২৬ ভোর ৬:৩৮


ইতিহাসবিদ ইলান পাপে বলেছেন, "ইসরায়েল অবৈধ বসতি স্থাপনকারী, ঔপনিবেশিক শক্তির একটি প্রজেক্ট। এটি ঐতিহাসিক প্রক্রিয়ায় গড়ে ওঠা স্বাভাবিক রাষ্ট্র নয়, বরং রাজনৈতিক ও সামরিক শক্তির দ্বারা প্রতিষ্ঠিত একটি ব্যবস্থা"। এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ পিতা তোমার জন্মদিনে জানাই শুভেচ্ছা

লিখেছেন ইসিয়াক, ১৭ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ৮:৩৬


কার ডাকেতে টগবগিয়ে ফুটলো বাংলাদেশ
কার ডাকেতে বিজয় ছিনিয়ে  মুক্ত হলো স্বদেশ?

কার ডাকেতে সমবেত হয়েছিলো দীপ্ত তরুণেরা,
কার ডাকেতে দ্বিধা ভূলে একত্রিত  তারা?

কার ডাকেতে অসাম্প্রদায়িক হলো আমার প্রিয় দেশ
কার ডাকেতে স্বপ্ন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×